বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আচ্ছা
বাবু এই যে আমি তোমার সাথে এত
ঝগড়া করি, তুমি কি রাগ করো?? - একদম
নাহ!
- আচ্ছা বাবু আমাদের যে এত ঝগড়া
লাগে, তুমি তো লেখালেখি করো
তা এই ঝগড়া লাগার পিছনে তোমার
থিওরি কি??
- ভালোবাসা হচ্ছে রান্নাঘরের
সাজিয়ে রাখা প্রতিদিনের ব্যবহার
করার বাসনের মত, একসাথে থাকতে
গেলে পাতিলের আওয়াজ হবেই।
- ওহ আচ্ছা।
- বুঝছো??
- হুম এখন ফোনটা রাখি।
- ওকে।
পাঁচ মিনিট পরে ছেলেটার ফোনে
মেয়েটার টেক্সট আসে,
তুমি কি ভাবছো তুমি যেটা মিন
করছো সেটা আমি বুঝি নাই??
- আমি আবার কি মিন করলাম সোনা?? -
তুমি ইনডিরেক্টলি বলে দিলা যে
আমার চেহারা পাতিলের মত!!
- আজব তো! এইটা কখন বললাম!!
- ঈদ গেট টুগেদারের নামে কই দেখা
করতে যাও, আমি কি বুঝি না??
- কি বলতেছ জান তুমি এইসব
উল্টাপাল্টা??
- মেডিকেলের ওই আপুটা কি অনেক
সুন্দরী! আমি পাতিল আর উনি কি একদম
ফুলদানী???
- দেখো তানিশা ডার্লিং, এইসব কিছু
না। আমি যা বলছি তুমি কিছুই বুঝো
নাই। আচ্ছা আমি এক্সপ্লেইন করতেছি
....
- তোমাকে কিচ্ছু এক্সপ্লেইন করতে
হবে না! তুমি এখন ফোন রাখো!
আমাকে আর কখনও ফোন দিবা না!!
- কেন??
- কারণ তুমি বলছো আমার চেহারা
পাতিলের মত! রাখি বাই! তুই একটা
শয়তান!!
...... টুট টুট টুট ....
ফোনটা কেটে যায় আর রাজ অসহায়
হয়ে তাকিয়ে থাকে। সে কি বললো
আর তানিশা কি বুঝলো, মেয়েটা
একটা আস্ত পাগলী!
তানিশা ফোন রেখেই ঠোঁটের
কোণঘেঁষা একটা মুচকি হাসি দেয়।
তার এই মুহূর্তে রাজকে খুব দেখতে ইচ্ছা
করছিলো, তাই রাজকে একটু প্যারা
দিলো! সে জানে যত রাতই হোক, রাজ
এখন তার রাগ ভাঙ্গাতে আসবেই!
আধঘণ্টা পর তানিশা আড়চোখে দেখে
ফোনের স্ক্রিনে রাজের নম্বর। ইচ্ছা
করেই একটা ফোন বাজতে দিয়ে পরের
ফোনটা পিক করে সে,
কি হইছে? আমাকে ফোন দিছো কেন??
- জান প্লিজ একটু নীচে আসো! প্লিজ
প্লিজ!!
- নাহ, আসবো না!!
- প্লিজ আয় না জান, প্লিজ প্লিজ!! -
ওকে আসতাছি, এক ঘন্টা দাঁড়ায়া
থাকো!
দশ মিনিট পর তানিশা নীচে নেমে
এসে দেখে রাজ দুই হাত পিছনে নিয়ে
দাঁড়িয়ে আছে। লাল জর্জেটের ওড়না
পরে তানিশা কপালের চুলগুলো
সরাতে সরাতে জিজ্ঞাসা করে,
"তোমার হাতের পিছনে কি??
দেখাও??"
রাজ ক্রিম কালার গ্যাবাডিনের থ্রি
কোয়ার্টারের সাথে কালো শার্টের
হাতা গুটিয়ে এসেছে, এটা
তানিশার প্রিয় পোশাক। সে একপাটি
দাত বের করে বলে,
"না, দেখাবো না।"
- তাহলে কিন্তু আমি এখনই চলে যাবো!
- আচ্ছা আমার সাথে ঝগড়া করে কি
আমার তানিশা বাবুটা কান্না করে??
- হ্যা, করে তো! অনেক কান্না করে!
আজকেও অনেক কান্না করেছি!
- তাহলে এখন আমরা আবার ঝগড়া
করবো! তুমি আবার কান্না করবে!! -
কেন?? আমাকে কাঁদাবা তুমি!!
- হ্যা, কারণ মেসে পানি নাই তো
তাই তুমি কান্না করলে আমি সেই
পানি এটাতে করে ভরে নিয়ে গিয়ে
গোসল করবো!
এই বলে রাজ পিছন থেকে পাতিলটা
সামনে নিয়ে আসে!
- ওরে শয়তান! রাজ তুমি না একটা
ফাজিল!!
- সিরিয়াসলি তানিশা তোমার
চেহারার সাথে পাতিলটার একটু একটু
মিল পাইতাছি!!
- তাই না??? দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা!!
তানিশা এক লাফ দিয়ে একটু এগিয়ে
রাজের বুকে চলে যায়। রাজের বুকে
মাথা রেখে কাঁদোকাঁদো হয়ে বলে,
"তুমি এত ভালো কেন??"
রাজ তার ঠোঁট দিয়ে তানিশার
খরগোশের মত গাল দুইটায় আদর দিয়ে
বলে,
"বাবুটাকে ভালোবাসি যে তাই!"
তানিশা এবার সত্যিসত্যি কান্না
করে দিয়ে বলে,
- এই যে চৌধুরী, হাড়িপাতিল বিক্রি
করতে যে আসছো! মজুরি নিবা না?? -
কি দিবা??
- তোমাকে পাতিল ভর্তি করে ভালোবাসা
দিবো, চলবে??
- হুম চলবে!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now