বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রুপপুরের রাজকন্যা --(০৩)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X --সেই মারের পর শিশির বেশকিছুদিন কলেজে আসেনি।এইদিকে শিশিরকে মার খাওয়ানোর জন্য পরী নিজেকে দোষী মনে করতে থাকে।সে মনে মনে অনুতপ্ত হতে থাকে।শিশিরের বাবা শিশিরকে পরীকে ভুলে যেতে বলে।সপ্তাহখানেক পর আবার কলেজ যাওয়া শুরু করে শিশির।কিন্তু সে পরীকে এড়িয়ে চলে।যে মানুষটা সারাক্ষণ আটার মত লেগে থাকে,সে আজ এড়িয়ে চলছে।পরী শিশিরকে কিছু বলার জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়।কিন্তু শিশিরতো তাকে এড়িয়ে চলে।অনেকভাবে যোগাযোগ করতে চেয়েছে পরী,কিন্তু পারে নাই।এই কয়দিনে পরীও শিশিরের প্রেমে পড়ে যায়।তাই একদিন শিশিরের সাথে জোর করে কথা বলে পরী।মাফ চেয়ে,মনের কথা জানিয়ে দেয় পরী।এরপর দুজনের ভালই সময় কাটে।প্রায় ছয়মাস পর আবার অঘটন ঘটে।ওদের সম্পকের কথা জেনে যায় দুই পরিবার।পরীকে ঘরের ভিতর আটকে রাখে ওর বাবা।শিশির কেও মারে ওর বাবা।আর বলে দেও,ও যদি আবার পরীর সাথে কথা বলে তাহলে বাড়ী থেকে বের করে দিবে।এতদিনে দুইজন মরিয়া হয়ে গেছে।কেউ কাউকে ছারা একমুহুর্ত চিন্তা করতে পারে না।এরপর এদের ভালবাসার বাহন হলাম আমি।প্রতিদিন শিশির ভাইয়ার চিঠি আর পরী আপা মনির চিঠি আমার মাধ্যমে আদান প্রদান করত।কিন্তু এতে তাদের হচ্ছিল না।কেউ কাউকে না দেখে পাগললের মত হয়ে যায়।তাই তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।পালিয়ে গিয়ে বিয়েও করেছিল তারা।বিয়ের পর শিশির পরীকে নিয়ে তাদের বাড়ী যায়।কিন্তু শিশিরের বাবা তাদের এই বিয়ে মেন নেয় নি।তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়।এরপর কি করবে বুঝতে পারে না শিশির।অনেক ভেব পরীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় শিশির।পরীকে বাড়ি পাঠিয়ে ঢাকা চলে যায় শিশির।তবে শিশির পরীর মাঝে যোগাযোগ হত।পরীর ফ্যামিলীর কেউ জানত না এই বিয়ের ব্যাপারে।তারা পরীর বিয়ে ঠিক করে অন্য ছেলের সাথে।তখন পরী তাদের বিয়ের ঘটনা বল দেয়।পরীর বাবা কিছুতেই মেনে নেবে না এই বিয়ে।সে পরীকে অনেক মারে সেইদিন।পরীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছিল।কিন্তু পরীর মায়ের জন্য আর পরীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারে না।তার মান সম্মান,আর পরীর মায়ের কথা চিন্তা করে শিশির কে তার বাড়িতে আসতে বলে।শিশির সিকদার বাড়িতে এলে তাকে পরীর বাবা কঠিন শর্ত দেয়।শিশির ঢাকায় গিয়া পড়াশোনা করবে।সর্বোচ্চ ডিগ্রি আর বড় চাকরি নিয়া যেইদিন বাড়ি ফিরতে পারবে,সেইদিন সে তাদের বিয়ে মেনে নেবে।আর বড় চাকরি আর ডিগ্রি নওয়ে যত দদিন ননা ফিরবে ততদিন শিশির তার বাবা,মা কারো সাথে এমনকি পরীর সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবে না।খানের সাথে জেদের বসে শিশিরকে এই শর্ত দেয় পরীর বাবা।কারন,খানদের একমাত্র ছেলে শিশির।শিশিরের ডিগ্রি আর চাকরি নিয়ে ফিরতে প্রায় ৬ বছর লাগবে।এতদিনে ছেলের শোকে পাগল হয়ে যাবে খানরা।শিশির সব শর্তে রাজি হয়ে পরীকে রেখে ঢাকা পড়তে যায়।পরীকে আগের মত তার বাবা ভালবাসে না।সবাই অবহেলা করে।একমাত্র মাই মেয়ের কষ্ট দেখে কাদে।এরপর থেকে এই অবস্থা।(আবদুল) -তারপর কি আর শিশিরের খোজ পাওয়া যায় নাই??(অভি) -না।এরপর আর শিশির এই গায়ে আসে নাই।(আবদুল) -ওওও।হয়ত ডিগ্রী আর চাকরি নিয়া ফিরবে।(অনিক) -হয়ত।সন্ধ্যা হয়ে এল তারাতারি বাড়ি চলুন।নাহলে আপনার খালু আমাকে রাগ করবে।(আবদুল) -চলুন।(অনিক) , বাড়ি পৌছে অনিক দেখল পরী কাজ করছে।অনিক দেখে কিছু বলেও বলল না। -পরী এইদিকে আস??(অনিক পরীকে ডাকল) -হ্যা ভাইয়া বলুন।(পরী) -সকাল থেকে তুমি আমাকে কিছু বলতে চাইছ।কি বলবা বল? -না মানে ভাইয়া।আপনার বাসাতো ঢাকাতে।আমার একজনের খোজ লাগবে।দিতে পারবেন? -কার খোজ??বল আমাকে আমি খুজে দেখব।(অনিক যদিও জানে পরী শিশিরের কথা বলতেছে) -আসলে ভাইয়া। -কি বল?? , পরী চুপ করে আছে।কিভাবে বলবে বুঝতে পারছে না। , -থাক আর বলতে হবে না।আমি আবদুলের কাছে সব শুনেছি।(অনিক) -ভাইয়া আজ চার বছর হয়ে গেল।ওর কোন খবর নাই।বাবার শর্ত পালন করতে আজ চার বছর আমার সাথে দেখা করে না।(পরী) -তুমি কোন চিন্তা কর না।আমি ঢাকায় গিয়ে খুজব।(অনিক) -ঠিক আছে ভাইয়া।(পরী) , সিয়াম আনিহার সসম্পর্কে জেনে গেছে।আনিহা।এপারের রহিম মাষ্টারের মেয়ে।অনিক রিমন কে বলল আনিহার ব্যাপারে। -কি!!রহিম মাষ্টারের মেয়ে আনিহা।ওর তো কালকে বিয়ে আমাদের পরিবারের সবার দাওয়াত আছে।(রিমন) -যা করার রাতেই করতে হবে ভাইয়া।(অভি) -কিচ্ছু করতে হবে না।যা করার আব্বুই করবে।আব্বুর ডিসিশনের উপর রহিম মাস্টার কেন,এই রুপপুরে কথা বলার সাহস নাই।(রিমন) -কিন্তু খালুকে কি করে বলব??(অনিক) -সে তোমাদের চিন্তা করতে হবে না।আব্বুকে আমি বুঝাইয়া বললে অবশ্যই বুঝবে।তোমরা রেস্ট নাও।আমি আব্বুর সাথে কথা বলে আসি।(রিমন) . রিমন তার বাবাকে বুঝাইয়া রহিম মাস্টারের বাড়ি নিয়ে গেল।সিকদার রহিম মাস্টারকে সব খুলে বললে,সব রহিম মাস্টার বলল -আপনি যা ভাল মনে করেন সিকদার।আপনার উপরে কথা বলার সাহস নাই।কিন্তু বরপক্ষকে কি বলব??(রহিম মাস্টার) -বল যে সিকদার এই বিয়ে ভেন্গে দিত বলেছে।আর তোমার মেয়ের বিয়ে কালকেই হবে।এই শহরে ছেলের সাথে।রিমন অনিক কে বল,এই ছেলের বাবা মাকে কালকে সকালের মধ্যে রুপপুর আসতে বলতে।(সিকদার) , অনিক সিয়ামের বাবা মাকে সব জানাইয়া দেয়য়।তারা রাতেই রওনা দেয়। -কিরে হারামি,তোর তো হইয়া গেল।এবার খুশিতো??(অনিক সিয়াম কে জিগ্গেস করল) -হুমম।কিন্তু(সিয়াম) -কিন্তু কি??(অভি) -আনিম তো নাই(সিয়াম) -ইশশশশ।ওর কথা মনেই নাই।তাতে কি ফোন দিয়া ওকেও রওনা দিতে বলি।(অনিক) -ওকে ফোন দে???(সিয়াম) , অনিক আনিমরে ফোন দেয় -হ্যালো,আনিম।সিয়ামের বিয়াতো কনফার্ম।সবাই রাজি।(অনিক) -ওয়াও।তাই।বিয়া কবে??(আনিম) -কালকেই বিয়া।তুই এখনি রওনা দে?? -নারে দোস্ত।আমি আসতে পারব না। -আচ্ছা তোর কি হইছে বলতো?? -কিছু না।তোরা ভাবিরে নিয়ে আয়। -কি বলো এইইগুলা।সিয়ামের বিয়া আর তুই আসবি না?? -না দোস্ত।আমি আসতে পারলে কি আসতাম না।বোঝার চেস্টা কর। -আমি কিছু জানি না।সিয়ামের সাথে কথা বল?? -হ্যালো,আনিম,তুই আসবি।ফাইনাল। -দোস্ত।আমি সমস্যার কারনে আসতে পারব না।তুই ভাবিরে নিয়া আয়।রাখি রে.... আনিম ফোন কেটে দেয়।না কিছুই বুঝতে পারছে না ওরা।অনিমের কি এমন সমস্যা যার কারনে আসতে পারবে না।ঢাকায় কোনো সমস্যা হয় নাই তো। , সকালবেলা রুপপুর আসে সিয়ামের বাবা মা।তারপর বিয়ে হয় সিয়াম আর আনিহার।নতুন বৌ নিয়া এববার ঢাকা রওনা দেয় তারা।আসার সময় পরী মনে করিয়ে দেয় সিয়ামকে শিশিরকে খোজার কথা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now