বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
,
আজ সিয়াম আর আনিহার দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী।তাই
সিয়াম বাসায় পার্টি দিয়েছে।অনেকদিন পর বন্ধুদের
সাথে একসাথে আড্ডা দিবে।এখন আর বন্ধুদের সাথে
বেশি দেখা হয় না কারো।সবাই সবার কাজে ব্যস্ত।
#সিয়াম বৌ,সংসার আর চাকরি নিয়া ব্যস্ত।বন্ধুদের
সাথে দেখা করার সসময় পায় না।
#অনিক তার বাবার ব্যবসা সামলাচ্ছে।অনিক এই দুই
বছরেও খুজে বের করতে পারে নাই শিশির কে।আদো
বেচে আছে কি না সেইটাই জানে না অনিক।ঢাকার
প্রত্যেক টা কলেজ ঘুরে দেখেছে অনিক আর অভি।কিন্তু
পায় নাই।
#অভি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে।১
মাস পড় অভির বিয়ে।মেয়ে ঢাবি তে পড়াশুনা করে।
#আনিম,এইবার বিসিএস পরীক্ষা দিছে।কিছুদিন পর
রেজাল্ট।একটা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে।
কোনরকমে ব্যাচেলর লাইফ পার করতেছে।একমাত্র সেই
এখনও মেসে আছে।
রাতে পার্টি।সিয়াম অভি,আনিম আর অনিককে বাদে আর
কাউকে দাওয়াত দেয় নাই।আনিহাকে পাওয়ার পিছনে
শুধু বন্ধুদের হাত।ওরা না থাকলে হয়ত আজ আনিহা
সিয়ামের হত না।তাই এই সময় টা শুধু ওর বন্ধুদের দিতে
চায় সিয়াম।সন্ধা হতেই সিয়ামের বাসায় পৌছে যায়
ওরা।সিয়াম আর আনিহা অনেক আয়োজন করেছে।সবাই
খাওয়া দাওয়ার পর আড্ডায় মন দেয়।আড্ডার একফাকে
আনিহা বলে
-আনিম ভাই।ডাবল হইবেন কবে??আপনার বন্ধুরা সবাইতো
ডাবল হইতেছে??(আনিহা)
-ভাবি।ও হবে ডাবল।জিবনেও না।কলেজের প্রত্যকটা
মাইয়া ওর জন্য পাগল ছিল।কিন্তু ও কাউকে পাত্তা দিত
না।সে সিঙ্গেল থাকবে।ওর আজিবন সিঙ্গেল থাকতে
হবে।(অনিক)
-হুমমম।ওনারতো রাজকন্যা লাগবে,রাজকন্যা(সিয়াম।
বলেই হেসে উঠে সবাই)
-হুমম।রাজকন্যাই বিয়া করব।দেখিস তোরা।(একটু রাগ
দেখাইয়া বলল আনিম)
-ওকে ভাই।আমি তাহলে রাজকন্যা খুজি।(আনিহা)
-আরে বাদ দেন তে।অন্য কিছু বলেন।(আনিম)
-আপনাকে বিয়ের কথা বললে এড়িয়ে চলেন কেন
বলেনতো??(আনিহা)
-আরে বাদ দাওতো।ও যখন বলতে চাইছে না,ওরে জোর
কইরো না।(সিয়াম)
,
আজ অভির বিয়ে।বিয়ে অভির গ্রামের বাড়িতে হচ্ছে।
অনিক,সিয়াম আর আনিম এই প্রথম গ্রামে বিয়ার
অনুষ্ঠানে আসছে।অনেকেই শহর থেকে আসছে।মেয়ের
অনেক বান্ধুবি আসছে শহর থেকে।অনিক তাদের সাথে
গল্প জমাবার চেস্টা করতেছে।আনিম এক পাশে চুপচাপ
বসে আছে।অনিক আনিমকে বলল-
-কিরে এইখানে বসে বোর হচ্ছিস কেন আয় আমাদের
সাথে,মজা করি।(অনিক)
-না দোস্ত।তোরা মজা কর।আমি এইখানে আছি।(আনিম)
-আচ্ছা,আনিম।একটা সত্যি কথা বলবি??(অনিক)
-হুমমম।বল(আনিম)
-তুই সবসময় মেয়েদের এড়িয়ে চলিস কেন??(অনিক)
-সময় হলে সব বলব।এখন যা,তুই মজা কর(আনিম)
ওরা ওখানে তিনদিন থেকে তারপর ঢাকায় ফেরে।
,
-কিরে আনিম,আজ না তোর বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্ট
দিবে???(অনিক)
-হুমমম।অনেক টেনশনে আছি।আমাকে যে এই পরীক্ষায়
টিকতেই হবে।(আনিম)
-টেনশন করিসনা, দোস্ত।হইয়া যাবে।(অনিক)
-হুমম।দোয়া কর যেন আমি টিকতে পারি(আনিম)
-আরে দোস্ত।ধর তোর হইয়া গেছে।(অনিক)
-রাখি দোস্ত।
,
আনিমের বিসিএস পরীক্ষার রেজাল্ট দিসে।আনিম
বিসিএস পরীক্ষায় পাশ করে গেছে।আজ থেকে সে
একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার।আনিমের মত আজ খুশি
আর কেউ নেই।আজ তার সপ্ন পুরন হইছে।আজ আর কোন
বাধা নাই।সেই খুশিতে আনিম অনিককে ফোন দেয়।
-দোস্ত,আমি বিসিএস এ টিকে গেছিরে।আজ থেকে আমি
উপজেলা শিক্ষা অফিসার এবং বিসিএস ক্যাডার।
(আনিম)
-সত্যি।Congratulations dost.পার্টি কখন??(অনিক)
-পার্টি পরে।তোরে এক যায়গায় নিয়া যাব।সারপ্রাইজ
আছে।(আনিম)
-কোথায়??(অনিক)
-সেটাও সারপ্রাইজ। তারাতারি বাসস্টান্ড আয়।
-ওকে আমি।আসতেছি।
,
আনিমের সাথে অনিক রওনা দেয়।আনিম তাকে কোথায়
নিয়ে যাচ্ছে না।সকাল বেলা তারা একটা গ্রামে
পৌছায়।গ্রামটা চেনা চেনা লাগে অনিকের।যদিও
দুইবছরে অনেকটা চেন্জ হয়ে গেছে।কিন্তু গ্রামটা মনে
করতে পারতেছে না।
আরে হ্যা,এটা তো রুপপুর।অনিকের মনে পরে।কিন্তু আনিম
অনিককে রুপপুর নিয়ে এল কেন।ওর বাসা কি এইখানে।ওর
বাসা এইখানে হলেতো জানতে পারত অনিক।ওরা সেই
"সিকদার ভিলা"সামনে দারিয়ে।কিন্তু ও এখানে নিয়ে
এল কেন।হয়ত,এতবড় চাকরি পেয়েছে তাই সিকদারের
কাছে দোয়া নিতে এসেছে।
সিকদার ভিলাও অনেক পরির্তন হয়ে গেছে।গেট দিয়ে
ভিতরে ঠুকে আনিম চিক্কার দিয়ে বলতে লাগল-
-পরী।ও পরী।তোমার শিশির এসে গেছে।কোথায় তুমি???
আজ আমাদের মধ্য আর কোন বাধা নেই।আজ আমি
বিসিএস ক্যাডার।এস বাহিরে আস??
আনিমই তাহলে শিশির।অনিকতো পুরা অবাক হইয়া যায়।
কত খুজেছে অনিক শিশিরকে।কিন্তু শিশির যে আনিমই
তা বুঝতে পারে নাই।
বাড়ির ভিতর থেকে চিক্কার শুনে পরীর মা বাহিরে
আসেন।তার চোখে পানি।
-আমার পরী কই???(শিশির)
পরীর মা কান্না করতেছে
-কী হল কাদতেছেন কেন??আমার পরী কই??(শিশির)
-এইদিকে আস বাবা।(পরীর মা)
পরীর মা শিশিরকে নিয়ে যায়।পিছনে পিছনে অনিক ও
আসে।
-ঐ যে পরী।(পরীর মা)
-কী!!!!!না এ হতে পারেনা।আপনি মিথ্যা বলতাছেন।সত্যি
বলুন আমার পরী কই??আমার পরী আমারে রাইখা কোথাও
যাইতে পারে না।বলেন না আমার পরী কই??(শিশির)
-বাবা।এইটাই সত্যি।আমরা তোমার সাথে অনেক
যোগাযোগ করার চেস্টা করছি।পরীর বাবা তোমাকে
খুজতে ঢাকা গেছিল।কিন্তু তোমাকে কেউ পায় নাই।
(পরীর মা)
-কি হইছিল পরীর??বলেন কি হইছিল??
-তুমি চলে যাওয়ার পর পরিবারের সবাই পরীরে অবহেলা
করা শুরু করে।একবেলা খাইলে আরেকবেলা খাইতে পারত
না পরী।প্রতিদিন অপমান করত সবাই।বাড়ির সব কাজ ও
করত।ঠিকমত ঘুমাত না।শশিরের যত্ন নিতে পারত না।আমি
দেখতাম আর কাদতাম।তখন ও বলত,মা কান্না কইরো না।
দেখবা একদিন শিশির আসবে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে
যাবে।এভাবে চলতে থাকে।বছর খানেক আগে পরী অসুস্থ
হয়ে পরে।ধরা পরে মরণ ব্যাধি ক্যান্সার।শহরে
হাসপাতালে ভর্তি করি।পরীর বাবা তার ভুল বুঝতে
পারলেন।কিন্তু ততদিনে তো দেরি হয়ে গেছে।সারাদিন
শুধু তোমার নাম নিত।আস্তে আস্তে পরীর অবস্থা খারাপ
হতে থাকে।পরী শুধু একবার দেখতে চাইছিল।আমরা সবাই
তোমাকে অনেক খুজি।পরীর বাবা নিজে তোমাকে
খুজতে ঢাকা যায়।কিন্তু তোমাকে পায়নাই।এরপর একদিন
পরী চলে যায় না ফেরার দেশে।(বলেই কান্না করতে
থাকে পরীর মা)
পরী নেই।কত সপ্ন দেখাইছিল পরী।এই রাস্তায় দুইজনে
হাত ধরে হেটে যাবে।তাদের ককোলে ফুটফুটে দুইটা
বাচ্চা হবে।পরী কতটা সার্থপর।আমাকে একলা রাইখা
নিজে শান্তিতে ঘুমাইতেছে।পরী সার্থপর হইতে পারে।
আমি তো সার্থপর না।আছি মিতো পরীকে ছারা বাচতে
পারব না।আমি আসতেছি পরী।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে শিশির চলে যায় ওখান থেকে।
পরেরদিন পরীর কবরের পাশে একটি গাছের সাথে
শিশিরের লাশ পাওয়া যায়।মুছে যায় শিশিরের নাম।তবে
ভালবাসার কাছে হেরে যায় মৃত্যু।রয়ে যায় তাদের
ভালবাসা।
এভাবেই মুছে যায় অনেক পরী ও শিশির।হারিয়ে যায়
গভীর সমুদ্রে।ভালবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার যে
তিব্র আকান্খা,সেইটা মৃত্যুকেও পড়োয়া করে না।
#সমাপ্ত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now