বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চলুন একটু হাসি।

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এস এম মোরশেদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X বৃষ্টি হচ্ছে। আমিও শান্তিতে ঘুমাতে ঘুমাতে একটা রোমান্টিক স্বপ্ন দেখছিলাম। রোমান্টিক মানে সেই রকম রোমান্টিক। আমার রোমান্টিসিজমের মুল কারন আলিয়া ভাট। খুব রিসেন্ট ইন্ডিয়া ফিল্মে আসা নতুন এই সেলিব্রেটির বিশাল প্রেমে ফেসে গেছি। মেয়েটা এত্ত কিউটি-পিউটি যে দেখলেই কামড় দিতে ইচ্ছা করে। অনেক ঝক্কি- ঝামেলা পোহানোর পর ঠিক যেই মুহুর্তে আমার প্রিয়তম আলিয়াকে কিসি করতে যাব তখনি কানে একটা বিদঘুটে ভয়ানক আওয়াজ ভেসে এল। খুব পরিচিত আওয়াজ। আমি ভাল ভাবে খেয়াল করে দেখলাম আমার প্রিয়তম আলিয়া ভাট আমাকে লাত্থি মেরে ফেলে দিয়ে চিতকার করে বলছে, --শালা, কুত্তা, হারামী, সারাদিন খালি শুয়ে শুয়ে ঘুম। উঠ শালা, নাইলে তোর প্যান্টে আগুন লাগিয়ে দিবো। আমি ভাবলাম আলিয়া কি পাগল হয়ে গেল নাকি? আমি তো জেগেই আছি, ওই তো নিজেই আমাকে লাত্থি মেরে ফেলে দিল, আবার বলছে আমি নাকি ঘুমাচ্ছি। পাগল হয়ে গেল নাকি সে। অদ্ভুদ………… পরক্ষনেই আবার সেই একই চিতকার্। হুট করে মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল। বুঝতে পারলাম এতক্ষন স্বপ্ন দেখছিলাম। আর আলিয়া ছিল আমার দু:স্বপ্ন। কিন্তু চিতকার এখনো চলছেই। হুট করে মনে পড়লো আমার ফোনের কথা। হ্যা, আমার ফোনটা বাজছে। স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে "জানটুস" নামটা। মানে, jantus calling. . . . . . দুদিন আগে আমার জানটুস থুক্কু আমার শত্রু এই কাজটা করেছে। ওর নাম আমি "wrong number" দিয়ে সেইভ করে রেখেছিলাম। সে এটা চেইঞ্জ করে "জানটুস" বানিয়েছে, আমার একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও। তারপর ওর কলিং এ স্পেশাল এই টিউনটা সেট করেছে। ওর দাবি, আমি নাকি গাধার মত ঘুমাই। ওর চিতকার শুনে যেন আমার ঘুম ভাঙ্গে তাই এই বাদরামি। যাই হোক, স্বপ্নটা এভাবে বিগড়ে দেওয়াতে মেজাজ খুব চটে গেছে। আমার আলিয়া ভাট……… জান মিসিং ইউ। সি ইউ এনাদার টাইম। কলটা রিসিভ করতে ওপাশ থেকে, "জানটুস, তুমি উঠেছ? তারাতারি ফ্রেশ হয়ে আমাদের বাসায় চলে এসো দয়া করে" --মানে কি? --মানে কিচ্ছুনা। তোকে আমি বিশ সেকেন্ডের মধ্যেই আমাদের বাসায় চাই, চাই, চাই। নো হাংকি-পাংকি। --কেমনে সম্ভব? আমি কি ভুত নাকি? --তুই যা ইচ্ছা তাই। টাইম মাত্র বিশ সেকেন্ড। বুঝলাম অবস্থা বেগতিক। তাই বললাম, "আচ্ছা আমি তারাতারিই আসছি। কিন্তু কেন?" --তোর জন্য আমাদের বাসায় আজ স্পেশাল কিছু আইটেম তৈরী হয়েছে। --কী বলিস? কি কি রান্না করেছে আন্টি আমার জন্য? আমার চোখ চকচক করে উঠল, জিহ্বায় এল পানি। চোখের সামনে ভেসে উঠল, মুরগির রোস্ট, কোরমা, পোলাও, ভাজা মাছ, দুধ, ডিম, বোরহানি। রিমা বললো, "আম্মু-আব্বু চিটাগাং গেছে। আমি নিজ হাতে তোর জন্য অনেক পদ রান্না করেছি।" রিমার কথা শুনে আমার জিহ্বার পানি মুহুর্তেই তেতো হয়ে গেল। চোখে ভাসতে লাগলো গোবর, মরা মুরগির চামড়া ইত্যাদি। তাই আমতা আমতা করে জিজ্ঞাসা করলাম, --তু…তু…তুই রান্না করেছিস মানে? কী কুখাদ্য রান্না করলি আমাকে গেলানোর জন্য? --ওই শালা, তোর মুন্ডু কেটে দিবো। আমি কুখাদ্য রান্না করি!! আজ আই তুই, তোকে আমি দেখে নিবো। --জানটুস, শোন না, আমার আজকে সিরিয়াস পেট খারাপ। সকাল থেকে ৫৩ বার…… --তুই আসবি? আমি এত কস্ট করে এতকিছু বানালাম। (কান্না কান্না কন্ঠে বলল রিমা) এই মেয়েটা এরকমই। অত্যান্ত জেদী, আর অল্পতেই কেদে দেয়। এজন্যে একে আমি "প্যাটকাইন্দুইন্না" বলে ডাকি। সে জানেনা "প্যাটকাইন্দুইন ্না" মানে কি। আমিও জানিনা, আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় যে অল্পতে কেদে দেয় তাকে এই নামে ডাকতাম আমরা। আমার বন্ধু "মুজাহিদ" ছিল একটা প্যাটকাইন্দুইন্ না। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত আমি যেতে রাজি হলাম। বাসায় বেল দেওয়ার সাথে সাথে দরজা খুলে গেল। রিমার হাসি হাসি মুখ, দেখেই মনে হচ্ছে না জানি কোন মহাভারত জয় করে ফেলেছে। মনে মনে আল্লাহর নাম জপছি কি খেতে হয় এই ভেবে। সে আমার হাত ধরে সোজা তার বেড রুমে নিয়ে গেল। তারপর আমাকে দাড় করিয়ে চোখ বন্ধ করতে বলল। আমি চোখ বন্ধ করলাম। পলিথিনের একটা খচ খচ আওয়াজ শুনছি। আমাকে চোখ খুলতে বলা হলো। আমি খুললাম। সে আমার হাতে পলিথিনে মোড়ানো এক তোড়া ফুল ধরিয়ে দিয়ে বলল, "প্রপোজ কর" আমি হতভম্ব। তাই বললাম, "মানেহ!!!" আমাকে প্রেম নিবেদন কর স্টুপিড। হাটু গেড়ে বসে বল, "রিমা, উইল ইউ ম্যারি মি?" --আমার কি মাথা খারাপ? অসম্ভব। --খুন করে ফেলবো তোকে। শালা প্রপোজ কর্। বাধ্য হয়ে প্রপোজ করলাম, কিন্তু মনে মনে আমি সত্যিই খুশী। রিমা একটা অসাধারন মেয়ে, প্রচন্ড রাগী কিন্তু খুউব ভাল। আমি অনেক আগেই তার উপর ক্রাশড। আলিয়া ভাট তো আমার সেকেন্ড ক্রাশ। আমার প্রপোজ করার স্টাইল দেখে সে তো হেসেই খুন। অদ্ভুদ ব্যাপার্। খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গেল তার পছন্দ মত প্রপোজ করার স্টাইলটা রিহার্সেল করতে করতে। তারপর যখন সফল হলাম তখন সে ভাব নেওয়া শুরু করলো। ফাইনালি খুব কস্টের মধ্য দিয়ে এই প্রসেসটা কমপ্লিট করলাম আর একটা পারমানেন্ট গার্লফ্রেন্ড পেলাম। অবশেষে গেলাম খাওয়া দাওয়া পর্বে। ডাইনিং এ রান্নার বাহার দেখে আমার পুরাই মাথা নষ্ট। একটু খাদ্য বর্ণনা না দিলে খুব খারাপ হয়ে যাবে। তাই দিচ্ছি, ভাত: দেখতে আঠালো লালচে হলুদ রঙ্গের অদ্ভুদ এক জিনিস নাকি ভাত। লালচে হলুদ হওয়ার কারন জিজ্ঞাসা করাতে জানতে পারলাম নতুন আইটেম তৈরীর জন্য সেখানে হলুদ আর মরিচের গুড়ো মিশানো হয়েছে। আলু ভর্তা: আলু ভর্তা যে কত অদ্ভুদ জিনিস তা এই প্রথম দেখলাম। বেশ কয়েক পদের আলু ভর্তা হয়েছে। ১। শুকনো মরিচ, আলুর দম মিলে আলু ভর্তা। ২। কাচা মরিচ, আলুর দম মিলে আলু ভর্তা। ৩। হলুদ, মরিচের গুড়ো দিয়ে আলু ভর্তা। ৪। হলুদ, মরিচ, পেয়াজ, রসুন, জিরা আর কাঠ মসলা দিয়ে আলু ভর্তা। ৫। শুধু লবন আলু ভর্তা। ৬। ঢিলেঢালা আলু ভর্তা। মানে এখানে মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা বানানোর পর পানি দিয়ে ঢিলেঢালা করা হয়েছে। ৭। গোটা আলু ভর্তা। মানে আলু সিদ্ধ করে গোটা রেখেই ইঞ্জেকশন দিয়ে মরিচের গুড়োর তরল ঢুকানো হয়েছে। (মেয়ের বুদ্ধি আছে) আরো বেশ কয়েক প্রকার আলু ভর্তা দেখলাম যেগুলো দেখেই বমি আসছে। এগুলো তৈরীর প্রক্রিয়া জানার ইচ্ছে হচ্ছেনা। আর একটা আইটেম আছে। মুরগির গোস্ত। জীবনে দেখা সবচেয়ে বিদঘুটে রান্না। গোটা মুরগি কে এমন ভাবে রান্না করেছে যেন দেখে মনে হচ্ছে, একটা চামড়া ছিলা জ্যান্ত মুরগী বুঝি এখনি উঠে দৌড় দিবে। অনেক কষ্টে, রুচির চোখে কালো কাপড় বেধে, নাক বন্ধ করে একমাত্র রিমার খুশির জন্য কত্তগুলো অখাদ্য খেতে হলো আমাকে। তাও আমাকে একাই খেতে হলো, রিমা পরে খাবে। সে নাকি আমার খাওয়া দেখবে রিমাদের বাসা থেকে যখন বের হই, মনে হচ্ছিলো এই বুঝি আমাকে কেউ দোজখ থেকে তুলে বেহেস্তে ছুড়ে মারলো। পরদিন সকালে …………… রিমার ফোন, --জানটুস, কাল তুমি কিভাবে আমার রান্না করা খাবার গুলো খেয়েছিলে? আমি তো পরে একটু মুখে দিয়েই বমি করে দিয়েছি। জানু তোমার পেট ঠিক আছে তো?? --রিমা, আমি পরে কথা বলবো। আমি বাথরুমে বসে আছি। --ছিহ!! নোংরা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now