বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হ্যা এভাবেই শুরু
(৭০) শুরু টা একটু অন্যরকম ছিলো রুপক আর মহিমার। পিচের রাস্তায় ফুটবল খেলতে খেলতে মহিমার সাথে দেখা রুপকের। রুপক তখন কলেজে এডমিশন নিয়েছে আর মহিমা ক্লাস ৮ এ।
এক পরন্ত বিকেলে ফুটবল খেলছিল রুপক। মহিমা কোচিং শেষ করে আসছিল, পাস কাটিয়ে যাওয়ার সময় বাতাসে মহিমার খোলা চুল গুলো রুপকের মুখে জড়িয়ে যায়।মহিমা বুঝতে পারে নি, কিন্তু কি মনে করে যেন রুপক খেলার তালে বলে উঠে সরি আন্টি। পিছন ফিরে মহিমা তাকিয়ে হতভম্ব। "কি বললেন," রুপক তাকিয়ে মহিমা কে দেখে তাকিয়ে রইলো। কিছু সময় পর বলে উঠে অনেক সুন্দর, মহিমা অবাক হয়ে বলে "কি" রুপক বড় বড় চোখে তাকিয়ে বলে,
" আপনি,না মানে আপনার চুল। না মানে আমার ফুটবল, আয়ায়মার ফুটবল অনেক সুন্দর না?" মাহিমা হাসতে হাসতে চলে যায়। ব্যাস হয়ে গেল বন্ধুদের খেপানো শুরু। রুপকের সাথে দেখা হলেই, কিরে তর হেয়ার কুইন কই...........এর পর থেকে প্রতি দিন মহিমার সাথে চোখাচোখি হত রুপকের। একি যায়গায়। রুপকে মনে ধরতে শুরু করে মহিমা কে। তার কাছে সবসময় মহিমার চুলের ছোয়া মনে পরে।বেশ কয়েকদিন পরে হটাত মনে সাহস নিয়ে কথা বলতে যায় রুপক ভেবে যায় অনেক কিছু। কিন্তু কি হল পরিচয় হয় এভাবে " আ আমি রুপক। আর এটা আমার ফুটবল। আপনার নামটা জানা যাবে? মহিমা হাসতে হাসতে বলে বেশি ইচ্ছা করলে জেনে নিয়েন পারলে। রুপক মন খারাপ করে পিছন ফিরেতেই শুনতে পায়,আমার নাম মহিমা। খুশিতে লাফ দিয়ে ওঠে রুপক। এরপর আবার সেই চোখাচোখি কিন্তু রুপকের অবস্থা দিন দিন খারাপ। শুধু বিকেলের অপেক্ষায় থাকে সে। ১ মাস পরে আবার সাহস করে কিছু বলবে সে আবার রাস্তার মোরে দাড়িয়ে থেকে মহিমার পাশে গিয়ে বলে।
"কিছু বলব আপনাকে"
"কি"
"না মানে আমার কিছু ভাল লাগে না।"
"মানে কি"
"মানে বিকেল ছাড়া আমার ভাল লাগে না,আর আপনি যান এখান দিয়ে"
"আমি যাই সেটা ভাল লাগে না!"
"আরে না না ওটাই তো ভাল লাগে এছারা আর কিছু না"
মুচকি হেসে হেটে চলে যায় মহিমা। ৩ দিন পর সেই বিকেল বেলা রুপক দারিয়ে আছে, মহিমা যেতে যেতে একটা কাগজ ছুড়ে মারে কাগজে লেখা ছিল " তুমি একটা গাধা" রুপক তখন বুঝতে না পারলেও পরে বুঝতে পারে। এর পর চিঠি র মাধ্যমেই ওদের প্রেম হয় প্রেমের কাহিনি পরে হবে এক সময়।এরপর ১০ বছর পর ও দেখা যায় ছুটির দিনে বিকেল বেলা রুপক ফুটবল নিয়ে দাড়িয়ে থাকে সেই রাস্তায় কিন্তু পরিবরতন একটাই মহিমার কোলে একটি ছেলে। ৫,৬ মাস হবে হয়তো। ছোট্য রুপক জি মহিমা আর রুপকের ছেলে। তাদের সেই ভালবাসা এখনও আছে............
হঠাৎ বৃষ্টি
(৭১) ‘তোমার ঠান্ডার সমস্যা, আবার ভিজছ কেন? যাও, ঘরে যাও, কাপড় পাল্টে মাথা ভালো করে মুছবে! ঠান্ডা লাগলে তোমার কিন্তু খবর আছে।’
‘মানে?’
‘মানে, তুমি তোমার না, তুমি শুধু আমার। নিজের জন্য না, আমার জন্য নিজেকে ভালো রাখবে, বুঝেছ?’
‘জো আজ্ঞা, জানু পাখি।’
এই হলো ফয়সালের জানু পাখি। পরিচয়ের আট বছরের মাঝেও তাদের দেখা হয়নি। নিজের নাম বলেনি বলে ফয়সাল কখনো জানু পাখি, কখনো লক্ষ্মী বউ, কখনো আবার পাগলি বলে ডাকে। মিসড কলেই তাদের পরিচয় হয়। হয়ে যায় জানু পাখি। নিজের পছন্দমতো নামে ফেসবুক খুলে তাকে পাঠিয়ে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে তাদের দিনগুলো।
মাস ছয়েক আগে হঠাৎ করে মেয়েটির মোবাইল নম্বরটি বন্ধ হয়ে যায়। কী কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ফয়সাল জানে না। প্রতিদিন কতবার ফোন দেয় তাও জানে না। কিন্তু এটা বোঝে নম্বরটি বন্ধ আছে। ফেসবুকেও আর বসে না। চিন্তায় অনেকটা পাগলের মতো হয়ে যায় ফয়সাল।
তিনতলা বাসার দোতলায় থাকে ফয়সাল। নিচতলা আর তিনতলায় ভাড়াটেরা থাকেন। বৃষ্টি গেছে থেমে, এমন সময় মোবাইলটা বেজে ওঠে। ধরতেই ও পাশ থেকে বলে ওঠে, ‘কিরে শালা, তোর জন্য প্যান্ট ভিজিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, আর তোর আসার নাম নেই।’
‘তুই কোথায়?’
‘আয়, ভার্সিটির গেটে দাঁড়িয়ে আছি। এখনই আয়।’
তড়িঘড়ি করে নিচে নামতেই ফয়সালের ধাক্কা লাগে এক তরুণীর সঙ্গে। টুস করে শব্দ হয়। সরি বলে, দুই পা এগিয়ে যায় ফয়সাল। আড় চোখে খেয়াল করে দেখে মেয়েটির মোবাইলটা পড়ে গেছে। কিন্তু, মেয়েটি ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। কী মনে করে মেয়েটিকে মোবাইলটা তুলে দিয়ে বলে, ‘সরি, এই নিন আপনার মোবাইল।’
মেয়েটি ধন্যবাদ, বলতেই ফয়সালের মনে লাগে জোর ধাক্কা।
আসছি বলেই, মেয়েটি হাঁটতে থাকে। চোখে সানগ্লাস পরা তাই কিছু বুঝতে পারে না ফয়সাল। এমন সময় ছোট্ট একটি ছেলে আসে। ‘ফুপি সরি। চলো’। কথাটি বলেই মেয়েটির হাত ধরে। ‘হাই আংকেল, আমি ফয়সাল, দোতলায় থাকি। তুমি...’
‘শাওন, আমরা তিন তলায় থাকি।’
‘দেখা হবে’ বলেই চলে যায় ফয়সাল। কিন্তু মনের মধ্যে ঘুরতে থাকে ধন্যবাদ শব্দটি। কে এই মেয়ে, কোথায় থাকে? ওর নম্বরটা কীভাবে নেওয়া যায় মনে করতে করতে বন্ধুকে ফোন দেয়। ‘হ্যালো, সরি, আজ আসতে পারছি না, পরে কথা হবে’ বলেই লাইনটি কেটে দেয়।
অনেক দিন পর আজ ছাদে পা দিল ফয়সাল। ভালো লাগছে কেন আজ? আবারও সেই নম্বরটিতে ডায়াল করে। সেই কথাই শোনা যায়। ফয়সাল আকাশ আর মেঘের খেলা দেখতে থাকে আর ভাবে কে এই মেয়ে। ভোর কখন হয়েছে বুঝতেই পারেনি ফয়সাল। যখন ঘুম ভাঙল তখন অনেক রোদ বারান্দায়। বিছানা ছেড়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সকালটাকে দেখে। এমন সময় ওপর থেকে কী যেন নিচে পড়ল। ওপর দিকে তাকিয়ে দেখল সেই মেয়েটি আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন দেখছে। নিচে কী পড়ল দেখার জন্য তাকাতেই দেখল মোবাইলটি খুলে পড়ে আছে। তাড়াতাড়ি নিচে যায় ফয়সাল। মোবাইল ঠিক আছে, শুধু কভারটা খুলে গেছে। কভার লাগাতে লাগাতেই হাজির হয়ে গেল ছোট্ট ছেলেটি।
‘তুমি?’
‘ফুপির মোবাইলটা পড়ে গেছে।’
‘এটা তোমার ফুপির মোবাইল? তোমার ফুপি রাজশাহীতে থাকে?’
‘তুমি জানলে কী করে?’
‘না, মনে হলো তাই...(সে জানত জানু পাখি রাজশাহীতে থাকে)! নাম কী তোমার ফুপির?’
‘মহুয়া।’
‘মহুয়া!’
‘হু, ফুপির চোখ ঠিক হবে কালকে। অ্যাক্সিডেন্টে চোখ নষ্ট হয়ে যায়। বাবা বলেছে, ফুপি আবার দেখতে পাবে।’
কল্পনা ছিল না সপ্ন ছিল
(৭২) ফোন বাজতেই হুরমুর করে ফোন ধরলো সুইটি
হ্যালো,কই ছিলা,তোমার না অফিস থেকে বের হয়ে ফোন দেয়ার কথা,ফোন ধর না কেন? কই থাকো? কোন মেয়ে সাথে?ভাল আছ তো? আর এখন কয়টা বাজে ? ৮টা থেকে অপেক্ষা করছি।
শুভ্রঃ শেষ? এখন আমি একটু বলি,
সুইটিঃ হাহ,বল
শুভ্রঃ জ্যাম ছিল আর গাড়িতে গ্যাস নিতে দেরী হলো।সরি সরি সরি জান।
সুইটিঃ আচ্ছা আচ্ছা হুয়েছে অনেক বাজে আগে খাও তারপর ফোন দাও।আস খাই ।
শুভ্রঃ ওকে।
১ ঘন্টা পর,রাত ১১ টা।
শুভ্রঃ হ্যালো
সূইটিঃ হ্যালো, বাবু খাইছো?
শুভ্রঃ জী খাইছি তুমি খাইছো?
সুইটিঃ হুম খাইলাম।
শুভ্রঃ হুম, শুনো যা বলবো তা মন দিয়ে শুনবা, এখন লক্ষি মেয়ের মত জামা কাপর গুছাও,একটা হ্যান্ড ব্যাগ নাও আর কিছু বাইরে পরার কাপড় তারাতাড়ি।
সুইটিঃ মানে কি?
শুভ্রঃমানে আমরা পালাচ্ছি।
সুইটিঃ কি?????? পাগল,আমি পারব না।আর আব্বু আম্মু ঘুম থেকে জেগে যাবে।
শুভ্রঃ দেখ আজ না আসলে আমি আর ফোন দিব না আর আমি তোমার বাসার নিচে অপেক্ষা করছি,প্লিস তারাতারি আস
সুইটিঃ দেখ পাগলামি করো না।
শুভ্রঃ তুমি আস আমি বলছি,কি হয়েছে।
সুইটিঃ আচ্ছা তুমি দাড়াও,আসছি।
শুভ্রঃ এইতো লক্ষি মেয়ে।
আধ ঘন্টা পর ব্যাগ হাতে নিচে চুপি চুপি দাঁড়িয়ে কাপছে। শুভ্র জড়িয়ে ধরে রাখে কিছুক্ষন
শুভ্রঃ বললাম তো কিছুই হবে না গাড়িতে ওঠো। গাড়ি তে ঊঠা মাত্র ঝড়ের মত চালাতে শুরু করে শুভ্র………
সুইটিঃ কি হল এটা? এতো রাতে এভাবে?
শুভ্রঃ আমরা কক্সবাজার যাচ্ছি………….
সুইটিঃ মানে?
শুভ্রঃ এত মানের কি আছে,বলেছিলাম না আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না তাই উপায় না পেয়ে এই সারপ্রাইয
সুইটিঃ ইসস বিয়ের দুই বছর হয়ে গেল তাও তোমার পাগলামি গেল না? শয়তান অসভ্য……… অও তোমার না কাল মিটিং ছিল?
শুভ্রঃ ক্যাঞ্ছেল করে দিয়েছি,আগে আমার বঊ তারপর কাজ……
সুইটিঃ ২ দিন হল মাত্র আম্মুর কাছে এলাম আর তোমার তো সয্য হল না,হাহ কাল আসতাম বলে আসলে কি হত?
শুভ্রঃ বলে আসলে তো পালানো হত না? তাহলে তো মনেও হত না যে একজন মেয়ে কে নিয়ে এত রাতে পালিয়ে যাচ্ছি…….
সুইটিঃ কিছুক্ষন তাকিয়ে, এত ভালবাস কেন?
শুভ্রঃ তোমার বাবা মার কাছ থেকে তোমাকে চেয়ে আমার কাছে এনেছি, তাদের চেয়ে বেশি ভালবাসতে না পারলে তোমার কষ্ট হবে। আর আমার তো একটাই জান। তোমাকে ছাড়া আর কাকে ভালবাসবো?
সুইটিঃ হুম জানি,আমার জান। তুমি সেই সকালে উঠেছ আবার আজ সারারাত ড্রাইভিং করবা খারাপ লাগবে না?
শুভ্রঃ সমুদ্রের স্নিগ্ধ বাতাসে তোমার চুল গুলো আমার মুখে এসে লাগবে,এটা ভাবতেই তো আমার ঘুম চলে গেছে………….
সুইটিঃ আহা, এভাবে সব সময় ভালবাসবা তো?
শুভ্রঃ যেদিন পর্যন্ত বেচে থাকব…………………
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now