বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এই জগতে হায়,সব বাবুরাই মারা খায়
(১৯) ছেলের সবকিছুই ভালো। কিন্তু সমস্যা একটাই ছেলেটার নাম 'বাবু'!! ভার্সিটির প্রথম ক্লাসে স্যার যখন সবার পরিচয় জানতে চাচ্ছিলো তখন বাবু দাড়িয়ে অতি বিনয়ে বললো - স্যার আমি বাবু! ক্লাসে একটা হাসির রোল পড়ে গেলো! ক্লাসের সব ছেলেই কারো না কারো 'বাবু'। এই দাড়িয়ে থাকা বাবু আবার কার বাবু? মেয়েরাও একটু অবাক হয়ে তাকালো। তাদেরও সবার এক বা একাধিক 'বাবু' আছে। নতুন এই বাবু তাদের কারোরই বাবু নয়! ক্লাস শেষে এক মেয়ে বাবুকে ডেকে বললো
- শোন বাবু, তোমাকে আমি বাবু ডাকতে পারবো না
- ডেকেই তো ফেললে!
- আর ডাকবো না! - কেন?
- কারণ আমি আমার 'ওকে' বাবু ডাকি
- ওর নামও কি বাবু?
- নাহ ওর নাম বাবু না! আমি বাবু ডাকি
- কি আশ্চর্য! ওর নাম বাবু নাহলে তুমি ওকে বাবু ডাকো কেন?
মেয়ে অবাক হয়ে বাবুর দিকে তাকায়। ছাগল নাকি!
- ওসব তুমি বুঝবে না! তোমার বাবু ছাড়া অন্যকোন নাম নাই? বাবুর আগেপিছে কিছু নাই?
-আছে
-কি?
- মোঃ
- মোঃ?
- হ্যা! আমার নাম মোঃ বাবু!
- ধ্যাত!
মেয়ে বিরক্ত হয়ে চলে গেল! এই মেয়ের মতো সব মেয়েই তার উপর বিরক্ত। কেউ তাকে বাবু ডাকতে রাজি নয়। নামের জন্য কেউ তার সাথে কথাও বলে না! এরমাঝে একটা মেয়ে একটু ব্যতিক্রম। সে বাবুকে বাবুই ডাকে। মেয়েটা বাবুর ভালো ফ্রেন্ড হয়ে গেলো। কিন্তু বাবু নামটাই মেয়ের জন্য সর্বনাশ হয়ে দাড়ালো। ঘটনা এমন। মেয়টা তার বয়ফ্রেন্ড কে নিয়ে ঘুরতে গেছে। আকাশ বাতাস রিক্সা মিলে রোমান্টিক ব্যাপার স্যাপারে দুজন সময় কাটাচ্ছে! এমন সময় বাবু মেয়েটাকে ফোন দিছে। মেয়ে ফোন ধরে বললো - হ্যালো বাবু! বলো কি ব্যাপার? ফোন রাখার পর মেয়ের বয়ফ্রেন্ড বললো
- এই বাবুটা কে?
- ফ্রেন্ড হয়
- ফ্রেন্ড?? তুমি আমারে ঘোড়া বুঝ দাও! এতো সহজ! আমার বোঝা শেষ। আমি ছাড়াও তোমার আরো একটা বাবু আছে! তুমি আরেকজন বেগানা পুরুষের সাথে ইয়ে করে বেড়াও! ছি ছি ছি অতঃপর ব্রেকাপ। বাবু নামের কারণে একটা মেয়ের ব্রেকাপ আর বাকিসব মেয়েদের তীব্র অসন্তোষের মুখে বাবু তার নাম চেঞ্জ করতে বাধ্য হলো। তার নতুন নাম হলো বুবা। বাবু। কে উল্টালেই বুবা। বুবা নামটাই কালের বিবর্তনে হয়ে গেল বুব্বা! প্রেমিকাহীন বুব্বার একটা প্রেমিকাও জুটে গেল। তারা গভীর রাতে মোবাইলে ফিসফিস করে ভালোবাসাবাসি করে!
- আমার বুব্বা বাবুটা কি করে?
- তোমার বুব্বা বাবুটা প্রেম করে
- আমার বুব্বা বাবুটা কারসাথে প্রেম করে?
- তোমার বুব্বা বাবুটা তোমার সাথেই প্রেম করে
- হি হি হি
- হো হো হো
প্রেম যখন জমে পায়েস হয়ে গেছে ঠিক তখনই পুরনো বাবু নামের অভিশাপ তার জীবনে এসে হানা দিল! বুব্বা তার প্রেমিকাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাচ্ছিলো। এমন সময় কোথা থেকে একটা মেয়ে বুব্বাকে দেখে বললো
-আরে বাবুওওওও! তুমি এখানে? কতোদিন পর তোমার সাথে দেখা!আমার যে কি ভালো লাগছে!!! অতঃপর বাকিটা ইতিহাস! বাবুর প্রেমিকা তার সাথে ব্রেকাপ করে চলে গেল। বাবু কোনভাবেই তাকে বোঝাতে পারলো না মেয়েটা তার স্কুলের ফ্রেন্ড আর তার আসল নাম বাবু। বুব্বা না! প্রেমিকা হারিয়ে বাবু ইদানীং কবি হয়ে গেছে। বাবু খৈয়াম নামে সে ইদানীং কবিতা লেখে। তার কিছু কবিতা বিখ্যাতও হয়েছে। তার কবিতার একটা বিখ্যাত লাইন হচ্ছে "এই জগতে হায়,সব বাবুরাই মারা খায়... যার নাম বাবু সে মারা খায়, যার নাম বাবু না সেও বাবু হয়েমারা খায়..."
ভুল নাম্বারে ফোন কল এবং ভালবাসা !
(২০) হঠাৎ একদিন রাত এগারটায় ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠলো, হ্যালো কে বলছেন ? ওপার থেকে অসম্ভব মিষ্টি একটা কণ্ঠ ভেসে এলো যেন স্বর্গের অপ্সরা কথা বলছে । খুব হকচকিয়ে গেলাম আবার পুলকিতও হলাম ভয়ানক ভাবে । বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো এমন অচেনা কল কার না ভাল লাগে । খুব স্পষ্ট করে আমাকে এ চাইলো যেন কত কালের চেনা জানা । তার পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম,বিস্তারিত কিছু বললো না । আশ্চর্য হবার শুরু সেদিন থেকেই । এরপর থেকে প্রত্যেক রাতে ঠিক এগারটায় কলটা আসতো । মন্ত্রমুগ্ধের মতো নেশাগ্রস্তের মতো কথা বলতাম ভোর রাত পর্যন্ত । হয়তো একেই বলে প্রেম, মরুময় ব্যাচেলর জীবনের প্রথম প্রেম ।
দিন দিন অবস্থা আরো ভয়াবহ হলো, বিকেল থেকে ওর কলের জন্য অপেক্ষা করতাম । ওর কল না আসা পর্যন্ত হাশপাশ করতে থাকতাম, এভাবে চলল পুরো এক মাস । মানুষ তো চেহারা দেখে প্রেমে পড়ে ,আর আমি পরলাম… কখনো ওর ফোন নাম্বার জানতে চাইনি, ঠিকানা তো অনেক পরের ব্যাপার । দিন যেন যাচ্ছে ঝড়ের গতিতে, একি চরম এক মনোমুগ্ধতা ! ঘোরের মধ্যে কাটছে দিন রাত, সারাদিন শুধু ওর ই চিন্তা । কতদিন যে ওর সাথে দেখা করতে চেয়েছি, ও এড়িয়ে গেছে, বলেছে পরে, সময় হলে । আমি ও অপেক্ষা করছি,শুধু এক সুন্দর ভবিষ্যতের আশা । আর মনে মনে বুনে চলেছি স্বপ্নের এক কারুকাজ ।
এভাবে স্বপ্নের ঘোরে আরো তিন মাস পেরিয়ে গেলো চোখের পলকে । কল্পনা করতাম কত শত কিছু, হয়তো ও ওর কণ্ঠের মতোই সুন্দর । দিনটা স্পষ্ট ভাবে মনে আছে, ১৩ এ আগস্ট । সেদিন রাতে কোন ফোন কল এলো না । সারা রাত ছটফট করলাম ঘুম এলো না । এভাবে ছটফট করতে করতে সকালে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম মনে ই নেই । নাওয়া খাওয়া ভুলে গেছি চোখ সারাদিন পরে থাকে ফোনের দিকে । সেদিন ও কোন ফোন এলো না । পাগলের মতো হয়ে গেলাম যেনো । আজ ৮ দিন হয়ে গেছে একবারো ও ফোন করেনি । আমার মাথা ঠিক মতো কাজ করছে না । চোখের নীচে কালি পড়ে গেছে, মাথার চুল উস্কো খুসকো হয়ে গেছে ।
গোসল নাওয়া খাওয়া নাই কিছুই মনে নাই, কখন যে কি করি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম । অনেক চেষ্টা করলাম,ওর কোন হদিস ই বের করতে পারলাম না । আজ ১৩ দিন হয়ে গেছে একবারো ও ফোন করেনি । আমি শয্যাগত, স্যালাইন দেয়া হয়েছে, সারাদিন শুধু বিড়বিড় করি আর ওর নাম বলি । দুই জগতের সন্ধিক্ষণে এখন আমি । কিন্তু ফোন আর এলো না!
ছুঁয়ে জোছনার ছায়া
(২১) ১.
মরিয়ম বেগম পান খাচ্ছেন | এসময়টা তার দিনের মধ্যে একটা অমূল্য সময় বলা যায় | যে পরিমাণে পান খায়,তাতে যা মনেহয় মাসে ১০০০ টাকা খরচই হয় তার পানসামগ্রীর পিছনে | যদিও তার টাকার কোন চিন্তা নেই | দরজা ঠেলে অর্নবের উকি দেয়া মাথাটা দেখে একটু বিরক্তিস্বরে বললেন,কিছু চাও?
- আম্মা আমি কি ভিতরে আসব?
- বাইরে দাড়াইয়া কথা বলা আমার অপছন্দ,জানোনা?
অর্নব দরজাটা আগের মত চাপা দিয়ে এসে মায়ের পায়ে কয়েকবার সালাম করে হেসে দিল |
- হাসো কেন,কি ঘটনা?
- আম্মা আমার একটা চাকরি হইছে,তবে ততটা সুবিধার না | যেকোন সময় ছেড়ে দিতে পারি |
- শুরুর আগেই ছাড়াছাড়ির কথা বলতেছ কেন,গাধা কোথাকার ! বাপের মত হইছ !
অর্নব হাসিটা এখনো থামায়নি,ভালই লাগছে হাসতে |
- বোকা ছেলে,খালি হাসে | আমার এইপাশে পা উঠাইয়া ভালমত বস |কথামত অর্নব তাইই করল | মায়ের গা ঘেষে একটু আদুরে ভঙ্গিতে |
- পান খাবা আব্বা? নতুন এক মশলা আনাইছি,খুব মজা | দাড়াও একবার খাও,তাইলেই মজা বুঝবা | অর্নব কেবল মাথা দুলিয়ে চলেছে | ওর খুব জানতে ইচ্ছে করছে,কতদিন পর মা ওকে 'আব্বা' বলে ডেকেছে | ডাকটা শুনলেনা গলা কেমন ভার হয়ে আসে | অতি আবেগেই হয়ত |
- অর্নব,তোমার দু'ভাইদের খবর কি,তারা কেমন আছে?
- আম্মা আপনি সারাদিন বাসায় থেকে আমাকে এই প্রশ্ন করতেছেন কেন |
- তারা তো আমার সামনেই আসে না | চাকরি বাকরি,বউ পোলাপান নিয়ে ভারি ব্যস্ত | আমার কাছে আসার সময় কই? তুমিও কি বাসায় থাকো না?
- আগামী ৭ দিন মানে ১ সপ্তাহ ধরে আমি বাসায় আসি নাই | কারণ এইরকম বাজারের মত বাসায় থাকতে একদম ভাল্লাগেনা |
- ও,ভাল বলছ |
- আম্মা আমার টিউশনি আছে,গেলাম |
- পানটা খাবা না?
- জ্বি দেন,খেতে খেতে যাই |
শুধুমাত্র বসার ঘরটাই এত্ত সুন্দর করে কেউ সাজাতে পারে বিশ্বাস করাই কষ্টকর | বাব্বাহ্,এইনা হল বড়লোকি বাসা | টানা কয়েক মাসেও এই রুমের উপর একটুও বিস্ময় কমেনি অর্নবের | পড়াতে এলেই মনে ওলটপালট লেগে যায় রুমের প্রতিটা বস্তু দেখে | তবে টাশকি খাওয়া কথা হল,বড়লোক সাহেবের একমাত্র সন্তান এবং মেয়ে মানে তাশফি | এই মেয়ের কথাবার্তা,চালচলন তো পুরাই উল্টা |ক্লাস টেন পড়ুয়া এই মেয়ের সাথে চললে কে বুঝবে,এযে বিরাট রাজার একমাত্র রাজকন্যা | তবে অর্নবের অতটা টাশকি খেতে হয়নি | কারণটা ওর স্বভাবের | ওর খালি ঐ জড় চাকচিক্যের প্রতিই মনোযোগ অত্যধিক | চাকচিক্যের ভেতরের জীবদের নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই |
"স্যার বসে আছেন কেন,রুমে আসেন" তাশফির ডাকে ঘোর ভাঙল অর্নবের,হ্যা আসছি | তাশফিকে দেখে অর্নব এক নিরব ঝামেলায় পড়ে গেছে | ঝামেলার কথাটা তো আর সরাসরি বলা যাবেনা,চুপ করে থাকাই নিরাপদ | তাই একে নিরব ঝামেলাই আখ্যা দিয়ে ফেলল অর্নব | আজ হঠাৎ এরকম কেন হয়ে গেল কে জানে | আসোলেই চোখ সামাল দেয়ার মত কঠিন কাজ,পৃথিবীতে খুব কমই আছে | ধ্যত্তরি যত্তসব !
- স্যার আপনার কি কিছু হয়েছে? একটু চমকে অর্নব বলল,নাহ্ কি হবে? কিছু না | ইচ্ছেকৃত হাসিটা দিতে গিয়েই ভালই ধরা খেল বেচারা |
- স্যার মিথ্যা বলা মহাপাপ জানেন না? আচ্ছা,আমি বলি আপনার কি হয়েছে? - বল
- আমি আজ শাড়ি পড়েছি,আপনার প্রিয় রঙের | চোখে কাজল দিয়েছি খুব যত্ন করে,এটাও আপনার পছন্দমত | আর এতে আমাকে খুব সুন্দর লাগছে তাই আপনি চোখ নামাতে পারছেন না |অর্নবের মুখ মিডিয়াম হা হয়ে গেছে | এত নরম ভাবে চরম ধরা জীবনে এই ফাস্ট | ও খোদা,এইটা কি মেয়ে না মহিলা ফেরেশতা !
২.
হামিদ সাহেব রুমে ঘুরেঘুরে কথা বলছেন | একা একা,নিজের সাথে | যখন ভীষন একা মনেহয় এই পৃথিবীতে,তখনি তিনি এরকম করতে থাকেন | ফলাফল,তিনি একটু একাকিত্বের মাঝেও সান্ত্বনা খুজে পান | দরজায় খটখট শব্দ হতেই কথা থামিয়ে দিলেন | তিনি মোটামুটি অবাক আর কি | আমার কাছে কি কারো আসার কথা ছিল,কে আসবে? আরেকবার শব্দ হল,খট খট খট ! হামিদ সাহেব তড়িঘড়ি করে দরজার ছিটকিনি খুলে ফেললেন |
- আব্বা কেমন আছেন? হামিদ সাহেব যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না অর্নব এসেছে |
- এতদিন পর বাপের কথা মনে হল তোর |অর্নব টুপ করে ঘরের মধ্যে ঢুকে একদম সটাং হয়ে শুয়ে পড়ল বিছানায় | খুব ঘুম পাচ্ছে ওর |
- কিরে বেটা অসুস্থ নাকি?
- নাহ্
- তবে শুয়ে পড়লি যে? আচ্ছা শুয়ে থাক,তোর জন্য লেবু চা করে নিয়ে আসি | আজ সকালে বাজার থেকে কিনেছি,একদম টাটকা লেবু | হামিদ সাহেবের ভীষন আনন্দ লাগছে | বাড়ি ছাড়ার পর একমাত্র এই ছোট ছেলেটাই তার খোজখবর রাখে | একদম ভালমত রাখে,কি লক্ষী একটা |চায়ের কাপে টানা দু'চুমুক দিয়ে অর্নব বলল,আব্বা আপনি না একা থেকে ভালই আছেন | আমিও আর থাকব না ভাবতেছি |
- তাইলে থাকবি কই?
- খালিদের বাসায় | কয়েকদিন ধরে তো ওর বাসাতেই আছি | আমার বন্ধুরা তো আর আমার মত বোকা না আব্বা | ওরা সবাই যে যার মত টাকা পয়সা কামিয়ে একদম পেটফোলা বড়লোক |
- বাদ দে ! তুই যেমন আছিস খুব ভাল আছিস | সততাই সবকিছুর আগে |তারপরের কয়েকমিনিট কেটে গেল অস্বাভাবিক নিরবতায় | হামিদ সাহেব গভীর মনোযোগে ছেলেকে দেখছেন | চেহারায় কার যেন ছায়া আছে | কার হতে পারে? মরিয়মের নাকি ওর দাদির? যার মতই হোক,অর্নবটা দেখতে খুব সুন্দর হয়েছে | দেখলেই সুপুরুষত্বের তৃপ্তি এসে যায় |
৩.
বসার ঘরে চোখ পড়তেই ভ্রু কুচকে গেল অর্নবের | আজ রাতে চাদঁ এর বদলে সূর্য উঠবে নাকি | ভাই-ভাবি,পোলাপান দেখি সব একখানে | মেজভাবি ওকে দেখা মাত্রই শুরু করে দিল সুপরিচিত ঘ্যানানি,এইযে টো টো বাবাজি বাইরে বাইরে কি কর সারাদিন? মদ জুয়া আর কত ! অর্নব খেপলো না,একদমই না | একটুতেই খেপার পাত্র ও নয়,বরং কেমন মজা লাগছে | - তোমার আম্মাজানকে পাওয়া যাচ্ছে না দুপুর থেকে |
- হয়ত বাজারে গেছে আপকামিং পান মশলার খোজ করতে | এসে পড়বে সময়মত |
- তা হলে তো হতই,কিন্তু চিঠি লিখে গেছে একটা !
- কি লিখছে? আমি বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি,আর আসব না | এই টাইপের?
- হুম
-ও,তবে আমার এসে তো কোন কাজ হল না | আম্মার কাছেই আসছিলাম,পান খেতে | হরেক মশলা দিয়ে পান,খুব খেতে ইচ্ছে করছিল | থাক,যাই |মেজভাবি রাগে কটমট করছেন,যতসব আহাম্মকের পাল্লায় পড়েছি আমি ! বাড়ির সবগুলা একেকটা আস্ত আহাম্মক !
সোফার একপাশে গুটিসুটি মেরে বসে থাকা অর্নবকে দেখছে তাশফি,অনেকক্ষন ধরে | অর্নব মাথা নামিয়ে আছে, তাশফিকে দেখতে পায়নি | তাশফির খুব,একদম ভীষনভাবে ইচ্ছে করছে এই বোকাসোকা চেহারার ছেলেটাকে অনেক আদর করতে,ইচ্ছেমত |হঠাৎ এরকম ইচ্ছে হওয়ার কারণটা ও নিজেই জানেনা,অত জানতে ইচ্ছেও হয় না |সামনে দাড়িয়ে থাকা তাশফিকে দেখে একটু ঘাবড়ে অর্নব বলল,শাড়িটা এখনো পড়ে আছো?
- হুম কেন,খুব বেশি সুন্দর লাগছে?
- তোমার আব্বু কোথায়?
- আব্বু আসবে কোথ্থেকে,আব্বু তো বিদেশ |
- ওহ সরি,ভুল হয়ে গেছে | ইয়ে মানে আম্মু...
- আমার বড়খালা আজ হসপিটাল থেকে রিলিজ পেয়েছে তো তাই অফিস শেষে আম্মু তার বাসায় গেছে | আজ রাতে ফিরবে না বলেছে |
- তারমানে পুরা বাড়িতে তুমি একা?
- হুম | না না,কাজের মেয়েটা আছে তো |
- ভালই হয়েছে,বেশি লজ্জা পেতে হবে না |
- বিড়বিড় করে কি বলছেন স্যার?
- তাশফি আমি দু'প্লেট ভাত খাব | বাসায় আম্মা নেই তো তাই খেতে পারিনি....আর আমার ঐ বন্ধুর বাসায় গিয়ে দেখি তালা মারা | কোথায় গেছে কে জানে | দিতে পারবে,খুব খিদে লেগেছে জানো |
- এক্ষুনি আনছি |
এক দৌড়ে রান্নাঘরে এসে পড়ল তাশফি | আর এক সেকেন্ড ওখানে থাকলে,স্যার চোখের পানি দেখে ফেলত | একটা মানুষ এত সরল হয় কি করে? অতিরিক্ত মায়ায় পড়লেও যে চোখে পানি এসে ভরে যায়,তা আজ প্রথম জানলো মেয়েটা | রাস্তাটা এখনি কেমন খালি হয়ে গেছে | মানুষজন তেমন একটা নেই,আর কয়েকটা রিকশার এদিক ওদিক ছুটে চলা | পিচঢালা পথটায় মানুষ,রিকশা সবকিছুর ছায়া পড়ছে | জোছনা দিয়ে গড়া একেকটা ছায়া | আকাশে যে আজ বিশাল একটা চাদঁ,তাইতো এত জোছনা ! সেসব ছায়ার উপর নিশ্চুপ হেটে চলেছে একটা বোকাসোকা চেহারার ছেলে | ছেলেটানা একটু একটু করে ঘামছে | কারণ পাশে থাকা শাড়ি পড়া মেয়েটা তার একটা হাত শক্ত মুঠোতে ধরে আছে | যে মুঠো থেকেই ডানা ঝাপটাচ্ছে শুভ্র এক মায়াপাখি |
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now