বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বড় গল্প:-অবুঝ বউ) (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X বড় গল্প:-অবুঝ বউ) (দ্বিতীয় ও শেষ অংশ) ৪ ____________________________ কাল গভীর রাতে শুরু হওয়া বৃস্টি,এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালেও চলমান।ঝিরিঝিরি বৃস্টি সাথে শিরশির স্নিগ্ধ হালকা বাতাস বইছে।খুব করে ঘন কুয়াশার গল্প মনে পরছে।এই মনের কুয়াশার অদৃশ্য অনুভুতি আমাকে কঠিন বাস্তবতার সামনে দাড় করিয়ে দিয়েছে। হিয়া রাতে কিচ্ছু খায়নি।আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথাও বলেনি।ও বুঝতে পেরেছে আমার কোনো অপরাধ নেই।তবুও ও মন কে শান্তনা দিয়ে স্বাভাবিকতায় ফিরে আসতে পারছেনা। ""একটা মেয়ে পৃথিবীর সমস্ত কষ্ট কে নীরবে সয়ে যেতে পারে,কিন্তু ভালোবাসার মানুষ টা যখন গোপনে অন্য কারো সাথে প্রেম করে কিংবা করার প্রবনতা জাগে,তা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। তখন তার মধ্যে মানবতার উপলব্দি হারিয়ে যায়। প্রিয় মানুষ টাকে হারিয়ে ফেলার ভয় তাকে তীব্র যন্ত্রনাকাতর করে তোলে।প্রতিটা মেয়েই এমন,প্রতিটা মেয়েই মন থেকে কাউকে ভালোবাসলে তার জন্য জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত থাকে।তবে কিছু কিছু মেয়ে অভিনয় করে।তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে আধ পুরুষালি আচরন বিকাশ লাভ করে। মেয়েলী মনোভাব উধাও না হয়ে গেলে মেয়েরা এমন টা করতে পারবেনা।পুরুষের মন ক্ষনে ক্ষনে বদলায়,কারনে অকারনে বদলায়।এদের কে বোঝাতে হয়,শক্ত করে ধরে রাখতে হয়,ভালোবাসার শক্ত শিকলে আকড়ে ধরে রাখতে হয়।পুরুষ আসলে রুপের পুজারী,রুপ পুরুষ কে শিহরিত করে তোলে।আবেগের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে ভুল করতে বাধ্য করে।পুরুষের আবেগ নারীর চেয়ে কয়েক গুন বেশী। বাস্তবতা বুঝতে পুরুষের অনেক বেশী সময় লাগে।রুপের পুজারি মানে তাদের চরিত্র খারাপ এমন টাও আবার নয়। চরিত্র খারাপ মানে রুপের পুজারি হয়ে বিকৃত চিন্তা করা।রুপশী নারীর প্রতি অদৃশ্য attraction প্রতিটা পুরুষেরই আছে।যে নিজেকে অল্পতে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে সে তো অগ্নি পুরুষ। হিয়া ঘুম থেকে উঠে মাথা নিচু করে বসে আছে।কিছু একটা বলতে চাচ্ছে হয়তো।অজানা একটা আতংক হয়তো ওকে গ্রাস করে ফেলেছে। হিয়া:-কি করবে এখন? আদিব:-কি করবো মানে!এটা কেমন প্রশ্ন হিয়া! হিয়া:-আপনি ইশা কে চান নাকি আমাকে? আমাদের মধ্যে যে কোনো একজন কে মেনে নিতে হবে? আদিব:-লিমিট ক্রস করোনা হিয়া!এসবের মানে কি!ইশা আমার খালাতো বোন।সে mrittur সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রেম ট্রেম এখানে অতি সামান্য ইস্যু মাত্র! হিয়া:-এটা সামান্য ইস্যু হয় কি করে!এটা একটা মহা ইস্যু! তোমার আস্কারা না পেলে ও এমন করে লিখতে পারতো না?না জানি গোপনে কতো কিছু করেছো ওর সাথে! আদিব:-শেষ বাক্যটা ফিরিয়ে নাও হিয়া! তুমি আমার নয়,একটা পবিত্র মেয়ের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছো! হিয়া:-হা,তুলেছি।১০০ বার তুলবো।আমার আদিব কে আমি কারো কাছে যেতে দিবোনা।সে শুধুই আমার।তাকে নিয়ে কেউ গোপনে প্রেম পত্র লিখতে পারবেনা।আমি কিছুতেই তা হতে দিতে পারিনা।এমন টা হওয়ার চেয়ে আমার মরে যাওয়াই শ্রেয়! আদিব:-শান্ত হও হিয়া।তুমি যা ভাবছো তেমন টা কখনই হবেনা।তবে ওর পাশে থেকে ওকে আমাদের শান্তনা দেয়া উচিৎ। যে কেউ যে কাউকে ভালোবাসতে পারে। আর মেয়েদের ভালোবাসা রিসপেক্ট থেকে জন্ম নেয়। এই রিসপেক্ট একবার উঠে গেলে মেয়েটা আর কখনই তাকে ভালোবাসতে পারবেনা।ঘৃনা করবে আর কষ্ট পাবে। ""নারীকে ভালোবেসে যতোটা আপন করে পাওয়া যায়, রিস্পেক্ট দিয়ে তার চেয়েও বেশী আপন করে পাওয়া যায়। অনেক বুঝিয়ে সুজিয়ে হিয়াকে শান্ত করেছিলাম।আমার প্রতি হিয়ার ভালোবাসা ছিলো গভীর সমুদ্রের বিশালতার মতো,যে সমুদ্রের অতল কে কখনই খুঁজে পাওয়া যায় না। সপ্তাহ খানেক পর ইশাকে দেখতে এসেছি ওদের বাসায়। হিয়াও খুব একটা আপত্তি করেনি।তবুও মনের অন্তরালে রহস্যময়ী চাপা বিষাদের ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছিলো,যেটাকে সে অনেক চেষ্টা করেও আরাল করতে পারেনি। ইশাকে নিয়ে ওদের পুকুর পারে চলে আসলাম। ইশা:-ভাইয়া কেমন আছো তুমি? আদিব:-এই তো আছি।তোর কথা মনে পরলো,তাই চলে এলাম।এতো শুকিয়ে যাচ্ছিস কেনো রে!কি নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করিস বলতো? কাউকে পছন্দ করিস? ইশা:-ভাইয়া,তেমন কিছু নয়।আমি আসলে অনেক কস্টে আছি।আমি কিচ্ছু বলতে পারবো না ভাইয়া।তোমাকে অনেক ভয় পাই আমি। আদিব:-এই কাঁদবি না।একদম কাদবিনা বলছি।আমি সব কিছু জানি।কিচ্ছু হবেনা তোর।আমি এমন টা কিছুতেই হতে দিবোনা।এমন একটা পবিত্র ফুলকে আমি কিছুতেই ঝরে যেতে দিবোনা।তোকে আমি ঢাকায় নিয়ে যাবো। প্রয়োজনে বিদেশেও নিয়ে যাবো।দেখিস তুই আগের মতো সুস্থ হয়ে যাবি। এখানে একা একা থেকে তুই মানসিক ভাবে ভেঙে পরেছিস।তোকে আমাদের বাসায় নিয়ে যাবো।মা নিয়ে যেতে বলেছে।মা কাল সারাদিন কেঁদেছেন তোর কথা ভেবে।আর খালা আম্মারো কোনো আপত্তি নেই। ইশা:-সত্যি বলছো ভাইয়া!আমি কি সুস্থ হয়ে যাবো! আমার কেনো জানি এখন খুব করে বাঁচতে ইচ্ছে করছে। তুমি আমাকে নিয়ে চলো ভাইয়া।আমি আলোক ভুবনে আলোকিত হয়ে বেচে থাকতে চাই। অন্ধকার আমাকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। আদিব:-আচ্ছা বল,আমি কি তোকে কখনো কষ্ট দিয়েছি? এক দম সত্যি কথা বলবি।তা না হলে মাইর খাবি। ইশা:-না,ভাইয়া।তুমি সব সময় আমার কেয়ার করো।আমার বাবাও আমার অতোটা কেয়ার করেনা।আর তুমি কষ্ট দিলেও আমি তোমার প্রতি রিস্পেক্ট টা ধরে রাখবো। আদিব:-নারে ইশা।তোর মতো লক্ষী মেয়েকে আমি কি করে কষ্ট দিতে পারি!আমি সব সময় তোর সাথে আছি। ইশা:-ভাইয়া,ভাবীর মন্টা অনেক ভালো জানো।ভাবী একটু বেশী অভিমান করে।এজন্নই সব সময় ভাবীকে আগলে রাখা উচিৎ তোমার।অনেক বেশী ভালোবাসে তোমাকে।এমন ভালোবাসা সবার কপালে জোটেনা ভাইয়া। আদিব:-হিয়া আমার কাছে বেচে থাকার অবলম্বন,আমার হৃদয়ের প্রথম ও শেষ কথা।আর তুই আমার বেচে থাকার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরনা,আমার কলিজার টুকরা।বউ কখনো কলিজার টুকরা হতে পারেনা।সে hrithpindo হতে পারে। কলিজার টুকরা সেই হয় যে sartho ছাড়া ভালোবাসে।যে ভালোবাসায় কোনো চাওয়া কিংবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকেনা।তুই তো আমার রক্তের বন্ধন রে।রক্ত কখনো প্রিয় জন কে ছেড়ে চলে যায় না। ইশা:-আমাকে কখন নিয়ে যাবে ভাইয়া! আমি তোমার সাথে যেতে চাই।ভাইয়া আমার খুব ইচ্ছে রাত জাগা পাখি হয়ে জোস্না বিলাস করার।আমাকে দেখাবে ভাইয়া!কবে দেখাবে ভাইয়া!তুমি আমি আর ভাবী মিলে দেখবো। আদিব:-কিছুদিন পর জোস্না রাতের আবহ উজ্জ্বল হয়ে পৃথিবীর রাত্রি গুলিকে মধুময় করে তুলবে। তখন তোকে সাথে নিয়ে জোস্না বিলাস করবো. ইশা:-ও ভাইয়া আমি কি সত্যি ই বেচে উঠবো!আমার এখন খুব করে বাচতে ইচ্ছে করছে। ""স্বপ্ন কেনো তুমি আসো অজান্তে, বড় অসহায় লাগে যে, সহায় সম্বলহীন নিরুপায় অস্তিত্ব আমি,কি দিয়া বরিবো বলো তোমায়! চোখে ঘুম নেই, মুখে হাসি নেই, তবুও তুমি এলে অজান্তে,, নতুন করে বেচে ওঠার অনুপ্রেরনা হয়ে, না জানি আবার কবে হারিয়ে যাবে! তোমায় হারালে যে আমি নিস্ব হয়ে যাবো, তবুও তুমি হারিয়ে যাবে, তুমিতো ক্ষনিকের প্রশান্তি হয়ে এসেছো মাত্র। তুমি কিছুতেই পাড়বেনা বাস্তব তত্ত্বের নির্মমতার সাথে লড়াই করে শেষ অবধি টিকে থাকে। ৫ ____________________________ ইশা তোকে অনেক বেশীই রুপশী লাগছে। শাড়িতে তোকে বউ বউ লাগছে। ইশা:-সত্যি বলছো ভাইয়া! আদিব:-হুম,রে সত্যি বলছি। ইশা:-প্রায় দু বছর পর শাড়ি পরলাম। নিজের ইচ্ছেতেই পরেছি।আম্মু মাঝে মাঝে বিভিন্ন উতসব আমেজে পরতে বলতেন।কিন্তু আমার মন সায় দিতোনা। কেনো জানি সব সময় মনে হতো আমি এর উপযুক্ত নই। আদিব:-এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক দিন তুই শাড়ি পরবি কেমন?রিক্সাওয়ালা ভাই একটু আস্তে চালান।ভাঙাচুরা রাস্তা!খুব বেশীই ঝাকুনি খাচ্ছি আমরা।আর তেমন তাড়াও নাই। রিক্সাওয়ালা:-ঠিক আছে মামা। ইশা:-ভাইয়া তোমাকে একটা কথা বলি? আদিব:-হুম বল। ইশা:-একটা ছেলে ইচ্ছে করলে সব কিছু হাতের নাগালে পেয়ে যায়, অনেক সময় জোর করেও ছিনিয়ে নেয়। মেয়েরা কেনো পারেনা ভাইয়া?মেয়েদের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে যায় কেনো পরিবার পরিজন? আদিব:-তোকে একটা বাস্তব সত্য বলি কেমন? ইশা:-হুম বলো. আদিব:-মেয়েরা মাঝে মাঝে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারে।আসলে মেয়েরা সব সময় অপেক্ষাতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায়।এ জন্য অনেকের অপেক্ষা বিষাদের কালিমায় ছেয়ে যায়। ছেলেদের মতো অতো সহজ সাবলীল ভাবে নিজের ইচ্ছে গুলিকে প্রকাশ করতে পারেনা।এ জন্য মেয়েদের অধিকাংস চাওয়া পাওয়া গুলি আরালে লুকায়িত থাকে।স্বপ্ন দেখতে দেখতে অজান্তেই তা ভেঙে যায়। সে বুঝতেই পারেনা।যখন বুঝতে পারে তখন আর কিছুই করার থাকেনা।এই ইশা তুই কাঁদছিস কেনোরে!কি হয়েছে আমাকে খুলে বল! ইশা:-তেমন কিছুনা ভাইয়া।তোমাকে বলতে আমার ভয় করে।কিন্তু আর পারছিনা।এই ভয়টাই আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।আমি কিছুতেই শান্তির আবহ খুঁজে পাচ্ছিনা ভাইয়া।জানি না সত্যি ই এই সুন্দর ভুবনে বেচে থাকতে পারবো কি না?খুব ইচ্ছে হয় আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে। প্রিয়জনের হাতে হাত রেখে স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়াতে। একটা ছেলেকে আমি অনেক বেশী লাভ করি।অনেক চেষ্টা করেও বলতে পারিনি।ওই যে ভয়,ভীষণ ভয় হয় আমার,লজ্জাও লাগে।এ জন্য বারবার বলতে গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছি। তারপর তো তিনি হারিয়ে গেলেন।আর কখনই আমার হবেন না।খুব ইচ্ছে হয় ভাইয়া,ওনার মুখ থেকে ভালোবাসি কথাটা শোনার।আর কিচ্ছু চাওয়ার ছিলোনা আমার।যদি একবার ভালোবাসি কথাটা আমাকে বলতেন!আমি গভীর রাত অবধি নীরবে জেগে জেগে কাদি।অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুতেই ভুলতে পারিনি।ইদানীং তাই মরে যাওয়াকেই মুক্তি মনে হয় আমার কাছে।আমি ওনাকে আর কখনই আগের মতো করে পাবোনা। আদিব:-এই ইশা কি হইছে বোন এমন করছিস কেনো! ইশা:-আমার বমি আসছে ভাইয়া।আমাকে একটু রাস্তার কিনারায় নিয়ে চলো। আদিব:-রিক্সা রাখেন ভাই। ইশা:-ভাইয়া,আমার মাথা ঘুরতেছে।আমাকে একটু ধরে রাখো।বমি করার পর ঠিক হয়ে যাবেো। প্রতিদিনি এমন হয় আমার।ইদানিং একটু বেশী হচ্ছে।আমি আসলে রোগের চেয়ে শোকেই বেশী কাতর। আমার এই শোকের করুন কাহিনী হয়তো কেউ কখনো জানতে পারবেনা।ভয় পাবে ভাইয়া তুমি।ওদিকে তাকাও।এই রক্তপ্রবাহ দেখে তোমার হৃদয় কেপে উঠবে। তুমি সইতে পারবেনা।প্রায় এক কাপের মতো রক্ত বের হয়েছে বমির সাথে।ওর বিমর্ষ মুখশ্রী আমাকে নির্মম ভাবে আঘাত করেছিলো।আমি চেয়েছিলাম,আমার খুব করে ইচ্ছে হয়েছিলো,আমার ইচ্ছে হয়েছিলো নিজের সমস্ত প্রচেষ্টা দিয়ে ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে। কিন্তু কি করে পারতাম!আর এক নারীর মন কি করে ভাংতে পারি আমি!হিয়া যে কোনো যুক্তিতেই এটা মেনে নিতে পারবেনা।হিয়া যে কখনই পারবেনা,তার প্রিয় তম কে অন্য এক নারীর সাথে ভাগ করে নিতে।তাই আমি অনেক বেশী নিরুপায় ছিলাম।কারন আমি কিছুতেই এমন টা করতে পারিনা।হিয়ার যে কোনো অপরাধ ছিলোনা,আমারই বা কি অপরাধ!আমি যে কখনই ইশাকে সেভাবে কল্পনা করিনি। ইশাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসা মাত্র,মায়ের যে কি কান্না!আমার বাবা হাজি নিয়াজ সাহেব খুবী কঠিন মনের মানুষ। ওনার চোখেও কয়েক ফোটা অশ্রু দেখেছিলাম।ইশা এর পর থেকে আমাদের এখানেই থাকতে শুরু করে।রাতে মায়ের সাথে ঘুমায়। আমাদের পরিবারে এসে ওর মানসিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে।আর হিয়াকেও সব কিছু বুঝিয়ে বলায় ও এখন আর আগের মতো করেনা। চিটাগং এ শিপিং করপোরেশনে এক মাসের একটা প্রজেক্ট সম্পন্ন করে এই মাত্র খুলনার ট্রেনে উঠলাম। অসাধারন দক্ষ্যতার সাথে কাজ সম্পন্ন হওয়ায়,মালিক প্রত্তেক কে ১০ হজার করে বোনাস দিয়েছেন। অনেক কিছুই কিনে নিয়েছি পরিবারের সবার জন্য। মায়ের জন্য দামী একটা শাল কিনে নিয়েছি।পুরনো শালটা এখনো পরে বেড়ান। গ্রামের প্রতিটা মাওই এমন। নিজেরা হাড়ির নিচে পরে থাকা খাবারে অবশিষ্টাংশ খেয়ে দেয়ে দিন রাত্রি কাটিয়ে দেন।আর পরিবারের সবার জন্য মুখরোচক আয়োজন করেন। কিছু কিনে দিতে চাইলেও নিতে চাইবেন না।অনেক গুলা কাপড় জমে আছে বলে পাশ কাটিয়ে চলে জান।কজন সন্তানি বা শেষ বয়সে মা বাবার খোজ খবর রাখেন।বউ আর তার পরিবার কে নিয়ে মেতে থাকেন আনন্দবিলাসের রঙিন মাতনে। ইশা আর হিয়ার জন্য লাল টুকটুকে লেহেঙ্গা, আর বাবার জন্য একটা লুঙি কিনে নিয়েছি।হিয়ার প্রিয় বাদামের চকলেট আর ইশার প্রিয় পাহাড়ি এলাকার ফলের আচার কিন্তেও ভুল করিনি।স্বাদে আর ঘ্রানে আমার নিজেরি জিহ্বায় পানি চলে আসার উপক্রম।এখন তো মাত্র সকাল ৯ টা বাজে।পৌছাতে আরো৫/৬ ঘন্টা তো লাগবেই। তারচেয়ে বরং একটা ঘুম দিয়ে দেই।এক ঘুমেই সময় পার। সবাই বাস থেকে নেমে চলে গেছেন।হেল্পার এসে আমাকে জাগিয়ে দিলেন।মামা,নাইমা পরেন। সকলে নাইমা চইলা গেছে মিনিট ৩০ হইয়া গেলো। আদিব:-আমার ব্যাগ কই! হেলপার:-কি কন মামা!ব্যাগ কই আমি ক্যামনে জানমু! আদিব:-আরে ভাই,আমার পায়ের নিচেই তো ছিলো! হেলপার:-তাইলে কেউ নিয়া ভাগছে। বাংলাদেশে এটা এখন কমন ব্যাপার।নাইমা পরেন মামা।মনে মনে ভাবেন দান কইরা দিছেন। আদিব:-আমি বুঝে উঠতে পারলাম না কিছুই।ভীষণ খারাপ লাগছিলো।""লোভ বাঙালীদের জন্ম গত প্রাপ্তি,আর হিংসে বাঙালীর শিরায় লুকায়িত,এরা নিজের রক্তের সাথেও হিংসে করতে দ্বিধাবোদ করেনা,তাই রক্তসম্পর্কহীন মানুষের কথা না বলাই শ্রেয়।এর চেয়ে বেশী লোভ আর হিংসে কাতর জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে আর নাই। ভাঙা অগোছালো মন নিয়ে বাসায় ফিরেই বিষয় টা সবার কাছে শেয়ার করলাম।একেক জন একেক রকম সমালোচনা আর সাজেশন দেয়া শুরু করলেন। হিয়া: -মানুষ টা তুমি কবে বুদ্ধিমান হবে! সেই অবুঝ অবুঝি রয়ে গেলে! আদিব:-ঘোড়ার ডিম! হিয়া:-কি বললে আমি ঘোড়ার ডিম! আদিব:-তো কি!এমনিতে মাথা ঠিক নাই। যতসব! জাহানারা বেগম:-বউমা তো ঠিকি বলেছে বাবা!নিজের জিনিস নিজেকেই সামলে রাখতে হয়। হিয়া:-আমার বাদামের চকলেট গুলা পকেটে রাখলেও তো পারতে!মাথায় বুঝি কিচ্ছু নাই! আদিব:-আর কাম নাই আমার তাই না!বাসে বইসা বইসা খাইয়া ফালাইছি সব চকলেট।এক্টাও বাকি রাখিনাই। খোশা গুলা আছে নিবা নাকি!।কি হলো মুখখান এমন লাল টকটকে হয়ে গেলো কেনো আমার সুবোধ বউয়ের?এ মা,বউ আবার দেখি মুখ ভেংচি ও দেয়! হিয়া:-মা,তোমার ছেলেকে থামাও!আমি কিন্তু রেগে গেছি অনেক।কানমু কিন্তু! জাহানারা বেগম:-এসেই লাগলি আমার লক্ষী বউমার সাথে!যা গোসল করে আয়।ইস!ঘেমে টেমে কি অবস্থা বানাইছে শরীরের!শার্ট টা খুলরে বাবা! হিয়া:-আর কোন কথা নাই তোমার সাথে। আমি যতসব তাই না!এখন থেকে আমি মায়ের সাথে ঘুমাবো। আমার পিছে পিছে আর ঘুরবানা বুঝলে!২/৩ টা চক্লেট রাখলে কি হইতো!আমি কি পেটুক নাকি! আদিব:-পেটুক না পেটুকি! জাহানারা বেগম:-ওই,আদিব মাইর খাবি কিন্তু।চুপ কর বলছি? হিয়া:-মা,আমি রুমে গেলাম।এখন থেকে তোমার রুমে থাকবো। জাহানারা বেগম:-ঠিক আছে মা,তুই যা। আমি কাজ শেষ করে আসতেছি। আদিব:-ইশা কোথায় মা? জাহানারা বেগম:-চলে গেছে।আমি রেখে এসেছি। প্রতিদিন কয়েক বার করে রক্ত বমি করে। বিছানা টিছানা সব ভেজায় দেয়।সময় অসময় মানেনা।এই সব কে পরিষ্কার করবে তুই বল!এভাবে বেচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। আদিব:-মা তুমি এমন একটা কাজ করতে পারলে! জাহানারা বেগম:-তাছাড়া হিয়াও চায়নি ওকে এখানে রাখতে।হিয়ার কাছে আমি সব কিছু শুনেছি। আদিব:-খুব ভালো কাজ করেছো মা!ও যদি তোমার নিজের মেয়ে হতো এমন টা করতে পারতে! এর পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমি লজ্জায় আর কখনই ওর সামনে যেতে পারিনি।একটা ফোন অব্ধি ও করতে পারিনা।ওর সাথে আমার পরিবার নির্মম জঘন্য আচরন করেছে। ""কখনো অসুস্থ হয়ে মরনের দিকে ধাবিতো হইয়োনা বন্ধু আমার,এ জগত সংসারে sartho ছাড়া কেউ কারো নয়,তোমার রুপ,তোমার কাজ করার ক্ষমতা,তোমার টাকা পয়সা ফুরিয়ে গেলে অতি আপন মানুষটাও তোমার কেয়ার করতে ভুলে যাবে। নিজেকে সচল রেখে বাচার চেষ্টা করো,অচল তুমিকে সবাই বোঝা হিসেবে গন্য করবে। যাদের জন্য এক সময় sacrifice করে গেছো তোমার দুসসময়ে তারাও তোমাকে বোঝা মনে করবে। sartho ছাড়া তুমি সকলের কাছে অচল পয়সার মতো। ৬ ____________________________ শব্দহীন নীরব কান্না গুলি অসহনীয় যন্ত্রনা হয়ে সুপার গ্লুর মতো হৃদয়ে চেপে বসে গেছে। ভাঙা মনটা যে কখনই জোরা লাগবেনা আর। ইশার জীবনের কালো মেঘ গুলি ঘন অন্ধকারে ছেয়ে যাচ্ছে। বাচার বিন্দুমাত্র যে ইচ্ছেটা ছিলো, সেটাও সে হারিয়ে ফেলেছে। ""ওপারের ডাক হয়তো তাকে হাত ছানি দিয়ে ডাকছে। এভাবে বেচে থাকাটাও তার কাছে অতীব লজ্জাজনক মনে হচ্ছে। মা,তোমরা আমার জন্য এতো টাকা নষ্ট করছো কেনো? আমার চিকিৎসা বন্ধ করো মা। অহেতুক মিথ্যে আশায় দিন বুনে যাওয়া মাত্র।আমার আশা তোমরা ছেড়ে দাও।আমাকে একটা অন্ধকার ঘরে দড়জা জানালা বন্ধ করে আটকিয়ে রাখো। এই অফুরন্ত আলোক বিলাসে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।পৃথিবীটা এতো nisthur কেনো!দো পেয়ে মানবের এতো অহমিকা কেনো!অসহায় নিপীড়িত অসুস্থ মানুষগুলি এতো বেশী অবহেলিত কেনো!আমাকে বিধাতা অসুস্থ করে দিয়েছেন।আমি কোনো অপরাধ করিনি মা।আমিও চেয়েছিলাম এক জন চঞ্জলা কিশোরি হয়ে স্বাধীন ভাবে পথে প্রান্তে ঘুরে বেড়াতে।অন্ধকার কবরে যেতে আমার ভীষণ ভয় হয়,সেখানে কি করে একা থাকবো আমি! কি এমন বয়স হয়েছে আমার তুমিই বলো মা!বিধাতা কেনো আমার স্বপ্ন গুলিকে ভেঙে তছনছ করে দিলেন!মা আমি মরতে চাইনা।আমার ওপারে চলে যেতে ইচ্ছে করেনা।তোমরা আমাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দাওনা!এতো রক্ত যাচ্ছে আমার প্রতিদিন।ঠিক মতো খেতেও পারছিনা।দেখো মা তোমার লক্ষী মেয়েটা দিন দিন শুকিয়ে কেমন হয়ে গেছে।ঘুমের মধ্যে হিয়ার বিছানায় বমি করেছিলাম মা!আমি তো ইচ্ছে করে করিনি,ইচ্ছে করে কি আমি এমন করতে পারি!আমার রক্ত বমি দেখে ঘেন্না লেগেছে ওদের,আমার বুক ফাটা কষ্ট দেখতে পায়নি তারা।তবুও এই নির্মম মানুষ গড়ার কারখানা পৃথিবীতে আমার বাচতে ইচ্ছে করে।অনেক অনেক বছর বাচতে ইচ্ছে করে।তুমিও তো জেনে গেছো মা,কত্তো ভালোবাসি আদিব ভাইকে! আমিকি হিয়ার কাছ থেকে ওনাকে কখনো ছিনিয়ে নিতাম! এমন টা আমি কখনই করতাম না।শুধু মাঝে মাঝে ওনাকে একটু সামন থেকে দেখেই চলে আসতাম।আর উনিও হয়তো এতোক্ষনে সব কিছু জেনে গেছেন।এই ডাইরির লেখাগুলি যে আর আমার মধ্যে নেই।চারিদিকে ছড়িয়ে পরেছে এই ট্রাজিক চিত্রনাট্য। যে গল্পের শেষ হবে নির্মমতায়। ""তুমি যে গল্পের কেন্দ্রিয় চরিত্র, আমি যে সেই গল্পেরি ট্রাজিক চিত্রনাট্য। কি হলো মা,এভাবে কাঁদছো কেনো? কাঁদেনা আমার লক্ষী মা টা।তোমাকে একা করে আমি কি চলে যেতে পারি বলো!আমার কিচ্ছু হবেনা মা।দেখবে কোনো না কোনো ভাবে সেরে উঠবো। হিয়ার মধ্যে ইদানিং একটা পরিনতি বোধ পরিলক্ষিত হয়েছে।ও হয়তো নিজের মধ্যে অপরাধ বোধ অনুভব করছে। সেই সকাল থেকে জানালার গ্রিলে মাথা হেলান দিয়ে কাঁদছে। কি এমন বয়স টাই হয়েছে বা তার। পরিনত হতে তো সময় লাগবে।পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে বেড়ে ওঠা মেয়ে সে।শৈসব তো কেটেছে বাবার সাথে। বাবা ছাড়া আর কারো সাথে মেশা হয়নি যে ওর।এ জন্য নারী সুলভ পরিনতিবোধ টাও হয়েছে ধীরে ধীরে। আদিব:-এই কাঁদছো কেনো?রাতেও কিছু খাওনি।কিছু খেয়ে নাও হিয়া। অনেক বেলা হয়ে গেছে। হিয়া:-আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে ইশার জন্য।আমি এমন টা করতে চাইনি,অজান্তে হয়ে গেছে। তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে আমি এমন টা করেছি।ইশার জন্য আমার অনেক খারাপ লাগছে।না জানি ও এখন কেমন আছে!এই দুসসময়ে তুমি ওর পাশে থাকো প্লীজ। আর কটা দিনই বা বাঁচবে!এই কয়টা দিন আমাকে নয় ওকে ভালোবাসো। আদিব:-রিয়েলি তুমি অনেক বড় মনের অধিকারী।ঠিক বলেছো তুমি।আর শোনো, তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই আমি শুধুই তোমার।তবে ইশাকে বাচানোর জন্য শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়েও আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।নেক্সট উইকে ওকে নিয়ে অস্টেলিয়ায় যাবো।এই দেশীয় চিকিৎসায় ওর প্রতিনিয়ত অবনতিই হচ্ছে।আমি গঞ্জে যাচ্ছি বাজার করতে।মায়ের ফিরতে দেরি হবে। বাবাকে দেখে রাখবে।না জানি কখন কি লাগে ওনার। হিয়া:-আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি নিশ্চিন্তে যেতে পারো। উফ!এটা কি হলো!সময়ে অসময়ে খালি......যতসব! এখন আবার লিপ্সটিক দিতে হবে। আদিব:-রাগ করোনা প্লীজ।চকলেট নিয়ে আসবো তোমার জন্য কেমন? হিয়া:-হুম,পচা ছেলে একটা। নিয়াজ হাজি:-ওগো কই তুমি? হিয়া:-জি বলেন বাবা। নিয়াজ:-তোমার শাশুড়ি কে ডেকেছি! হিয়া:-উনি তো বাহিরে গেছেন বাবা। আমাকে বলেন। নিয়াজ হাজি:-রঙ চা বানায় নিয়া আসো। আদা বেশী করে দিবা। হিয়া:-পারিনা তো বাবা।আমার চা কেমন জানি তিতা তিতা লাগে। নিয়াজ হাজি:-তুমি কি অসুস্থ নাকি?এমন বিমর্ষ লাগছে কেনো? হিয়া:-পেট টা একটু ব্যাথা করছে বাবা সকাল থেকে। মনে হয় দু একদিনের মধ্যে বেবী আসবে। নিয়াজ হাজি:-এক থাপ্পরে সব কয়টা দাত ফালায় দিবো! আমার সাথে ফাইজলামি করা হচ্ছে!যাও সোজা ঘরে যাও। বিয়ের এখনো দু মাস হয়নাই!বেয়াদব মেয়ে কোথাকার!বাহির থাইকা আইসা আজ তোমার বিচার কারতাছি।বেহুদ্দা মেয়ে কোথাকার! পরদিন খুব সকালে র ওনা দিয়েছিলাম খালার বাসায়। আমার প্রতি বিন্দুমাত্র রিস্পেক্ট অবধি কমেনি ইশার। সেই আগের মতোই পাশে এসে বসলো। ইশা:-স্যরি ভাইয়া।আমাকে ক্ষমা করে দাও। আদিব:-এমন বলছিস কেনোরে।ওটা তো আমার বলা উচিৎ ছিলো। ইশা:-ভাইয়া,তুমি কি সব কিছু জেনে গেছো? আদিব:-হুম,এ জন্য ই তোকে দেখতে এলাম।আমাকে ভালোবাসিস তাইনা?কিরে লজ্জা পাচ্ছিস কেন!আরে কাঁদছিস কেনো ইশা! ইশা:-ভাইয়া,ক্ষমা করে দাও প্লীজ!আমার ভীষণ ভয় করছে। আদিব:-এই ইশা।আমার দিকে তাকা।আমার চোখের দিকে তাকিয়ে পরতে থাক আমার চোখের ভাষা। কেনো আগে বুঝতে পেলাম না!অনেক কষ্ট পাচ্ছিস তাই নারে! ইশা:-হুম ভাইয়া।এখন আমার অনেক ভালো লাগছে।ভাইয়া আমাকে একবার মন থেকে ভালোবাসি বলবে? আদিব:-ভালোবাসি,তোকে অনেক বেশী ভালোবাসি। যদি হিয়া আমার জীবনে না আসতো, তোকেই সেই স্থানে বসাতাম।সব কিছু রেডি হয়ে গেছে। কাল তোকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইটে উঠছি।আর কস্ট পেতে দিবোনা তোকে। বিধাতা সব কিছুই পারেন।একটা ম্রিতপ্রায় প্রান কে জিবীত করে দিতে পারেন,আবার এর বিপরীত উপলব্ধিও এনে দিতে পারেন। দেখতে দেখতে বছর কেটে গেলো।ইশাকে আমি সুস্থ করে নিয়েই ফিরেছিলাম।সারারাত ওর শিয়রে বসে থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলাম।ওর চোখ দিয়ে কেবল আনন্দাশ্রু ঝরতে দেখেছিলাম।ডাক্তার বলেছেন ইশার মানসিক শক্তিই নাকি ওর বেচে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভুমিকা রেখেছে।এ রকম অপারেশনে পেসেন্ট এর বাচার সম্ভাবনা থাকে মাত্র২০%।প্রতি ১০ জনে ৮ জন মারা যান। হিয়া:-ওই,কই তুমি! আদিব:-কি হইছে!সকাল সকাল আবার কি বাহানা ধরলে! হিয়া:-আমি মাকে রান্নায় হেল্প করছি দেখছোনা! বাবুকে নিয়ে একটু বাহির থেকে ঘুরে আসো যাও। আদিব:-ও তো একটা ফাজিল।হাসতে হাসতে আমার কোলে প্রছাব করে দেয়।ইচ্ছে করেই এমন টা করে।এই দেখো এখনো হাসতেছে!আমার লক্ষী বাবাটা,এতো দুষ্ট কেনো তুমি! হিয়া:-আর একজন ওর দাদুর কোলে আছে। আমাদের জমজ বাবু দুইটা অনেক কিউট হয়েছে তাই না? আর তুমি কি নাম রাখছো ওদের!বড় হইলে যখন বন্ধুরা খ্যাপাবে তখন বুঝবা মজাটা! আদিব:-আমি তো আদর করে ডাকি হিয়া। হিয়া:-তাই বলে আর নাম পাইলানা!ইটকিরি ফিটকিরি এগুলা কেমন নাম বলতো! আদিব:-এবার হলতো!বলতে না বলতে কাম সাইরা দিছে! ৭ ____________________________ দিনের শেষ বেলায় এসে আমরা বুঝতে পারি শুরু আর শেষের গতিপথ কেমন ছিলো।শুরুতে অনুমান করা যায় মাত্র,ফলাফল পেতে শেষ অবধি অপেক্ষা করে যেতে হয়। আসলে এই জীবনে অপেক্ষাতেই সব কিছু বিরাজমান। কিন্তু কিছু মানুষের অপেক্ষা কখনই শেষ হয়না।তাদের সব কিছু হারিয়ে যায় কোনো না কোনো কারনে।এমন মানুষ জগতে অসংখ্য।যেটা ভেবে স্বপ্ন বুনে,যাকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চায়,সে কখনই তার হাত ছোয়া দুরত্বে আসেনা।বিধাতা তাদের কপালে বিষন্নতার প্রলেপ লাগিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ আবার বিক্ষাত অভিনেতা/ অভিনেত্রী। ভালো থাকার অভিনয় করে যায় অহর্নিশ। রাত্রি বেলায় যে চোখ বেয়ে অবিরাম অশ্রুফোয়ারা নামে,দিনের আলোতে সেই চোখ খুঁজে ফেরে চিরচেনা মুখ গুলিকে,কাউকে বুঝতেও দেয়না যে ঘুমহীন কাটে তার প্রতিটা রজনী। এই হিয়া,কখন উঠবে তুমি?বাবুদের কে সাজিয়ে দাওনা! ওদের কে নিয়ে একটু বাজার থেকে ঘুরে আসি। হিয়া:-উফ!আমি ঘুমাবো!এই অবস্থায় নিয়ে গেলে কি হয়! আদিব:-কি যে বলো তুমি!চোখে মুখে কি কি লাগাইছে দেখোনা!আর ড্রেস ও তো পরেনাই। হিয়া:-আচ্ছা,ঠিক আছে।আমি ওদের কে সাজিয়ে দিচ্ছি।তুমি একটু ফিডার দুইটা ধুয়ে নিয়ে আসো! আদিব:-হুম,আসতেছি।তারা তারি করো. দেখছোনা আমার ইটকিরি ফিটকিরি বাবারা কেমন লাফালাফি করছে! হিয়া:-এটা কি হলো!দেখছো কত্তো বেয়াদপ!আমার নাকে ঘুষি মেরে আবার হাসতেছে!এই কি হইছে! ইটকিরি:-ম্যা,ম্যা আ আ আ। ফিটকিরি:-হি হি হি হা হা হা। আদিব:-ব্যাপার কি হিয়া!একজন হাসতেছে আবার আর একজন কান্না করতেছে। হিয়া:-ওরে বকা দিলাম না!এ জন্য কাঁদতেছে।ওলে আমার লক্ষী বাবা কাদেনা!এতো জোরে কেউ মায়ের নাকে ঘুষি মারে!তুমিই বলো বাবা! মিনিট দশেকের মধ্যে ওদের কে সাজিয়ে দিলো হিয়া। বাজারে নিয়া তো এদের কে সামলানোই দায়।যেটাই দেখে ওটাই ধরে টান মারে।কি মসিবত রে বাবা!এই বাবা,তোরা কি একটু শান্ত হবি!এতো লাফালাফি করছিস কেনো বলতো! ইটকিরি:-আউব,উব বা উব বা। ফিটকিরি:-বু আব বু হু। আদিব:-বাবারা আমার।অনেক খেলনা কেনা হইছে।এখন বাসায় চল। হিয়া:-আরে এত্তো কিছু কিনছোহ!কি তুমি বলতো! আদিব:-আমি কি করবো বলো!কিনে না দিলে দুই ভাইয়ে মুখ গোমরা করে চুপ করে থাকে।আর কিনে দিলে দুইটাই লাফাতে শুরু করে।কি যে বিপদ টা গেলো আমার উপর দিয়া!।হিয়া:-এখন দাও ওদের কে মায়ের কাছে দিয়া আসি।গোসল করাতে হবে।নাক মুখের কি ভক্কর চক্কর অবস্থা করছেরে বাবা! আদিব:-হিয়া,, শোল মাছ টা ভালো করে ঝাল দিয়ে ভুনা করবা।বাবার শরীর টা খুব একটা ভালো নাই।ওনার খুব প্রিয় এই মাছ।আর তোমার প্রিয় পাচমিশালি ছোট মাছ নিয়া আসছি,ঝাল চচ্চরি কইরো কেমন? হিয়া:-ইস!আমার তো এখনি জিভে জল চলে আসছে। প্রায় মাস খানেক পর ইশার বাসায় এসেছি। ওকে দেখলে আমি আবেগ ধরে রাখতে পারিনা ইদানিং। ঝরে যাওয়া ফুলটা কিভাবেই না বেচে গেলো বিধাতার অশেষ রহমতে!ও এখন অনেক প্রাণবন্ত, কি অসাধারন নৃত্য করে ও। চঞ্জলা ভাব টা সেই আগের মতো ফিরে এসেছে।আর আমি ওদের বাসায় আসলে তো কথাই নেই।মাঝে মাঝে আমি অবাক হয়ে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি,একটা মেয়ের মনে এতো ভালোবাসা কই থেকে আসে?এই প্রশ্নের উত্তর কেউ আমাকে দিতে পারেনা। ""ভালোবাসা আইন্সটাইনের পারমানবিক শক্তি সমীকরনের মতো। এক বার শুধু শুরু করতে হয়।তারপর বাড়তেই থাকে,বাড়তেই থাকে।তবে কিছু মানুষ আছে যারা ভালোবাসাকে নিয়ে বিকৃত চিন্তা করে,দেহের লালসা মিটিয়ে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে,প্রেম পুরনো হয়ে গিয়েছে বলে।এমন প্রেম এই প্রজন্মে হার হামেশাই দেখা যায়, রক্ত মাংসের স্বাদ ভালোবাসাকে নিস্ক্রিয় করে দেয়,অতিরিক্ত কষ্ট মানব মনকে চরিত্রহীন করে দেয়।সে আর নিজের বিবেক খাটিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরনা পায় না।বিবেক যে শুধুই দংশন করে তাকে। কোনো না কোনো ভাবে আশা ভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়ে বেচে থাকতে হয় মানুষ কে। রিয়েল লাভ গুলি কেনো জানি খুব কম সময়ই সাফল্যরুপ লাভ করে। বেশীর ভাগ রিয়েল লাভ যে এক কেন্দ্রিক।আমি ভালোবাসি তাকে,সে ভালো বাসে অন্যকে,অন্য কেউ ভালোবাসে আমাকে।এই যে এই গোপন প্রয়াস টা সব সময় আরালে লুকায়িত থাকে।এ জন্য বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ভালোবাসা মানুষ কে কষ্ট দেয়,খানিক সুখের বিনিময়ে অসীম কষ্ট। এই কষ্টকে কোনো মানুষই উপেক্ষা করে থাকতে পারেনা। ইশা:-ভাইয়া!এত্তোদিন পর এলে তুমি!কি হইছে তোমার! এতো মনমরা কেনো তুমি!এই লেবুর শরবর টা খেয়ে নাও,অনেক ক্লান্ত তুমি ভাইয়া। আদিব:-ইশা,আমার জন্য অনেক কষ্ট হয় তোর তাইনারে! আগে বলিস নি কেনো আমাকে!এতো বোকা কেউ হয় বলতো? ইশা:-আমার ভাগ্যটাই খারাপ ভাইয়া। মেয়েরা যে মন থেকে শুধু একজন কেই ভালোবাসতে পারে। এর পর যে আসে তাকে কখনই মন থেকে ভালোবাসতে পারেনা।তবুও মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।বিধাতা নারীকে এই মহান চেতোনাশক্তি দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন।অগ্নি পুরুষ তো মহান সংগ্রামী সৈনিক।নিজের জীবন বাজি রেখে পরিবার কে আগলে রাখে।তুমিও সেই অগ্নিপুরুষ ভাইয়া।তোমার চোখের কালো ছোপে আমি কখনই বিকৃত মানসিকতা অবলোকন করিনাই।ওই দু চোখ স্বচ্ছ নিবির পবিত্র। আদিব:-ছেলে কি করে রে?দেখতে কেমন? ইশা:-সেলস এর জব করে ভাইয়া।আমি রাগ করে ছবি দেখিনাই।আমার দেখতে ইচ্ছে করেনা ভাইয়া।কপালে যে আছে সেই আসবে। আদিব:-কি আর করবি বল!নিয়তিকে মেনে নিতে হবে।আর শোন তুই দেখতে অনেক বেশী সুন্দর হয়ে গেছিস।আন্টি বললেন ইদানিং নাকি রোদে রোদে একটু বেশী ঘুরছিস। এটা কমাতে হবে বুঝলি।কিছুদিন পর শশুড় বাড়ি যাবি। বুঝিস না কেনো বলতো? ইশা:-ঠিক আছে ভাইয়া।আমার একটা কথা রাখবে? আদিব:-হুম বল রে।অবশ্যই রাখবো। ইশা:-মাঝে মাঝে আমার শশুড় বাড়িতে আসবে। একেবারে ভুলে যেওনা আমাকে।তোমার প্রতি আমার এই অগাধ ভালোবাসা নীরবেই বেচে থাকবে। এই ভালোবাসা পবিত্র,সহস্র আবেগে মেশা,এই ভালোবাসা জন্মান্তরের ভালোবাসা,তোমার ছল ছল ওই দু চোখ বলছে,আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তুমিও আমাকে অনেক বেশী ভালোবাসো।আকাশের মতো বিশাল হৃদয় মেলে ভালোবাসো।তবুও আমরা অনেক দূরে চলে যাচ্ছি। অনে অনেক দূরে চলে যাচ্ছি ভাইয়া।আর হয়তো কখনই এতো আবেগ নিয়ে কথা বলা হবেনা তোমার সাথে।আমার অবুঝ ভাবীটার যত্ন নিয়ো ভাইয়া।ভাবী তোমাকে আমার থেকেও বেশী ভালোবাসে। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now