বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Opu Ahasan (০ পয়েন্ট)

X দুবার কলিংবেল বাজানোর পরও ভাবছি তিন বার কলিংবেল বাজাবো কিনা । বেশি রাত তো হয় নি । তবুও একটু রাত তো হয়েছেই বলতে গেলে । আর একবার বাজাবো কিনা ভাবছি ঠিক এমন সময় দরজা খুলে গেল । নীলু দাড়িয়ে কঠিন মুখে । খানিকটা অবাক হলাম । নীলু সাধারনত দরজা খুলে না । ওর মা ই দরজা খুলে । আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম । কিন্তু নীলুর মুখের কোন ভাবান্তর হল না । আমি বললাম -ফুপু জেগে নেই ? -মার শরীর ভাল নাই । ঘুমাচ্ছে । -ও । আমি আসলে রাতের খাবার খেতে এসেছিলাম । আজ রাতে কেন জানি আলু ভর্তা আর গরম ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছা করছে । একটু ব্যবস্থা করা যায় ? নীলুর কঠিন মুখটা আরো কঠিন হল । বলল -দেখেন এসব ঢং আমার সাথে করবেন না । আর এটা ধর্মশালা না যে আসবেন খেতে চাইবেন আর হয়ে যাবে । -আচ্ছা ঠিক আছে । ফুপুকে কিছু বলার দরকার নাই । আমি চলে যাই বরং ! আমি দরজা থেকেই বেরিয়ে এলাম । মনটা একটু খারাপ হল । আসলেই আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি দিয়ে ভাত খেতে খুব ইচ্ছা করছে । ফুপু জেগে থাকলে ব্যবস্থা ঠিকই করতেন । এই শহরে আমার আপন বলতে এই ফুপুটাই আছে । প্রথম যখন গ্রাম থেকে এই শহরে হাজির হলাম এই ফুপুর বাসাতেই আমার জায়গা হল । ফুপুর কোন ছেলে ছিল নাতো আমাকে খুব আদর করতেন । ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পরেও তাই ফুপু আমাকে ছাড়তে চাইলেন না । প্রথম প্রথম আমারও খুব ভাল লাগতো কিন্তু বেশি দিন থাকা গেল না । ফুপুর বাসা ছেড়ে হলে উঠে গেলাম । ফুপু কে অন্য কারন বললেও আসলে প্রধান কারন ছিল নীলু । নীলুর আচরন কেমন যেন অস্বাভাবিক ঠেকল আমার কাছে । খুব শীঘ্রই বুঝতে পারলাম যে নীলু আমার উপর দুর্বল হতে শুরু করেছে । ওর সাথে কথা বললাম । পরিষ্কার ভাবে বললাম যে ওর প্রতি আমার অনুভুতিতা ঐ রকম না । নীলুকে আমি ঐ চোখে দেখি না । ঐ দিন থেকে নীলুর আচরন কেমন গম্ভীর হয়ে গেল । সব কিছুই ঠিক ছিল তবে আমার সামনে আসলেই নীলু কেমন গম্ভীর হয়ে যেত । আমার কাছে কেমন যেন অস্বস্তি লাগত । তাই আর এ বাড়িতে আর থাকতে ভাল লাগত না । হলের ওঠার পরও প্রায়ই আসতাম এ বাড়িতে । কিন্তু নীলু আর কখনই আমার সামনে আসে নি । কিন্তু আজ নীলুর আচরনটা একটু কঠিনই মনে হল । আর একটু নমনীয় হলে ভাল লাগত ! অন্ধকার পথে হাটছি । একটু ক্ষুদা লেগেছে । কোন হোটেলে কি যাবো ? আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি পাওয়া যাবে ? ঠিক এমন সময় মোবাইল বেজে উঠল । -আপনি কত দুরে গেছেন ? নীলু ? কন্ঠে খানিক উত্কন্ঠা ! -এই তো বেশি দুরে না । -আপনি এখনই বাসায় আসেন । আমি কোন কথা শুনবো না । এখনই আসেন । আমি ঐ বাড়ির পথ ধরলাম । দ্বিতীয় বার যখন নীলু দরজা খুলে দিল তখন আগের কাঠিন্য একদম নাই । অবাক হয়ে দেখলাম নীলুর চোখ কেমন যেন ফোলা ফোলা । কেঁদেছে নাকি ? খাবার টেবিলে আমাকে সত্যিই অবাক হতে হল । গরম ধোয়া ওঠা ভাত সাথে গরম ডিম ভাজি । পাশে আলু ভর্তা । এই টুকু সময়ের মধ্যে নীলু এসব কিছু করেছে । আশ্চর্য ! অথচ প্রথম এমন একটা ভাব করল । এই মেয়েগুলোর মন এমন অদ্ভুদ ! কখন কি যে হয় ? আর কখন কি করে কোন ঠিক নাই । নীলু বলল -মাংশ আনবো ? -আরে এরই মধ্যে মাংশও রান্না করেছ নাকি এরই মধ্যে ? -না আজ রান্না হয়েছে ! -ও । কি মাংশ ? -আপনার পছন্দের মাংশই রান্না হয়েছে । নীলু খাসির মাংশের বাটি নিয়ে এল । -পোলাও নিয়ে আসবো ? -আরে এতো আয়োজন কিসের ? আজ বিশেষ কোন দিন নাকি ? নীলু চুপ করে থাকলো ! আমি গরম ভাত মুখে দিতে দিতে বললাম -কি চুপ করে গেল ? নীলু ইতস্তত করে বলল -আজ আমার জন্মদিন । তাই ! -আরে তাই নাকি ! আগে জানলে তো আরো আগে আসতাম । বিশাল একটা খাওয়া মিস হয়ে গেল । তবুও এই রাতের বেলা খাওয়াটা বেশ ভাল হল । খাওয়া দাওয়া শেষে আমি যখন চলে যেতে চাইলাম নীলু বলল -এতো রাতে না গেলে হয় না ? নাহ যাই । আবার আসবো নে । আলু ভর্তাটা ভাল হয়েছে । আবার এসে খেয়ে যাবো । আমি দরজা দিয়ে বের হত ঠিক এমন সময় নীলু বলল -অপু ভাই । -হুম । -আমার গিফট কোথায় ? আমি খানিকটা হাসলাম । নীলু বলল -আমি জানি আপনার মনে আছে । এই জন্যই আপনি এসেছেন এই রাতের বেলা । আমি পকেট থেকে একটা ছোট্ট একটা ছোট্ট উপহারের বক্স বের করে ওর হাতে দিলাম । নীলু কেমন চোখ ছলছল চোখে আমার হাত থেকে উপহার টা নিল । আমি রাস্তায় নেমে এলাম ! আমি জানি নীলু চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ! এই মেয়ে গুলাই এমনই ! সামান্য বিষয় নিয়ে ভেউ ভেউ করে কাঁদা শুরু করে ! আজ সারা রাত হ্যতো কাঁন্না থামবেই না ! একবার কি পেছন ফিরে তাকাবো ! নীলুর কান্না ভেজা চোখটা কেন জানি দেখতে ইচ্ছা করছে ! না থাক ! নীলু আবার কি ভেবে বসবে !! আমি হাটতেই থাকি !! তাড়াতাড়ি এখান থেকে দুরে যেতে হবে ! কান্না বড় সংক্রমক জিনিস !! আমি হাটতেই থাকি !! আমার কথা: যারা হুমায়ূন স্যারের লেখা পড়েন তাদের কাছে লেখাটা খানিকটা পরিচিত মনে হতে পারে । স্যারের একটা গল্পের একটা অংশের খানিকটা প্রভাব আছে গল্পটাতে ! বাই আপু তানবির


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now