বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোট্ট একটা মন ভালোর গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান এইচ আই ফাহাদ (০ পয়েন্ট)

X মাটির ব্যাংকটা আস্তে করে মাটিতে ফেলতেই ভেঙে গেলো । ঝনঝন শব্দ তুলে কয়েনগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়লো সারা রুমের মধ্যে । আঙুল দিয়ে ঠোঁটে চাপ দিয়ে মানিক বলল "শশশশশ", দেখে মনে হচ্ছে কয়েনগুলোকে আস্তে শব্দ করতে বলছে সে । একবার উঁকি দিয়ে পাশের রুম দেখে আসলো মানিক । তার আম্মু পাশের রুমে ঘুমিয়ে,ভাগ্যিস এই শব্দে উঠেনি তার আম্মু । . এক টাকার তেহাত্তরটা কয়েন, দু টাকার বাহান্নটা আর পাঁচ টাকার আঠাশটা কয়েন । সাথে কয়েকটা পাঁচ টাকা, দুটাকা দশটাকার নোট । অনেক টাকা এখানে । খুশী হয়ে উঠলো মানিক । . ওর ছোট্ট পকেটে সবগুলো টাকা জায়গা হবে না তা মানিক জানে । ওর একটা ছোট্ট স্কুলব্যাগ আছে । ব্যাগে মিনা কার্টুনের ছবি আঁকা । মিনা কার্টুন মানিকের অনেক প্রিয় । মানিক চুপিচুপি আম্মুর পাশ থেকে তার মিনা কার্টুনওয়ালা ব্যাগটা নিয়ে আসলো । আস্তে আস্তে সে সবগুলো টাকা ব্যাগের ভেতর ঢুকালো । . মানিকের এখন বাইরে যাবার পালা । ধীরে ধীরে দরজার পাশে গিয়ে আরেকবার দেখলো আম্মু ঘুমে কী না । যাক! এখনও ঘুমে আম্মু । সে নির্ভয়ে বাইরের দরজা খুলে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে রওনা দিলো । মানিকের এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিষ কিনতে হবে । তার চাচ্চু,আব্বু, মামা কেউ পাচ্ছেন না জিনিষটা । কেন যে তারা এত বড় হয়েছে মানিক বুঝতে পারেনা । এত বড় হবার পরও তারা খুঁজে পাচ্ছেনা ! টাকার দরকার হলে মানিককে বললেই পারতো তারা? আস্ত মাটির ব্যাঙ্ক দিয়ে দিত সে একবার বললেই । . মানিক আম্মুর সাথে স্কুল থেকে আসার সময় দেখেছে বাজারে একটা বড় দোকান আছে । ওখানে নাকি সবকিছু কিনতে পাওয়া যায় । একবার মানিকের খেলনা গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো, মানিকের আম্মু তখন তাকে ঐ দোকানেই নিয়ে গিয়ে আরেকটা গাড়ি কিনে দেন । তাই সে ঐদিকেই যাচ্ছে, ওখান থেকেই কিনে নিয়ে সোজা বাসায় এসে আম্মুকে একদম অবাক করে দেবে । আম্মু কী খুশী হবে! ভাবতেই মানিকের আনন্দ লাগছে । . সামনে আইস্ক্রিমের গাড়ি । অন্যদিন মানিক আইসক্রিম দেখলেই পাগল হয়ে যায়, তাকে আইসক্রিম কিনে দিতেই হবে । না দিলে কান্না করে নাজেহাল অবস্থা করে সে । আজকে প্রথম সে একা একা কোথাও যাচ্ছে । আইসক্রিম দেখে সে খাবার লোভ সামলাতে পারছেনা সে । তারকাছে অনেকগুলো টাকা আছে । চাইলেই সে আইসক্রিমের গাড়ির সবগুলো আইসক্রিম কিনে নিতে পারে । কিন্তু মানিক আইসক্রিম কিনবেনা এখন । এতে যদি টাকার কমতি হয়? পাশেই একটা ছে;লে দাড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে" অরেঞ্জ আইসক্রিম" , মানিক অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে দেখেও না দেখার ভান করে এগিয়ে গেলো সামনে । . একটু সামনে যেতেই বাদামওয়ালাকে দেখল সে । "যেদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সবদিকে তাকিয়ে যাই বাদামওয়ালার জন্য, সেদিন তারা আসে না । আজ কিছু খাব না, টাকা খরচ করব না ঠিক করে বেরিয়েছি তো সবাই সামনে এসে হাজির ।" ভেবে মনে মনে গালি দিলো মানিক বাদামওয়ালা আর আইসক্রিমওয়ালাদেরকে " ইলিশ মাছ কোথাকার " । মানিক ইলিশ খেতে ভয় পায়, একবার কাটা বিঁধে গিয়েছিলো তার গলায় । তারপর থেকেই সে আর # ইলিশ মাছ খেতে চায়না । কারো উপর রাগলেই তাকে ইলিশ মাছ ডাকা শুরু করে মানিক । . ধীরে ধীরে মানিক সেই বড় দোকানটার সামনে এসে দাঁড়ালো । এখানের ছেলেটা মানিককে চেনে । কয়েকদিন আগেই গাড়ি নিয়েছিলো তো, এজন্য । দেখতেই দৌড়ে আসলো, " বাহ! মানিক বাবু যে?! কী লাগবে আজ আপনার? গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে আবার? আম্মু কোথায়?" . বেশ ভেবে চিনতে উত্তর দিলো মানিক " আম্মু আসেনি । আমি তো বড় হয়ে গেছি, ভাবলাম একাই আসি । আমার একটা জিনিষ লাগবে, আব্বু, চাচ্চু তারা খুঁজে পায়নি, তাই আমিই এলাম ।" . দোকানি মুচকি হাসল " বাহ! বলো তাহলে কী লাগবে তোমার? " . - " আমার একটা কিডনি লাগবে । হবে?" চুপচাপ উত্তর দিলো মানিক - "হাহাহাহা! ওসব খেলনা তো আমাদের দোকানে নেই, তুমি বরং এটা নাও" বলে দোকানি ছেলেটা মানিকের হাতে একটা খেলনা ঘোড়া ধরিয়ে দিলো । - এটা তো ঘোড়া । আমার কিডনি লাগবে । - কিডনি কোথায় পাব? এসব তো আমাদের দোকানে নেই । তুমি আর কোথাও দেখ? আর আমাদের নতুন গাড়ি এসেছে অনেক, দেখবে? - না । আমার কিডনি লাগবে । কোথায় পাব? - তা তো জানিনা আমি । . মানিক সময় নষ্ট না করে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো দোকান থেকে । পাশের দোকানে জিজ্ঞেস করলে তারাও কিছু জানেনা । একটু দূরে একটা ফার্মেসী ছিল । মানিক ওখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো " আঙ্কেল, কিডনি আছে? " . ফার্মেসীর লোকটা হা করে তাকিয়ে থাকলেন । অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন "কিডনি?! তুমি কিডনি দিয়ে কী করবে বাবু?" - আমার খুব দরকার , একটা হলেই চলবে আঙ্কেল । আমার কাছে অনেক টাকা আছে, আমার শুধু একটা কিডনি লাগবে । - কার জন্য? - আমার আম্মুর জন্য । উনার নাকি দুটো কিডনি ছিল, নষ্ট হয়ে গেছে । এখন আব্বু, চাচ্চু কেউ কিডনি খুঁজে পাচ্ছেন না । আম্মুর খুব মন খারাপ কিডনির জন্য । রাতে ঘুমোয় না, আমাকে ধরে কাঁদে খুব । আম্মু অবশ্য আমাকে বলেনি কিডনি লাগবে যে । আব্বুর সাথে কথা হচ্ছিলো, আমি লুকিয়ে লুকিয়ে শুনে ফেলেছি । . ফার্মেসীর লোকটা অশ্রু ভরা চোখে তাকিয়ে থাকলেন, জিজ্ঞেস করলেন "কিডনি কী তুমি জানো? " - না আঙ্কেল । জানা লাগবেনা , আব্বু বলেছে আম্মুকে একটা # কিডনি হলেই চলবে । আমার একটা লাগবে, আম্মুকে নিয়ে দিয়ে দিব । আম্মু আর কাঁদবে না । আমি যে জিনিষের জন্যই কাঁদি আম্মু সাথে সাথে এনে দেয় । কিন্তু আম্মু এবার কাঁদছে আমি কিছু এনে দিতে পারছি না । একটা কিডনি হবে আঙ্কেল ? মাত্র একটা । . ফার্মেসীর লোকটা চোখ মুছলেন । লোকটা জানে কিডনি কী হয় । সে জানে কিডনি তিনি খুঁজে দিতে পারবেন না চাইলেও । কিন্তু এইটুকু ছেলেকে কে বুঝাবে কিডনি কী হয়? মিথ্যা শান্তনা দিলেন তিনি মানিককে " আচ্ছা বাবু, শোন, আমার কাছে তো নেই । আর এগুলো দোকান বা ফার্মেসীতে বিক্রি হয়না । আমি দেখব কিডনি পাই কি না । তুমি বাসায় চলে যাও, কেমন? " . হালকা হাসল মানিক । লোকটাকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলো সে । বেশি সময় বাইরে থাকা যাবেনা । আম্মু ঘুম থেকে উঠে তাকে দেখতে না পেলে খুব চিন্তা করবে । তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে হবে । আম্মুর জন্য পাঁচ টাকার বাদাম কিনল মানিক, কাল আরেকবার বেরুতে হবে । . আর তার ক্লাসের একটা ছেলে আছে " শুভ " সবকিছু জানে । সবসময় ফার্স্ট হয় । সে নিশ্চয়ই জানবে কোথায় কিডনি পাওয়া যায় । যদিও মানিককে দুদিন আগে শুভ খামচি দিয়েছিল, কিন্তু তারপরও নিজ থেকে গিয়ে কথা বলবে সে । তার একটা কিডনি দরকার, খুব দরকার । খুব লেখক: এইচ আই ফাহাদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now