বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে দেখেছিলাম মেয়েটিকে। আকাশে লাল আভা, বসন্তের হালকা বাতাস, কোকিলের কুহু কুহু ডাক সব মিলিয়ে মনে বসন্তের ঢেউ খেলানো অনুভূতিকর অবস্থা। চোখ সরাতে পারছিলাম না তাকে দেখে। খোলা চুলের চশমিশ মেয়েটার ঠোটে হালকা করে জামার সাথে ম্যাচিং করে লিপিস্টিক দেওয়া। ফর্সামতন চেহারা খুব স্বাস্থবতী না হলেও বিয়ের পর হয়ে যাবে। শুনেছি বিয়ের পর নাকি মেয়েরা এমনিতেই স্বাস্থবতী হয়ে যায়। কানে দুল ছিল না। নাকে ছিলনা নাক ফুল। কিন্তু নাক আর কান দুইয়ে মিলে ছিল মোটা ফ্রেমের একটা চশমা। মাতাল করা ছিল তার হাসি। যার মধ্যে ছিল মাদকত্ত্ব। বসন্তের হালকা হাওয়ায় যখন তার খোলা চুলগুলো হালকা এলোমেলো করে দিচ্ছিল তখন তাকে আরও সুন্দর লাগছিল। মুগ্ধ নয়নে দেখছিলাম তাকে। ক্ষণিকের জন্য মনে হয়েছিল চোখ জোড়ার যেন দৃষ্টি র্স্বাথক হল। মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত অনুভূতি। ইচ্ছে করছিল বাতাসের ছলে চুলগুলো ঠিক করে দেই। তার মধ্যে একটা পোরা পোরা গন্ধ বিষয়টাকে আরো মাতিয়ে তুলেছিল। চোখের সামনে শুধু মেয়েটার হাসি ভাসছে। মনে হয়েছিল কত চেনা তার এই হাসি। যেন তার ধ্বনী আমার কানে আজও বেজে চলেছে। কোকিলের কুহু কুহু ডাকে মন চেয়েছিল তার পাশে গিয়ে একটু বসতে। যেখানটায় সে আর আমি দুজনে তাকিয়ে আছি দুজনের দিকে। হয়তো আমি একটু বেশি অনুভূতি প্রবণ তাই চোখটাও সরতে চাইছিল না। মনে হয়েছিল আমার কাঁধে একটু মাথাটা রাখুক আর আমি কোন এক ছলে তার গালটা আলতো করে ছুঁয়ে দেই…
তথন পিছন থেকে কেউ একজন ডেকে বলল, “ভাইয়া হাতটাতো পুরে যাচ্ছে। গরম চায়ের মধ্যে আঙ্গুল ডুবিয়ে রেখেছেন?” কথাটা গুরুত্ব না দিয়েই নিচের দিকে তাকালাম। ততক্ষণে আমার ঘোর কেটে গেছে। হাতটার বারটা বেজে গেছে। একপ্রকার হাতটা সরিয়ে নিয়ে লাফাতে লাগলাম এই বলে, “ওরে বাবারে হাতটা গেল রে, ওরে মারে আমার আঙ্গুল গুলো গেল আজ।” লোকটি কোথা থেকে যেন ঠান্ডা পানি এনে দিলেন। পানিতে আঙ্গুলো র্স্পশ করাতেই শরীর শিউরে উঠল। মনে হল সেইটি যেন আমায় আলতো করে ছুয়ে দিয়ে গেল। পাশ থেকে লোকটি বলল, “ভাই কার দিকে ওভাবে অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন? সামনে তো কাউকে দেখছি না।” লোকটার কথায় সামনে তাকাতেই দেখতে পেলাম সত্যিই সামনে কেউ নেই। র্সূয ডুবে যাওয়ার উপক্রম। মেয়েটি চলে গেছে। তাই আর কিছু না বলে টাকাটা দিয়ে বাইরে বের হলাম। মেয়েটার কথা মনে পড়তেই পাশের গাছে বসে থাকা কোকিলটা কুহু কুহু ডাকল। মনে মনে ভাবলাম, “আমার জীবনেও বসন্তের ছোঁয়া লাগল তাহলে এবার।” ঠোটের কোণায় মুচকি হাসি দিয়ে প্রস্থান করেছিলাম সে স্থান।
তারপর থেকে রোজ আসা। আজও বসে আছি….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now