বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্প : #বড়লোকের_পাগলি মেয়েটির ভালোবাসা !!!

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Pantha Shahria (০ পয়েন্ট)

X গল্প : #বড়লোকের_পাগলি মেয়েটির ভালোবাসা !!! Writer : Pantha Shahria !!! - এই যে... হ্যালো । - জ্বী আমাকে বলছেন । - না তোমাকে নাতো । - ওকে সরি তাহলে আমি গেলাম । - ওই পোলা এত্ত ভাব নাও কেন । - পায়ের নিচে থেকে উপর পর্যন্ত তাকাই দেখলাম , আমিতো ৮০ টাকার জুতো , ৩৭০ টাকার প্যান্ট আর ১৩০ টাকার একটা গেঙ্গি পড়ে আছি । ৫৮০ টাকার কাপড় পড়ে ও কী ভাব মারা যায় মেয়েটার জুতোটার দিকে তাকাইলাম । আমার সব কিছু কেনার টাকা দিয়ে ওর একটা জুতো ও হবে না ...। মেয়েটাকে বললাম ... - আসলে আপনি মনে হয় কিছু ভুল করছেন , আপনার একটা জুতোর টাকা দিয়ে আমার অল বডি এর কাপড় কেনা হয়ে যাবে । আর এই গুলো দিয়ে আমি কেমনে ভাব মারব , আপনি যাকে খুঁজছেন আমি সে না । - আচ্ছা মানলাম তুমি সে না , তোমার নাম তো সাহরিয়া তাই না । - সাহরিয়া নাম তো অন্য কারো ও হতে পারে । - ওই পোলা একটা চর দিমু , আমাকে তুমি চেন । - না মানে একবার দেখছিলাম আমাদের ক্লাস এ , আর আপনার জন্য তো সব ছেলেরা পাগল । - বাহ অনেক কিছু জানো তো , আচ্ছা বলতো আমার নাম কী । - না মানে আমি আপনার নাম তো জানি না । - ওই পোলা আমার নাম জানো না ক্যান । - আরে আমি আপনার নাম দিয়ে কী করব আজব তো । - আমার নাম নিধি , এরবার থেকে মনে রাখবা না হলে ............. ফেলব, মনে থাকে যেন । - আচ্ছা আমি গেলাম । - ওই গেলাম মানে , কই যাবা । - আমার দুইটা ছাত্র পড়াতে যেতে হবে । - ওকে যাও বাট কালকে কলেজে আসবা । - মাথাটা একটু নেরে চলে আসলাম । আজব মেয়ে এসে বলে কী না তাঁর নাম মনে রাখতে হবে । দুইটা ছাত্র পড়াই রাত আট টাই বাসাই আসলাম , বাসা মানে । আমি আর এক বড় ভাই মাঝারি সাইজ এর এরটা রুম নিয়ে থাকি । আমি গ্রামের একটা সাধারণ ঘরের ছেলে অনেক কষ্টে পড়াশুনা চালাই যাইতেছি , আমি তেমন বড় কোন স্বপ্ন দেখি না আসলে গরীব দের বড় স্বপ্ন দেখা মানে আজাইরা সময় নষ্ট । কিন্তুু আমি সব সময় অনেক কিছু নিয়ে ভাবি কারণ ... আমি একটা উক্তি পড়েছিলাম । হতাশ হয়ে যে ও না , তুমি যা ভাবো, তাঁর চাইতে তুমি বেশি জানো । কথাটার অর্থ আমি উপলদ্ধি করতে পারি কিন্তুু সেটা বুঝিয়ে বলতে পাড়ি না । যাই হোক আমার মনে হয় এই কথাটায় আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে । পরেরদিন সকালে কলেজে গেলাম । - একটা বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে আছি , অনেকক্ষণ যাবত বসে আছি । হঠাৎ পিছনথেকে ... - ওই সাহরিয়া তোমাকে আমি সেই কখন থেকে খুঁজতেছি । - কেন । - ওই কেন মানে কী হুমমমমমম , আমার খিদে লাগছে চলো খাবো । - হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো ক্যান্টিনে । আমাদের খাবার এর সময় ওর আর ও কয়টা খাদক ফ্রেন্ড এসে জুটল । এটা ওটা খেয়ে সবাই বিদাই সাথে নিধি ও চলে গেল । আমি শুধু হা করে আছি , আর ভাবছি পাঁচ দিন দুপুরে না খেয়ে থাকা লাগবে । না এই সব মেয়েদের কাছে থেকে যতই দূরে থাকা যায় ততই ভালো । সব ক্লাস শেষ করে হেঁটে হেঁটে বাসাই যাচ্ছি । - সামনে একটা কার এসে দাঁড়ালো , আমি আমার নিজ গতিতে যাচ্ছিলাম । কারণ আমার জন্য আজ পর্যন্ত কোন সাইকেল ও দাঁড়াই নাই আবার কার । পিছন থেকে মেয়েলি কণ্ঠে কেউ ডাক দিলো ... - সাহরিয়া ....। - বুঝতে আর বাঁকি রইল না এটা নিধির গলা । তাই দাঁড়াই গেলাম । - হুমমমমমম বলেন কী বলবেন । - ওই তুমি আমাকে তুমি করে বলবা । - আচ্ছা বলো কি বলবা । - সাহরিয়া আমি তোমাকে ভালোবাসি । - আচ্ছা আমি গেলাম । - ওই আমার উত্তর দিয়ে যাও । - আমার কোন উত্তর জানা নাই , আমি গেলাম । - যদি আর এক পা সামনে দাও না পা ভেঙ্গে ফেলব । - আরে দূর যাও না , আরো অনেক পোলা তো আছে , তাঁদের গিয়ে বলো আমাকে বলা ক্যান লাগবে । - ওই তোমাকেই তো ভালোবাসি তাইলে অন্য পোলা কে বলতে যাবো কেনো । - হা হা হা ভালবাসো তাও আমাকে , আচ্ছা কার সাথে কত টাকার বাজি ধরছ , নাকি সব্বাইকেই দেখানোর জন্য যে দেখো, যেই ছেলে কোন মেয়ের সাথে কথা বলে না তাঁকে আমার পিছন পিছন ঘুরাইতেছি । আর মজা নেয়া শেষ হইলে ছেলেটাকে ছেঁড়ে দিবা । এই তোমার মতো মেয়ে গুলোকে না আমি ভালো করে চিনি । আচ্ছা যাই হোক আমার মতো একটা গরীব ছেলের সাথে এমনটা করবে ভেবে একটু ও খারাপ লাগলো না , যে পরে আমার কী হতে পারে , আমার জায়গাতে অন্য ছেলে হলে তো ঠিক পটে যেত । আর শেষ অব্দি ছেলেটার লাইফ শেষ , এতেই তোমরা মজা পাও তাই না । কাউকে ভালবাসলে মন থেকে বাসবা , আর না হইলে কোন দরকার নাই । - আর হ্যাঁ আমার কথাই রাগ করে থাকলে সরি , আমি গেলাম । চলে আসছি আর ভাবছি কথা গুলো বলার সময় । মেয়েটা কিছু বলেনি শুধু ও দিকে যখন তাকাইছিলাম তখন দেখলাম ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ছে , মনে হয় একটু বেশি বলে ফেলছিলাম । আসলে অনেক টেনশন এর মধ্যে ছিলাম , তাই মুখে যা আসছে বলে ফেলছি এখন আর ওই সব ভেবে কোন লাভ নাই । বাসাই আসলাম গোসল করে লম্বা একটা ঘুম ,টাকা নাই তাই দুপরের খাবার অফ , ৪ টার দিকে দুইটা ছাত্র পড়াইতে যেতে হবে ,তাঁদের পড়াইতে গেলে চা বিস্কিট দেই ওই গুলো দিয়ে দুপরের খাবার মেকআপ । এই ভাবে ভালোই দিন যাচ্ছিল , কলেজে গেলে নিধি ও আর বিরক্ত করে না । না মানে ওকে দেখতে পাই নাই কয়দিন থেকে , মনে হয় আসে নাই । ওই সব ভেবে আমার কোন লাভ নাই , ওরা অনেক বড়লোক , আর আমি কই একটা গ্রামের কৃষক এর ছেলে । আজকে ও সেই বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে আছি । হঠাৎ একটা মেয়ের আগমন । - আপনি কী সাহরিয়া । - হুমমমমম বলেন । - আচ্ছা আপনার এত্ত কীসের ভাব শুনি । - দূর আবার সেই প্রশ্ন , আচ্ছা আপনি আমার কোন দিকটা দেখে ভাব মনে হইল বলেন । - ওই আপনি নিধি কে কী সব আবল তাবোল বলছেন হুমমমম , ও কে জানেন , এই শহরের সব থেকে বড়লোক বাবার এক মাত্র মেয়ে । ওর পিছনে কত ছেলে ঘুর ঘুর করে , ও কাউকে পাত্তা দেই না , আপনার মতো এমন একটা ছেলেকে ও কেমনে যে ভালবাসলো আমি ভাবতে পারছি না । আর আপনি কী না তাঁকেই ওইসব কথা শুনাই দিলেন ছি ... পাগলিটা সেই দিনের পর থেকে কিচ্ছু খায় নাই জানেন , শুধু কেঁদে চলেছে । কলেজে যখন আপনাকে প্রথম দেখেছে তখন থেকে শুধু আপনার কথাই বলতো , জানতাম না যে আপনি এমন হবেন । - আচ্ছা আমি এখন গেলাম , আর কালকে নিধিকে কলেজ এ আসতে বইলেন , ওর সাথে আমার অনেক কথা আছে । - না ও আসবে না । - আচ্ছা না আসুক , আপনার বলার বলবেন । আর একটা কথা মানিকে যেমন রতন চেনে , তেমনি পাগলিটাই তাঁর পাগলকে চেনে । কালকে ১১ টার দিকে আসতে বলবেন , আমি গেলাম । বলে বাসাই চলে আসলাম ...। পরের দিন ১১ টাই সেই কৃষ্ণচূড়া গাছের কাছে যেতেই দূর থেকে দেখলাম নিধি বসে আছে । পাগলিটা কেমন শুকাই গেছে , আর চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গাছে । কাছে গিয়ে তাঁর পাশে বসলাম , নীল শাড়ী পড়ে এসেছে কেমন পরী দের মতো লাগছে । - নিধি আমাকে মাফ করে দাও , আমার ওই ভাবে বলা ঠিক হয় নাই । আসলে কী করব বলো আমার নিজের খরচ পড়াশুনার খরচ আমাকেই চালাতে হয় । গ্রামে একটু জমি আছে ওই গুলো দিয়ে সংসার চলে , আমার মতো ছেলেদের কোন শখ করতে নেই জানো , আর ভালোবাসা তো দূরে , তোমার জন্য আমি কিচ্ছু করতে পারব না । যেই ছেলের নিজের দুইবেলা ভাত জুটে না সে তোমাকে কেমনে ভালবাসবে বলো । বলতে লজ্জা করছে তোমাদের সেইদিন ওই খাবার এর বিল দেওয়াতে আমি এখন প্রতি দুপুরে না খেয়ে থাকা লাগে । - ওই কী বলো এই সব ,তার মানে এই কয়দিন দুপরে তুমি না খেয়ে ছিলে । - হুমমমমম । - তুমি না একটা পাগল ,তাইতো মুখটা এমন শুকনা লাগছে (মনে হয় এই কেঁদে দিবে ) । - আচ্ছা এত সব শোনার পড়ে কী ভালবাসবা বলো । আচ্ছা আমি গেলাম । - ওই নিজেকে কী মনে করো হুমমমম , একটা মেয়েকে কাঁদিয়ে শান্তি পাও তাই না । - আর এ বাবা আমি তো গরীব । - তাঁতে কী হয়েছে আমি তোমাকেই ভালোবাসব , আর তুমি খালি এত্ত বেশি বোঝ কেন হুমমমম , তুমি গরীব তো কী হয়েছে আমি তো আছি । - আচ্ছা ছেঁড়ে যাবা নাতো , বলতেই এসে জরাই ধরল । ওই কী করছ সবাই দেখছে তো । - তুমি না বললে ছেঁড়ে না যেতে , - ওই পাগলি তাই বলে সবার সামনে জরাই ধরবা । - হুমমমমম ধরবো ..... আচ্ছা চলো খাইতে যাবো । - না না থাক একদিন যেয়েই আমাকে দুপরে না খেয়ে থাকতে হয় , আজকে গেলা সকাল আর রাতে ও না খেয়ে থাকতে হবে । - হি হি হি দূর পাগল চলো তো । - তুমি বিল দিবা তো । - হুমমমম । - আহা কত দিন থেকে পেট ভরে খাই নাই আজকে তো সব খাবো । - পাগল একটা ...। - পাগলি একটা ...। - ওই কী বললা ... দাঁড়াও আবার সবার সামনে জরাই ধরবো । কী মেয়েরে বাবা ... আপনারা সবাই চক্ষু দুইটার জানালা বন্ধ কইরা ফালান ... পাগলিটা আমাকে জরাই ধরার সময় আপনারা দেইখা ফেললে আমারে সরম লাগবো তো হি হি হি ...............। >>সমাপ্তThe End


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now