বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নি:শব্দ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X -আচ্ছা শুন তুই কি রুমাকে ভালবাসিস? -হঠাৎ এরকম কথা -আমার মনে হল,তাই বললাম -না, ভালবাসিতো না। কিন্তু ওরে আমার ভাল লাগে। অনেক ভাল, সবার সাথে একদম হাসিখুশি থাকে। -শুন, যদি ভালবাসস তাইলে বেশি দেরি করিস না।নাইলে পরে কষ্ট পাবি -আচ্ছা যাই। -ok, bye ,,, এতক্ষন ধরে অনিক আর রবিনের মধ্যে কথা হচ্ছিল। তারা দুজন বেস্টফ্রেন্ড। যাকে নিয়ে কথা হচ্ছিলো সেই রুমা হচ্ছে তাদের ক্লাসমেট, তারা সবাই ফ্রেন্ড,সবাই এবার ssc পরীক্ষা দিবে। অনিক(মূল চরিত্র) খুব লাজুক। সহজে সবার সাথে কথা বলেনা। আর ভালবাসার কথাতো অনেক দূরের কথা। তবে সে অনেক মেধাবী। আর রবিন অনিককে নিজের ভাইয়ের মতো মনে করে।তাই অনিকের মনের কথা সে বুঝে ফেলে। তো গল্পে ফেরা যাক,,,,, রবিনের কথাটা শুনে অনিক একটু অবাক হয়ে যায়।সে কি সত্যিই রুমাকে ভালবেসে ফেলেছে নাকি! অনিক প্রতিনিয়ত রুমার কথা ভাবতে লাগল, অবশেষে সে সিদ্বান্ত নিলো যে, রুমাকে তার ভালোবাসার কথা জানাবে,, পরদিন স্কুল ছুটির পর-- -আচ্ছা শুন তুই কালকে কোচিংয়ে গেছোছ?( রুমা) -হুম,গেছিলাম।তুই আসোস নাই কেন?(অনিক) -আরে একটু মামার বাসায় গেছিলাম -ওওও,তো আজকে যাবি? -হুমম,যাবো, আচ্ছা কোচিংয়ে দেখা হবে, bye. -আচ্ছা শুন! -হুম, কিছু বলবি? -ইয়ে মানে,,না কিছু না। -বললে বল -না কিছু না। -ok bye -ok ,, ওফফ বলতে পারলো না অনিক বুঝল যে, সে নিজে কিছু করতে পারবে না। অবশেষে চিন্তা করল, যে রবিনের হেল্প নিবে। তো রাতে রবিনকে message দিলো-- -তোর সাথে কিছু কথা ছিলো (অনিক) -হুম,বল (রবিন) -আমি রুমাকে ভালবাসি।কিন্তু ওরে বলতে পারতেছি না।তুই কিছু একটা ব্যবস্থা কর -কি বলছ! সত্যি নাকি - হুমম -তুই sure তো -হুমম -ok,,আমি রুমার সাথে কথা বলব -দেখিছ,সাবধানে,আবার উল্টাপাল্টা কিছু যেন না হয়। -আরে চিন্তা করিস না রবিন নিজে নিজে বলতেছে, যাক পাগলটা প্রেমে পড়ছে। এখন রুমাকে মানাইতে পারলে হবে। তো রাতে রুমাকে message দিলো রবিন-- -কিরে,কি করছ? (রবিন) -এই তো dinnar করলাম মাত্র (রুমা) -তোর সাথে আমার কথা আছে, -হুমম বল -তোর কোনো boyfriend আছে? -কেনো? -বল না -না, নাই। -অনিক তোকে ভালোবাসে, -হুমম, অনেক দিন ধরে আমার ও এমন মনে হচ্ছে -এখন তুই কিছু বল -আমি কি বলতাম, কিছু বুঝতেছিনা,তুই কি বলছ,কি করতাম? -অনিক এমনে অনেক ভালো।অনেক ভদ্র।ওর ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জল। আমার মনে হয় তোর রাজি হয়ে যাওয়া উচিত। -আচ্ছা যা, আমি রাজি -সত্যি? -হুম,। -দেখিছ, ওর মনে কষ্ট দিছনা -না,দিবো না -ok. bye -bye রবিন তো অনেক খুশি। সে তারাতারি অনিককে কল দিলো-- -হ্যালো (অনিক) -হারামি,জলদি অনলাইনে ঢুক -আচ্ছা রবিন রুমার সব sms গুলার screenshot অনিককে পাঠালো।অনিক নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। -tnx, দোস্ত -কিসের tnx,সালার পুত আমারে personally ট্রিট দিবি। -আচ্ছা দিবো ,,, এভাবেই অনিক তার ভালবাসার মানুষটাকে খুঁজে পায়। চলতে থাকে তাদের ভালবাসার সম্পর্ক। কেটে যায় অনেক গুলো দিন। ,, দুই দিন পর রবিনের বার্থডে,তো অনিক চিন্তা করল যে রবিনের জন্য স্পেশাল কিছু করবে। সব প্লান করা শেষ, কিন্তু রবিনকে কিছু জানালো না। আজ রবিনের বার্থডে।রবিন সকালে উঠে মা বাবাকে সালাম করল।তারপর ফেসবুকে লগ ইন করল।দেখলো, অনেকেই তাকে উইশ করছে।কিন্তু তার বেষ্টফ্রন্ড, যাকে সে ভাই মনে করে, সেই অনিক তাকে উইশ করেনি।মনে মনে ভাবল যে, girlfriend পাই আমাকে ভুলে গেছে। তখন রবিনের মা তাকে একটা প্যাকেট দিল। প্যাকেটে একটা খুব সুন্দর পান্জাবি ছিলো।রবিন ভাবল হয়তো তার বাবা তাকে এটা দিয়েছে। বিকালবেলা,,, -আমি আর তোর বাবা একটু বের হচ্ছি, তুই বাসায় থাক (রবিনের মা) - আচ্ছা ঠিক আছে ( রবিন একটু অবাক হলো) রবিনের মনটা খারাপ হয়ে গেলো,আজ তার বার্থডে,অথচ তার মা বাবা তাকে ছাড়া বেড়াতে গেলো।পরে ভাবল যে, সে এখন বড় হয়ে গেছে,এখন আর কিসের বার্থডে। ২০ মিনিট পর বাবার ফোন,,, -হ্যালো, রবিন -হুম বলো -তুই অমুক হোটেলে চলে আয় -কেন, কি হইসে? -তুই আয়,আর নতুন পান্জাবীটা পরে আসিস -আচ্ছা, আসতেছি কিছু বুজলো না রবিন,পান্জাবিটা পরে বেরিয়ে গেলো। রিক্সায় উঠে রবিন মনে মনে ভাবল, হয়তো তার বাবা মা তাকে surprise দিবে,তাই হোটেলে যেতে বলেছে।কিন্তু অনিকের কথা মনে করে একটু রাগ ও হলো,যাকে ভাইয়ের মতো মনে করতাম সে একটা মেয়েকে পেয়ে আমাকে ভুলে গেলো।ভাবতে ভাবতে রিক্সা হোটেলের সামনে চলে আসল,নেমে ভাড়া দিয়ে হোটেলে ঢুকল। রবিন দেখলো হোটেলের কোনায় একটা বড় টেবিল ফুল দিয়ে সাজানো আছে। হয়তো সেখানে কারো বার্থডে সেলিব্রেট করা হবে।একটু সামনে গিয়ে দেখল যে, ঐ টেবিলটিতে তার বাবা মা বসে আছে।রবিন বুঝতে পারল যে,তার বাবা মা তার জন্য এত কিছু করেছে।অনেক খুশি হয়ে সে তার বাবা মা কে জড়িয়ে ধরল।তখনই পিছন থেকে রুমা সহ রবিনের দুজন ক্লাসমেট "হ্যাপি বার্থডে" বলে চিৎকার দিলো।রবিন তাকিয়ে দেখে সবাই তার জন্য গিফট আনছে। সে অনেক খুশি হলো।কিন্তু অবাক ও হলো কারণ রুমা এসেছে, অথচ অনিক আসলো না। রবিন সবার গিফট গ্রহন করল,সবাইকে ধন্যবাদ জানালো। তখন রবিনের বাবা রবিনকে একটি হাতঘড়ি উপহার দিলো।তখন,, -ধন্যবাদ আব্বু,আমাকে তো পান্জাবি দিছো, তো এটার আবার কি দরকার ছিলো? -পান্জাবি তো আমি দেই নাই -কি? তাহলে পান্জাবিটা কে দিয়েছে আম্মু? তখন রবিনের মা হেসে বললেন- আসলে এই পান্জাবিটা অনিক গত কাল সন্ধ্যায় বাসায় এসে দিয়ে গেছে,বলেছে তোকে সকালে দিতে।আর আজকের এসব প্লানও অনিক করেছে। তোকে বলতে নিষেধ করেছে,তাই কিছু বলি নি। আম্মুর কথা শুনে রবিন কিছুক্ষন নিজের চোখটা বন্ধ করে রেখেছে,যাতে চোখ দিয়ে পানি বের না হয়। কিছুক্ষন স্থির হওয়ার পর,, -তা অনিক কোথায়? (রবিন) -ও কেক আনতে গেছে (আম্মু) এমন সময় রবিন দেখলো, অনিক আসছে। রবিন দাড়িয়ে ওর সামনে গেলো। অনিক ভয়ে ভয়ে বলল "হ্যা-হ্যাপি বার্থডে" রবিন আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলোনা। জড়িয়ে ধরে বললো,, -থ্যান্কস,দোস্ত।আমি ভাবতেই পারিনি, তুই আমার জন্য এত কিছু করবি। -আরে ছাড় আমারে, আমার গার্লফ্রেন্ড সামনে বসে আছে, -শালার পুত, তুই আমারে ফেসবুকে উইশ করস নাই কা? আমি তো মনে করছি..... -কি মনে করছোছ,গার্লফ্রেন্ড পাই তোরে ভুলে গেছি! ফেসবুকে তো সবাই উইশ করে, তাই আমি একটু অন্যরকম ভাবে চেষ্টা করলাম,মনে কর এটা তোর ট্রিট। -হারামি -আচ্ছা আয়, কেক কাটবি।ও আরেকটা কথা, পান্জাবিটা তোর পছন্দ হইছে? আমি আর রুমা মিলে কিনছি -হুম -আচ্ছা। কেক কাট আর এভাবে অনিক রবিনের জন্মদিন পালন করল।অনেক দুষ্টামি,খাওয়া দাওয়া হলো।অনেক ছবি ও তুলা হলো। ,,, এভাবেই রবিনের বন্ধুত্ব আর রুমার ভালোবাসায় অনিকের জীবন সুখে শান্তিতে কাটতে লাগল। ,,, আস্তে আস্তে SSC পরীক্ষা চলে আসল। আর মাত্র ২ মাস বাকি।সবাই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত। অনিক,রুমা,রবিন সবাই ব্যস্ত। তো একদিন সন্ধ্যায় অনিক আর রুমা মোবাইলে কথা বলছে,,,, -তুই শুনছোছ,তিন দিন পর কোচিংয়ে টেষ্ট পরীক্ষা শুরু হবে (অনিক) -হুম, শুনছি (রুমা) -আচ্ছা শুন, আমাদের কথা বলাটা একটু কমাই দিতে হবে মনে হচ্ছে -আমার ও তাই মনে হচ্ছে -যাক, আমি তো মনে করছি তুই এই কথা শুনে রাগ করবি -না, রাগ কেন করব, ok bye. -- টুট টুট-- অনিক ভাবলো সব ঠিক আছে তো কোচিংয়ের টেষ্ট পরীক্ষা শুরু হলো।কিন্তু রুমা প্রথম পরীক্ষা দিলো না, কারণ সে অসুস্থ ছিলো। এভাবে রুমা একটা পরীক্ষাও দিলো না। কিন্তু অনিক পরীক্ষার কারণে খুব ব্যস্ত।কিন্তু সে মাঝে মাঝে ফোন করে রুমার খোজখবর নিত। কোচিংয়ের পরীক্ষা শেষ, অনিক একটু ফ্রী হলেও মেইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে,কারণ আর মাত্র ১০ দিন বাকি। তা ও অনিক রুমাকে কল দিল কিন্তু কেউ রিসিভ করছে না,মেসেজের কোনো রিপ্লাই ও আসছে না।তাই অনিক রবিনকে কল দিল,,, -হ্যালো, তুই কই রে? (অনিক) -বাসায় (রবিন) -আচ্ছা শুন,রুমা আমার কল ধরছে না, মেসেজের ও রিপ্লাই দিচ্ছ না,তুই একটু খবর নিয়ে দেখ তো,কি হইছে? -কেন, তোর সাথে কি রাগারাগি হইছে নাকি? -না! -আচ্ছা, আমি দেখছি - ok তো রবিন রুমাকে কল দিলো,দুইবার কেউ রিসিভ করলো না,তৃতীয়বার রুমা ফোনটা ধরলো,,,,, -হ্যালো,কি খবর? (রবিন) -ভালো,তোর?(রুমা) -ভালো,আচ্ছা তোর সাথে অনিকের কিছু হইছে? -না তো -তুই বলে ওর কল রিসিভ করস না, মেসেজেরও রিপ্লাই দেস না - আসলে সামনে পরীক্ষা, তাই ওকে ডিস্টার্ব করতে চাচ্ছি না। -তুই এরকম করলে ও আরো বেশী ডিস্টার্ব অনুভব করবে। -ওও, আসলে একটা সমস্যা হইছে -কি হইছে! -আমার মনে হয় অনিকের সাথে আর রিলেশন রাখতে পারবো না -কেন? -আসলে আমার ফ্যামিলীতে ওকে কোনোদিন মেনে নিবে না।আর আমার বাবা ভাই যদি শুনে তাহলে আমাকে মারি ফেলবে। -তো রিলেশন শুরু করার সময় তোর এই কথা গুলা মনে ছিলো না, এখন অনিক কি ভাববে বল? -আমি কিছু বুঝতেছি না, কি করব? -আচ্ছা, একটা কাজ কর,তুই এখন অনিককে কল দে,ওর সাথে normally কথা বল,আর এই ব্যাপারে ওরে কিছু বলিছ না,ও ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারবে না। -ok..আর আমারে ভুল বুঝিছ না -আচ্ছা,এখন যেটা বলছি সেটা কর,,bye তারপর রুমা অনিককে কল দিলো,, -হ্যালো,কিরে তোরে কতগুলা কল দিলাম, রিসিভ করস নাই কেন?কি হইছে? (অনিক) -না কিছু না,খেয়াল করি নাই,তুই কেমন আছছ? (রুমা) -ভালো, তোর প্রস্তুতি কেমন? -এইতো মোটামুটি, তোর? -ভালো -আচ্ছা পরীক্ষার আগে আমারে আর কল দিছ না -কেন? -না কিছু না,কয়েকদিন পর পরীক্ষা, এখন ভালো করে পড়,পরীক্ষার পর ভালো করে কথা বলবো -ভালো থাকিস,bye -bye -আচ্ছা শুন -কি? -সব ঠিক আছে তো? -হ্যা, সব ঠিক আছে অনিক ফোনটা কেটে দিল, সে হয়তো ভাবেনি তার ভালোবাসার শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে রবিনও চিন্তায় পড়ে গেলো,কিভাবে তার বন্ধুকে বুঝানো যায়। কেটে গেলো আরো দশদিন,এর মধ্যে রুমার সাথে অনিকের কোন কথা হয়নি, কারণ রুমা নিষেধ করেছিলো। ৩ দিন পর পরীক্ষা। সবাই ব্যস্ত। রবিন কিছু Grammar এর কিছু শীট নেওয়ার জন্য অনিকের বাসায় গেলো।শীট নিয়ে আসার সময় রাস্তায় একটা দৃশ্য দেখে অনিক অবাক হয়ে গেল।রবিনের বার্থডের দিন রুমা যেই ড্রেসটা পরেছিলো ঠিক একই ড্রেস পরা একটি মেয়ে আর একটি ছেলে রিক্সায় করে যাচ্ছে। রবিন ভাবলো এটা রুমা না। তাও সে রুমাকে একটা কল দিলো,,, -হ্যালো (রুমা) -কিরে, কেমন আছছ?(রবিন) -ভালো, তুই? -ভালো, কি করস? -এইতো পড়তেছি -ও আচ্ছা, পড় রবিন বুঝল যে,রুমা তাকে মিথ্যা কথা বলেছে, কারণ যখন রুমা কথা বলছিলো তখন সেখানে গাড়ির হর্ণ আর রিক্সার ক্রিং বেল বাজছিলো।তার মানে সেটা রুমা ছিলো,কিন্তু সে তাকে মিথ্যা কেন বললো।তাই রবিন রুমাকে ফলো করল। রবিন প্রথমে ভাবল হয়তো রুমা অনিকের সাথে ঘুরতে বের হয়েছে।কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব।কিছুক্ষন আগেই তো রবিন অনিকের সাথে দেখা করে আসল। অবশেষে রবিন দেখল যে রুমা অন্য একটা ছেলের হাত ধরে পার্কে যাচ্ছে। রবিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। সে এখন বুঝল যে রুমা কেন অনিকের সাথে সম্পর্ক শেষ করতে চাইছে। সে রুমাকে ফোন দিলো,,, -হ্যালো, কিরে আবার কল দিলি যে? (রুমা) -না আসলে আমার একটা শীট দরকার ছিলো,তাই তোর বাসার নিচে দাড়াই আছি,একটু নীচে আসি দিয়ে যা -আমি তো বাসায় নাই, একটু ফ্রেন্ডের বাসায় আসছি, বিকালে আসিস -আমি তোর ফ্রেন্ডের বাসার নীচেই দাড়াই আছি -মানে? -মানে হচ্ছে পার্কের গেইটের দিকে তাকা। রুমা পার্কের গেইটের দিকে তাকিয়ে আর কিছু বলতে পারছে না।শুধু অবাক হয়ে আছে -তো তাহলে কি তোর ফ্যামিলি মরে গেছে নাকি তোর বাপ মরে গেছে,এখন যে ঐ ছেলের সাথে ঘুরতেছছ, এখন তোর ফ্যামিলির কথা ভুলে গেছোছ নাকি, জানোস আমি কেন তোর সামনে গিয়া কথাগুলা বলছি না কারন আমি চাইনা যে তোর এই নতুন বয়ফ্রেন্ড যাতে কথাগুলা আমার মুখ থেকে না শুনে।আমি চাই তুই ঐ ছেলেটারে মন থেকে ভালোবাস, আর তারপর যাতে ছেলেটা তোকে ছেড়ে দেয়,তখন বুঝবি অনিকের কেমন লাগছে। আর হ্যা আরেকটা কথা, যদি পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে তুই অনিককে উল্টাপাল্টা কিছু বলছ তাহলে মনে রাখ,আজকের এই দৃশ্য আমি মোবাইলের ক্যামেরায় তুলে রাখছি,দরকার হলে তোর মাকে আমি এই দেখামু।bye আর ১ দিন পরীক্ষা।অনিকের খুব ইচ্ছা হচ্ছে রুমার সাথে কথা বলতে।তাই ফোন দিলো।কিন্তু মোবাইল বন্ধ,কারণ অনিকের নাম্বার রুমা blacklist করে রাখছে। তারপর অনিক রবিনকে কল দিল,,, -হ্যালো দোস্ত (অনিক) -হুম ক (রবিন) -আমি রুমাকে কল দিছি কিন্তু ওর মোবাইল বন্ধ, তুই দেখতো কি হইছে? -আচ্ছা ফোনটা কেটে রবিন চিন্তায় পড়ে গেলো, কি জবাব দিবে সে অনিককে,আর মাত্র একদিন বাকি পরিক্ষার, এখন যদি সে অনিককে সব বলে তাহলে অনিক ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারবে না। এসব চিন্তা করতে করতে অনিকের ফোন চলে আসল,,, -কিরে কোন খবর পাইছোছ?(অনিক) -আসলে রুমার মোবাইলটা ওর বাবা নিয়ে নিছে,ওর সিম টা ও বন্ধ,আমি ওর আম্মুর নাম্বারে কল দিয়ে ওর সাথে কথা বলছি,ও ভালো আছে,তোরে ভালোমতো পরীক্ষা দিতে বলছে,আর তোকে চিন্তা করতে মানা করছে,পরীক্ষার পর তোর সাথে কথা বলবে। -ওকে, tnx..আর তুই ও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আছিছ,bye - আচ্ছা। bye ফোনে কথাগুলা বলতে বলতে রবিনের চোখের কোণায় পানি জমে গেলো। অবশেষে বহু প্রতিক্ষিত পরীক্ষার প্রথম দিন,, হল থেকে বেরিয়ে,, -কিরে, পরীক্ষা কেমন হলো? (অনিক) -ভালো, তোর? (রবিন) -ভালো -তোর সাথে অনেক কথা আছে -বল -এখন না, পরীক্ষা শেষ হলে বলব -আচ্ছা আস্তে আস্তে প্রায় সব পরীক্ষা শেষ।আগামীকাল শেষ পরীক্ষা। অনিক খুব খুশি।কালকের পর থেকে সে রুমার সাথে কথা বলতে পারবে। পরীক্ষা শেষ হলো। হল থেকে বেরিয়ে আজ সবাই খুশি।কিন্তু রবিন একটু অন্যমনস্ক হয়ে পরীক্ষার হল থেকে বের হলো।তারপর,,,, -কিরে পরীক্ষা ভালো হয় নাই? (অনিক) -না, ভালো হইছে, (রবিন) -তাহলে মন খারাপ কেনো? -না, কিছু না এমনেই, -সব ঠিক আছে? - আচ্ছা তোর সাথে কথা আছে -হুমম বল তারপর রবিন অনিককে সব খুলে বলল, সব কথা শুনে অনিক একটু হাসার চেষ্টা করছে, -কিরে। তুই হাসোস কেন? (রবিন) -কি বলতাম বুঝতেছি না,আমি এতদিন ধরে আজকের এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম,কিন্তু তোর মুখে এসব কথা শুনে এখন মনে আজকের দিনটা না আসলেই ভালো হতো। কথা গুলা বলতে বলতে অনিকের চোখের কোণায় পানি জমে গেলো। তারপর দুইমাস অনিক কারো সাথে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। এই দুই মাসে অনিক শুধু রুমার সাথে করা আগের sms গুলো পড়তো, রুমার সাথে কাটানো সময় গুলোর কথা মনে করে কাদতো,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now