বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
_____________________________
রিয়া -কি হলো চলো
এবার?
আর্য- আর একটু থাকো না
প্লিজ?
রিয়া-দেখ তোমার এই
একটুর বাহানাই আমার
একটা টিউশানি মিস
হয়ে গেল অন্ধকার
নেমে আসছে চলো এবার।
আর্য ,রিয়া কে এবার
জড়িয়ে ধরে বলল-আজ
তোমাকে ছাড়তে ইচ্ছে
করছে না গো।
মনে হচ্ছে.......
-ছাড়ো নেকামি করো না
দেরি হয়ে যাচ্ছে
আমার।
রিয়া এর পর এক প্রকার
জোর করেই উঠে যায়।
আর্য আর রিয়ার
রিলেশন খুব বেশি
দিনের নয়
তুবুও এরা দুজন দুজন কে
এতটা ভালোবেসে
ফেলেছে যে রমিও
জুলিয়েট কেউ হার
মানাবে।
রিয়া এখন ক্লাস টেনে
পড়ে আর আর্য লেখাপড়া
সবকিছু বির্সজন দিয়ে
এখন বো বো ঘুরে
বেড়ায়।
ওদের পরিচয় টা কিন্তু
মোটেও রামান্টিক
ছিলো না।
সেদিন রিয়া টিউশনি
যাচ্ছিল আর আর্য
রাস্তার একপাশে
দাড়িয়ে মনের সুখে
সিগারেটে যেই প্রথম
টান দিয়েছে
এমন সময় একটা
ট্রাককে সাইড দিতে
গিয়ে
সোজা একেবারে আর্যর
গায়ে গিয়ে পড়ে রিয়া।
আর্য উঠে রিয়া কে
ঠাটিয়ে মারে এক চড়।
মেয়েটা কনো কথা না
বলে সাইকেল নিয়ে
বাড়ি চলে যায় ।
সেদিন সারারাত খুব
কাদে রিয়া দুঃখে আর
অপমানে।
আজ পরযন্ত কেওউ রিয়া
কে বকে নি মারা তো
দুরের কথা।
আর আজ একটা ফালতু
ছেলের হাতে মার খেল।
রিয়া ঠিক করে কাল
সকালেই এর বদলা ও
নেবেই।
এদিকে আর্যও খুব
আপসেট,
শুধু শুধু মেয়েটার গায়ে
হাত তুলল, কাল ওকে সরি
বলতেই হবে ভুল তো
সবার ই হয়।
রিয়া খুব সকালে
বেরিয়ে পড়ে ।
ও জানে আর্য এখন ছুটতে
বেরহয়।
আর মেঘ না চাইতেই
যেন জল। একেবারে
আর্যর সামনে এসে
দাড়ায় রিয়া।
আর্য রিয়া কে দেখা
মাত্রই বলল -সরি।
কাল আপনাকে.....
-থাক আর সরি বলতে
হবে না। জানেন কেও
আমাকে কনো দিন
বকেনি আর আপনি......???
-সরি সরি
-কি সরি সরি করছেন।
আমি কি আপনাকে ইচ্ছে
করে ধাক্কা মেরেছি
-না মানে কাল একটু অফ
মাইন্ডে ছিলাম তো
তাই__!!
-আপনার আবার কিসের
অফ মাইন্ড।
সারাদিন তো রাস্তাই
ঘুরে বেড়ান মেয়েদের
দিকে ডেব ডেব করে
তাকান_ হ্যা...
-দেখুন আপনি...
-আবার আপনি কি। কেও
ভুলবশত কনো দোষ
করলেও আপনি হাত
তুলবেন?
-আচ্ছা আমার ভুল হয়ে
গেছে।
-ভুল !!
কাল মেরে আজ আবার
সাধু সাজা হচ্ছে না?
আমার বাবা মা আজ
পরজন্ত গায়ে হাত
তুলেনি আর আপনি.....
কাল সারা রাত আমি
ঘুমোতে পারিনি
জানেন।
-আচ্ছা আপনি বিশ্বাস
করুন কাল অফ মাইন্ডে
ছিলাম
-অফ মাইন্ড না !!
এখন তো বলবেনই।
রিয়া কাঁদতে থাকে __
আর্য বেগতিক দেখে
বলে -আচ্ছা বাবা আমার
ভুল হয়ে গেছে।
দেখুন কাদবেন না
প্লিজ প্লিজ আমি তো
ক্ষমা চাইছি।
অনেক পর রিয়া কান্না
থামিয়ে বলল -ঠিক আছে
-তাহলে আজ থেকে আমরা
বন্ধু।
-ওকে ডান।
এরপর কখন যে এই
বন্ধুত্ব্ব ভালোবাসাই
পৌছে গেছে ওরা
দুজনেই জানেনা।
এখন রিয়া রিতিমতো
স্কুল টিউশনি ফাকি
দিয়ে
ক্লাস অফ করে সকলের
আড়ালে বেস প্রেম করে
চলেছে।
রিয়ার বাড়ি থেকে
আর্য র বারির দূরত্ব
বেশি না।
আজ কনো মতেই রিয়ার
দুচখের পাতা এক করতে
পারছে না
কারন সারাদিনে
একবারও আজ আর্যর
সাথে দেখা হয়নি।
ওকে একবার না দেখলে
রিয়ার রাতে ঘুম আসবে
কি করে ?
তাই চুপি সারে কল
দিলো আর্যকে- হ্যালো
কথাই তুমি আর্য
আর্য- এতক্ষনে আমায়
মনে পরলো।
রিয়া-তুমি কথাই?
আর্য-বাড়িতে কেনো
বলোতো?
রিয়া-তুমি একবার
আসতে পারবে
আর্য-কোথায় ?
রিয়া-আমাদের বাড়ি
তে
আর্য-এত রাত্রে পাগল
না কি?
রিয়া-কথা আছে আসবে
তো ??
আর্য-এত রাতে আবার কি
কথা??
এখন কটা বাজে জানো
তো ?
রিয়া-জানি ১১ :৩০টা
তুমি আর একটু পর এসো
বাবা ঘুমিয়ে গেলে পর
তোমাকে ফোন করব চলে
আসবে
আর যদি ঘুমিয়ে যাও
ফোন না ধর
তাহলে জানো তো কি
হবে?
আর্য-মানে ?
রিয়া-মানে টা না হয়
এলেই জানতে পারবে।
তখন রিয়া ফোন কেটে
দিয়ে সাজতে বসেছে।
আর্য নিজের মনেই
বলতে থাকে
এই পাগলি মেয়েটার
জন্য রাত্রিরেও শান্তি
নেয়।
অত:পর আধঘণ্টা পরে
রিয়ার ফোন এল।
আর রোমিও ছুটল
জুলিয়েট এর ডাকে।
আর্য বাড়ির সামনে
আসতেই
রিয়া এসে দাড়াল -চলো
আর্য-কোথায়?
রিয়া-চুপ। যেটা বলছি
করো। তারপর আর্যর হাত
ধরে সোজা নিজের রুমে
নিয়ে যায়
রিয়া-বসো এখানে।
আর্য-বলো কি বলবে।
রিয়া-আমি যতক্ষন পড়ব
ততক্ষন তুমি এখানে
বসে থাকবে আমাকে
সারাদিন দেখা না
দেওয়ার এটাই শাস্তি
বুজলে।
আর্য-ও এজন্যই এতো
রাতে ডাকা ?
আমি চললাম আমার ঘুম
পাচ্ছে।
রিয়া-এখানেই ঘুমাও
কে বারন করেছে
আর্য-এখানে ?
রিয়া-কেনো। জাইগাটা
ভালো নয়
কি ?
আর্য-কিন্তু
রিয়া-এটা তোমার বউ
এর ঘর এখানে ঘুমোবে
না তো কোথাই ঘুমাবে
শুনি ?
আর্য-রিয়া তোমার না
একমাস পর ফাইনাল
তুমি পড়ো আমি চললাম।
রিয়া-তোমাকে না
দেখলে আমি পড়তেই
পারব না
আর্য-এত রাতে একটা
মেয়ের ঘরে !!
রিয়া এটা কিন্তু
বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে
রিয়া-তুমি এক পা
সামনে বারিয়ে দেখ
পা ভেঙে দেব
শেষ পরজন্ত আর্যকে
রিয়ার কাছে থাকতে ই
হল।
এরকম ভাবে প্রতিদিন
আর্যকে এখন রিয়ার
পাশে বসে থাকতে হয়
না হলে পাগলিটার
নাকি পড়া হয় না।
তিন চারদিন পর হঠাৎ
রিয়া কেমন জেনো হয়ে
গেলো
পাশে বসা আর্যকে এক
ঝটকাই কাছেটেনে
নিয়ে বলল-আমি
তোমাকে ছাড়া
বাঁচবোনা আর্য প্লিজ
আমাকে কোনো দিন
ছেড়ে যাবে না তো ?
আর্য-কি হয়েছে আজ
তোমার ?
রিয়া-তোমাকে
হারানোর ভয়
আর্য-যতোদিন না মরন
হয় ততোদিন এই আর্যর
থেকে তোমাকে কেও
আলাদা করতে পারবে
না
রিয়া আর শক্ত করে
জড়িয়ে ধরে তারপর
ধিরে ধিরে ঠোটে ঠোট
রাখে।
রিয়া আর নিজেকে
স্থির রাখতে পারে না
জিবনের প্রথম চুম্বনে
অস্থির দুজন এবার
মেতেউঠে পাগলামি
তে।
আর্য চুম্বনে ভরিয়ে
দেয় রিয়ার পুরো শরির
ধিরে ধিরে দুজন
দুজনার কাছে সমরপিত
হয়_
রিয়ার শরির তখন
জলতরঙ্গ এর মতো কেপে
কেপে উঠে।
সবশেষে রিয়া আলতো
করে আর্যর বুকে মাথা
রেখে বলল-
জানো আমি না আর এখনে
থাকতে চাই না
চলো আমাকে তোমার
বাড়ি
নিয়ে চলো
আর্য-যাবো আগে কাজ টা
ঠিক হয়ে যাক তারপর
রিয়া-আমার আর ভালো
লাগছে নাগো
তোমাকে ছাড়া আর
কিচ্ছু ভালো লাগেনা।
আর্য-খুব ভালোবাসো
আমাকে তাই না
রিয়া-হ্যা খুব।
আর্য আরও শক্ত করে
জড়িয়ে ধরে রিয়া কে।
প্রায় একমাস পর ওরা
বুজতে পারে এবার
বিয়ে টা করতে হবে
কারন তখন রিয়ার
পেটে ছোট্টো একজন
এসে গেছে।
ওরা দুজনে প্ল্যান করে
আজই রাতের অন্ধকারে
পালাবে
সেই মতো বেরিয়ে আসে
দুজনাই। রাত তখন ১টা
ওরা দুজন রাস্তাই এসে
দাড়ায়।
ইচ্ছে দূরে কথাও
পালিয়ে যাওয়ার।
কিন্তু এমন সময় হাজির
রিয়ার বাবা সহ আর
চার পাঁচজন ওরা লাথি
মেরে আর্যকে দূরে
ছিটকে ফেলল।
রিয়া-বাবা ওকে
মেরোনা
বাবা আমি ওকে
ভালোবাসি
বাবা প্লিজ ওকে মেরো
না
বাবা-মারব না!
ভালোবাসা !!
এই ভালোবাসার কি
হাল হয় দেখ আজ !!
রিয়া-বাবা প্লিজ
প্লিজ বাবা মেরোনা
ওকে মেরোনা প্লিজ
বাবা।
কিন্তু কেও সেদিন্
রিয়ার কথা শুনেনি।
রিয়ার বাবা সহ
পাঁচজন মিলে আর্যকে
আধমরা করে অবশেষে
ওর পেটে ছোরা ডুকিয়ে
খুন করে ফেলে।
রিয়া দৌড়ে যায় আর্যর
কাছে
রক্তাক্ত দেহটা কোলে
তুলে নিয়ে কাঁদতে
থাকে খুব
রিয়া -এই আর্য উঠ না !!
উঠ না !!
আমি রিয়া উঠ নাগো
একবার।
দেখ আমি..... আমি রিয়া
আমি ডাকছি তোমাকে
উঠনা।
কিন্তু ততক্ষনে আর্য আর
এজগতে নেই।
রিয়াকে আনার জন্য
বাবা এগিয়ে যায়
কিন্তু রিয়াও ততক্ষনে
আর্যর পেট থেকে
ছোরাটা বের করে
ডুকিয়ে নেয় নিজের
পেটে।
রিয়া_তুমি যখন নেই
আমি কাকে নিয়ে
বাঁচবো আর্য?
আমিও আসছি তোমার
কাছে
দুটি প্রাণ নিস্তেজ
হয়ে পড়ে রইলো
রাস্তায় ।
সেদিন রাতের অন্ধকার
টা যেন আহাকার করে
উঠে ছিল দুটি নিস্তেজ
প্রাণকে স্বাক্ষি রেখে
এভাবেই শেষ হয়ে যাই
দুটি প্রান।-
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now