বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্টেশনের একটা চায়ের দোকানে বসে বন্ধুরা আড্ডা দিচ্ছিলাম। তবে শুধু শুধু আড্ডা নয় বরং একটা প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তখন আমাদের এক বন্ধু রণিত আমায় বলে উঠলো...
-- শান তোর মনে আছে আমরা এই রেললাইন ধরে কতো পথ হেটেছি।
-- হুমম সেই দিন গুলো কি সহজে ভুলে যাওয়া যায়?
-- তাছাড়া শান তুই একবার কিন্তু রেল লাইন ধরে হাটতেঁ গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাস আর পা কেটেঁ গিয়ে ছিল।
-- হুমম আর বাসায় গিয়ে বলে ছিলাম রাস্তায় পড়ে গিয়ে ছিলাম।
-- আচ্ছা শান চল তাহলে আরেক বার হেটেঁ দেখা।
-- না রে।
-- কেন পড়ে যাওয়ার ভয়ে? ( হেসে দিলো)
-- হার শব্দটা আমার পছন্দ না, যদিও আমি জিতি কম।
-- ওকে তুই যদি হেটেঁ দেখাতে পারিস তাহলে আজ চায়ের দোকানের সব বিল আমি দিবো আর যদি হেরে যাস তাহলে সব বিল তুই দিবি।
-- ওকে চল দেখি।
নিজের উপর ১% ভরসাও নেই। তবুও একটা বার নিজের ছোট বেলাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতে ইচ্ছা করছে। চার দিকটা ভাল করে দেখে নিলাম ট্রেন আসার সময় হলো কি না? মনে হয়, আপাতত কোন ট্রেন নেই। যেহেতু স্টেশনে অনেক মানুষ তাই বন্ধুদের নিয়ে একটু হেটেঁ সামনে গেলাম। কারন যদি এতো গুলো মানুষের সামনে পড়ে যাই তাহলে তো আমার সম্মানের ফেলুদা হয়ে যাবে।
প্রায় ৫ মিনিট হেটেঁ অনেকটাই সামনে আসলাম। সবাই বলতে শুরু করলো এখান থেকে হাটাঁ শুরু করার জন্য আর আমিও তাই করলাম। অবশ্য প্রথমে দাড়াতেই কেমন যেন লাগছিল তবু নিজেকে কন্ট্রোল করে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। একটু সামনে যেতেই ঘটলো সমস্যা। আমি দেখতে লাগলাম আমার পাশের লাইন ধরে এক মেয়ে হেটেঁ আসছে। আর ওই মেয়ে তো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছে না আর হাত দিয়ে পাখির মত ডানা ঝাপটাচ্ছে। আমি একটু ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম আর যা কল্পনা করেছি তাই হলো। ওই মেয়ের হাতের বাড়ি এড়াতে গিয়ে আমি পড়ে গেলাম আর মেয়েটা আমার পরে যাওয়া দেখতে গিয়ে নিজে পরে গেল। আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম আর মেয়েটাও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো তবে খুব রাগ নিয়ে। আমি উঠে দাড়াতেই মেয়েটাও আমার সামনে আসলো। আমি কোন কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাবো তখন মেয়েটা বলল...
-- আজব পাবলিক তো, দোষ করলেন আর সরি না বলে চলে যাচ্ছেন।
-- আমার হাত গুলো তো আর পাখির মত ডানা ঝাপটায় নি যে আমি সরি বলবো।
-- আপনি কি বুঝাতে চাইলেন?
-- একটু ভেবে দেখেন বুঝতে পারবেন।
-- স্টুপিড।
আমি ওই মেয়ের কথার কোন রিয়েকশন না দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে আসি। আর বন্ধুদের কাছে যেতেই রণিত বলল...
-- কিরে শান মেয়েটা কে?আর তোকেই বা কি বলল?
-- নিজেই যেনে আয়।
আমি আর ওদের সাথে কথা না বলে চায়ের দোকানের দিকে এগিয়ে গেলাম। কারন চায়ের দোকানের মালিককে বলে আসছিলাম বাজি শেষ করে টাকা দিবো। আর ওনিও কিছু বলে নি কারন ওনি আমাদের খুব ভাল করে চিনে।এরপর চায়ের বিল মিটিয়ে আমি বাসায় চলে আসি।
.
রাতে রুমে শুয়ে শুয়ে আমাদের প্রজেক্ট টা নিয়ে ভাবছিলাম কারন আগামী ১ সপ্তাহ পরেই জমা দিতে হবে। কোম্পানি থেকে ৫ জনের গ্রুপ করে একটা প্রজেক্ট দিয়েছে। আপাতত খুব টেনশন হচ্ছে, এখনো কি দিয়ে শুরু করবো বুঝতে পারছি না? আসলে আমাদের প্রজেক্ট টা হলো একটা বাড়ির গার্ডেনের ডিজাইন তৈরি। অবশ্য বর্তমানে এইসব ডিজাইন হলো বিলাসিতা। যদিও এমন শখ আমারও আছে। কিন্তু সাধারন চিত্র অংকন আর ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তিক ডিজাইন সম্পূর্ণ আলাদা কারন আমাদের ভাবতে হয় বাগানে কেমন ভাবে পানির ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন বা বাসার অন্য পাইপ বাগানের ঠিক কত ফুট নিচে দিয়ে নিতে হবে?
এইসব ভাবতে ভাবতে কখন যে রাত ২ টা বেজেঁ গেছে খেয়ালই ছিল না। তাছাড়া পানি খেতেও খুব ইচ্ছা করছে আর রুমেও পানি নেই তাই বসার রুমে গেলাম। পানি খেয়ে ফেরার সময় দেখি অন্তির রুমের দরজা খোলা। আর অন্তি হলো আমার ছোট বোন। তাই ওর রুমে গেলাম আর ওর রুমে যেতেই দেখি ও বসে বসে কিসের যেন ছবি আকঁছে?আমাকে দেখেই বলল...
-- ভাইয়া এখনো ঘুমাস নি?
-- তুইও তো জেগে আছিস।
-- আসলে ভাই আমাদের ভার্সিটিতে ছবি আকাঁর একটা প্রতিযোগিতা আছে আর তাই একটু ছবিটা আকঁছি।
-- বাহ্ বেশ হয়েছে তো।
-- হুহহ তোর থেকে ভাল না। তুই একটা ছবি একেঁ দে না ভাই।
-- আমি ছবি আকঁলে তোকে আর ভার্সিটি যেতে হবে না।
-- হুহ তুই ছবি একেঁ দিবি না এটাই বল।
-- হুম এখন ঘুমিয়ে পর, কাল সকালে বাকি ছবিটা আকিঁস।
-- আচ্ছা যা আমি ঘুমিয়ে পরছি।
-- হুমম।
.
সকালে প্রায় ৯টার দিকে অন্তির ডাকে আমার ঘুম ভাঙ্গলো। আমার দিকে তাকিয়ে অন্তি হাসছেঁ।
-- কিরে ভার্সিটি যাস নি?
-- হুমম যাবো আর তার আগে তোর সাথে দেখা করতে আসলাম।
-- কেন?
-- আমার লক্ষী ভাই উম্মা।
-- হইছে যা।
তারপর অন্তি চলে গেল। ওর এতো খুশি হওয়ার কারন হলো আমি রাতে ওর রুম থেকে ওর আকাঁ ছবিটা নিয়ে আসি আর সারা রাত জেগে একটু অন্য রকম করে একেঁ আগের জায়গায় রেখে আসি। পাগলি বোন আমার, অল্পতেই অনেক খুশি।
এভাবে প্রায় কয়েকটা দিন চলে যায় আর ওদের ছবি আকাঁর রেজাল্ট আজ দেয়। আর অন্তি আমায় ফোন দিয়ে বলেছে ওদের ভার্সিটিতে যেতাম। যদিও আমি নিজের প্রজেক্টের কাজে অনেক ব্যস্ত ছিলাম তবুও রণিতকে সাথে নিয়ে অন্তির ভার্সিটিতে গেলাম। আমি ভার্সিটি এসে ফোন দিতে অন্তি এসে আমায় গেট থেকে নিয়ে যায়।
-- জানিস ভাইয়া তোর আকাঁ ছবিটা না ৫ নাম্বার হয়েছে। সেরা ৫ জনের একটা।
-- ও তাই।
-- এখানে সেরা ৩০টা ছবি লাগানো হয়েছে আর নাম্বার সহ।
-- হুম দেখতে পারছি।
আমি ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম কিন্তু একটা ছবি দেখে আমার প্রজেক্টের জন্য ভাল লাগলো। আসলে একটা ছবির নাম লেখা "নিরুর পৃথিবী " আর ওই ছবিটা এখানে ৭ নাম্বার হয়েছে। আর ছবিটা পুরো একটা বাড়ির বাগানের ছবি।
-- আচ্ছা অন্তি আমি কি এখান থেকে মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে নিয়ে যেতে পারবো?
-- হুমম।
-- তাহলে ৭ নাম্বার ছবিটা তুলে দে। ( ওর হাতে আমার মোবাইল টা দিয়ে)
-- ওকে।
অন্তি আমার মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে দিলো। তারপর আরো ঘুরে ঘুরে বাকি ছবি গুলো দেখছিলাম আর তখনই রণিত বলল...
-- শান আমি যা দেখছি তুই কী তা দেখছিস?
-- তোর চার চোখে যা দেখিস, আমার কি ২ চোখে তা দেখা সম্ভব?
-- আরে মজা না,ওই যে ওই মেয়েটা।
-- কোন মেয়েটা?
-- আরে ওইদিন রেললাইন যার সাথে দুই ধাক্কা খেলি। মনে নেই।
-- হুমম চেনা চেনা লাগে।
-- চেনা চেনা না বরং এটাই সেই মেয়ে।
-- বাব্বা আমার ঠিক মত কিছু মনে নেই আর তোর যেহেতু সব মনে আছে তার মানে তুই প্রেমে পরেছিস । অল দি বেস্ট দোস্ত, তুই মেয়ের পিছনে যা আর আমি অফিসের দিকে যাই। কারন কালই আমাদের প্রজেক্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন আর আমি আমার প্রজেক্ট পেয়ে গেছি। এবার শুধু অটু ক্যাড দিয়ে ডিজাইন করতে হবে।
-- ওই আমিও অফিস যাবো চল। আসলে ওই মেয়েটা দেখলাম তাই তোকে বললাম আর তুই কি বলিস?
-- হুমম এইসব মেয়ে দেখা দেখি বাদ দিয়ে কাজে মন দে। কাজ করলে টাকা আসবে কিন্তু প্রেমে পরলে টাকা যাবে।
-- হুমম।
অন্তির থেকে বিদায় নিয়ে আমি আর রণিত অফিসের দিকে চলে গেলাম। আর দুইজনেই যার যার ডেস্কে চলে গেলাম। দুইজনেই নিজের মত করে ডিজাইন তৈরি করতে লাগলাম কিন্তু আমি ওই ছবিটা অনুযায়ী ডিজাইন বানাতে লাগলাম।
.
আজ অফিসের হেড লোকেরা আমার সামনে বসে আছে আর আমি এখন আমার প্রজেক্ট সাবমিট করবো। প্রথমে আমি আমার তৈরীকৃত ডিজাইন দেখালাম এবং আমার বক্তব্য রাখলাম। আর আমার আশারূপ ডিজাইন টা সবার ভাল লাগলো।এবং আমার প্রজেক্টই সিলেক্ট করে দিলো।
আমি মিটিং রুম থেকে বের হয়েই অন্তিকে ফোন দিলাম।
-- কিরে অন্তি তুই এখন কোথায়?
-- কেন ভাইয়া?
-- আরে বল না।
-- আমি এখন ভার্সিটিতে আছি আর একটা ক্লাস শেষ হলে বাসায় ফিরবো।
-- তুই ভার্সিটিতে থাক আর আমি ৩০ মিনিটের মাঝে তোর সাথে দেখা করছি।
-- কেন?
-- একজনের সাথে আমায় দেখা করিয়ে দিবি। আর আমি ধন্যবাদ জানাবো।
-- কাকে?
-- আসলেই বুঝবি।
-- ওকে।
আমি ঠিক ৩০ মিনিট পর ভার্সিটিতে এসে অন্তিকে ফোন দিলাম কিন্তু অন্তি আমার ফোন কেটে দিয়ে ম্যাসেজ করলো ও ক্লাসে আছে আর ৩০ মিনিট পর বের হবে। তাই আমিও অপেক্ষা করতে লাগলাম। আমি অপেক্ষা করার সাথে সাথে পুরো ভার্সিটি টা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। হঠাৎ ভার্সিটির লাইব্রেরীর ভবনে চলে আসলাম। তারপর ভাবলাম একটা বই নিয়ে একটু বসি। তাই ভেতরে গেলাম। লাইব্রেরীটা অনেক বড় আর অনেক রকমের বই। আমি একটা বই বের করতে যাবো তখন মনে হলো আমার বিপরীত দিকে কেউ বুঝি বইটা টানছে তাই আমি ছেড়ে দিলাম। পরে খেয়াল করি একটা মেয়ে বইটা নিয়েছে। বই গুলোর ফাকঁ দিয়ে তো চেহারা বুঝা যাচ্ছে না তাই ঘুরে গিয়ে দেখি সেই মেয়েটা। আজ এই মেয়ের সাথে আমার ৩য় দেখা হলো। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বলল...
-- বইটা কি আপনি টান ছিলেন?
-- হুমম।
-- আচ্ছা নিন।
-- না লাগবে না আপনিই পড়ুন। আসলে আমি এমনি বই গুলো দেখতে ছিলাম।
-- ও আচ্ছা।
তখনই আমার ফোনটা বেজেঁ উঠলো। মোবাইল বের করে দেখি অন্তি ফোন দিয়েছে। তার মানে অন্তির ক্লাস শেষ।
-- আচ্ছা আমি আসি। আসলে ভার্সিটিতে আমার বোনের কাছে আসছিলাম আর ভাগ্যচক্রে আপনার সাথে তৃতীয় বারের মত দেখা হয় গেল।
-- ওকে।
আমি লাইব্রেরী ভবন থেকে বের হয়ে অন্তিদের ভবনের দিকে গিয়ে দেখি ও আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আমাকে দেখতে পেয়েই বলল...
-- কি হলো? কি এমন জরুরী কাজ হে?
-- বোন এই ছবিটা কে একেঁছে বলতে পারবি?( আমার মোবাইল থেকে তোলা প্রতিযোগিতার ৭ নাম্বার ছবিটা)
-- হুমম এটা তো নিরু আপু একেঁছে। ওনি আমাদের বড় ব্যাচের স্টুডেন্ট।
-- ওনার সাথে আমায় একটু দেখা করাতে পারবি।
-- কেন ভাই? Something something নাকি?
-- তুইও না, আসলে ওনাকে ধন্যবাদ দিবো। ওনার এই ছবিটা দিয়ে আমি একটা ডিজাইন বানিয়েছি আর কোম্পানি সেটা এপ্রুভ করেছে।
-- ও আচ্ছা তাহলে চল লাইব্রেরী ভবনের দিকে।
-- ওই খানে কেন?
-- আসলে নিরু আপু বেশিভাগ সময় লাইব্রেরীতে সময় কাটায়। ওনি নাকি বই পড়তে বড্ড ভালবাসেন।
-- ওকে চল।
তারপর লাইব্রেরী ভবনের সামনে গেলাম আর অন্তিকে বললাম ওনাকে পারলে বাইরে নিয়ে আসতে। আর যাই হোক লাইব্রেরীতে তো আর কথা বলা যায় না। প্রায় ৫ মিনিট পর দেখি অন্তির সাথে একটা মেয়ে আসছে। আরে এটা তো সেই মেয়েটাই, যার সাথে একটু আগে আমার দেখা হলো। অন্তি আমার সামনে এসে বলল...
-- ভাই ইনি নিরু আপু। তোরা কথা বল আর আমি লাইব্রেরী থেকে কিছু বই নিয়ে আসি।
-- হুমম।
অন্তি চলে গেল আর আমার কেমন যেন হাসি আসছে। তখন ওই মেয়েটা বলল...
-- কি বলবেন বলুন?
-- আচ্ছা আপনি কি এই ছবিটা একেঁছেন? আর আপনার নামই কি নিরু?
-- হুমম আমার নাম নিরুপমা কিন্তু সবাই নিরু বলে ডাকে আর এই ছবিটাও আমি একেঁছি। কেন বলুন তো?
-- আমি শান। আর এটাকেই হয়ত বলে ভাগ্য চক্র। বার বার আপনার সাথে আমার দেখা হয়ে যাচ্ছে।
-- এটাই কি বলতে আসছেন?
-- না তো। আসলে আপনার ছবিটা দিয়ে আমি একটা বাড়ির গার্ডেনিং ডিজাইন করি যা সবার পছন্দ হয়েছে তাই ধন্যবাদ জানাতে আসলাম। আপনাকে না জানিয়ে ছবিটা আমার কাজে লাগানোর জন্য সরি আর ছবিটা আমার কাজে আসার জন্য ধন্যবাদ।
-- সত্যি। আমি কল্পনাও করি নি এমন কিছু হবে। আপনাকেও ধন্যবাদ আমার ছবিটা কারো কাজে বাস্তবায়ন করার জন্য।
-- হুমম আচ্ছা আপনার চয়েজটা খুব সুন্দর। আজকাল খুব কম মানুষই বাড়ি বানানোর সময় বাইরে বাগান করার চিন্তা করে।
-- আসলে এটা আমার স্বপ্নের বাড়ি। কখনো আমি এমন বাড়ি করতে পারবো কি না জানি না তবে সবটাই স্বপ্ন।
-- এমন স্বপ্ন বেশি বেশি দেখা ভালো। খুব ইউনিক চিন্তা আপনার।
-- ধন্যবাদ।
আর কথা বলা শেষ হতেই নিরুকে বায় বলে আমি অন্তিকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। অন্তি অবশ্য এইটুকু নিয়ে আমাকে অনেক জ্বালিয়েছে কিন্তু আমি তো শুধু ধন্যবাদের জন্যই ওই মেয়ের সাথে দেখা করেছি।
.
এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। নিরুপমা মানে নিরুর সাথে আমার মাঝে মাঝেই দেখা হয়। তবে হাই, হ্যালো, কেমন আছে এইটুকু প্রশ্নরেখার মাঝেই কথা গুলো সীমাবদ্ধ থাকে।
একদিন সকালে অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছি তখনই আমার ফোনটা বেজেঁ উঠলো। বাহ্ রিজু ফোন দিয়েছে। রিজু আমার ভার্সিটির বন্ধু ছিল। আজ হঠাৎ কি মনে করে আমায় স্মরণ করলো।
-- হ্যা রিজু বল।
-- শান তুই এখন কোথায়?
-- এই তো অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হবো। কেন কোন দরকার?
-- না তেমন কিছু না। আসলে আগামী শুক্রবারে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। অবশ্য অনেক আগেই ঠিক হয়েছে কিন্তু তোকে দেরি করে জানালাম। আসলে তোদের জেলাতেই নাকি মেয়ের বাড়ি।
-- আমাদের জেলার কোথায়?
-- মাধবদী পৌরসভাতে।
-- ও আচ্ছা আমাদের বাসা থেকে ৪০ মিনিটের রাস্তা।
-- হুমম শুনছি। দোস্ত আমায় একটা হেল্প করবি?
-- কি বল?
-- আসলে যার সাথে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তার নাম শ্রেয়া। আর ও চায় আমি আগামীকাল ওর সাথে দেখা করি কিন্তু আমি তো তোদের জেলার কিছুই চিনি না। তাই যদি আগামীকাল তুই একটু আমার সাথে থেকে মানে আমায় প্রটেক্ট করিস।
-- আচ্ছা সেটা করা যাবে। তুই আমার বাড়ি চিনিস তো। তুই সকালে আমার বাসায় চলে আসিস। তারপর আমি তোকে নিয়ে বের হবো নে।
-- ওকে তাহলে আমি সকাল ১০ টার আগে তোর বাসায় চলে আসবো।
-- এ্য হবু বউকে দেখার তর সইছে না। ১২টায় আসিস কারন কাল তো তোর জন্য অফিস থেকে ছুটি নিবো। সেই ফাকেঁ একটু ঘুমিয়ে নিবো।
-- আচ্ছা তবে তারাতারি।
-- ওকে বায়।
ফোনটা রেখে আমি নাস্তা করতে বসলাম। নাস্তা শেষ করে যখন বাসা থেকে বের হতে যাবো তখন মা বলল..
-- কিরে তখন কার সাথে কথা বলছিলি?
-- আমার ফ্রেন্ড রিজুর সাথে। ভার্সিটিতে এক সাথে পড়তাম আর একবার আমাদের বাসায়ও তো এসে ছিল।
-- ও কেন ফোন করে ছিল?
-- আগামী শুক্রবার ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে আর আগামীকাল নাকি ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে আসবে। মাধবদীতেই বিয়ে ঠিক হইছে।
-- তোর বন্ধুরা এক এক করে বিয়ে করে নিচ্ছে। তুই কবে করবি?
-- বাদ দাও তো এইসব কথা। আগে অন্তির বিয়েটা হোক তারপর ভেবে দেখবো।
-- তোর যা চিন্তা তবে তোর বাবা কিন্তু তোর জন্য মেয়ে দেখছে।
-- বাবাকে বলো এইসব বন্ধ করতে। আমি এতো তারাতারি বিয়ে করবো না।
-- আচ্ছা এখন অফিসে যা, অনেক লেট হয়ে গেল।
-- আচ্ছা বায়।
সারাদিন কাজের চাপে আমার দিনটা কেটেঁ গেল আর রিজুর কথা মনে করে আমি আগামীকালকের জন্য ছুটি নিয়ে নিলাম।
.
সকালে কারো ধাক্কার ফলে আমার ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুম ঘুম চোখ ঠিক করে দেখি রিজু চলে এসেছে। তারপর আমি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি নয়টা বাজে। এ কোন মুসিবত? ও নিজেই তো বলছিল ১০ টায় আসবো।
-- কিরে শান উঠবি? কত সকাল হয়েছে বল তো?
-- ওই তুইটা ১০টায় আসিস।
-- হুমম কিন্তু রাতে ঠিক মত ঘুম হয় নি আর সকালে ঠিক টাইমে তোদের জেলার বাসও পেয়ে গেলাম। তাই আর লেট করলাম না।
-- চাপা কম দে।
-- নারে সত্যি তোরে দেখার জন্য তারাতারি চলে এসেছি।
-- হইছে বউয়ের হাফ গোলাম। বিয়ের পর পুরোটা হয়ে যাবি।
-- আরে না।
-- আসলে রিজু তোরে দেখে একটা গান মনে পরতেছে?
-- কি গান রে?
-- মে জরোকা গোলাম, বানকে রাহুন গা।
-- হইছে এখন যা রেডি হো। যখন তুই বিয়ে করবি তখন বুঝবি বউ কি জিনিস?
-- হইছে থাক।
আমি বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম। আর ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি রিজু মোবাইলে প্রেম করতেছে। আমাকে দেখিয়ে দেখিয়ে বলল "তুমি বের হও, আমি ৩০ মিনিটের মাঝে আসছি। " আমি কিছু না বলে চুপ চাপ রেডি হতে লাগলাম। তখন রিজু বলল...
-- শান ড্রিম হলি ডে পার্কে যেতে কতটুকু সময় লাগবে রে?
-- বেশি না ৪৫ মিনিট।
-- কিন্তু আমি তো শ্রেয়াকে ৩০ মিনিটের কথা বললাম।
-- সমস্যা নেই। মেয়ে মানুষ তো সাজঁতে সাজঁতে ১ ঘন্টা লাগিয়ে দিবে।
-- তুই কথা কম বলে চল তো।
আমাকে ঠিক মত রেডি হতেও দিলো না আর সকালের নাস্তা করতেও দিলো না। তারপর বাসা থেকে বের হয়ে বাসস্টপ গেলাম আর সেখান থেকে বাসে করে ড্রিম হলি ডে পার্কে গেলাম। আমাদের যেতে প্রায় ৫০ মিনিট লেগে গেল। তারপর রিজু তার হবু বউ শ্রেয়াকে ফোন দিলো। ফোনে কথা বলা শেষ করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল ওর হবু নাকি এখন বাসা থেকে বের হয়েছে মাত্র। আমি ঠাস করে ওর মাথায় থাপ্পড় মেরে গেলাম নাস্তার দোকানে। খাওয়া দাওয়া করে রেস্ট নিলাম ১৫ মিনিট। এরপর রিজুর ফোনে কল আসে আর বলে শ্রেয়া নাকি পার্কের সামনে। তারপর আমরাও গেলাম। আমি প্রথমে একটা শকও খেলাম।দুইটা মেয়ে এসেছে আর সেটা হলো এখানে তো নিরুও এসেছে। এই নিরুই আবার শ্রেয়া না তো। নিরুও আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর রিজু আমায় শ্রেয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। মানে শ্রেয়ার সাথে যে নিরু এসেছে, তার মানে ওরা দুইজন বান্ধবী। কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো আমি নিরুকে শ্রেয়া ভেবে এতোটা উত্তেজিত হলাম কেন? আমি তো নিরুর প্রতি দুর্বল না। তারপর টিকিট কেটেঁ আমরা ভিতরে গেলাম। পরে রিজু আর শ্রেয়াকে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে আমি আর নিরু সরে আসলাম। নিরু আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। আমারও কেমন যেন লাগছে? কখনো ওরে নিয়ে কিছু ভাবি নি কিন্তু আজ একটু ভয়ে আমায় কেমন যেন করে দিলো। কথা শুরু আমিই করলাম...
-- দেখেন কি ভাগ্য চক্র? কেমন ভাবে আবার দেখা হয়ে গেল?
-- সেটাই।
-- আচ্ছা আপনার বান্ধবী শ্রেয়ার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। আপনার বিয়ের দাওয়াতটা কবে পাবো?
-- ঠিক এই প্রশ্নটা তো আমিও করতে পারি।
-- স্মার্ট মেয়ে।
-- স্মার্ট নই তবে কথায় যুক্তি পছন্দ করি।
-- হুমম যাই হোক, কেমন ছেলে পছন্দ করেন বলেন ? দেখি আমার ফ্রেন্ড সার্কেলে কেউ আছে নি?
-- হুমম সর্ব প্রথম ছেলেকে মিশুক হতে হবে। যেন আমার পরিবারের প্রতিটা সদস্যের মন ও জয় করতে পারে। তারপর গায়ের রং শ্যামলা।বড় বড় চুল আর দাড়ি থাকতেই হবে। নিজের মাকে আমার চেয়ে বেশি ভালবাসতে হবে আর হ্যা গিটার বাজাতে জানতে হবে।
-- বাহ্ আমি তো গিটার বাজাতেই পারি না।
-- মানে?
-- না মানে এমন ছেলে খুজেঁ পাওয়া মুশকিল কারন আমাদের বন্ধু সার্কেলে এমন কেউ নেই।সব গুনই আছে তবে কেউই বাজাতে পারে না।
--আচ্ছা যাই হোক আপনি কেমন মেয়ে পছন্দ করেন?
-- আপনার মতই।
-- মানে?
-- না মানে মেয়ের চুল বড় হতে হবে। ভাল রান্না পারতে হবে। আমার থেকেও আমার মাকে ভালবাসতে হবে বেশি। মাঝে মাঝে একটু দুষ্টামী করতে হবে। আর দেখতে খারাপ হলেও আমার সমস্যা নেই যদি ওর মনটা অনেক বেশি সুন্দর হয়।
-- বাব্বা এতো রোমান্টিক চিন্তা ।
-- রোমান্টিকের কিছুই তো বলি নি। আমার স্বপ্নের কন্যা যদি রাজি থাকে তাহলে তাকে ঘিরে তৈরি করবো আমার শহর। যেই শহরে ওকে সম্রাজ্ঞী বানিয়ে আমি সম্রাট হবো।
-- হইছে হইছে এতো বলো না। যে কোন মেয়ে পটে যেতে পারে।
-- আচ্ছা আমি চুপ করলাম।
এরপর নিরুর সাথে আরো অনেক সময়ই কাটালাম। আমি আর নিরু মনে হয় পাহারা দার হয়ে এসেছি আর ওই দিকে বাকি দুইজন চুটিয়ে প্রেম করছে। একটু আমাদের সাথে সময় দিলে কি হয়? তবে সত্যি বলতে নিরুর প্রতি আমার কেমন যেন ভাল লাগা তৈরি হচ্ছে।
এরপর রিজু আর শ্রেয়ার দেখা শুনা শেষ হলে আমি বাসায় চলে আসি আর রিজু ওর বাসায় রওনা দেয়।
.
এভাবে দিন গড়িয়ে চলতে লাগলো আর আমার মনে একটু একটু করে একটা খালি জায়গা জোরে নিরু জায়গা করে নিলো। শত ব্যস্ততার মাঝেও ওর কথা মনে পরতো। এটাকে কি বলে ভালবাসা? তাহলে হয়ত ভালবাসি নয়ত জানি না তবে বুঝতে পারছি না আমার এতো বেশি একটা চেহরা বার বার মনে পরছে কেন? চোখ বন্ধ করলে নিরু যেন বলে "এই যে মিস্টার আমায় নিয়ে ভাবছো বুঝি "। তখনই তাকিয়ে দেখি সামনে কেউ নেই বরং আমার ভ্রম।
আজ রিজুর বিয়ে তাই আমি রিজুর বাড়ি যাই নি কিন্তু কনের বাড়ির কাছাকাছি বরের বাস আসলে আমি বাসে উঠে পরি। কারন বিয়েটা তো আমাদের জেলাতেই। আমাদের ব্যাচের প্রায় ১৫ জনের মত এসেছে। সেই কারনে আবার ভার্সিটি জীবনের মত দুষ্টামী করতে লাগলাম।
কণের বাসায় এসেই গেট ধরলো সবাই। আমি রিজুর পাশেই ছিলাম আর এদিকে নিরু মিষ্টি নিয়ে আসলো খাওয়াতে। আর শর্ত রাখলো ৫০০০ টাকা দিয়ে ভিতরে যেতে হবে। এটা শুনেই রিজু আমার দিকে তাকালো আর আমি বললাম...
-- এতো টাকা কি করে দিবো?
-- ইশশ বিয়ে করতে এসেছে আর এই টুকু দিতে পারবে না। (নিরু)
-- রিজু ভাই টাকা টা দিয়ে দে না। আসলে সুন্দরী মেয়ে এভাবে কথা বললে দিলে ছুরি লেগে যায়।
-- হায় কি ডায়গল রে শান। এবার বুঝতে থাক ভালবাসার আগমন ঘটলে কেমন লাগে?
-- হইছে এবার টাকা দে।
তারপর টাকা দিয়ে খুব ভাল রকমে ভিতরে গেলাম। এদিকে সবাই যার যার মত আনন্দ করছে কিন্তু আমি তো খুজঁতেছি আমার পাখিরে। হঠাৎ আমার পিছন থেকে কেউ বলল...
-- কাউকে খুজঁচ্ছেন বুঝি?
-- হুমম নিরুকে দেখছেন। (না দেখেই বললাম)
-- তাই
আমি পিছনে ফিরেই দেখি নিরু আমার সামনে দাড়িয়ে আছে। আমি তাকাতেই ও আমায় ভেংচি কেটে দৌড়ে চলে গেল।
ইশশ যদিও এতো পরে আসলো আবার চলে গেল। একটু কাছে থাকলে কি বড্ড ক্ষতি হয়ে যায়?আমি আর না ঘুরে বিয়ের কাজ কর্ম দেখতে যাচ্ছিলাম আর সামনে এসে দাড়ালো নিরু। আর ওর হাতে শরবতের ট্রে।
-- নেন এক গ্লাস শরবত খান। কত জার্নি করে এসেছেন?(একটা গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে)
-- হুমম কিন্তু এই গ্লাসটা বদলে দেন।
-- এ মা আমায় বিশ্বাস হয় না বুঝি।
-- বিয়ে বাড়িতে কোন মেয়েকে বিশ্বাস করতে নেই আর কোন সুন্দরী মেয়েকে তো ভুলেও বিশ্বাস করতে নেই।
-- কেন কোন সুন্দরী মেয়ে বুঝি আপনায় ছ্যাকা দিছে?
-- আপনি থাকতে আর কে দিবে ছ্যাকা?
--হইছে থাক এবার শরবত খান।
-- হুম
না দেখেই একটা গ্লাস হাতে নিলাম আর মুখে দিতেই ছিঃ শুধু লবন আর লবন। এই দিকে নিরু দৌড়ে পালালো। হুমম আমিও দেখে নিবো সময় আসলে।
.
রাতে বিয়ে সব আয়োজন শেষ করে সবাই মিলে বসে গান গাইতে ছিলাম। তখন একেঁ একেঁ অনেকেই গান গাইলো আর নিরুও একটা গান গাইলো। ও যখন গান গাইছিল তখন আমার দিকেই তাকিয়ে গাইছিল আর আমিও বিয়েতে আসার পর থেকে ওর পিছনেই লেগে রয়েছি। এরপর আমাকে যখন বলল গান গাইতে তখন অইচ্ছা থাকা শর্তের নিরু দিকে তাকিয়ে গাইলাম "তুই তাকালে মেঘের পালে ডানা মেলে উড়ে গঙ্গ চিল।"
গানের পালা শেষ করতে করতে রাত গরিয়ে সূর্যের আলো উকিঁ দিয়েছে। এই দিকে সবাই বাসায় ফিরবে আর আমিও বাসায় চলে যাবো। রিজু আর শ্রেয়া গাড়িতে বসলো আর আমরা যে যার মত বাসে উঠলাম। আর আমি একটু পর নেমেই যাবো। আমি বাসের জানালার ধারেই বসে ছিলাম। আর নিরু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। মনে হচ্ছে ওর চোখ গুলো কিছু লুকিয়ে যাচ্ছে। নয়ত ওর অবাধ্য চুল গুলো কাজল দেওয়া চোখের ঢেউ আটকানোর বৃথা চেষ্টা করছে। নিরু আর না দাড়িয়ে দৌড়ে চলে গেল আর আমাদের বাসও ছেড়ে দিলো।কিছুক্ষন যাওয়ার পর আমি সবার থেকে বিদায় নিয়ে আমি আমার বাসার দিকে রওনা দিলাম।
.
এর মাঝে দুইটা দিন কেটে গেল। নিরুর কথা বড্ড মনে পরছিল তাই তাই ভাবলাম একটু ভার্সিটিতে যাই। অফিসের জন্য একটু আগে বের হয়ে গেলাম। আমার কাছে তো নিরুর নাম্বারও নেই। এতো বড় ভার্সিটিতে কোথায় খুজঁবো? আমি পুরোনো সব গুলো কথা ভাবতে লাগলাম। তখন মনে পরলো অন্তি বলে ছিল " নিরু বেশির ভাগ সময় লাইব্রেরীতে কাটায় "। আমি ভার্সিটি এসেই দৌড়ে লাইব্রেরীতে গেলাম। এখনো তেমন কোন মানুষ আসে নি। তাই ভাবলাম একটু বসে বই পড়ে নেই। তাই মন পছন্দের বই খুজঁতে লাগলাম। একবার নিরুর হাতে একটা বই দেখে ছিলাম। বইয়ের নামটা ছিল "তীর ছাড়া তরী"। আমি সাহিত্য স্টোকে বইটা খুজঁতে লাগলাম। কিছুক্ষন বইটা খুজাঁর পর বইটা পেয়ে গেলাম। আমি বইটা বের করতে গেলাম তখনই মনে হলো অপর পাশে কেউ বইটা টান দিয়েছে তাই আমি বইটা ছেড়ে দেই। একটা মেয়ে বইটা নেয়। বই গুলো ফাকেঁ আমি মেয়েটাকে দেখতে পারতে ছিলাম না তাই আমি ঘুরে এসে দাড়াতেই দেখি নিরু দাড়িয়ে আছে আর ও আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কারো মুখ দিকে কোন কথা নেই তবে শুধু অভিযোগ রয়ে গেল। ওর চোখ গুলো যেন বলছে " দুই দিনের মাঝে কেন আমি ওর খুজঁ নেই নি "।আমি ওর সামনে গিয়ে ওর হাত থেকে বইটা নিয়ে নেই। ও আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
-- আমায় লবনের পানি খাইয়ে ছিলেন তাই আপনায় শাস্তি দিতে এসেছে। অন্য কোন কারনে নয়।
-- হুম।
-- এই বইটা আজ আমি নিয়ে যাবো। বাসায় পড়বো।
-- হুমম।
-- কিন্তু লাইব্রেরী থেকে তো আমাকে বই নেওয়ার পারমিশন দিবে না। আপনি কি একটু আমার হয়ে সাইন করে দিবেন?
-- হুমম
-- কী হুম হুম শুরু করলে? কিছু কি বলবেন না?
-- দুইটা দিনে একবারও কি এই মেয়েটার কথা মনে পরে নি। বড্ড বাজে আমি তাই না।
-- এই যা সত্যি একটুও মনে পরে নি।
-- হুম জানি তো।
-- একটা কথা বলবো?
-- হুম
-- প্রতি নিশ্বাসে এই পাগলী মেয়েটাকে মনে পরেছে। তাই তো এসেছি একটি বার দেখতে।
-- আপনি খুব পচাঁ। শুধু কষ্ট দেন।
-- তাহলে পচাঁ ছেলেটা এখন চলে যাই কেমন?
-- না একদম না
-- তো এখানে থেকে কি করবো?
-- আমার সাথে বসে বই পড়েন।
-- হা হা আচ্ছা।
আমি আর কথা না বলে ওর পাশের চেয়ারে বসে একটি বই দুইজনে পড়তে লাগলাম। বলতে পারবো না এই মুহূর্ত টা কতটা দামী তবে এক বই দুইজনে পড়ার আরেক নাম হয়ত ভালবাসা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now