বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নন্দিনী (পর্ব : ৫ শেষ পর্ব)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X তপুর ওপর খুবই বিরক্ত আমি। সে তো সবকিছুই জানে। আর জেনে শুনেই আমাকে এতো বড় বিপদে ফেললো। বন্ধু হয়ে বন্ধুর সাথে এতো বড় প্রতারণা। আজ খাঁচা ছাড়াই আমি বন্ধি! চিনিনা জানিনা কোন জায়গার কোন অর্পিকে নাকি এখন বিয়ে করতে হবে? উফফ কিছুই ভাল্লাগছেনা। মনটা চাইছে, একটা দড়ি গলায় দিয়ে এখনই আত্মত্যাগ করতে! তাও সম্ভব না। মা বাবার একমাত্র ছেলে আমি। যদি মরে যাই তাহলে কোন আশাতে বেঁচে থাকবেন তারা। তপুর সাথে এ বিষয়ে কথা বলে দেখি যদি সে কোনোভাবে বিয়েটা ভাঙতে পারে তাহলে ভালো হয়। তপুকে বললাম, ‘এই তপু একমিনিট দাঁড়া, পরে সাজিয়ে দিস। আগে আমার কয়েকটা কথার জবাব দেয়?’ ‘হ্যা বল’ ‘তুই কি এই বিয়ের ব্যাপারে সবকিছু আগে থেকেই জানতি?’ ‘ধুর এটা কিরকম প্রশ্ন? বাদ দেয় ওসব, কাপড় পড়ে রেডি হ তাড়াতাড়ি, সবাই অপেক্ষা করছে।’ ‘করুক অপেক্ষা তাতে আমার কি? আমি যা জানতে চাইছি সেটা আগে বল। নয়তো বিয়ে টিয়ে কিছুই হবে না! এখান থেকে বের হয়ে সোজা চলে যাবো’ ‘এত রেগে যাচ্ছিস কেন? রাগার মতো এমন কিছু তো হয়নি!’ 'রাগার মত কিছুই হয়নি! বাহ খুব সুন্দর কথা, আমার জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে আর তুই বলিস কিছুই হয়নি! সবকিছু খুলে বলবি নাকি আমি এখান থেকে চলে যাবো?’ 'আচ্ছা রাগ থামিয়ে শোন আমি বলছি। হ্যা এইসব প্লানিংয়ে আমিও ছিলাম, তোদের পরিবারের শুধু তুই ব্যতীত বাকি সবাই ছিল এই প্লানিংয়ের অন্তর্ভুক্ত। তুইতো কোনোভাবেই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিস না। খালা আর কতদিন তোদেরকে এভাবে রান্নাবান্না করে খাওয়াবেন? সংসারের ভার থেকে একটু তো মুক্তি পাওয়া উচিত তাই না। খালার জন্য তো তোর কোনো মায়াদয়া নাই ! যদি থাকতো তাহলে খালার কষ্ট গুলো একটু হলেও বুঝতে পারতি, এতো বৃদ্ধ বয়সেও তোদের জন্য সংসারের কাজগুলো একাই করে যাচ্ছেন। খালুর অনেক খারাপ লাগে খালার এসব কষ্ট দেখে। সিদ্ধান্ত নেন তোকে বিয়ে দেবেন। তোকে বলা হয় বিষয়টা। অনেক বলার পরও তোকে রাজি করানো যায়নি, তাই ব্যর্থ হয়ে প্লান করে এভাবেই তোর বিয়েটা দিচ্ছেন খালু। বিয়ে তো একদিন করতে হবে তাইনা, হয়তো একটু আগেই করতেছিস, এতে মন খারাপ করার কিছু নাই। অর্পি মেয়েটা অনেক ভালো, সাথে শিক্ষিতও বটে। ওর মা বাবা বেঁচে নেই। চাচা চাচীর কাছে বড় হয়েছে। খালুর কলিংয়ের ভাতিজি। অর্পিকে দেখে খালুর খুবই মায়া হয়। সহজ সরল মেয়েটার আচার আচরণ খালুকে খুবই আকৃষ্ট করে। তিনি অর্পির চাচা মিস্টার সাদেক সাহেবের কাছে তোর জন্য অর্পির বিয়ের প্রস্তাব দেন। অর্পির চাচা খালুর প্রস্তাবে সহজেই রাজি হয়ে যান। বিয়ের কথাবার্তাও পাকা হয়ে যায়। অর্পির চাচাকে খালু তোর বিষয়ে সবকিছু বলেন। তুই সহজে বিয়েতে রাজি হবেনা, তোকে প্লান করে বিয়ে দিতে হবে! এটাও সাদেক সাহেবকে বলেন। অর্পির চাচা নিঃশর্তভাবে রাজি হয়ে যান। এর অবশ্য একটা কারণও আছে। অর্পির তো মা বাবা কেউ বেঁচে নাই তাই চাচার কাছে সে বোঝার মতো, যত আগে তাকে বিদায় করা যায় সাদেক সাহেবের ততই মঙ্গল। আর এজন্যই তড়িঘড়ি করে মাত্র ৭ দিনের মধ্যে বিয়েটা ফাইনাল করে আজকে তোর সাথে অর্পির বিয়ে দিচ্ছেন।’ ‘বিয়ে দিচ্ছেন বললেই বিয়ে হয়ে গেল? এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? আমি এ বিয়ে করতে পারবোনা।’ ‘কেনো বিয়ে করতে পারবিনা, তোর কি এমন সমস্যা বিয়েটা করতে?’ ‘সমস্যা আছে বলেই তো বিয়ে করতে চাচ্ছিনা! ’ ‘কি সমস্যা আমাকে বল?’ ‘আমি একজনকে ভালোবাসি। তাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে Possible না।' ‘তুই একজনকে ভালোবাসিস আর আমি জানিনা! কে সে?’ ‘নন্দিনী’ ‘ "ওহ" আচ্ছা চল এখন, সবাইকে গিয়ে বলে বিয়ে ভাঙ্গি' তপু আর আমাকে কোনো কথা বলতে দেয়নি। হাত ধরে টেনে মানুষ জমায়েত যে ঘরে ঐ ঘরে নিয়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়ালো সে, আর আমি তার একটু পেছনে। দরজার পাশ থেকে উঁকি মেরে দেখি, অর্পিকে বউ সাজিয়ে এনে সবার মাঝখানে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ঘোমটা দিয়ে সারাটা মুখ ঢাকা। ঠিকমত মুখটি দেখা যাচ্ছেনা, তবে বুঝতে পারলাম সে অনেক সুন্দরী। আর বেশি তাকাতে পারলাম না কারণ তপু আমার বাবাকে ডাক দিল, ‘খালুজান, সায়েম বিয়েটা করতে চাচ্ছেনা।’ তপুর কথা শোনে বাবার মুখ মলিন হয়ে গেল। জমায়েতও সবাই তপুর দিকে থাকিয়ে আছেন, আমি একটু পেছনে লুকিয়ে গেলাম তাই আমাকে দেখতে পাচ্ছেননা। জমায়েত সবাই নিশ্চুপ হয়ে যায়, আর আমি পরিস্থিতিটা বুঝতে একটু উঁকি মেরে তাকালাম। চেয়ারে বসে থাকা মেয়েটা এদিকে তাকিয়ে আছে। ঘোমটা খোলা। বিয়ে ভাঙ্গার কথাটি শুনে হয়তো খুলে গেছে। ভালো করে থাকালাম তারদিকে। এতো অর্পি নয়। চেয়ারে বসে থাকা মেয়েটিই আমার নন্দিনী! "ওহ মাই গড" কে বলছে বিয়ে করবোনা? বিয়ে তো একশতটা করবো! থুক্কু শুধু নন্দিনীকেই। আমার মনটা এখন খুশিতে ভরে উঠল। মুখে মৃদু হাসি দিয়ে দরজার সামনেই চলে আসলাম। বাবা আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কিরে সায়েম তুই নাকি বিয়ে করতে চাচ্ছিস না?’ ‘কে বলল আব্বু?’ ‘এইতো তপু এসে আমাদেরকে বলল’ ‘মিথ্যা কথা আব্বু। আমি এরকম কোনো কথাই বলিনি। কখনও কি আপনার কোনো কথার অবাধ্য হয়েছি আমি?’ সবার মুখে আবার হাসি ফিরে আসলো। বাবা তপুকে ধমক দিয়ে অনেক কথা শোনালেন তারপর আবার বললেন আমাকে সাজিয়ে আনতে। তপু খুব রাগ করে আমাকে তার ঘরে নিয়ে গেল। ‘কিরে সায়েম? এটা কি হলো?’ ‘কি হইছে?’ ‘বুঝতে পারছিসনা কি হইছে? আমাকে এখানে বললি তোর গার্লফ্রেন্ড আছে, তুই তাকেই বিয়ে করবি আমি সেটা সবার সামনে গিয়ে বললাম তখন তুই বলিস অর্পিকে বিয়ে করবি? আমাকে পুরাই বলদা বানাইয়া দিলি। আর খালুজান আমাকে এতো কথা শুনাইলো।’ ‘আমি কি জানতাম এই আমার নন্দিনী?’ ‘কে বলেছে ও নন্দিনী? ওর নাম অর্পি। ফাহমি জান্নাত অর্পি।’ ‘কি বলিস তুই? সে তো নিজের মুখেই আমাকে বলল, তার নাম নন্দিনী।’ ‘তোর সাথে আগেও দেখা হইছে! বাহ ভালো তো।’ ‘আচ্ছা, ভালো আর খারাপ রাখ ভিজিয়ে।আগে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেয়।’ ‘তুই সকাল বেলা বললি নন্দিনী তোর চাচাতো বোন, আর একটু আগে বললি বাবার কলিংয়ের মেয়ে! আমিতো কিছুই বুঝতেছি না।’ ‘আগে মিথ্যা বলেছিলাম। অর্পি তোর বাবার কলিংয়ের মেয়ে এটাই সত্যি।’ ‘ওহ, ঠিক আছে, এবার কাপড় গুলো দেয়। তারাতারি পড়তে হবে, সবাই অপেক্ষা করছে।’ ‘হায়হায়! এখন বর সাহেবের তর সইছেনা দেখছি। একটু আগেই তো বিয়ে করতে চাইছিলিনা। থাক, বাদ দেয় বিয়ে করা। এসব শুধু ঝামেলা!’ ‘কয় কি হালায়? বিয়ে করা ফরজ, হেইটা তুই জানোস না।’ ‘হাহাহা জানি, চল এবার।’ ‘আচ্ছা চল’ মুচকি হেসে তপুর সাথে সবার সামনে গেলাম। আগেবাগেই সব কাজ শেষ, বাকি রয়েছে আমার কবুল বলা। কাজী সাহেব আমার কাছ থেকে সেটাও আদায় করে নিলেন। নন্দিনী আমার বউ হয়ে গেল! আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে। সবার মুখে হাসি আর হাসি। এভাবেই খালার বাড়িতে অবস্থান করে সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমরা নিজ বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। একটা গাড়ী আমরা সবাই বসে আছি। নন্দিনী আমার পাশে। পেছনে টিয়া আর ডিব্বা বসে আছে। দুইটাই কানে কানে কি যেন বলছে আর কিলকিলিয়ে হাসছে। সারাপথ এভাবেই ডং তামাশা করে বাড়ী পর্যন্ত পৌছালাম। ভাবী এসে নন্দিনীকে নিয়ে গেলেন ঘরে। বাসর ঘর করা হয়েছে আমার রুমকে! খুব সুন্দর করে সাজানো। বাড়ীতে ভাবী ব্যতীত আর কেউ তো ছিলেন না, হয়তো ভাবী সাজানোর দায়িত্ব পালন করেছেন। যাইহোক, আমি ওই ঘরের দিকে আপাতত না যাওয়াই ভালো মনে করে গেলাম না। আলগা একটা ঘরে বসে থাকলাম। রাতে খাওয়া দাওয়া করলাম দুজন এক টেবিলে পাশাপাশি বসে। বেশি খেতে পারলাম না টিয়া আর ডিব্বার কানাঘেষাতে। ঘুমানোর অন্যকোনো অপশন না পেয়ে নিজের রুমে তথা বাসরঘরে গিয়ে চুপিচুপি শুয়ে পড়লাম। বুঝতে পারলাম ভাবী নন্দিনীকে নিয়ে এদিকে আসছেন। সত্যিই ভাবী নন্দিনীকে এনে আমার রুমে দিয়ে গেলেন। আমি উঠে গিয়ে চুপিসারে দরজাটা আটকে দিলাম। না হলে রিস্ক আছে। টিয়া আর ডিব্বা যে শয়তান, কি না কি ঘটাইবে? সেটা আল্লাহ ই ভালো জানেন। নন্দিনী সালাম করে গিয়ে বসলো বিছানায়। আমিও পাশে গিয়ে বসলাম। আপাতত কিছু সময় হাই হ্যালো বলা শেষ করলাম। তারপর নন্দিনীকে একের পর এক প্রশ্ন করা শুরু করলাম, ‘নন্দিনী তোমার আসল নাম কি?’ ‘আমার নাম নন্দিনী নয়! ফাহমি জান্নাত অর্পি হলো আমার আসল নাম।’ ‘তাহলে সেদিন আমাকে মিথ্যা বলেছিলে কেনো?’ ‘সেইদিন আমাকে টিয়া এটাই শিখিয়ে দিয়েছিল যে আপনাকে সঠিক নাম না বলে এই নামটি বলতে! আর আপনার মাথায় ঢিল মারাটা আদিবা শিখিয়ে দিয়েছিল। তাই আমি মিথ্যা বলেছি আর ঢিলটা মাথায় মেরেছি!’ ‘আচ্ছাহ তাহলে এই কাহিনী! আরেকটি কথা বলোতো? তুমি সেদিন সত্যিই কি আমার জন্য এতোক্ষণ অপেক্ষা করেছিলে!’ ‘না! আমি এতোক্ষণ অপেক্ষা করিনি। আপনি যখন বাজারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, তখন টিয়া আমাকে ফোন করে এসব করতে বলে।’ ‘হায় আল্লাহ, আমার বউটা দেখি পুরাই মানুষের কথা শুনে কাজ করে। এই তুমি কি সত্যি যে যাই বলে তাই করো?’ ‘হ্যা আমি তাই করি!’ ‘কও কি এটা? তাহলে তো সর্বনাশ! ডিব্বা বারবার আমাকে তোমার দ্বারা মার খাওয়াবে। এই শোনো, ডিব্বা টিয়া যা বলবে তুমি এসে আগে আমার কাছে বলবে কেমন? তারপর আমি যা বলি সেটাই করবা।’ ‘জ্বি আচ্ছা’ 'আমার কথা সবসময় শোনবা কেমন?’ ‘জ্বি আচ্ছা’ ‘এই তুমি কি বলদা নাকি? আমি যা বলছি সেটাতেই সায় দিচ্ছ।’ ‘কিহ, আমি বলদা’ ‘নাহ তুমি আমার লক্ষি বউ। আস একটা পাপ্পি দেই।’ ‘ধুর, সরো এখান থেকে! লজ্জা লাগে।’ ‘ওর মোর জ্বালা, কয়কি এটা! লজ্জাটা আগে ঘায়েব করি’ এই এই এই....... (আরো শুনবেন! আজব তো। সবকিছু শুনতে হয়না। কিছু কিছু বিষয় লুকায়িত, এমনিতেই বুঝে নিতে হয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now