বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সামনে এসে দাড়ায় নন্দিনী। মুখটাতে কপি করা মোনালিসার হাসি লেগে আছে। তপুকে একশত টাকার একটা নোট আর নাম্বার হাতে দিয়ে বলল ফ্লেক্সি করে দিতে। নাম্বারের কাগজটি এমনভাবে তপুর কাছে দিল যাতে নাম্বারের প্রতিটি অক্ষর আমি দেখতে পাই। আমি নিচের দিকে তাকিয়ে আড়চোখে দেখছিলাম নন্দিনীর কাণ্ড। কালই তো প্রথম তার সাথে দেখা হলো আর আজ কেনো এরকম করছে আমার সাথে? তাহলে কি নন্দিনীও আমার প্রেমে পড়ে গেল! কিছুই তো মাথায় টেকছেনা। চিন্তারত অবস্থায় থাকতে থাকতে নন্দিনী চলে যায়, আমি খেয়াল করিনি সেটা। অল্পতেই ধ্যানস্থ হওয়া আমার অনেক আগের একটা বদ অভ্যাস। সেটি আবারও আসাতে নন্দিনীর চলে যাওয়ার পদচিহ্ন আমি খেয়াল রাখতে পারিনি। বড্ড মিস করে ফেললাম। পথের দিকে তাকিয়ে এসবই কল্পনা করছি আমি। তপুর ডাকে ধ্যান থেকে ফিরে আসলাম।এমনভাবে চেয়ে থাকা দেখে তপু আমার মতলব কিছুটা বুঝে ফেলে। আমাকে বলে,
‘কিরে বন্ধু, আমার চাচাতো বোন দেখেই কি ক্রাস খেয়ে ফেলছোস?’
‘ধুর কি বলিস? ক্রাস খাবো কেন? এমনি সে অনেক সুন্দর তাই একটু দেখলাম চোখ মেলে!’
‘ "তাই!" মনে করছিস আমি বুঝিনা? ক্রাস না খাইলে এভাবে কেউ কারো দিকে তাকিয়ে থাকে নাকি?’
‘হইছে এতো পাকনা কথা বলা লাগবেনা। আগে বল, ওই মেয়েটি তোর কোন চাচার মেয়ে? আমি তো প্রায়ই তোর বাড়ীতে যাই, একদিনও দেখতে পেলাম না?‘
‘আমার ছোট চাচার মেয়ে। সেই ছোটবেলা থেকেই ওরা ঢাকায় থাকে। বাড়ীতে খুব কম আসে এজন্যই তুই দেখতে পাসনি ওদের।’
‘ওহ আচ্ছা, এখন চল বাজারে যাই’
‘হ্যা চল‘
দুজন একসাথে বাজারে গিয়ে আড্ডা দিতে লাগলাম। এরইমধ্যে তপু ফ্লেক্সির দোকানে গিয়ে নন্দিনীর মোবাইলে টাকা লোড করে আসে। মন চাইছিলো নন্দিনীর নাম্বারটা তপুর কাছ থেকে নিতে, কিন্তু সাহস হলো না। একটু আগেই ভাব দেখালাম এখন কি করে তার কাছে নাম্বারটি চাইবো। মনে মনে আফসোস করতে লাগলাম। যাক এখন আর কিছু করার নাই, বাড়ীতে চলে যাই। পেটটা ক্ষিধায় খা খা করছে। তপুকে নিয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। তার বাড়ীর সামনে আসার পর তপু আমার বাড়ীতে না এসে তাদের বাড়ীতে আমাকে নিয়ে যায়। গেটের সামনে নন্দিনী খেলা করছে ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে। আমার কিছুটা লজ্জা লাগছে তার সামনে যেতে। বাধ্যতামূলক যেতে হবে ওইদিকে। মোবাইল টেপাটেপি করে চুপিচুপি গেটের ভিতরে প্রবেশ করলাম। তপুর বাড়ীতে দেখি আজ অনেক মানুষের জমায়েত। ব্যাপারটা কিছুই বুঝলাম না। কোনো অনুষ্ঠান নাকি? নাহ, সেটাও হবার নয়। অনুষ্ঠান হলে আর কেউ না বলুক তপু অবশ্যই আমাকে বলতো। উঠোনে দাড়িয়ে থাকা সবাই কেবল ড্যাবড্যাব করে আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি কি কোরবানির পশু নাকি যে এভাবে থাকাচ্ছে ওরা। আত্বীয়ের বাড়ী এসেছি তাই কিছু বললাম না। চুপি চুপি খালার রুমে গেলাম। খালাকে সালাম করে বসে পড়লাম। বলা নেই কওয়া নেই তারপরও খালা বহুজাত খাবার এনে আমার আর তপুর সামনে রাখলেন। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক-দুইবার এই বাড়ীতে আসি। এরকম জামাই আদর কখনও পাইনি। আজ এতো অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ঘটছে কেনো? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করে কোনো উত্তর পেলাম না। আর উত্তর দিয়ে কিই-বা হবে? সামনে খাবার এসেছে, এইবার খাওয়াটাই হবে সবচেয়ে বড় বুদ্ধিমানের কাজ। একদিক থেকে খাওয়া শুরু করলাম, আহ কি মজাদার খাবার? মনপ্রাণ জুড়িয়েই যাচ্ছে। কিন্তু পোড়া কপাল আমার! এত মজাদার খাবার পেয়েও ঠিক মত খেতে পারলাম না, বাহিরে থাকা খাটাশ মানুষেরা একজন একজন করে রুমে প্রবেশ করতে লাগলো। আমার খাওয়ারও বারোটা বেজে গেল। বাদ দিলাম খাওয়া। হাত ধুয়ে বিছানার একপাশে কাঁচুমাচু হয়ে বসলাম। তপু শালাটা এরই মধ্যে আমাকে একা রেখে অন্য রুমে চলে যায়। এতো জোয়ান আর বুড়ো মানুষের মাঝে থাকতে নিজের খুব অস্বস্তি লাগছিলো। পস্রাবের বেগটাও বেড়ে গেল। ছোটঘরে যাওয়াটা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু আমার আগে পেছনে সামনে সবখানেই বসে আছে ভদ্র মানুষগুলো। ঠিকমত পা ফেলানোরও জায়গা নেই। বাথরুমে যাব কি করে? এতো মানুষ কোথা থেকে এসে জড়ো হলো। খেয়ে ধেয়ে কোনো কাজকাম নাই মনে হয়। দেখো সব উল্লুকের দল আমার দিকে কেমন তাকাইয়া আছে। পস্রাবের চাপে আমার মাথা ঠিক নাই, আর ওদের এমন থাকিয়ে থাকা দেখে নিজেকে অসহায় পাখির মত লাগছে। শিকারী যেমনভাবে পাখি টার্গেট করে তার বুকে গুলি ছুড়ে তেমনি এই মানুষগুলোও আমার দিকে তাকিয়ে চোখের মাধ্যমে গুলি ছুড়ছে। কেউ কেউ মিটিমিটি হাসছেও। তপু বান্দরটা আবার কোথা থেকে কয়েকজন তরুণীকে নিয়ে এই রুমে এনে বসিয়ে রাখলো। আমার দিকে একটাবারও তাকাচ্ছেনা। বারবার চাইছি একটাবার এইদিকে আসুক ফাজিলটা। পরে না হয় এখানে বসবো, আপাতত ছোটঘরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিক। কিন্তু না, হারামীটা চলে গেল। আর দরজা দিয়ে টিয়া, আদিবা ও মায়ের আগমন ঘটল। মাকে খুব আপ্পায়ন করে একজন মহিলা তার সিটে নিয়ে বসালেন। কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছিনা। মাকে বারবার ইশারায় ডাকছি, তিনি শুনেও শুনছেন না। অপারগ হয়ে নিচের দিকে চেয়ে বসে রইলাম। হঠাৎ রুমের সবার মুখে "আসসালামু আলাইকুম" ধ্বনিটা শোনে তাকালাম। দেখি দরজা দিয়ে বাবা প্রবেশ করছেন। সাথে একজন দাড়িওয়ালা হুজুরও আছেন যার হাতে রয়েছে একটা ফাইল। বাবাকে দেখে অনেকটা অবাক হলাম আমি, গতসপ্তাহেই তিনি ঢাকা গেলেন আর আজ চলে আসলেন, আর সেটা আমাকে না জানিয়েই। এসব কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা। বাবা এসে আমার কাছে বসলেন।
টিয়া আর ডিব্বা দুটিও মায়ের কাছে এসে আমার কাছে দাড়ালো। দুইটার মুখে অদ্ভুত হাসি। জমায়েত মানুষের মধ্য থেকে একজন বৃদ্ধা বাবাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
"বেয়াই সাহেব, আমরা তাহলে পরবর্তী কার্যকম শুরু করে ফেলি। কি বলেন আপনি?"
বাবা সায় দিলেন। আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। বৃদ্ধাকে বাবাকে কেনো বেয়াই বললেন? আমার তো কোনো বড় বোন বা বড় ভাই নেই, যাদের হয়েছে বিয়ে আর বাবা হয়েছেন বেয়াই। তাহলে কি আমার......?
সারা শরীর ঝিরঝিরে ওঠে। টিয়া আমার পাশে আছে। সে বিষয়টা জানতে পারবে, একটু জিজ্ঞাসা করলে মন্দ হয়না। ফিসফিস করে কানে কানে টিয়াকে বললাম,
‘টিয়া এখানে কি হচ্ছে? আমি কিছু বুঝতে পারছিনা। তুই কি কিছু জানিস?’
‘হায়রে ভাইয়া তুই এতো বোকা কেনরে? এতো মানুষ আর কাজী সাহেব দেখেও কি বুঝতে পারছিস না, কি হচ্ছে এখানে?’
‘আসলেই বুঝতে পারছিনা, প্লিজ বুঝিয়ে বল’
‘হাদারাম আজকে অর্পি আপুর সাথে তোর বিয়ে!’
আমার মাথায় আস্ত একটা ঠাডা পড়লো। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা। আমি তো নন্দিনীকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা আমার পক্ষে অসম্ভব। অর্পি টর্পি কাউকে আমি বিয়ে করতে পারবোনা। বাবার সাথে সরাসরি কথা বলতে হবে। বাবাকে ফিসফিস করে ডাক দিলাম। আমার দিকে বাবা তাকালেন। আমি বাবাকে বললাম,
‘বাবা তুমি আমাকে না বলে আমার বিয়ে ঠিক করছো কেনো?’
‘কেনোরে? তোকে তো কতদিন বললাম বিয়ে করার জন্য, সবসময় তো না করে আমাদেরকে এড়িয়ে গেছিস। আমাদের কথার কোনো গুরুত্ব দিস নি কখনও । মাষ্টার্স পাশ করে কোনো চাকরী বাকরি কিছুই না করে প্রতিদিন ছোট ছোট বাচ্চাদের খেলতে যাস, এইসব করে যে জীবন চলে না সেটা তোর মাথায় প্রবেশ করাতেই আমরা প্লান করে তোর বিয়ে দিচ্ছি। এখন আর কোনো কথা বলবিনা। সোজা হয়ে বসে থাক। যা যা করতে বলবো সেটাই কর।
আমি আর কোনো কিছুই বলতে পারছিনা। নন্দিনীর জন্য ভেতরটা কষ্টে ফেটে যাচ্ছে। বাবা তপুকে ডাক দিলে বললেন আমাকে অন্যঘরে নিয়ে সাজগোজ করে আনতে। তপু এসে আমাকে বর সাজানোর জন্য নিয়ে গেল তার রুমে।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now