বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নন্দিনী(পর্ব-২)

"রোমাঞ্চকর গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X একটু বেশি খেয়ে ফেললাম মনে হয়! হাটতে সমস্যা হচ্ছে। পুকুরঘাটে গিয়ে বসলাম। ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে আনমনে নজরুলগীতি শুনছি, খুব ভাল্লাগতেছে। বাতাসটা অনেক মিষ্টি। শার্ট খুলে বসলে মন্দ হয়না। উতলা শরীর, মিঠা বাতাস আহ কি মজা। এতো আরাম লাগছিলো যে ঘুমিয়ে পড়তে দেরি হয়নি। হঠাৎ শরীরে পানির ছিটা অনুভব করলাম। ঘুম থেকে জেগে চোখ খুলে তাকালাম।আদিবা সামনে দাড়িয়ে আছে, তার একটু পেছনে টিয়া। 'কিরে ডিব্বা আর টিয়া কখন আসছোস তোরা?' 'এইমাত্রই তো আসলাম। ভাবী বলল, তোর মাথা নাকি কোন পেত্নী ফাটায়া দিছে। তাই দেখতে চলে আসলাম' 'কিযে বলিস তোরা? আমার মাথা একটা মেয়ে ফাটাইবো এটা কি সম্ভব?' 'তাহলে তোর মাথায় ব্যান্ডেজ কেন?'(আদিবা) 'ওই আর কি এমনি এমনি, না মানে মেয়েটা ভুল করে পাখি মারতে গিয়ে আমার মাথায় ঢিলটা মারছে' 'হইছেরে ভাইয়া, ভাব মারতে হবে না। তোরে আমি ভালোই চিনি। হয়তো মেয়েটার সাথে ভাব মারতে গেছিলে, এই সুযোগে দিছে একটা।'(আদিবা) 'দুইটা গেলি এখান থেকে, শুধু ফাউ প্যাঁচাল মারে। ভাব মারা দুরের কথা, মেয়েটির দিকে একটিবার তাকাইলাম না ভালো করে' দুইটা মিলে হাহাহা করে হাসা শুরু করলো। বিরক্ত হয়ে ঘাট থেকে চলে আসলাম। মা হয়তো খুজতেছেন,দেখা করি আসি। বাড়ীতে গিয়ে ঘরের দিকে চললাম। উঠানে মা দাঁড়িয়ে আছেন। সালাম করে সামনে গেলাম। মাথা ব্যান্ডেজ দেখে মা শুরু করলেন বকা। জড়িয়ে ধরলাম হাসি মুখে। মা আর বকা দিতে পারলেন না। মুচকি হেসে ঘরের ভেতরে গেলেন। থালাভর্তি করে সন্দেশ এনে আমাকে দিলেন। ভাবীর ঘরে ভাত খেয়েছিলাম, এখনও পেট খালি হয়নি। তার মাঝে আমার প্রিয় সন্দেশ এখন সামনে রাখা! তাও নানা বাড়ী থেকে এসেছে। না খেয়ে কি থাকা যায়? দুটো হাতে নিলাম। জিহ্বায় অলরেডি পানি এসে গেছে। একটু একটু করে খাওয়া শুরু করলাম। হয়তো মা নিজেই এগুলো বানিয়ে এনেছেন, তাই এত সুস্বাদু লাগছে। একটা খেয়ে ফেললাম। পেটের মধ্যে যতটুকু জায়গা খালি হয়েছিল, একটা খাওয়াতে সেইটুকুও ভরে গেছে। আর খাওয়া সম্ভব না। ভাবী উঠোন ঝাড়ু দিচ্ছেন। ডাক দিয়ে এনে পাশে বসালাম। পিঠার থালাটা হাতে দিয়ে বললাম "খাও"। ভাবীও মাত্র দুটো পিঠা খেলেন। মাকে ডাক দিয়ে সন্দেশের থালাটা হাতে দিলাম। মা ঘরে চলে গেলেন। আমি ভাবীর সাথে মজার মজার গল্প করতে লাগলাম। গল্প করার সময় হঠাৎ মনে হলো ঘরে তো কোনো বাজার খরচ নেই। রাতে আর সকালে খাবো কি? প্রায় সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। বাজারে যাবো তাই গল্পকরা বাদ দিয়ে উঠে আসলাম ঘরে। মাকে গিয়ে বললাম, টাকা দিতে। ৫০০ টাকার একটা নোট ও বাজার খরচের লিস্ট এনে মা আমার হাতে দিলেন, সাইকেল বের করে চললাম বাজারের উদ্দেশ্যে। আনমনে সাইকেল চালাচ্ছি। দুপুরে যে জায়গাতে নন্দিনী নামের মেয়েটি আমার মাথায় ঢিল মারছিল, ওখানে কেউ একজন বসে আছে মনে হলো। ধীরে ধীরে কাছে গেলাম। স্পষ্টভাবে চেনা যাচ্ছেনা, নিচের দিকে মুখ করে বসে আছে। পাশে গিয়ে ডাকা দিলাম, 'এই আপনি কে? অন্ধকারের মাঝে এখানে বসে আছেন কেন?' মুখ উপরের দিকে তাকালো। ওহ, এইতো নন্দিনী! এই সময় এখানে কি করে? একটু জিজ্ঞাসা করে দেখি, 'এই মেয়ে, আপনি কথা বলছেন না কেনো? রাতের বেলা এখানে বসে কি করছেন? 'আপনার জন্য অপেক্ষা করছি' 'কিহ, আমার জন্য অপেক্ষা! মানে....' 'আসলে, দুপুরবেলা পাখি মারতে গিয়ে আমার ছুড়ে মারা ঢিলটি অনিচ্ছাবশত আপনার মাথায় আঘাত করে, আপনার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। অনিচ্ছাবশত হলেও আমার উচিত ছিল আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়া, অনুতপ্ত হওয়া। আমি সেটা না করে আপনার সাথে মজা করলাম, হাসি টাট্টা করলাম, এসব করা আসলে ঠিক হয়নি আমার। এর জন্য খুব খারাপ লাগছে এখন ! তাই দুপুরবেলা থেকে এখন পর্যন্ত এখানে বসে আছি, আপনার কাছে ক্ষমা চাইবো বলে।' 'আপনার মাথায় কি কোনো সমস্যা আছে? এভাবে কি কোনো মানুষ কারো জন্য অপেক্ষা করে? আর ঢিলটা যে অনিচ্ছাবশত আমার মাথায় লেগেছে সেটা আমি বুঝতে পেরেছি। এতে অনুতপ্ত হওয়ার কিছু নাই। অন্ধকারে ঘনিয়ে আসছে চারদিক। আপনি এখন বাড়ীতে চলে যান। আপনার মা বাবা হয়তো অনেক চিন্তার মধ্যে আছেন। তাড়াতাড়ী যাওয়াটাই হবে আপনার জন্য শ্রেয়।' নন্দিনী চারদিকে তাকালো। অনেক বেশি অন্ধকার। কিছুটা গাবড়ে গিয়ে আমাকে বলল, 'অনেক বেশি অন্ধকার হয়ে গেছে চারদিক। টর্চলাইট ছাড়া এগোনো যাবেনা। আমার কাছে তো টর্চলাইট নেই, আপনি যদি বাড়ী পর্যন্ত আমাকে এগিয়ে দিয়ে আসতেন, খুবই উপকার হতো।' কিছুটা বিব্রত হলাম আমি। কিন্তু মানবতার কাছে হার মানলাম। একটা মেয়ে মানুষকে এতো অন্ধকারের মাঝে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না। "চলুন" বলে তার সাথে সাথে আমি হাঁটতে লাগলাম। নন্দিনী এখন কোনো কথাই বলছেনা। আমি যেই রকম ভাবছিলাম আসলে নন্দিনী এতোটা ফাজিল না। কিছুদূর এসে নন্দিনী একট বাড়ীর গেটের সামনে থামলো। এটা তো তপুর বাড়ী। তপু আমার আপন খালাতো ভাই। নন্দিনী আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাড়ীর ভেতরে চলে যায়। আমি দাড়িয়ে থাকলাম সাইকেল নিয়ে। এই বাড়ীতে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমি একবার আসি, কিন্তু কোনোদিন নন্দিনীকে দেখতে পাইনি। নিশ্চয় সে এই বাড়ীর কেউ নয়। আত্বীয় স্বজন হতে পারে। যেই হোক, কাল তপুর কাছ থেকে জেনে নিব। সাইকেল ওঠে ফিরে আসলাম সেখান থেকে। নন্দিনীর অপেক্ষা করা সেই প্রহরের কথা আমার বারবার মনে পড়তে লাগলো। আগে যদি জানতাম তাহলে দিনের বেলাতেই চলে আসতাম। কত কষ্ট করলো আমার জন্য। এসব ভেবে ভেবেই আমি বাজারে এসে গেলাম। বাজার খরচ শেষ করে আবার রওনা দিলাম বাড়ীর দিকে। রাত অনেক হয়ে গেছে। কুয়াশায় ভরপুর চারদিক। সাইকেলের গতি আর শীতের তীব্রতায় রাস্তা পার করতে নিজের অনেক বেশিই কষ্ট হচ্ছে। তারপরও বাড়ী পৌছাতে হবে, এই চিন্তা মাথায় রেখে সাইকেল চালাতে লাগলাম আরো দ্রতগামী হয়ে। অবশেষে বাড়ী পৌছে গেলাম। এখন খুব বেশিই শীত লাগছে। মনে হচ্ছে মুহূর্তেই পড়ে যাবো। টিয়া জানালার পাশে বসে পড়ছিল। আমার এই অবস্থা দেখে দ্রুত বাহিরে চলে আসে। সাইকেলটি দাড় করিয়ে আমাকে ধরে ডাক দেয় মাকে। আদিবা আর মা ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন। এমনভাবে কাঁপছিলাম আমি, মা দেখে ভয় পেয়ে যান। মা আর টিয়া দুজনের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করলাম। ডিব্বা এখনও বাহিরে আছে। হয়তো ব্যাগ গুলো চেক করতেছে তার জন্য কিছু আনছি কিনা? আস্ত একটা পেটুক! সারাদিন খাই খাই অবস্থা। ভাই এদিকে মরে যাচ্ছি তার কোনো খেয়াল নেই, নিজের ধান্ধায় নিজে আছে। অবশ্য কিছুই পাবে না ব্যাগে। তার প্রিয় ম্যানগোবার আমার পকেটেই রাখা। আমি শুয়ে শুয়ে কাঁপছি। কম্বল চার পাঁচটা আমার উপরে দেয়া তারপরও শীত যেন কমছেই না। ডিব্বা পাগলের মতো আমার রুমে আসলো। আমি কাঁপছি সেটা ভালো করেই সে দেখছে, তারপরও ঝাড়ি মেরে আমাকে বলল, 'ওই ভাইয়া, বাজারে গেছিস আর আমার জন্য কিছু আনিস নাই কেন?' মা ধমক দিলেন কিন্তু আদিবার মধ্যে কোনো হেরফের দেখতে পেলাম না। মরা কাটের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আমার দিকে চেয়ে আছে হিংস্র বান্দরের মতো! সুযোগমত পাইলে এখনই আমাকে আচড়ে দিত। আমার হাসি চলে আসলো। পকেটে হাত দিয়ে একটা ম্যানগোবার বের করে আদিবােকে না দিয়ে দিলাম টিয়াকে। আরো একটু রাগাতে চাই ডিব্বাকে! নাহ, একটু রাগলো না। মনমরা হয়ে আমার দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। চোখগুলো পানিতে টলমল করছে। যা ভাবলাম তার উল্টোটা হয়ে গেল। পকেট থেকে দ্রুত ম্যানগোবারটি বের করে হাতে দিলাম। চোখের আটকানো পানি আর ধরে রাখতে পারেনি, কান্নাতে পরিণত করে আমাকে শুরু করলো গালি দেয়া! কুত্তা, বিলাই, শুউর, উল্লুক যা মুখস্ত ছিল সব বলে যাচ্ছে। আমি শুনছি আর হাসছি! ভাল্লাগছে শুনতে বোনের মুখের মিষ্টি গালি। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now