বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সায়েম : জানু তুমি এতোদিন পর আমার সাথে দেখা করতেছো, আর এতো রাগি মুখ নিয়ে! আমি কি জানতে পারি, কেনো এরকম করতেছো?
অর্পি : তুমি আরেকটি বিয়ে করছো কেন? আমি খুবই রেগে আছি।
সায়েম : সরি জানু, আমি বিয়েটা করতে চাইনি! বাবার কথা রাখতেই আমাকে বিয়ে করতে হলো। আর দেখো, ইফাত তোমাকে ছাড়া অনেক কষ্টে আছে। সারাক্ষণই শুধু মা মা করে। তুমি তো আসোনা, তাই ছেলেটা নাইমাকেই তার মা ভেবে নিয়েছে। এখন তুমিই বলো আমার কি করার আছে? আমি বাধ্য হয়েই অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়েটা করেছি।
অর্পি : তারপরও তুমি খুবই খারাপ কাজ করেছো। আমি খুব কষ্ট পাইছি। আচ্ছা আমার ইফাত কেমন আছে? জানো?একটাবার আমার ছেলেটার মুখে মা ডাক শোনার জন্য আমি আকুল হয়ে আছি। জন্মের পরপরই ছেলেটার কাছ থেকে আমাকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কত স্বপ্নই না দেখেছিলাম আমার ছোট সোনা বাবুকে নিয়ে, কিন্তু কোনো স্বপ্নই পুরন করতে পারলাম না। বরং ছেলেটার মাতৃত্বকে বলী দিয়ে অনেক দুরে চলে আসলাম। জানো, আমার বাবুটার জন্য অনেক কান্না করি প্রতিদিন। একটিবার ছেলেটিকে কোলে নিয়ে দুধ পান করানোর খুবই ইচ্ছে হয় আমার, কিন্তু আমি ব্যর্থ মা! কিভাবে পারবো ইচ্ছেটা পুরণ করতে? সায়েম চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে তারপর বলল, প্লিজ জানু কেঁদো না তুমি? তুমি কাঁদলে আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনা।
ইফাতের জন্য দোয়া করো তুৃমি, যাতে আমাদের ছেলেটাকে ভালো মানুষের মতো মানুষ বানাতে পারি। (সায়েম)
হ্যা আমি দোয়া করি, তুমি আমার ছেলেটাকে অনেক বড় মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। তবে সাবধান, আমার ছেলেটাকে উকিল বানানোর চেষ্টাও করবেনা। তোমাকে জোর করে আমি উকিল বানিয়েছিলাম, তারজন্যই তো, তোমার কাছ থেকে,আমার বাচ্চাটার কাছ থেকে আমাকে দুরে সরিয়ে দিল শয়তান জাফর! ছোট বাবুটাকে বঞ্চিত করলো মায়ের আদর থেকে। আমি চাইনা আমার ছেলেটার পরিণতি এরকম হোক (অর্পি)
অর্পি প্লিজ এভাবে কথা বলোনা। আমার বুকটা ফেটে যায় কষ্টে। তুমি বলে দাও আমাদের ছেলেটাকে কি বানাবো আমি?(সায়েম)
আমি চাই আমার ছেলেটা ডাক্তার হোক। মানুষের সেবা করুক। প্রতিষ্ঠিত হয়ে মানুষের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক। (অর্পি)
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি ইফাতকে ডাক্তারই বানাবো।(সায়েম)
খুব খুশি হলাম। আচ্ছা, তুমি তো নতুন বিয়ে করেছো, তোমার বউটা কেমন? তোমাকে খুব ভালোবাসে নিশ্চয়?(অর্পি)
সে অনেক ভালো মেয়ে। আমার প্রতি খুব যত্নশীল, খুবই কেয়ার করে আমাকে। কিন্তু আমি তাকে মেনে নিতে পারিনা, কিভাবে মেনে নিবো? আমি যে তোমাকে এখনও অনেক অনেক ভালোবাসি, অনেক মিস করি। তোমার জায়গায় অন্য কাউকে স্থান দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। এজন্যই আমি মেনে নিতে পারছিনা, নাইমা এতে কিছুই বলেনা আমাকে, শুধু নিরবে কাঁদে আমি সেটা বুঝতে পারি। আমার খুবই মায়া হয় নাইমার দিকে তাকালে, কিন্তু তোমার কথা মনে পড়লে ক্ষণিকের মায়াটুকু অচিরেই দুরে চলে যায়। আমার কিছুই করার থাকেনা। (সায়েম)
এসব কি বলো তুমি? মেয়েটিকে বিয়ে করেছো, অথচ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাকে কাছে টানছো না! এটা হতে পারেনা। তোমার উচিত তার প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে দেয়া। মেয়েটি কতটুকু কষ্ট পেতে পারে তুমি কি সেটা একবারও ভেবেছো? তোমাকে বিয়ে করে তো সে ভুল করেনি, কেনো এতো কষ্ট দাও মেয়েটিকে? আমি জানি তুমি অনেক মিস করো আমাকে, থাতে তো কোনো লাভ হবে না, শুধুই কষ্ট পাবে তুমি। আমি বুঝতে পারছি তুমি এখনও আমার পথের দিকে চেয়ে আছো, বারবার চাইছো আমি যেন তোমার কাছে ফিরে আসি, কিন্তু সেটা অসম্ভব। আমি চাইলেও যে তোমার কাছে আসতে পারবোনা। তুমি নাইমার কাছে আমাকে খুজে নাও। দেখবে তুমি আমাকে পেয়ে যাবে। হয়তো তারই ভালোবাসা তোমাকে নতুন একটি জীবন উপহার দিবে। (অর্পি)
জানু আমি সব বুঝি, নাইমা অনেক কষ্টে সময় পার করছে। কিন্তু আমি যে পারতেছিনা, স্ত্রী হিসেবে তোমার গচ্ছিত জায়গাটুকু তাকে দিতে, তোমার অধিকারটুকু তার কাছে স্থানান্তর করতে। আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গে যে তুমি বসবাস করছো। অন্যকারো মধ্যে আমার অর্পিকে তো খুজে পাইনা। এখন আমি কি করতে পারি?(সায়েম)
তুমি নাইমাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে পারো।তার ভালোবাসায় নিজের জীবন নতুন করে সাজাতে পারো। আমিও চাইছি, তুমি আমাকে ভুলে নতুন করে জীবন সাজাও। নাইমাকে নিয়ে অনেক সুখে থাকো। (অর্পি)
তোমাকে ভুলে নাইমাকে মেনে নেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। (সায়েম)
সায়েম এমন করোনা। আমার কথা তুমি রাখ প্লিজ। রাত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, আমারও চলে যাওয়ার সময় এসে গেছে। শেষ সময়ে এসে তোমাকে বলছি, নাইমাকে তুমি স্ত্রীর পুরো অধিকার দিয়ে তাকে গ্রহন করো। আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হব, যদি নাইমা তার অধিকারটি বুঝে পায়, সাথে তুৃমি আর আমার ছেলে সুখে থাকে। আমি তোমার গোমড়া মুখটা দেখতে চাইনা সায়েম। তুমি আমার কাছে প্রমিস করো, আমি যা বলছি সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে? আর যদি না করো তাহলে আমাকে কখনই দেখতে পাবেনা তুমি। আমি হারিয়ে যাবো,কখনই তুমি খুজে পাবেনা আমায়? স্বপ্নেও দেখা করবোনা তোমার সাথে। (অর্পি)
নাহ, এমন করোনা। তোমাকে না দেখলে যে আমি থাকতে পারবোনা, খুব কষ্ট হবে আমার। তুমি যাই বলেছো আমি সেটাই পালন করবো। (সায়েম)
এইতো আমার লক্ষী জানুর মতো কথা বলেছো। কাল থেকে আমি মনে করে নাইমাকে স্ত্রীর অধিকারটুকু দিবে, তার মাঝেই আমাকে খুজে নিবে কেমন? আমার সময় এখন শেষ, যেতে হবে আমায়। চারদিক থেকে ফজরের আজান শুনতে পাচ্ছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্যের আগমন ঘটবে, পৃথিবীতে থাকাটা তখন আমার জন্য অসম্ভব। আমি চলে যাচ্ছি, ভালো থেকো তুমি, আমার ইফাতকে সবসময় আগলে রেখো। তাকে বুঝতে দিওনা আমি যে তার মা ছিলাম, দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছি তার জন্মের পরই। নাইমাকে বলবে, আমার ছেলেটাকে নিজের ছেলে মনে করে আগলে রাখতে। সময়মতো ছেলেটাকে খাইয়ে দিতে। তুমি মাঝে মাঝে আমার বাচ্চাটার আচরণে রেগে যাও, এটা করোনা প্লিজ। ছোট বাচ্চা বুঝতে পারেনা, তাই তোমার সাথে একটু দুষ্টুমি করে । প্লিজ আমার ছেলেটাকে বকা দিবে না। আমি এবার চলে যাচ্ছি সায়েম। ভালো থেকো প্রিয়। (অর্পি)
অর্পি যেতে লাগলো, সায়েম অর্পির হাত ধরে তাকে আটকাতে চাইলো । কিন্তু পারলোনা, নিমিষেই অর্পি হাওয়ার সাথে মিশে যায়।
সায়েমের স্বপ্ন যায় ভেঙ্গে, অর্পি বলে চিৎকার দিয়ে জেগে ওঠে। নাইমা ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সায়েমের চিৎকার শুনে দৌড়ে সায়েমের কাছে চলে এসে বলে কি হইছে আপনার?
সায়েম কোনো কিছু না বলেই জড়িয়ে ধরে নাইমাকে....
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now