বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দেখতে দেখতে ৫ তারিখ চলে আসলো। আজ রাতেই অনুষ্ঠিত হবে নাইমা আর সায়েমের বিয়ে। সারা বাসায় যেন আনন্দের বন্যা বইছে। ইফাতের হাসি আজ কে দেখে? দাদার সাথে হই-হুল্লোর করে তার সময় কাটছে। নাইমাকে সাজগোজ করানোর জন্য পার্লার থেকে দুজন বিউটিসিয়ান আনা হয়েছে। আর সায়েম ছাদে গিয়ে বন্ধুদের সাথে গল্প করছে। সবকিছু মিলে বাসাটা বহুদিন পর রঙ্গিন হয়ে উঠলো।
রাত ৮টার সময় কাজী সাহেব চলে আসলেন। এবার বিয়ে পড়ানোর পালা। সায়েম একটা পাঞ্জাবি পরে সবার সামনে এসে বসলো। নাইমার সাজগোজ শেষ, তাকেও সবার সামনে আনা হলো। নাইমা সবাইকে সালাম করে সায়েমের পাশে গিয়ে বসল। আজ তার রুপের আসল সৌন্দর্য যেন ফুটে উটেছে। পরীকেও হার মানাবে, এরকই অপ্সরীর মত লাগছে নাইমাকে। সায়েমের একটু দৃষ্টি নেই সেদিকে। বিয়েটা করতে একদমই ইচ্ছে নেই তার। বাবা আর ছেলের জন্যেই বিয়েটা করতে হচ্ছে তাকে। কাজী সাহেব বিয়ে পড়াতে শুরু করলেন, সায়েম কবুল বলে না! মুমূর্ষু অবস্থায় নিচের দিকে চেয়ে বসে আছে। অনেক বার বুঝানো হলো সায়েমকে, কিন্তু মাথা উপরে তুলে না। খালেক সাহেব ব্যর্থ হয়ে ধমক দিলেন সায়েমকে, তারপরও কোনো লাভ হলোনা। ইফাত দাদুর কোলে বসা ছিল,
আস্তে আস্তে ছোট ছোট হেটে বাবার কাছে গেল। সায়েমের হাতে ধরে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলো, বাবাকে যেন বলতে চাচ্ছে, বাবা তুমি রাজি হয়ে যাও। সায়েম ছেলেকে জড়িয়ে ধরল, তারপর কবুল বলে দেয়। সবার মনে স্বস্তি ফিরে আসলো। আলহামদুলিল্লাহ বলে সবাই তৃপ্তিময় একটা হাসি দিলেন। তালমিলিয়ে ইফাতও হাসতে লাগলো। নাইমাকে কবুল পড়ানো শেষ। বিয়ে হয়ে গেল সায়েম আর নাইমার। কাজী সাহেব দোয়া করার জন্য হাত তুললেন। ইফাত নাইমা আর সায়েমের মাঝখানে বসে সবার দেখাদেখি সেও হাত তুলল দোয়া করতে। দোয়া শেষ। কাজী সাহেব চলে গেলেন। সবাই রাতের খাবার খেতে টেবিলে চলে গেল। নাইমা আর সায়েম পাশাপাশি আর তাদের মাঝে ইফাত বসা। নাইমা ইফাতকে খাইয়ে দিয়ে নিজে খাচ্ছে, সায়েম নিশ্চুপ হয়ে নিচের দিকে চেয়ে খাবার খাচ্ছে। বিয়ে করলে মানুষ কত আনন্দের সহিত সময় পার করে, আর সায়েম সেই সময়টুকু পার করছে পাহাড়সম বেদনা নিয়ে।
খাবার শেষ করে সায়েম চলে রুমে। তার রুমটি আজকে অসাধারণ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। দেখলে যে কারো মনে আলোড়ন সৃষ্টি হবে। কিন্তু সায়েমের একটুও ভালো লাগছেনা দেখতে! এই ঘরটিকে পুড়িয়ে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে তার। সোফাতে বসে পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে
টানছে আর অর্পির সাথে কাটানো সেই বাসরঘরের স্মৃতি মনে করছে।
এদিকে, খাওয়া শেষ করে ইফাত তার দাদার সাথে ঘুমাতে যায়। নাইমার মা-বাবাও ঘুমাতে চলে যান। সায়েমের খালাতো বোনরা নাইমাকে নিয়ে বাসরঘরের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এতোক্ষণ নাইমা অনেক ভালো ছিল, কিন্তু যেমনি বাসর দিকে পা বাড়াইছে অমনি তার মনে কেমন ভয়ের আভাস চলে আসলো। একটা ছেলের সাথে এখন থেকে একই ঘরে থাকবে, এটা ভেবে শরীর কেমন গিজগিজ করে উঠলো। নাইমাকে রুমে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে মামাতো বোনরা চলে গেল। সায়েম এখনও বসে সিগারেট টানছে। বাসর ঘরে ডুকে কোনো মেয়ে তার স্বামীর মুখে সিগারেট দেখাটা আশা করেনা, নাইমা সেটাও দেখলো। নাইমাকে দেখে সায়েম দাড়িয়ে গেল। নাইমা এসে সালাম করে, সায়েম কিছুই বললনা নাইমাকে। পাশ কেটে গিয়ে দরজা লাগিয়ে আসলো। নাইমা বসে আছে বিছানায়। সায়েম এবার নাইমাকে বলতে লাগলো,
আমার এতোকিছু জেনে কেনো আমাকে বিয়ে করলে? দুনিয়াতে অনেক ভালো ভালো ছেলে আছে, তাদের একজনকেই বিয়ে করলে পারতে!
নাইমা : প্লিজ এরকম কথা বলবেন না, এখন আপনি আমার স্বামী। আপনার মুখে এরকম কথা মানায় না। আপনাকে আমার ভালো লেগেছে, ইফাত এখন আমার মধ্যমনি, আর আপনার বাবাকে তো আমি অনেক আগে থেকেই নিজের বাবা মনে করি। সবাইকে যখন একসাথে পাচ্ছি তখন কিভাবে ছেড়ে যাবো বলেন?
সায়েম : যাইহোক, সত্যি বলতে এখন তোমাকে আমি পুরোপুরিভাবে স্ত্রীর অধিকার দিতে পারবোনা। আমাকে কিছু সময় দাও, নিজেকে একটু গুছিয়ে তারপর চেষ্টা করবো তোমাকে তোমার অধিকার দেওয়ার!
নাইমা সায়েমের মুখের দিকে করুণ ভাবে থাকালো। বাসর রাতে এইসব কথা যেকোনো মেয়ের জন্য মেনে নেয়া অনেক কষ্টের। অনেক স্বপ্ন নিয়ে একটা মেয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করে। সারাজীবনে দেখা প্রতিটি স্বপ্ন, আশা ভরসা সবকিছু স্বামীর সাথে শেয়ার করে একটা সুন্দর জীবন কিভাবে গড়ে তোলা যায়,সেটাই বাসরঘরে স্বামী-স্ত্রী আলোচনা করেন। কিন্তু সায়েম আর নাইমার বাসরঘরের প্রতিচ্ছবিতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সায়েম বিবাহিত জেনেও অবিবাহিত নাইমা তাকে বিয়ে করেছে, কিন্তু বাসরঘরে এসে সায়েমের এমন শর্ত মোটেও আশা করেনি । অন্যদিন যেকোনোভাবে গেলেই কোনো সমস্যা হতোনা, যদি বাসর রাতে সায়েম একটু সময় পুরোপুরি স্ত্রীর অধিকার দিয়ে কাছে টেনে নিতো। সারাজীবনের জন্য সায়েমের দাসী হয়ে থাকতো নাইমা। কষ্টভরা মন নিয়ে সায়েমে শর্তে মাথা নেড়ে সায় দিল।
সায়েম এবার নাইমাকে বলল, ঘুমিয়ে পড়তে! আরোও কষ্ট লাগলো নাইমার। এইদিন সারারাত স্বামী-স্ত্রী গল্প করেই পার করে, আর তার স্বামী কিনা তাকে ঘুমানোর কথা বলছে। বিছানার একপাশে গিয়ে অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পড়লো নাইমা। চোখ থেকে পানি বেরিয়ে পড়ছে। এতো কষ্ট লাগবে সে কখনও এটা ভাবেনি। সায়েম বালিশ নিয়ে নিচে বিছানা করতে লাগে। নাইমা তারদিকে ফিরে অনুরোধ করে, ফ্লোরে না ঘুমাতে। সায়েম নাইমার অনুরোধ একসেপ্ট করে বিছানায় এসে একপাশে শুয়ে পড়ল। দুজনের মুখ দুইদিকে ফেরানো। বিষন্ন মনে দুজন সময় পার করছে। নাইমা বাসর ঘরের স্বপ্নিল সময়কে খুব বেশি মিস করছে, অার সায়েম অর্পির সাথে কাটানো সেই মধুময় বাসর রাতে স্মৃতিময় দিনটির কথা ভেবে চোখের জলে বালিশ ভেজাচ্ছে। আজ যদি অর্পি বেঁচে থাকতো তাহলে তো এইদিনটি কখনই আশা করতোনা সায়েম। নিজের ছেলে রক্তের বন্ধন ছাড়া একজন মানুষকে মা ডাকতে হতোনা। জীবনে দ্বিতীয়বার বাসর ঘর নামক কোনো সাজানো ঘরে প্রবেশ করতে হতো না। নিয়তির কি লিখন, সেটা আসলেই বুঝা মুশকিল।
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now