বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়াল সেই রাত

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X ছেলেটির নাম অনিক কাজ করে একটা পাইপ ফ্যাক্টরীতে। সংসারে সেই একমাত্র উপার্জন কারী একসময় তার বাবাও কাজ করতো এখন করেনা। কারন উনার প্যারালাইসিজ হয়ে যাওয়ার কারনে এক হাত এক পা বন্ধ হয়ে গেছে এখন অনিক একমাত্র ভরসা ওদের সবাইর। অনিকদের মাদবপুর এলাকায় ওদের বাড়ি যেতে হলে বিশাল বড় নদী পার হতে হয় আর ওই নদীতেই সব কান্ড। অনিককে প্রতিদিনই অনেক রাত করে বাড়ি বাড়ি ফিরতে হয় তবে ওর কোন ভয় থাকতো না কারন প্রতিদিন অনিক তার চাচাত ভাইয়েদের সাথে আসতো ওর চাচাতো ভাইয়েরা চা দোকানদার। দোকান বন্ধ করে আসতে ওদের অনেক রাত হতো আর সেই কারনে অনিক অভার টাইম ডিউটি করে একসাথে সবাই বাড়ি আসতো। ঘটনার দিন ও সবাই একসাথে বেরিয়েছিলো কিন্ত ওই দিন অনিকের চাচাতো ভাইয়ের কাছে হঠাৎ করে একটা ফোন আসলো অনিকের চাচীর নাকি কি একটা হয়ে গেছে উনাকে হসপিট্যাল নিয়ে যেতে হবে। সেই খবর শুনে অনিকের সেই ভাইয়েরা তাড়াতাড়ি দোকান বন্ধ করে দুপুরের দিকে বাড়ি চলে গেলো। অনিক কে ওরা ফোন করেছিলো কিন্ত ফ্যাক্টরীর ভিতরে থাকায় পাইপের মেশিনের শব্দে অনিক তার ফোনের রিংটোন শুনতে পায় নি। কাজ করতে করতে রাত প্রায় ১২টা বেজে যায়। অনিক তখন ওর মোবাইল টা পকেট থেকে বের দেখে ১৪টা মিসকল ওর চাচাতো ভাইয়ের নাম্বার থেকে আসছিলো সে সাথে সাথে ফোন বেক করলো কিন্ত মোবাইলে ব্যালেন্ছ না থাকার কারনে ওর ভাইয়ের ফোনে সংযোগ হলো না। কি করার এখন ত কোন দুকান ও খোলা থাকবে না মোবাইল রিচার্জ করবে কিভাবে অনিক ভাবলো থাক কালকে কাজে আসতে সময় রিচার্জ টা করে ফেলবো। এই ভেবে অনিক বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলো। যেতে যেতে ওর চাচাতো ভাইয়ের দোকান পর্যন্ত এসে দেখলো দোকান বন্ধ অনিক চিন্তায় পড়ে অন্ধকার রাস্তায় মানুষ ত দুরের কথা একটা কুত্তা বিলাইও নাই। অনিক দোকানের বারান্দায় দাড়িয়ে থাকা অবস্তায় হঠাৎ করে আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো সেই সাথে তুফান অনিকের পুরো শরীর ভিজে গেলো কারন বাতাসের সাথে বৃষ্টিও অনিকের গায়ে লাগতেছিলো শীতে থর থর করে কাপছে অনিকের শরীর কি করবে সে ভেবে উঠতে পারছে না টানা ৩ঘন্টা বৃষ্টি হলো অনিক একা দাড়িয়ে আছে বারান্দায়। রাত প্রায় ২টার দিকে বৃষ্টি থামলো অনিক তার ছোট টর্চ লাইট টা বের করে জ্বালিয়ে দিলো শুনশান রাস্তা। কেউ নাই একেবারে ফাকা বৃষ্টিতে ভিজার কারনে কাপতে কাপতে অনিক বাড়ির দিকে রওয়ানা হলো। আল্লাহর নাম নিয়ে হাটতে লাগলো অনিক। ওর টর্চ লাইটটা নিভু নিভু করে জ্বলছে কিছুদুর যাওয়ার পর অনিক কিছু একটা অনুভব করলো। যেমন ওর পিছনে কেউ একজন আসছে অনিক পিছনদিকে তাকিয়ে লাইট ধরলো কিন্ত কই কেউ ত নাই মনের ভুল ভেবে অনিক আবার হাঁটা শুরু করলো কিন্ত সেই অনুভব টা কেউ আছে ওর পিছনে অনেক আবারো পিছনে থাকিয়ে দেখে কেউ নাই অনিক কিছু ভয় পেয়ে গেলো অনিক এবার দ্রুত হাঁটা শুরু করলো কিন্ত অন্ধকার রাত ওর লাইটের ব্যাটারীও ডাউন হয়ে যাচ্চে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে বাড়ি পৌছাতেই হবে। আরো কিছুদুর যাওয়ার পর অনিক একেবারে নিশ্চিত মনে সন্দেহ করলো ওর পিছনে কেউ আছে। অনিক ভয়ে ভয়ে পিছনে থাকালো। ওরে বাবারে এটা কি কোন খারাপ আত্মা?? পিছনে থাকিয়ে অনিক যা দেখলো তাতে ওর শরীর হিম হয়ে গেলো সে দেখলো কুচকুচে কালো চেহারার একটা মানুষ লাল চোখ ইয়া বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে খিক খিক করে হাসছে অনিক সেটা দেখে দৌড়াতে লাগলো দৌড়াতে দৌড়াতে নদীর ধারে এসে পৌছালো বেশী বৃষ্টির কারনে নদীর পানি এতো বেশী জোরে চলছিলো যে কোন যদি সাঁতার কেটে নদী পার হতে চায় তাহলে তার মৃত্যু অবধারিতো। অনেকটা পথ দৌড়ার কারনে অনিক ক্লান্ত হয়ে মাথা নিচু করে হাপাচ্চে আর ভাবছে সে নদী পার হবে কিভাবে অতিরিক্ত স্রোতের কারনে নৌকাটাও মাঝি নদীর পারে তুলে রেখে দিয়েছে। এরমধ্যে অনিক সেই হাসির শব্দ শুনতে পেলো। হিহ হিহ হিহ খিক খিক করে হাসছিলো সেই আত্মা। ভয়ে আবার অনিকের শরীর শীতল হয়ে গেলো নদীর পারের গাছে খস খস শব্দ হচ্চিলো। অনিক যখন গাছের উপর দিকে তাকালো তখন দেখলো সেই আত্তাটা যার ভয়ে সে দৌড়াচ্ছিলো। গাছের উপর ডালে গলায় দড়ি পেচিয়ে ঝুলছে আর কালো চেহারা লাল চুখ বড় বড় সাদা দাত বের করে হাসছে হিন্দুদের কালী মুর্তির জিব্হা বের করা কি বিভৎসো চেহারা নিয়ে হাসছে আর অনিক কে ডাকছে। অনিক এদিকে এসো অনিক এদিকে এসো কোথায় যাবে বাছাধন এই কথাগুলা বলেই ওই খারাপ আত্তা টা অনিকের সামনে চুখের নিমিষেই চলে আসলো। অনিক এবার বুঝতে পারলো যে এবার মনে হয় ওর আর বাড়ি ফেরা হবে না অনিক আর কোন কিছু না ভেবেই ওর হাতের ডান দিকের রাস্তায় দৌড়াতে থাকলো। বৃষ্টিতে বেজার কারনে তার পুরো শরীর টা অবস হয়ে গেছে তারপরে শরীরে সব শক্তি দিয়ে দৌড়াতে থাকে আর সেই আত্তা টাও পিছন পিছন যাচ্চে আর বলছে কতদুর পালাবি কত দুর পালাবি রে তুই। অনিক আরো জোরে দৌড়াতে থাকলো কিছুদুর যাওয়ার একটা মসজিদের ভিতরে ডুকেই অনিক বেহুশ হয়ে পড়ে গেলো আর ওই আত্তা টা মসজিদের ভিতর প্রবেশ করতে পারলো নাহ। মসজিদের ইমাম তখন বসে বসে কোরআন শরীফ পড়তেছিলেন উনি কিছু পড়ার আওয়াজ শুনে সামনের গিয়ে দেখতে পেলেন একটা ছেলে বেহুশ হয়ে পড়ে গেছে উনি তারপর অনিকের মাথায় মুখে পানি ছিটিয়ে দিলেন তার কিছুক্ষন পর অনিকের হুশ ফিরলো। এবং ইমাম সাহেব জানতে চাইলেন এত রাতে সে কোথা থেকে আসছে আর কেনোই বা বেহুশ হয়ে পড়ে গেলো। তখন অনিক ওই ইমাম সাহেব কে সব বিস্তারিতো ভাবে খুলে বললো অনিকের সব কথা শুনে ইমাম সাহেব ওকে বললেন ওটা একটা খারাপ আত্তা ছিলো তুমি কপাল ভালো যে তুমি মসজিদে ডুকে পড়েছো আর মসজিদে ডুকার কারনেই ওই আত্তা তুমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি। মসজিদ পবিত্র জায়গা এখানে কোন খারাপ আত্তা প্রবেশ করতে পারে না। তারপর ইমাম সাহেব ফজরের আজান দিলেন। অনিক কে সাথে নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। আস্তে আস্তে ভোর হলো তারপর অনিক বাড়ি ফিরে গেলো।সেই ঘটনার পর থেকে অনিক আর কেনদিন রাত করে বাড়ি ফিরেনি। [গল্প টা কেমন হলো সবাই কমেন্ট করে জানাবেন] (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সেই ভয়াল রাত

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now