বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
উদয় পাশে বসে চা খাচ্ছে।রাতে উদয়ের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়ে উঠে নি অরনিতার।খুব রাত করে বাড়ি এসেছিলো কাল।খেয়েই ঘুমিয়ে পরেছিলো।
সায়েম ভাইয়ার রুমে হৈ চৈ শোনা যাচ্ছে।স্বামী-স্ত্রী হয়তো আবারও ঝগড়া বাধিয়েছে।অরনিতা দেখতে যেতে চাইলো কিন্তু উদয় ওকে উঠতে দেখে বললো-
-তুমি ওখানে যেয়ো না অরনিতা।
-কেন যাবো না?
-তাদেরকে তাদের মতো করে ছেড়ে দাও।
-পারিবারিক ব্যাপারগুলো নিজেরা সংশোধন করতে হয়।বাহিরের মানুষের কাছে ব্যাপারটা ছড়িয়ে গেলে কি হতে পারে ভেবেছেন একবারও?
-অনেক ভেবেছি।ভাইয়াকেও বুঝিয়েছি।কিন্তু কোনো লাভ হয় নি।
-লাভ হয় নি বলে চুপচাপ বসে থাকবেন?আর বাচ্চা মেয়েটার কথা কি তারা একবারও ভাবে না?
-যাই হোক।তুমি ওখানে যাবে না।
-কেন আমাকে যেতে দিতে চাইছেন না!কাল ওরা পরীকেও মেরেছিলো।আপনার কি মনে হয় না মেয়েটা বাবা-মার কান্ড দেখে মানসিক দিক দিয়ে অসহায় হয়ে পরেছে?
উদয় চায়ের কাপ রেখে অরনিতার পাশে দাঁড়িয়ে বললো-
-সবার মন-মানসিকতা এক হয় না অরনিতা।তুমি তোমার দিক থেকেও ঠিকাছো।সব সম্পর্কের বীজ একভাবে বেড়ে উঠে না।কোনো কোনো সম্পর্ক যত্নের অভাবে মরেও যায়।তেল আর পানি এক সাথে মিশিয়ে দিলেও এর মিশ্রণ যেমন কখনো এক হতে পারবে না।তেমনিভাবে সায়েম ভাইয়া আর ভাবীকে ধরে নিতে পারো তুমি।আমি যতোটুকুই তাদেরকে দেখেছি তাদের মধ্যকার সম্পর্ক কখনওই ভালো ছিলো না।
অরনিতা নরম স্বরে বললো-
-আচ্ছা,আমিও কি আপনার সাথে মাঝেমাঝে খুব বেশী বাড়াবাড়ি করে ফেলি?
উদয় সামান্য হেসে বললো-
-পাগলী..তুমি তো আমার হিটলার বউ।সম্পর্কের শুরুটায় নিজেদেরকে আবিষ্কার করে নিতে হয়।না হলে ভালোবাসা জন্মাবে কি করে?
অরনিতা লজ্জিত ভঙ্গিতে বললো-
-আমি খুব ভাগ্যবতী।কারনটা জানতে চাইবেন না।বলবো না আপনাকে।
উদয় হাসতে হাসতে বললো-
-না বললে তোমার উপর টিকটিকি ছেড়ে দেয়া হবে।
-আমি টিকটিকি এখন ভয় পাই না।হুহ..
-যদি একটা টিকটিকি ধরে ছেড়ে দেই তোমার চুলে?
অরনিতা মুখ বাকিয়ে বললো-
-আমি রাগ করবো তাহলে।
-আমি রাগ ভাঙাতে জানি।
-যাই করেন না কেন আমার রাগ কখনোই ভাঙাতে পারবেন না।
হঠাৎ রুনা এসে রুমের দরজা ধাক্কাতে লাগলেন।ধাক্কাতে ধাক্কাতে বললেন-
-উদয়,জলদি আয়।
উদয় ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিলো।রুনা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন-
-সায়েমের বউ পরীকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।
উদয় স্বাভাবিক রইলো।উদয় এমনভাবে কথা বলতে লাগলো যেন ব্যাপারটা খুব সাধারণ।বিরাট কোনো সমস্যা না।উদয় বললো-
-এইটাই হওয়ার ছিলো মা।
-পরীকে সাথে করে নিয়ে যেতে দিস না।
-আমাদের কথায় কারো কিছু আসবে যাবে না।বরং সমস্যা আরও বাড়বে।আমি সায়েম ভাইয়াকে ঠান্ডা মাথায় খুব বুঝিয়েছি।ভাবীর সাথেও কথা বলেছি।কেউ কারো মুখ পর্যন্ত দেখতে চায় না।
অরনিতা বললো-
-পরীকে যেতে দেয়া যায় না।তার বাবা দাদার বাড়ি এইটা।দরকার হলে ভাবীর হাত পায়ে ধরবো তবুও পরীকে যেতে দিবো না।
উদয় বললো-
-এইরকম করেও কিছুই হবে না।উলটো ওরা মামলা করে পরীকে নিয়ে যাবে।
অরনিতা কিছু না বলেই রুম থেকে বেরিয়ে পরলো।
সায়েম ভাইয়া উঁচু আওয়াজে কথা বলে যাচ্ছে সাথে ভাবীরও গলার স্বরও পাওয়া যাচ্ছে।একজন আরেকজনকে যেভাবেই পারছে বলে যাচ্ছে।অরনিতা গিয়ে দেখলো পরী বসে বসে কাঁদছে।আলমারি থেকে কাপড় নিয়ে ব্যাগ গোছাচ্ছে বড় ভাবী।অরনিতা পরীর কাছে গিয়ে বললো-
-তুমি কার কাছে থাকতে চাও?তোমার আম্মুর কাছে নাকি আব্বুর কাছে?
অরনিতাকে দেখে সায়েম ভাইয়া আর বড় ভাবী থমকে গেলো।তারা অরনিতার দিকে বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।বড় ভাবী এসে অরনিতাকে বললো-
-প্লিজ।আমাদের ম্যাটার।কারো নাক না গলানোই ভালো।
অরনিতা বড় ভাবীর কথার কোনো জবাব দিলো না।সে পরীকে বলে গেলো-
-জবাব দেও পরী।তোমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।তুমি যা বলবে তাই হবে।বলো,তুমি কার সাথে থাকতে চাও?
পরী পিটপিট করে তাকিয়ে রইলো।অরনিতা আবার বললো-
-বলো..ভয় পেয়ো না।তুমি কি আমাদের সবার সাথে থাকতে চাও নাকি আম্মুর সাথে চলে যেতে চাও?
বড় ভাবী জোর গলায় বললেন-
-ইনাফ হয়েছে।খুব বলেছো।আর না।আমার মেয়েকে আমি নিয়ে যাবো।
অরনিতা তার কথা না শোনার মতো করে পরীকে আবারও বললো-
-বলো পরী।জবাব দেও।
পরী ভীত কন্ঠে বললো-
-দাদুর সাথে থাকবো।
অরনিতা বললো-
-তুমি আমার সাথে চলো পরী।চলো,তোমাকে তোমার দাদুর রুমে নিয়ে যাই।
মনে হচ্ছিল বড় ভাবী অরনিতার উপর রেগে যাবে।পরীকে জোরাজোরি করে তার সাথে করে নিয়ে যাবে।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এমন কিছুই হলো না।ব্যাগ গুছিয়ে সে তার মতো করে চলে গেলো।
.
.
জুইয়ের শরীর এখনো ভালো হয় নি।গায়ে জ্বর যায় নি।ভারী কাথা জড়িয়ে শুয়ে আছে সে।পাশে নিহিলা বসে আছে।বসে বসে নখ কাটছে।জুই লক্ষ্য করলো নিহিলা নখ কাটছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।জুই বললো-
-আপু,তুমি হাসছো কেন?
নিহিলা শুকনো গলায় বললো-
-কোথায় হাসলাম আবার?চোখে বেশী দেখছিস?
-আমি বেশি দেখি নি।তুমি হাসছিলে তখন।আমি স্পষ্ট দেখেছি।হাসির কি এমন ঘটেছে?
নিহিলা অভিনীত ভঙ্গিতে বললো-
-পাগলের মতো কথা বলবি না তো।আমি মোটেও হাসছিলাম না।
জুই সামান্য হেসে বললো-
-জানো আপু,তুমি ইদানীং একটু বেশীই সুন্দর হয়ে গেছো।
-স্কুলের টিচারদেরকে এইরকম বলিস।তারা তোকে পরীক্ষায় বেশী নাম্বার দিবে।একটু আধটু বাড়তি কথা বলে তাদেরকে ফুলিয়ে দিলে তারা খুশী হয়ে পাঁচ মার্ক বেশী দিয়ে দিবে।আমি তোর ক্লাসের টিচার না।আমাকে তোর বাড়তি কথা বলে ফুলিয়ে কোনো লাভ নেই।আমি পরীক্ষার নাম্বার দিবো না।
-আপু,আমি সত্যি বলছি।আমার কলেজের এক বান্ধুবী বলেছিলো যাদের বিয়ে ঠিকঠাক হয়ে যায় তারা দিন দিন আরও বেশী সুন্দর হতে থাকে।দিন যতো যায় তারা ততোবেশী রুপবতী হয়।তোমাকে দেখেই এর প্রমাণ পেয়ে গেলাম।
-এইরকম কিছু না।সবটাই মনের খেলা।কথাটা তখন শোনা মাত্রই তোর মনে গেঁথে গিয়েছিলো আর তাই আমাকে হঠাৎ করে দেখে তোর কাছে ওইরকমটা লাগছে।
-আপু,আরেকটা কথা বলবো?
-বল..
-কথাটা শোনার পর তুমি রেগে যাবে না তো?
-রেগে যাবো কেন?
-যা বলতে চাইছি তা শুনলে রেগে যেতে পারো তাই আগের থেকেই বলে নিচ্ছি।
-যেটা বলতে চাচ্ছিস সেইটা বলে ফেল।
-আপু,আমার কি মনে হয় জানো!রুমন স্যার তোমাকে খুব পছন্দ করে।
কথাটা শোনা মাত্রই নিহিলা চমকে গেলো।জুইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
-খুব বেশী পাকামো কথা বলিস।তোর কথা শুনে মেজাজ গরম হচ্ছে আমার।
-এইটা আমার অনেক আগের থেকেই মনে হয়েছিলো।কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এইটা শুধু আমিই বুঝতে পেরেছি।জবা আপু বোঝে নি।
-জবার মাথায় তোর মতো হাবিজাবি চিন্তা আসে না কখনো।
-হাবিজাবি কথা না।আমি সত্যি বলছি।স্যার যখনি আসে তখনি তোমার সম্পর্কে আমাকে আর জবা আপুকে এইটা ওইটা জিজ্ঞেস করে।
-জিজ্ঞেস করলে করতে পারে তাই বলে পছন্দ টছন্দ করে এমন কিছু না।লোকটা বেশ ভালো।ভালো মানুষদের সম্পর্কে না জেনে কোনো কথা বলতে নেই জুই।
-ঠিকাছে।বলবো না আর।
নিহিলা উঠে গিয়ে রুম থেকে চলে গেলো।জুইয়ের ইচ্ছে হচ্ছিলো নিহিলাকে রুমন স্যারের ব্যাপারে জবার দুর্বলতার কথাটা বলে দিতে।কিন্তু বললো না।রুমন স্যার নিহিলা আপুকে খুব বেশী পছন্দ করে তার ভাব দেখেই বিষয়টা স্পষ্ট বুঝেছিলো জুই।কিন্তু এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলা হয় নি।চিঠিটাও যদি জবা আপু রুমন স্যারকে দেখায় তবে রুমন স্যার এই সম্পর্ক কখনোই মেনে নিবে না তাও জুই জানে।চিঠিটা লুকিয়ে রাখার পেছনে কারন মূলত এইটাই ছিল।জবা আপুর একতরফা ভালোবাসা কখনো দুতরফায় পরিণত হবার মতো নয়।জবা আপু প্রথমে হয়তো খুব বেশী কষ্ট পাবে।কিন্তু পরে তার এই নামহীন ভালোবাসার নেশাও কেটে যাবে।
.
.
অরনিতা রুমে বসে আছে।পরী আছে রুনার সাথে।সায়েম ভাইয়াও রুমে বসে আছে।বাড়ির পরিবেশ খুব স্বাভাবিক।সবার আচরণও স্বাভাবিক।কেউ দেখলে বলবে না একটু আগে এই বাড়িতে বিশাল একটা ঝড় গিয়েছে।
অরনিতা আর উদয় চুপচাপ বসে আছে।একজন আরেকজনের সাথে কথা বলতে গিয়েও বলছে না।উদয় জানে অরনিতা মেয়েটা চুপ করে বসে থাকার মতো মেয়ে না।কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে আপনা আপনি মুখ ফুটে কথা বলে ফেলবে।নিরবতা কাটিয়ে উদয় বললো-
-তোমাকে একটা গল্প বলি শোন।
অরনিতা অন্যদিকে তাকিয়ে বললো-
-গল্প শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না।
-গল্পটা সায়েম ভাইয়াকে নিয়ে।
অরনিতা উদয়ের দিকে তাকালো।গল্প শোনার আগ্রহেই তাকিয়েছে হয়তো।উদয় বললো-
-সায়েম ভাইয়াকে দেখে যতোটা রোবট মানব লাগে।সায়েম ভাইয়া কিন্তু ততোটা রোবট মানব না।সে একসময় খুব মজার মানুষ ছিলো।তার পাশে কেউ মনমরা হয়ে বসে থাকতে পারতো না।মিনিটের মধ্যেই তাকে হাসিয়ে মারতো।গল্প এইদিকেই শেষ না।ভাইয়া গম্ভীর হয়ে যাওয়ার পেছনেও গল্প আছে।
-কি রকম?
-ভাইয়া তার ভার্সিটি লাইফে প্রেম করেছিলো।একটা মেয়েকে সে খুব ভালোবাসতো।আমি তখন স্কুলে পড়তাম।রাস্তায় মাঝেমাঝে ভাইয়াকে ওই মেয়ের সাথে দেখতাম।দুজন এক রিকশায় হাসাহাসি করে গল্প করতে করতে যেতো।
-এরপর কি হলো?মেয়েটা তাকে ঠকিয়ে চলে গিয়েছিলো?
-না।মেয়েটাও ভাইয়াকে খুব ভালোবাসতো।একদিন ভাইয়া আমাকে ওই মেয়েটার বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলো।আমি তখন ছোট ছিলাম।ক্লাস ফোর/ফাইভে পড়তাম।মেয়েটি খুব হাসিখুশি।আমরা যাওয়া মাত্রই চা বানিয়ে দিতো।ভাইয়ার সাথে বসে বসে গল্প করতো।আমার গালে হাত বুলিয়ে আদর করে দিতো।
-তোমার ভাইয়াকে তারা তাদের ঘরে ঢুকতে দিতো কি করে?মেয়েটির মা-বাবা কিছু বলতো না?
-মেয়েটির বড় বোনের বন্ধু ছিল আমার ভাইয়া।ভাইয়া প্রায়ই কোনো না কোনো বাহানা নিয়ে ওই বাড়িতে যেতো।ভাইয়াকে সারাক্ষণ ওই মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতেও দেখতাম।
-তারপর কি হলো?
-ভাইয়ার প্রেমের বিষয়টা তখন মা জানতো।বাবা তখন বেঁচে ছিলো।
-এরপর কি হয়েছিলো?তারা সম্পর্ক মেনে নি?
-হুম।ঠিক এমনটাই।সবাই জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর কেউ তাদের সম্পর্ক মেনে নেয় নি।এরপর ভাইয়া ওই মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলো।
অরনিতা চোখ বড় বড় করে বললো-
-কি বলছেন?সত্যি ভাইয়া মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়েছিলো?এরপর কি হলো?
-মেয়ের বাবা ভাইয়ার নামে কেস করেছিলো।এরপর তারা তাদের মেয়ের খোজ পেয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়ে আরেক জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়।আর বাবা টাকা দিয়ে মামলা থামিয়ে ভাইয়াকে বাড়ি নিয়ে আসে।
-কি সাংঘাতিক!
-ভাইয়া অনেকদিন যাবত নিজেকে নিজে গৃহ বন্দী করে রেখেছিলো।রুমের দরজা সারাক্ষণ বন্ধ করে বসে থাকতো।সিগারেট থেকে শুরু করে সব ধরনের নেশা দ্রব্য খেতো।বাবা ভাইয়াকে অনেক আগেই ত্যাজ্য পুত্র করে দিতেন।কিন্তু মায়ের জন্য তা কখনো করতে পারেন নি।ভাইয়া কখনো বিয়ে করতে চায় নি।মা খুব কান্নাকাটি করতেন ভাইয়ার জন্য।বাবা মারা যাওয়ার পাঁচ বছর পর ভাইয়া এই বিয়ে করে।
-ওহ..এখন আমি বুঝতে পারছি সব।
-তবে নতুন করে ভালোবাসতে জানলে অতীত ভুলে যাওয়া যায়।ভাইয়া হয়তো তা করতে পারে নি।
-আমারও তাই মনে হচ্ছে।
উদয় অরনিতার দিকে তাকিয়ে দেখলো অরনিতার গাল গড়িয়ে পানি পরছে।উদয় হেসে বললো-
-বোকা মেয়ে,তুমি কাঁদছো কেন?
অরনিতা কাঁদতে কাঁদতে বললো-
-জানি না কেন কাঁদছি কিন্তু আমার খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে।ভাইয়ার জন্য খুব খারাপ লাগছে।প্রকৃতি জীবনকে এতোটা আগোছালো করে কেন?বলতে পারেন?সায়েম ভাইয়ার জীবনে প্রকৃতি খুব অন্যায় করেছে।
-হয়তো করেছে।
অরনিতা উদয়ের দিকে তাকিয়ে বললো-
-আমি কি আপনার কাধে মাথা রেখে কিছুক্ষণ কাঁদতে পারি?
-কাঁদো।তবে যদি পারো একটু হেসে নিও।তোমার সাথে ঝগড়া করা হয় না এখন।চলো আজ দুজন মিলে ঝগড়া করি।
অরনিতা কান্না থামিয়ে হেসে ফেললো।
To Be Continued...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now