বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

অশ্রুজল

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান জাহিদুল ইসলাম (০ পয়েন্ট)

X প্রিয়ার সাথে আমার পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয়। বাসর রাতে তার প্রথম প্রশ্ন ছিলো, এ পর্যন্ত কয়টা প্রেম করছেন? ↓ আমি তার মুখের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম। আবার বলল, কয়টা প্রেম করছেন? আমি বললামঃ একটাও না। উত্তরটা শুনে প্রিয়া অনেক খুশি হয়েছিলো। ↓ প্রিয়াঃ এখন থেকে শুধু আমাকেই ভালোবাসবেন, অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকালে মেরে ফেলবো! সে আমাকে কতটা ভালবাসে বুঝেছিলাম সেই দিন।যেদিন আমি তার চাচাতো বোনের সাথে হেঁসে হেঁসে কিছুক্ষন কথা বলেছিলাম। ↓ সে আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না.... প্রিয়াঃ তোমাকে না বলেছি অন্য কোন মেয়ের সাথে কথা বলবে না। আমি মরে গেলে ইচ্ছেমত কথা বল ! তখন আর নিষেধ করবো না! তাঁর কাঁন্না দেখে আমি নিজেও কেঁদেছিলাম। ↓ হঠাৎ একদিন প্রিয়া আমাকে বললঃ আমি বাবা হতে চলেছি ! কথাটা শুনে আমি কত যে খুশি হয়েছিলাম তা বলে বুঝাতে পারব না! তাকে কোলে নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরেছিলাম। ↓ সে আমাকে প্রায়ই বলতো রান্না করার সময় তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে না থাকলে তার রান্না করতে ইচ্ছে করে না। ↓ আমি চেষ্টা করেছি তার সব আবদার হাসি মুখে পুরণ করার। বড্ড ভালবাসতাম তাকে। এখনও ভালবাসি। ↓ সে আমাকে বলতঃ আমাকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে তার ঘুমই আসে না। সারারাত জড়িয়ে ধরে থাকতো। তাই কোথাও গেলে যত রাতই হোক না কেন বাসায় ফিরে আসতাম। ↓ তখন সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, একদিন সে আমাকে জিজ্ঞেস করলঃ আমাকে ছাড়া তোমার কেমন লাগে? আমি তার কথা কোন উত্তর দিতে পারিনি শুধুই কেঁদেছিলাম। ↓ সে আমাকে প্রায়ই বলতঃ আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে তুমি আবার আরেক টা বিয়ে করো না যেন! মরে গিয়েও তোমাকে অন্য কারো হতে দিবো না। আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি আমাকে ভুলে যেওনা। তার কথা শুনে আমি নিরবে কেঁদে কেঁদে বালিশ বিজিয়েছি। ↓ মাঝে মাঝে ঘুমানোর সময় সে আমাকে বলতঃ আমাকে ছাড়া ঘুমানোর চেষ্টা কর। কারণ, বলা তো যায় না.......। আমি তখন তাকে আরও বেশি শক্ত করে জড়িয়ে ধরতাম।।। ↓ একদিন হঠাৎ তার প্রসব ব্যথা উঠল, সাথে সাথে তাকে এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল। প্রিয়াঃ আমার যদি কিছু হয়ে যায় প্লিজ আমাকে ভুলে যেও না! অনেক ভালবাসি তোমাকে। ↓ কথাটা শুনে কান্না ধরে রাখতে পারিনি। আমি বললামঃ তোমার কিছু হবে না, আমি তো আছি, তোমার কিছু হতে দিবো না আমি... ↓ প্রিয়াঃ শেষ বারের মতো একবার আমাকে বুকে জড়িয়ে নিবে? কথাটা বলেই হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলল। ↓ আমিও কান্না ধরে রাখতে পারি নি। সে আমাকে ছাড়তে চায়নি, জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো, আমিও কাঁদছিলাম।সবাই হা করে তাকিয়ে ছিল আমাদের দিকে। ↓ কিন্তু এটাই যে শেষ বার বুঝতে পারি নি আমি। বুঝতে পারলে কখনোই ছেড়ে দিতাম না। সে আমাকে বলেছিলঃ আমার সাথে তুমিও চলো আমার খুব ভয় করছে ! ↓ ডাক্তারকে আমি অনেক অনুরোধ করেছিলাম, আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকবো! কিন্তু আমাকে যেতে দিলো না। ↓ অপারেশন থিয়েটার থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। বাচ্চাকে পেলাম, কিন্তু তাকে আর পেলাম না! ↓ পাগলেন মতো তার কাছে ছুঁটে গেলাম, দেখলাম সাদা কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে রাখা হয়েছে। কাপড়টা সরাতেই জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে যাই! ↓ জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম তাকে খাটিয়াতে শুয়িয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর খাটিয়ার কাছে গিয়ে বললামঃ এই তুমি আমাকে ছেড়ে কোথায় যাও ? ↓ আমার রাতে ঘুম হয় না তোমাকে ছাড়া তুমি জানো না? তোমাকে না জড়িয়ে ধরলে আমার ঘুম হয় না তুমি জানো না? কেন চলে যাচ্ছো? ↓ এই উঠো উঠো অনেক তো ঘুমিয়েছ আর কত ঘুমাবে? আমার কথা মনে পড়ে না তোমার? ↓ এই তুমি না বলেছিলে আমার চোখের জল তুমি সহ্য করতে পারো না! এই দেখো আমি কাঁদছি.... ↓ এই উঠো, আরে উঠো না! প্লিজ উঠো! সে শুনলোই না আমার কথা, ঘুমিয়ে থাকলো! ↓ তাঁকে যখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন আমি পাগলের মতো আচরন করছিলাম। তবুও সে উঠলো না! আমাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেলো। ↓ সে আমাকে বলতোঃ যে দিন হারিয়ে যাবো সেই দিন বুঝবে কতটা ভালোবাসি তোমাকে! সত্যি সত্যিই সে আমাকে একা রেখে চলে গেলো.... আমার জীবন থেকে সে হারিয়ে গেলো..... কিন্তু তার ভালবাসা আমার স্মৃতিপটে রয়ে যাবে অম্লান। ↓ গত ০৮ বছর ধরে তার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।আমার ছোট্ট মেয়ে স্মৃতি আজ বুঝতে শিখেছে। আমাকে বলেঃ আব্বু তুমি আম্মুর জন্য আর কেঁদো না।তোমাকে আর কাঁদতে দিবো না আমি ! ↓ বলে চোখের পানি মুছে দেয়। আবার চোখ জলে ভরে উঠে, আবার মুছে দেয়। ↓ আমি গল্পটি লিখতে গিয়ে চোখের পানি আটকে রাখতে পারিনি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গোনাহগারদের অশ্রুজল
→ অশ্রুজলে সিক্ত ভাষা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now