বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
হেমন্ত ছেলেটির সাথে দেখা করার জন্য সকাল থেকেই বাহিরে বের হওয়ার সুযোগ খুঁজছে নিহিলা।বাসার সবাইকে স্বাভাবিক দেখাচ্ছে।বাহিরে যাওয়ার অনুমিত চাইলে প্রথমে সবাই হয়তো একটু আপত্তি করবে কিন্তু মামা হয়তো পরে ঠিকই যেতে দিবেন।এই বাড়ির প্রধান কর্তা হিসেবে সবাই মামাকেই মান্য করে।সুতরাং কোনো কিছুর ব্যাপারে অনুমিত চাওয়ার প্রশ্ন আসলে অবশ্যই মামার নাম সবার প্রথমে চলে আসে।তবে এক্ষেত্রে মামাকে মিথ্যা বলতে হবে।সত্যের মতো করে মিথ্যেটা বলতে হবে যেন মামা সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন।
নিহিলা তৈমুর সাহেবের কাছে গেলো।তৈমুর সাহেব বারান্দায় বসে খবরের কাগজ পড়ছেন।নিহিলা হাতে করে চায়ের কাপ নিয়ে এসেছে।নিহিলা তৈমুর সাহেবকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।তৈমুর খেয়াল করলেন নিহিলা দাঁড়িয়ে আছে এখনো।তৈমুর খবরের কাগজের দিকে তাকিয়ে নিহিলাকে উদ্দেশ্য করে বললেনন-
-কিছু বলবি?
নিহিলা ধীরস্বরে বললো-
-হ্যা
।
-বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছিসে কেন?যা বলার বলে ফেল।
-কিছুক্ষণের জন্য বাহিরে যেতে চাই।
-কারণ?
-আমার ফ্রেন্ডরা সবাই জানে আমার বিয়ে হয়ে যাবে তাই ওরা আমার সাথে দেখা করতে চাইছে।
-বন্ধু-বান্ধবও আছে তোর?
-থাকবে না কেন?
-বন্ধুবান্ধব থাকা ভালো।কিন্তু বন্ধুবান্ধবের সাথে বেশি মেলামেশা আমার পছন্দ না।
-শুধু আজকের দিনটাই।এরপর আর কখনো এমন কথা তুলবো না।
-বাহিরে বেশীক্ষণ থাকা যাবে না।বিয়ে ঠিক হয়েছে তোর।তোকে কেউ কোথাও দেখে ফেললে বিপদ।
-বেশীক্ষণ থাকবো না।ওদের সাথে দেখা করে আধা ঘন্টার মধ্যেই চলে আসবো।
-ঠিকাছে।যা তবে।আমি অপেক্ষা করবো।আধা ঘন্টার মধ্যে ফিরে না আসলে ছোট একটা শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
-কি শাস্তি?
-ওইটা এখন বলবো না।যখন হবে তখন বলবো।
নিহিলা তৈমুরের সাথে কথা বলেই চটজলদি উঠে পরলো।রুমে গিয়ে হেমন্ত ছেলেটিকে ফোন করলো সে।হেমন্ত ফোন ধরলো।
-হ্যালো..মিস নিহিলা
-আজ দেখা করতে পারবেন?
-হ্যা অবশ্যই পারবো।
-তাহলে এক কাজ করুন।যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব গ্যালারি পার্কে চলে আসুন।আমি সেখানে আসবো।শুধু আধাঘণ্টা আছে আমার হাতে।
-মাত্র আধাঘণ্টা?
-হ্যা।তাও অনেক বলে এই আধা ঘন্টা সময় পেয়েছি নয়তো তাও সম্ভব ছিল না।
-ঠিকাছে।আমি এখনি চলে আসছি।
.
নিহিলা বাসা থেকে খুব সাধারণভাবে বের হলো।অতি সাজসজ্জা করা যাবে না।নয়তো মামার সন্দেহজনক প্রশ্নে আটকে যেতে হবে।মামা অতি বুদ্ধিমান মানব।তার কাছে কিছু সহজে লুকিয়ে রাখা যায় না।
.
.
অরনিতা ঘুম থেকে উঠেছে।আজ খুব দেরী করে উঠেছে সে।উদয়কে আশেপাশে দেখা যাচ্ছে না।নিশ্চয়ই অফিসের জন্য বেরিয়ে পরেছে।অরনিতা পরনের শাড়িটা বদলে নিলো।কাল রাতের কথা ভেবে ওর নিজের কাছেই খুব হাসি পাচ্ছে।রুনার শাড়িটা পরে কাল খুব নাটক হয়েছে।তবে নাটকটাতে উদয় ভালো অভিনয় করতে পারে নি।উদয়ের জন্য নাটকের প্লটটি নষ্ট হয়ে গেছে।শাড়িটা ভাজ করে সে রুনার রুমে নিয়ে গেলো শাড়িটা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য।বিয়ের শাড়ি কারো না কারো স্মৃতি।এই স্মৃতি আগলে ধরে রাখার দায়িত্ব প্রতিটি বিবাহিত মেয়ের।কাজেই যতো হাল ফ্যাশনের শাড়ি হোক না কেন!এই শাড়ি ফেলে দিতে নেই কিংবা অন্য কারো কাছে রেখে দিতে নেই।অরনিতা রুনার রুমে গিয়ে দেখলো রুনা বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন।দেখে মনে হচ্ছে সে খুব অসুস্থ।অরনিতা রুনার পাশে বসে শাড়িটা পাশে রেখে বললো-
-আন্টি,আপনার কি শরীর খারাপ?
রুনা চোখ খুলে দেখলেন অরনিতা তার পাশে বসে কথা বলছে।তিনি জবাব দিলেন-
-তেমন কিছু হয় নি।আমি ঠিকাছি।
অরনিতা শাড়িটি দেখিয়ে বললো-
-আপনার শাড়িটা নিয়ে এসেছিলাম।
-কি করেছিলে এই শাড়ি দিয়ে?
-একটু পরে দেখেছিলাম।
-কয়েক যুগ আগের পুরোনো শাড়ি পরতে ইচ্ছে হলো?
অরনিতা হেসে বললো-
-আমার কাছে মোটেও মনে হয় নি যে এইটা পুরোনো ফ্যাশনের বিয়ের শাড়ি।তবে একটা ইন্টারেস্টিং কথা বলি আপনাকে।কাল যখন আমি এই শাড়িটি পরে আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে নিজে দেখলাম তখন আমাকে দেখতে ঠিক আপনার মতোই লাগছিলো।
রুনা অরনিতার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।অরনিতা বললো-
-আমি সত্য বলছি।ভাববেন না যে আপনার মন রাখার জন্য এই কথা বলছি।আপনি আমাকে দেখলে আপনিও চমকে যেতেন।
-শাড়িটা তোমার কাছেই রেখে দিতে।
-আমার খুব ভালো লেগেছে এই শাড়িটা কিন্তু আমি ইচ্ছে করেই নিজের কাছে রাখি নি।কারন হলো এইটা একটা স্মৃতি।আপনার বিয়ের স্মৃতি।
রুনা সামান্য হাসার চেষ্টা করলেন।আর বললেন-
-হালিমাকে গিয়ে বলো এক কাপ চা বানিয়ে আনতে।পরী হয়তো রুমে একা একা বসে আছে।ওকে দেখে রেখো।
-আপনি চিন্তা করবেন না আন্টি।আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।
-আরেকটি কথা শোনো,আমাকে 'আন্টি' ডেকো না।
-আমি ভুলে যাই।আরেক বার এই ভুলটা করলে আমাকে বকে দিবেন।প্লিজ।
হঠাৎ হালিমা এসে বললো-
-ছোট ভাবী আপনের ফোন বাজে।
অরনিতা ফোন হাতে নিয়ে দেখলো নিহিলা ফোন করেছে।অরনিতা ফোন ধরলো।
-কিরে নিহু..কি খবর?
-আমি এখন রিকশায়।ওই ছেলেটির সাথে দেখা করার জন্য বের হয়েছি।
-একা একা যাচ্ছিস!খুব সাবধানে যাবি।অনেকসময় দেখা যায় মেয়ে মানুষকে একা পেলে মানুষও পশু হয়ে যায়।যাওয়ার সময় হাতে করে একটা ক্লিপ বা সেপটিফিন নিয়ে বের হলে ভালো হতো।একটু উলটা পালটা আচরণ করলেই চোখ বন্ধ করে গুতা দিয়ে দৌড় দিতে পারতি।
-আমার মনে হয় না ছেলেটি ওইরকম টাইপের।এতো অভদ্র ছেলে বলে আমার মনে হয় না।
-তুই মানুষকে এতো সহজে কেন বিশ্বাস করিস!আমি হলে তো লুকিয়ে লুকিয়ে একটা ধারালো সেপটিফিন নিয়ে বের হতাম।
-ছেলেটি সাইকিয়াট্রিস্টদের মতো।লজিক খাটিয়ে বক বক করে বেশী।কিন্তু বাকি সব কিছু ঠিকঠাক আছে।
-আমি জানি তুই পটে যাচ্ছিস।এর জন্যই মানুষ তোকে পটাতে বেশি পছন্দ করে।
-এখন মেইন কথা শোন।ফ্রেন্ডদের সাথে দেখা করবো এই বলে অনুমিত নিয়েছি।আধাঘন্টা সময় হাতে নিয়ে বের হয়েছি।
-আধাঘণ্টা কেন?
--মামা বলেছে আধাঘণ্টা বেশি সময় কাটালে শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
-তোকে ভয় দেখানোর জন্য এই কথা বলেছে।তুই আধাঘন্টার চেয়েও বেশী সময় কাটাতে চেষ্টা করবি।ছেলেটির সাথে তোর সারাজীবন কাটাতে হবে।ছেলেটিকে ভালো করে জানার জন্য এখনো অনেক সময় আছে তোর হাতে।
-ঠিকাছে অরু।আমি এখন রাখলাম।
নিহিলা গ্যালারি পার্কে পৌঁছে গেলো।তবে আশেপাশে হেমন্তকে দেখা গেলো না।নিহিলা ফোন হাতে নিয়ে হেমন্তকে ফোন করলো।যতোবারই ফোন করলো ততোবারই ফোন বন্ধ পাওয়া গেলো।নিহিলা একা একা দাঁড়িয়ে রইলো।এদিকওদিক তাকিয়ে দেখে গেলো।সামনে পেছনে হেটে কিছুক্ষণ হেমন্তকে খোজার চেষ্টার করলো।কিন্তু হেমন্তকে আর পাওয়া গেলো না।নিহিলা ফোন হাতে নিয়ে আবারও কল করলো হেমন্তকে।কিন্তু ফোন এইবারও বন্ধ পাওয়া গেলো।বিশ মিনিটের মতো কেটে গেছে।একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না তার।চোখে বিন্দু বিন্দু পানি জমে গেছে।লোকজন তাকিয়ে থাকলে খুব বেশী ভয় লাগে।তখন তাদের চোখগুলোও কেমন যেন হিংস্র দেখায়।নিহিলার খুব অস্বস্তি লাগছে।মনে হচ্ছে মামাকে মিথ্যে বলে আসাটা মোটেও উচিত হয় নি তার।নিহিলা রিকশা ডেকে বাড়ি ফিরে গেলো।
.
.
অরনিতা হালিমাকে বললো-
-রুনা আন্টির জন্য চা বানাবো।আমাকে হেল্প করবে হালিমা?
হালিমা হাসি মুখে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।
অরনিতা আবার বললো-
-হালিমা,রুনা আন্টির যদি কিছু দরকার হয় তবে তুমি প্রথমে আমাকে জানাবে।আমার মনে হচ্ছে তার অসুস্থতা আজ সকাল থেকেই না।এর আগেও ছিল।
হালিমা বললো-
-কাইল রাতে আমারে বলসিলো তার সাথে ঘুমাইতে।রাত্রে তার অবস্থা আরও বেশি খারাপ ছিল।অনেক জ্বর আসছিলো তার।
-এখন থেকে আমাকে সব কিছু জানাবে।
অরনিতা হালিমাকে দিয়ে রুনার কাছে চা পাঠিয়ে দিয়ে পরীর রুমে গেলো।পরী শুয়ে আছে।অন্যসময় পরীকে হাসিখুশি দেখা যায় কিন্তু আজ ওকে কেমন যেন অন্যরকম লাগছে।অরনিতা হঠাৎ খেয়াল করলো পরী এক পাশের গাল লাল হয়ে আছে।লাল বর্নের হাল্কা ছাপ পরে আছে গালে।সাংঘাতিকভাবে লাল হয়ে আছে।অরনিতা চেঁচিয়ে বললো-
-সে কি!এইরকম হলো কি করে পরী?কেউ তোমাকে মেরেছে?
পরী কিছুই বললো না।অরনিতা ওকে জড়িয়ে ধরে বললো-
-আমাকে বলো কি হয়েছে?আমি কাউকে বলবো না প্রমিজ দিলাম।
পরী কিছুই বললো না।আগের মতোই অসহায়ের চোখে তাকিয়ে রইলো।
.
.
নিহিলা বাড়ি পৌঁছেছে।খুব রাগ হচ্ছে তার হেমন্ত ছেলেটির প্রতি।সে কি ইচ্ছে করে আসে নি নাকি সে মজা নিয়েছিলো।ভাবতেই রাগ চলে আসছে।নিহিলা তৈমুরের কাছে গেলো।তৈমুর তখন যেইভাবে হাতে খবরের কাগজ নিয়ে বসেছিলো এখনো একইভাবে বসে আছেন।নিহিলা বললো-
-মামা,আধাঘণ্টা হওয়ার পাঁচ মিনিট আগেই আমি চলে এসেছি।আমাকে পুরস্কার দিও।
-বন্ধুবান্ধব এর সাথে কথা হয়েছে?
-না।আমি কথা বলি নি।কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগছিলো না।তাই চলে এসেছি।
-খুব ভালো করেছিস।এখন সাবেরাকে গিয়ে বল আমার জন্য আরেক কাপ চা বানিয়ে আনতে।
নিহিলা চলে গেলো।সাবেরাকে চা বানানোর কথা বলে রুমে দরজা আটকে বসে রইলো।এতোটা মন খারাপ লাগার কথা না।কিন্তু তবুও খুব মন খারাপ লাগছে আর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছে।
To Be Continued...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now