বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
অরনিতা উদয়কে বললো-
-আপনি একটু বাহিরে যান তো..
-বাহিরে কেন যাবো?
-আমি আবার আগের মতো করে বসে থাকবো।বিছানায় পা বিছিয়ে নতুন বউয়ের মতো বসে থাকবো।এরপর আমি ওয়ান,টু,থ্রি বলার পর ভেতরে আসবেন।ধরুন আজই আমাদের বিয়ের রাত।আমি নব বধূ আর আপনি নব বর।
-এরপর কি হবে?শুনি?ওইদিনের মতো ঝগড়া শুরু করবে?
-ঝগড়ার কথা আসছে কেন?আমি কি ঝগড়া সম্পর্কে কোনো কথা বলেছি এখন?
-ঠিকাছে যাচ্ছি।রুমের বাহিরে বেশীক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না।
-যাস্ট দুই সেকেন্ড দাঁড়াতে হবে।ওয়ান টু থ্রি বলার পর সাথে সাথে রুমে ঢুকবেন।রুমের আসার পর এমনভাবে রিয়েক্ট করবেন যেন আজই আমাদের প্রথম কথা হতে যাচ্ছে।পুরোপুরি বাসর ঘরের মতো ফিলিংস থাকতে হবে।
-ঠিকাছে।
অরনিতার কথা মতো উদয় দরজা চাপিয়ে রুমের বাহিরে দাঁড়িয়ে রইলো।উদয় যাওয়ার পর অরনিতা ঘোমটা মাথায় দিয়ে মুখ ঢেকে ঠিকঠাক হয়ে বসলো।অরনিতা এইবার চেঁচিয়ে বললো-
-ওয়ান..টু..থ্রি..ভেতরে আসুন।
উদয় ভেতরে আসলো।অরনিতার পাশে বসে অরনিতার ঘোমটা উঠাতেই অরনিতা বললো-
-আপনি আসলেই একটা আনরোমান্টিক।রুমে এসেই ঘোমটা খুলছেন কেন?প্রথম একটু রোমান্টিক রোমান্টিক কথা বলবেন।এরপর ধীরে ধীরে ঘোমটা খুলবেন।আপনি ফেইল করেছেন।আবার বাহিরে যান।ওয়ান টু থ্রি বলার পর আবার ভেতরে আসবেন।এরপর বসে রোমান্টিক কথা বলে ঘোমটা খুলবেন।বুঝেছেন?
-একটা অভিনয় আবার করতে হবে?
-হ্যা করতে হবে।যতোবার বলবো ততোবার করবেন।
-তোমার কথায় কেন করবো?
-আমি আপনার বউ তাই করবেন।এখন কথা না বাড়িয়ে বাহিরে যান।এইবার কোনো ভুল করবেন না।
উদয় আবার রুমের বাহিরে গেলো।অরনিতা আগের মতো বসে বললো-
-ওয়ান টু থ্রি ভেতরে আসুন।
উদয় ভেতরে এলো।অরনিতার পাশে বসলো।এইবার রোমান্টিক কথা বলতে না পারলে মেয়েটি আবার প্রথম থেকে একই অভিনয় বার বার করাবে।উদয় বসে রইলো।সে রোমান্টিক কোনো গান বা কবিতা মনে করতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না।এই মুহূর্তে রোমান্টিক কোনো কিছুই মাথায় আসছে না।উদয়কে বসে থাকতে দেখে অরনিতা নিজেই নিজের ঘোমটা খুলে উদয়ের দিকে ভ্রু কুচকে তাকালো আর বললো-
-আপনি চুপচাপ বসে আছেন কেন?কিছু বলছেন না কেন?নতুন বউয়ের সামনে কেউ এইভাবে চুপচাপ বসে থাকে?
-আমার কোনো রোমান্টিক কথা মনে পরছে না।তাই বসে বসে মনে করার চেষ্টা করছি।
-আপনি তো আমার হাত ধরার জন্য অনুমিত চেয়েও দুই একটা কথা বলতে পারেন।আমি ঠিকই বলেছিলাম আপনি হচ্ছেন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ আন রোমান্টিক পার্সোন।
-এখন কি করতে হবে সেইটা বলো?এই মুহূর্তে আমার কোনো রোমান্টিক কথা মনে পরছে না।
-বুঝেছি।বাদ দিন এখন।আপনাকে দিয়ে কিছুই হবে না।
উদয় বললো-
-ভুল ধারণা তোমার।তুমি আমাকে এখনো চিনতেই পারো নি।রোমান্টিক কথা বলতে পারি না তাতে কি!রোমান্স তো করতে পারি..
-আপনি আবার শুরু করলেন!আমি আপনার কাছে রোমান্টিক কিছু কথা শুনতে চেয়েছি।বার বার রোমান্সের কথা বলে মেজাজের টেম্পারেচার হাই করে দিবেন না।
-ঠিকাছে দিবো না।বি কুল।
অরনিতা হাই তুলতে তুলতে বললো-
-আমার ঘুম পাচ্ছে।এক কাজ করুন আপনি বসে বসে রোমান্টিক কথা মনে করতে থাকুন।আমি ঘুমিয়ে পরি।মনে পরলে আমাকে ডেকে সজাগ করে শুনাবেন।
-এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাবে?সুন্দর একটা বাসরময় পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল।
-তৈরি হয়েছিল কিন্তু এখন আর নেই।আপনি ভেজাল করে দিয়েছেন।
-ঠিকাছে।আবার প্রথম থেকে শুরু করছি।আমি রুমের বাহিরে চলে যাই।তুমি ওয়ান টুন থ্রি বলার পর আমি আবার ভেতরে আসবো।এইবার কোনো ভুল হবে না।
অরনিতা হাই তুলতে তুলতে বললো-
-আজ আর সম্ভব না।আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।আমি শুয়ে পারলাম।
এই বলে অরনিতা শুয়ে পরলো।উদয় বললো-
-শাড়িটা তো বদলে নাও।আজ তোমাকে সত্যি বউ বউ-ই লাগছিলো।
উদয়ের কথা সে শুনলো কি শুনলো না তা স্পষ্ট বোঝা গেলো না।অরনিতা বালিশে মাথা রেখে শুয়ে পরলো।উদয় ওর দিকে তাকিয়ে রইলো।অরনিতার পাগলামো কান্ডগুলো দেখতে খুব বেশী ভালো লাগে।সবচেয়ে বেশী দারুণ লাগে তখন যখন মেয়েটি রাগ করে রাগান্বিত স্বরে আরও কিছু কথা শুনিয়ে যায়।
.
.
নিহিলা রুমে চুপচাপ বসে আছে।জবা আর জুই পড়ছে।আজও জবা পড়ছে টেবিলে বসে আর জুই পড়ছে বিছানায় বসে।জবার ইচ্ছে করছে আরেকটি চিঠি লিখতে।এইবার চিঠিটা লিখে সে এমন একটা জায়গায় লুকিয়ে রাখবে যেখানে জুই চিঠিটা কখনো খুঁজে পাবে না।
জবা একটি কাগজে আবার লিখতে বসলো।জবা শুরুতেই লিখলো:-আমার প্রিয় রুমন স্যার,এইবার আর 'শ্রদ্ধেয়' শব্দটি লেখার প্রয়োজন মনে করলো না।প্রেমপত্রের কেউ কাউকে 'শ্রদ্ধেয়' লিখে না।জবা তো একটি প্রেমপত্রের মতোই চিঠি লিখতে বসেছে তাহলে সে 'শ্রদ্ধেয়' কেন লিখবে!প্রথম চিঠিটা স্যারের হাতে না গিয়ে ভালোই হয়েছে।ছোটখাটো শব্দগুলো ঠিক করে লেখা যাবে।
জবা লিখলো:-
আমার প্রিয় রুমন স্যার,
আপনার পাগলী স্টুডেন্ট আজ একটা সিরিয়াস বিষয় জানাতে চাচ্ছে আপনাকে।একটা বিষয় কি জানেন!আপনি কিছুই খেয়াল করেন না।কোনো বিষয় গভীর দৃষ্টিতে খেয়াল করে দেখার মতো ক্ষমতা আপনার নেই।যদি থাকতো তাহলে আমাকে আর কষ্ট করে চিঠির মাধ্যমে আপনাকে সব কিছু গুছিয়ে বলা লাগতো না।আপনি নিজ থেকেই সবকিছু বুঝে নিতেন।যাই হোক,আমি যা লিখতে যাচ্ছি তার কোনো কিছুই মজা করে লিখছি না।সব কিছু মন থেকেই লিখবো।আমি আপনাকে খুব বেশী পছন্দ করি।ভালো লাগাটা অনেক আগের থেকেই কাজ করতো।হুমায়ূন আহমেদ স্যার বলেছিলেন "ভালোবাসাবাসির ব্যাপারটা হাততালির মতো।দুটা হাত লাগে।এক হাতে তালি বাজে না।অর্থাৎ একজনের ভালোবাসায় হয় না।" সুতরাং বুঝতেই পারছেন আমি কোন বিষয়টার প্রতি আপনার দৃষ্টি অাকর্ষণ করে যাচ্ছি।আমি আপনার জবাবের অপেক্ষায় থাকবো।
ইতি
আপনার অমনোযোগী স্টুডেন্ট জবা।
লেখা শেষ করে চিঠিটা এইবার সে জ্যামিতি বক্সে ভরে রাখলো।আর সেই জ্যামিতি বক্স ড্রয়ারে লক করে রাখলো।
.
নিহিলার ফোন বাজছে।নিহিলা ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখলো হেমন্ত ছেলেটি ফোন করেছে।নিহিলা ফোন হাতে নিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।
-হ্যালো..
অপরপ্রান্ত থেকে হেমন্ত বললো-
-হ্যালো..আপনি নিহিলা বলছেন তো!
নিহিলা হেসে বললো-
-ভয় পাবেন না।এইবার আমি-ই ফোন উঠিয়েছি।অন্য কেউ না।
-সমুদ্র দেখেছেন কখনো?
-হঠাৎ সমুদ্র নিয়ে কথা বলছেন কেন?
-একটা কিছুর প্লান করছি।
-কিসের প্লাস করছেন?
-হানিমুন।
-আগে বিয়ে তো হোক।
-আমি পূর্ব পরিকল্পনা করতে পছন্দ করি।আরেকটা কথা শুনলে আপনি হাসবেন।
-কি কথা?
-আমি আমার কল্পনায় আপনাকে নিয়ে হানিমুনে গিয়েছি।দুজনে সেখানে সমুদ্রও দেখেছি।সমুদ্রে পায়ের তালু ভিজিয়ে একজন আরেকজনের দিকে পানি ছিটিয়ে দিয়েছি।
নিহিলা হেসে হেসে বললো-
-আমার মনে হয় আপনি পাগল হয়ে যাচ্ছে।
-উহু..ভুল বলেছো।পাগলদের কোনো অনুভূতি থাকে না।যারা ভাবনার চিন্তার দিন রাত ডুবে থাকতে পারে তাদের অনুভূতি খুব বশী প্রশস্ত হয়।
-আপনি সবসময় কেন সাইকিয়াটিস্ট্রিক কথা বলেন!বলুন তো..
-আমি কিন্তু মোটেও সিরিয়াস টাইপ মানুষ না।আমাকে দেখে খুব বেশী সিরিয়াস টাইপ মানুষ মনে হয়।তাই না!কিন্তু আমি খুব বেশী ফান করতে পছন্দ করি।কিন্তু আপনাকে দেখে আমি এই পর্যন্ত যতোটুকুই বুঝেছি আপনি ঠান্ডা মেজাজের মানুষ।
নিহিলা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বললো-
-সময় সবসময় এক থাকে না।মানুষকে এক সময় বদলে যেতে হয়।আমি আগে খুব চটপটে স্বভাবের মেয়ে ছিলাম।কিন্তু এখন একটু বেশীই গম্ভীর হয়ে পরেছি।
-ঠিকাছে বাদ দিন।আপনাকে বলেছিলাম আপনার কন্ঠটা খুব বেশী মধুর।আপনি গান না শিখে ভুল করেছেন।আপনি যদি গান শিখতেন তাহলে এতোদিনে একজন বড় মাপের শিল্পী হয়ে যেতেন বলে আমার ধারণা।
নিহিলা হেসে বললো-
-আপনি লজ্জা দিচ্ছেন।খুব বেশি লজ্জা পেলে আমি কিন্তু কথাও বলতে পারি না।কথা বলতে গিয়েও উচ্চারণে গরবর করে ফেলি।মাঝেমাঝে নখ দিয়ে দাঁত কাটতে থাকি।
হেমন্ত হেসে বললো-
-বুঝতে পেরেছি।আপনি খুব বেশী লজ্জা পেয়েছেন।লজ্জা পেয়ে উচ্চারণে গরবরও করে ফেলেছেন।মানুষ দাঁত দিয়ে নখ কাটে।নখ দিয়ে দাঁত না।
নিহিলা হাসতে হাসতে বললো-
-দেখলেন তো!আবারও গরমিল করে ফেলেছি।আমি আমার অভ্যাস থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারি না।
-কাল কি বাসা থেকে বের হতে পারবেন?
-আমি চেষ্টা করবো বের হওয়ার।তবে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা।
-আপনার সাথে দেখা হলে ভালো হতো!
-কেন ভালো হতো।এখন যেমন কথা বলছি দেখা হলেও শুধু কথাই হতো।যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক যোগাযোগের পার্থক্য শুধু তো এইটুকুই যান্ত্রিকে না দেখে অনুভব করে কথা বলা যায় এবং অযান্ত্রিকে সামনাসামনি।
-উহু।দুইটার পার্থক্য আকাশ পাতাল।হয়তো এখনো বুঝেন নি।
-ঠিকাছে।আরেকদিন বুঝবো আপনার কাছ থেকে।
নিহিলার কাছে হঠাৎ মনে হলো নিহিলার পেছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে।নিহিলা পেছনে তাকিয়ে দেখলো রোকসানা দাঁড়িয়ে আছেন।নিহিলা হেমন্তকে বিদায় না জানিয়েই ফোন কেটে দিলো।নিহিলা রোকসানার দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করে বললো-
-মা,তুমি?কিছু বলবে?
রোকসানা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন-
-না।কিছুই বলতে আসি নি।তোকে একটু দেখতেই এসেছিলাম।
-চলো,তোমার সাথে বসে গল্প করবো।
রোকসানা মুচকি হেসে বললেন-
-আমার সাথে গল্প করা লাগবে না।তুই যার সাথে গল্প করছিলি তার সাথেই কর।
নিহিলা কিছুটা লজ্জা পেলো।রোকসানা আবারও বললেন-
-হেমন্ত ছেলেটি তোকে ফোন করেছিলো।তাই না!
নিহিলা হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।রোকসানা বললেন-
-লজ্জা পাচ্ছিস কেন?ছেলেটির নাম্বার এনে তোকে দেয়া হয়েছে কথা বলার জন্যই।
এই বলে রোকসানা চলে গেলেন।নিহিলা বারান্দা থেকে রুমে গিয়ে দুই গ্লাস পানি খেলো।চোর চুরি করার পর ধরা পরার মতো অনুভূতি কাজ করছে নিহিলার।নিজেকে সামলে নিয়ে আবার নিজেই হেসে উঠলো।জুই নিহিলাকে হাসতে দেখে বললো-
-আপু,তুমি হাসছো কেন?
নিহিলা হাসি থামিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসে বললো-
-হাসছি না আমি।পড়া রেখে আমার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন!
জুই কিছু না বুঝেই পিট পিট করে তাকিয়ে রইলো নিহিলার দিকে।
To Be Continued..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now