বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টম & জেরি পর্ব(২)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X ক্রিং…! ক্রিং…! -:- হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম…! -- তুই একটু বারান্দায় আসবি…? -:- কি রে নীলাদ্র এতদিন কোথায় ছিলি…? এটা কার নাম্বার…? -- সব বলছি…আগে বারান্দায়তো আসবি… . (দৌড়ে বারান্দায় গেলাম।আমি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম নীলাদ্র কে দেখবো বলে।নিলাদ্রের হাতে নিভু নিভু করে জ্বলন্ত একটা ফানুশ।আর ফানুশ টাতে লিখা “হ্যাপি বার্থ ডে জেরী”।আজ যে আমার জন্মদিন ছিল আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম।কারন নীলাদ্র ছাড়া কেউ আমায় এত কেয়ার করে না।তার উপর জন্মদিন মনে রাখাতো অকল্পনীয়।ফানুশ টাকে নীলাদ্র আকাশে ছেড়ে দিয়েছে।আকাশটাকে সাক্ষী করে আমার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে,সাথে জানান দিচ্ছে আমার ভালোবাসার...না শুধু আমার না ,আমাদের ভালোবাসা।আমি “হল” থেকে নীচে নামলাম । নীলাদ্র দাঁড়িয়ে আছে ফুল হাতে ।আমার প্রিয় ফুল,নীল গোলাপ ।সাথে কিসের যেন একটা বক্স।) . --“হ্যাপি বার্থ ডে টু মাই সুইট হার্ট জেরি” আয় কেকটা কাটি...। . (এতক্ষনে বুঝলাম বক্সটাতে কেক আর ছুরি ছিলো।সবকিছুই যেন স্বপ্ন মনে হচ্ছে ।কে জানে এই না, ঘুম ভাঙলো মনে হয়।যাই হোক স্বপ্ন হলে স্বপ্ন!সত্যি হলে সত্যি! যেহেতু ভালো লাগছে তা হলে না হয় একটু দেখি ) . -- কিরে বিন্তি কি হয়েছে তোর...?এইভাবে তাকিয়ে আছিস কেন...? -:- বুঝতেছি না এগুলো সত্যি না আমার কল্পনা...! -- হয়েছে আর আদিখ্যেতা দেখাতে হবে না।এইবার কেকটা কাটি। . (কেক কাটা শেষ।আমরা বসে আছি হলের সামনে পুকুর পাড়ে।জোৎস্না বিলাস উপভোগ করছি সাথে আমার সউলমেট। . -:- এতদিন কোথায় ছিলি নীলাদ্র...? আমাকে একবার ও খুজতে আসিস নি ...? তোকে ছাড়া এই সাত দিন যেন সাত বছর হয়ে কেঁটেছে । -- আমি গ্রামের বাড়ী গিয়েছিলাম। -:- আমাকে তো বলে যেতে পারতিস,তাহলে তো এত টেনশন হতো না। -- আমার জন্য তুই আবার টেনশনও করিস? হোয়াট এ প্লিজেন্ট সারপ্রাইজ। -:- ভালো হচ্ছে কিন্তু..! -- ওকে,যা হয়েছে বাদ দে। . (বিনা বাক্যেই হাতটা বাড়িয়ে দিলাম।কারন আমি নীলাদ্রকে হঠাৎ করে কাছে পেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম।নীলাদ্র আমাকে আরো অবাক করে দিলো) . -- এই আংটি’টা মরন অবধি তোর সাথে রাখবি।এইটা হলো আমার বাসায় তোর প্রবেশের ফারমানেন্ট টিকিট ।এখন অনেক রাত ,তাই কাল সকালে আমার বাসায় যাবি ।আমার বাবা-মাকে পা ধরে সালাম করবি।আর এখন আমি আসি। . (সকালে ঘুম থেকে উঠেই আংটি’টা চোখে পড়লো।তার মানে আমার সাথে কাল রাতে যা হয়েছে তা স্বপ্ন নয় ।পুরোটাই আমার সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম সত্য। . . [পরের দিন আমি নিলাদ্রকে নিয়ে তাদের বাসায়ও গিয়েছিলাম।অসামাজিক মেয়ের সামাজিক কার্যক্রম গুলো ঠিক ভাবেই পালন হয়েছে।নীলাদ্র সাথে থাকে পালন না হয়ে কি উপায় আছে ।যা ফল সরুপ আমাদের বিয়ে আমার আর নীলাদ্রর বিয়ে] . . আজ বিয়ের রাত।অনেক স্বপ্ন দেখতাম এই রাত কে ঘিরে।আজ আমি সামাজিক ভাবে সীকৃত নীলাদ্রের বেটার হাফ।নীলাদ্রের আত্মার সঙ্গী যাকে সউলমেট বলে ।কখনো ভাবি নি কারো স্ত্রীর মর্যাদায় বদ্ধ শিকলে আবদ্ধ হব।কিন্তু এখন আমি সেই শিকলে আবদ্ধ।আমার নাক ফুল আর হাতের চুড়িই বলে দিচ্ছে আজ আমি সামাজিক শিকলে আবদ্ধ যার অবসান হবে মৃত্যু দিয়ে। নীলাদ্রের বাড়িটা কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা।“নিগার”আপু আর তার শশুর বাড়ির লোকজন ছাড়া তেমন কেউই নেই। . (হঠাৎ নীলাদ্র রুমে প্রবেশ করলো।নীলাদ্র আসায় যেই মেয়ে গুলো মৌমাছির মত আমার ঘিরে রেখেছিলো তারা উঠে চলে গেল) . -- শাড়ী চেন্জ করে অজু করে আসো। . (আমি এখন থেকে নীলাদ্রের সব কথাই মেনে নিই।গত কয়েকদিনে নীলাদ্রের ছেলে মানুষি গুলো একেবারেই চলে গিয়েছে।কথার ভেতর কেমন যেন একটা গাম্ভির্য্য চলে এসেছে।এখন দেখলে বুঝাই যায় না নীলাদ্র একসময় এতো ছেলে মানুষি করতো) . আমরা ঈশার নামাজ একসাথে পড়লাম।সাথে দুই রাকাত নফল নামাজ ও। আর দু’জন মিলে সুখী থাকার সপথ করলাম।আর নীলাদ্রকে ছুঁয়ে প্রমিজ করলাম ,সেই কলঙ্কিত জীবনে আর ফিরে যাব না। এতে যদি মৃত্যুও আসে মেনে নেব।কারন যেই ছেলেটা ছেলেটা আমাকে সমাজে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে তার জন্য আমি এতটুকু করতেই পারি।এতটুকু করা আমার কর্তব্য। . . সংসারে সবাই আমাকে মাথার মণি করে রেখেছে। বাবা-মা আমাকে কখনোই মা-বাবার অভাব বুঝতে দেয় নি। সৃষ্টি কর্তা যেন সুখীদের কাতারে আমাকেও অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছে। স্বপ্নের সুখগুলো বাস্তবতার রুপ নিচ্ছে। আমি যেমন তাদের পেয়ে বাবা-মা'য়ের অভাব পুরন করেছি, ঠিক তেমনি তাদের মেয়ের অভাবটাও আমি পুরন করেছি। এই সংসার টা যেন সোনায় সোহাগা। নীলাদ্রের ভালোবাসার্ব যেন কোনো কমতি নেই। যার ফল সরুপ আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমার ভেতর একটু একটু করে বেড়ে উঠছে আমাদের ভালোবাসার ফসল। এ যে আমার ভেতর অন্য এক আমি। আমার যত্নটাও যে আগের থেকে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। . . -- ফুফু...! ফুফু...! -- আরে আনিতা...! কেমন আছিস মা? -- এইতো ভালো। তোমরা কেমন আছো? নীলাদ্র কোথায়? ওকে দেখছি না যে? -- ওতো অফিসে। বিন্তি...! বিন্তি মা...! একটু এদিকে এসো তো । -:- হ্যাঁ, আসছি মা। -- এই যে আনিতা, ও বিন্তি, নীলাদ্রের বউ। বিন্তি ও আনিতা। আমার ভাইয়ের মেয়ে। -- কেমন আছো বিন্তি? -:- জ্বী, আলহামদুলিল্লাহ্। আপনি? -- আমিও ভাল। -:- আপনি আমাদের বিয়েতে আসেন নি কেন? -- সে অনেক কথা। সময় হলে বলবো। -:- আচ্ছা, ঠিক আছে আপু। -- তুমি আমাকে আপু বলছো কেন? আমি নীলাদ্রের ছোট। কিন্তু নীলাদ্রকে নাম ধরে ডাকতেই বেশী ভালোবাসি। আর তুমি আমাকে আনিতা ডাকবে, কেমন? -:- জ্বী আপু। -- আবার...!!! -:- আচ্ছা আনিতা। . . পরিচয়ের বিশেষ পর্বটা শেষ।আনিতা আপু আর আমার মাঝে ভালোই বন্ধুত্ত হল। আমাদের গল্পের অন্যতম নায়ক নীলাদ্র। গল্পের প্রাই ৮০% কথাই নীলাদ্রকে নিয়ে। নীলাদ্র এই করতো ঐ করতো। তার কথা বার্তায় এক প্রকার আমাকে বুঝিয়ে দিলো যে, নীলাদ্র আনিতা আপুকে ভালোবাসতো। কথা গুলো শুনে হঠাৎ করেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। . . -:- আনিতা আপু...! আমি এখন যাই। শরীরটা কেমন যেন করছে। -- আচ্ছা যাও। আমি কি তোমাকে সাহায্য করবো রুম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে? -:- না, থাক আমি একাই চলে যেতে পারবো। -- আচ্ছা চল। আমি তোমার রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিই। এই সময় একটু সাবধানে থাকা উচিৎ। . . [ আনিতা আপুর আদিখ্যেতা গুলো একন কাঁটার মত বিঁধছে কলিজায়। তাই মিথ্যা শরীর খারাপের কথা বলে উঠে এসেছি। কারন নীলাদ্র কে নিয়ে তার ভালোবাসার গল্প শুনতে আমি মোটেও প্রস্তত নই। ] . . -- কি হয়েছে বিন্তি? এই অবেলায় শুয়ে আছো যে? তোমার কি শরীর খারাপ? (নীলাদ্র) -:- না, আমি ঠিক আছি। আমাকে নিয়ে তোমার এত টেনশন করতে হবে না। -- তোমাকে নিয়ে টেনশন না করলে, কাকে নিয়ে টেনশন করবো? -:- যাকে ইচ্ছে তাকে নিয়ে করো। আমাকে নিয়ে করা লাগবে না। -- এইভাবে কথা বলছো কেন? -:- কিভাবে কথা বলছি? -- তোমার কথায় মনে হচ্ছে তুমি আমার গায়ে পড়ে জগড়া করতে চাইছো? -:- হুম, তাইতো মনে হবে। আমার কথা এখন ভালো লাগবে কেন? -- দেখ বিন্তি, অফিস থেকে এসে তোমার ঐ শ্রাবন মাসের মেঘ যুক্ত আকাশের মত চেহারা একদমই দেখতে ইচ্ছে করছে না। -:- হুম, আমি কি জোর করেছি যে আমার দিকে তাকিয়ে থাকো। -- দূর, অসহ্য। -:- আরে যাও যাও তোমার হেমন্তের ফুল নিচে ফুটে আছে। -- মানে কি বিন্তি? এই সব এর কোনো মানেই হয় না। . . [ নীলাদ্র চলে গেল রুম থেকে। আমি অঝোর কেঁদেছি। চোখগুলো ১০ টাকার মারবেল এর মত হয়ে গেছে ]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now