বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখিকা - Polok Hossain
পলক হোসাইন
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
জবা আর জুই শুয়ে পরেছে।নিহিলার চোখে ঘুম স্পর্শ করছে না।নিহিলা তাকিয়ে আছে।ফোনটা বালিশের কাছে নিয়ে শুয়েছে।হেমন্তর নাম্বার আছে ফোনে।ছেলেটিকে কি একটিবারের জন্য কল দিয়ে কথা বলবে নাকি কথা না বলাটাই ভালো হবে।মনের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।কিছুক্ষণ চিন্তার জগতে ডুবে রইলো নিহিলা।অবশেষে ফোন হাতে নিয়ে হেমন্তর কাছে কল করেই ফেললো।হেমন্ত ফোন ধরলো।তবে কন্ঠ স্বর শুনে মনে হচ্ছে সে ঘুমুচ্ছিলো।ঘুমের মাঝে ফোন আসায় সে তার কাচা ঘুম ভেঙে ফোন তুলেছে।নিহিলার কথা বলতে কেমন যেন অস্থির লাগছে।হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে।সামনাসামনি কথা বলার সময় তো এইরকম অনুভূত হয় নি তবে যান্ত্রিক মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে এইরকম অস্বাভাবিকতা দেখা দিচ্ছে কেন কে জানে!নিহিলা কাপা কাপা কন্ঠে বললো-
-হ্যালো..
অপরপ্রান্ত থেকে ঘুমন্ত কণ্ঠস্বর এর জবাব এলো-
-কে বলছেন আপনি?
নিহিলা বললো-
-আপনি কি হেমন্ত?
-আগে বলুন আপনি কে?
-আমি নিহিলা বলছিলাম।চিনতে পেরেছেন?
কথাটা শুনেই হেমন্তর কণ্ঠস্বর ঘুমন্ত থেকে ভারী আওয়াজে পরিণত হলো।হেমন্ত বললো-
--আপনি হঠাৎ কল দিবেন তা আসলে আমার ধারণায় ছিল না..কিছুটা অবাক লাগছে।
-আপনি কি ঘুমুচ্ছিলেন?ঘুমের ডিস্টার্ব করে থাকলে ফোনটা রেখে দেই।আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমান।
-না,আমি ঠিকাছি।এখন আর ঘুম আসবে না আমার।
-খামাখা আপনাকে ফোন করে জাগিয়ে দিলাম।যদি জানতাম আপনি এই সময়ে ঘুমিয়ে থাকেন তাহলে কল দিতাম না।
-অসুবিধে নেই।রাত জাগার প্র্যাক্টিস করছি আমি।
-সে কি!রাত জাগার প্র্যাক্টিস করছেন কেন?
-বিয়ের পূর্ব প্রস্তুতি।
-বিয়ের সাথে রাতজাগার সম্পর্ক কি?
-খুবই নোংরা একটা লজিক।আপনাকে বলা যাবে না এখন।বিয়ের পর বলা যেতে পারে।
-ওহ..আচ্ছা।
-আপনি কখন ঘুমান?
-রাত জাগার অভ্যাস আছে আমার।ঘুমের কোনো ঠিকঠিকানা নেই।
-মেয়েদের জন্য রাতজাগাটা সিম্পল ব্যাপার।দেশে নব্বই শতাংশ মেয়ে বিনাকারনে রাত জাগে।
-নতুন একটা তথ্য জানলাম আপনার কাছ থেকে।
-এইটা একটা সস্তা তথ্য।কেননা এই তথ্যের গবেষক আমি নিজে।
-আচ্ছা,একটা কথা জিজ্ঞেস করি?আমি তখন আপনাকে যেই ফালতু প্রশ্নগুলো করেছিলাম আপনি কি আমার কথাগুলোতে সত্যি কিছু মনে করেন নি?
-আমি তো বললাম আমি কিছুই মনে করি নি।প্রশ্নগুলো করায় ভালোই হয়েছে।সেই সুযোগে আপনার ব্রেইন পড়তে পেরেছি।
-ব্রেইন পড়ে কি পেলেন?
-ব্রেইন পড়ে এইটাই পেয়েছি যে আপনি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে আমাকে প্রশ্নগুলো করেন নি।
-আপনি খুব বুদ্ধিমান।আসলেও প্রশ্নগুলো করার পেছনে আমার বাজে কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না।আমার এক বান্ধুবীর পরামর্শে আমি বলেছি।
-ওসব কথা থাক।ইচ্ছে ছিল আপনার সাথে আরেকটু কথা বলে নেয়ার কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠলো না।
-যদি সুযোগ হয় তখন কি কথা বলবেন?
-যখন সুযোগ হবে তখনি বলবো।
-যদি বলি,আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই।তখন সেই সুযোগ নিশ্চয়ই পেয়ে যাবেন..
হেমন্ত উল্লসিত কণ্ঠে বললো-
-অফকোর্স।কিন্তু জানেন-ই তো আমি আপনার মামার কাছে এর জন্য পারমিশন চেয়েছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে পারমিশন দেন নি।
-সেটা নিয়ে ভাববেন না।আমি অন্য কিছুর কথা বলে বাসা থেকে বের হতে পারবো।
-গুড আইডিয়া।বাট আপনি পারবেন তো?
-হ্যা পারবো।এইটা কোনো ব্যাপার না।আমি সত্যের মতো করে মিথ্যাে বলতে পারি।এখন আমি রাখি।আপনি ঘুমিয়ে পরুন।
-আমার ঘুম কেটে গেছে।কাজেই এখন আর আমি ঘুমাচ্ছিনা।আপনার ঘুম পেলে ফোন রেখে দিতে পারেন।
-না।আমারও ঘুম পায় নি।
-চমৎকার।কখনো প্রেম করি নি তো তাই রাত জেগে ফোনালাপের এক্সপিরিয়েন্সও নেই।
-আমরা তো প্রেম করছি না।আমরা শুধু বন্ধুর মতো একজন আরেকজনের সাথে কথা বলছি।
-প্রেম করি নি কিন্তু বিয়ের পর তো করবো।বিয়ের আগে যা বাদ পরেছে তা বিয়ের পর করবো।যেমন ধরুন,আমরা মেরিড কাপল।কিন্তু আপনি ঘুমাবেন অন্য রুমে,আর আমি ঘুমাবো আরেক রুমে।এরপর আলাদা রুমে থেকে দুইজন দুইজনের সাথে রাত জেগে প্রেমিক-প্রেমিকার মতো ফোনে কথা বলবো আর প্রেম করবো।যেমনটা বিয়ের আগে হয় নি তা হবে বিয়ের পর।
নিহিলা সামান্য হেসে বললো-
-বিয়ের পর দুজন পালিয়ে আবার বিয়ে করবো।প্রেমিক-প্রেমিকারা যেখানে পালিয়ে বিয়ে করে আমরা সেখানে স্বামী-স্ত্রী হয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সেই অভিজ্ঞতা নেবো।কেমন হবে?
-এইটা জোশ হবে।সব কিছুর ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা থাকা জরুরি।
-বিয়ের পর আমাদের যেই লাভ স্টোরি শুরু হবে তার নাম আমি দিবো 'বৈবাহিক প্রেম।'কেমন হয়েছে নামটা?
হেমন্ত হেসে হেসে বললো-
-সুন্দর নাম।তবে লাভ স্টোরিতে একটা ভিলেন থাকা চাই।
-আমাদের লাভ স্টোরি হবে ভিলেন মুক্ত।ভিলেন থাকলে ঝামেলা।মাঝখানে এন্ট্রি বসিয়ে হামলা করতে চাইবে।যা আমার একটুও পছন্দ না।মুভিতে একজন ভিলেন থাকলেই আমার অসহ্য লাগে।মনে হয় টিভি স্ক্রিনের সামনে বসেই ভিলেনকে খুন করে নায়ক-নায়িকাকে এক করে ফেলি।
হেমন্ত হেসে বললো-
-ভালো বলেছো।তবে ভিলেন ছাড়া লাভ স্টোরি হচ্ছে লবণ ছাড়া ভাত।
নিহিলার হাই তুলতে তুলতে বললো-
-আপনার সাথে কবে দেখা করতে পারবো তা আমি আপনাকে পরে জানিয়ে দিবো।অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে।যদিও মামা রাগী মানুষ না।তবুও মানুষের মনে রাগ উৎপন্ন হতে খুব কম সময় লাগে।একবার মামার কাছে ধরা পরে গেলে আমার রক্ষা নেই।
-ঠিকাছে।যখন বাসা থেকে বের হতে পারবেন তখনি আমাকে ফোন করে জানালেই হবে।আমি চলে আসবো।
-জি আচ্ছা।ফোন রাখি এখন।
-আরেকটু পর যদি রাখতেন..
-কিছু বলবেন?
হেমন্ত আমতা আমতা করে বললো-
-ঠিকাছে।রেখে দিন।রাত হয়েছে।ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।ব্রেন ঠান্ডা থাকে।মাথা চিন্তা মুক্ত থাকে,চোখের রেস্ট হয়।
-থামুন..এসব আমি জানি।এখন রেখে দিলাম।বাই।
হেমন্তর ইচ্ছে ছিল আরেকটু দীর্ঘ সময় নিয়ে নিহিলার সাথে কথা বলার কিন্তু তা আর সম্ভব হলো না।নিহিলার ফোন কেটে দেওয়ায় তাকেও বাধ্য হয়ে ফোন রেখে দিতে হলো।
জবা আর জুই এতোক্ষণ চোখ টিপে ঘুমিয়ে পরার ভান করে শুয়েছিলো।এতোক্ষণ নিহিলার ফোনালাপ শোনার চেষ্টা করে গেছে দুজন।নিহিলা ফিসফিসিয়ে কথা বলায় কিছু কিছু লাইন মিস করে ফেলেছে তারা।কিন্তু এর মাঝে যাই শুনেছে খুব মনোযোগ দিয়ে চুপচাপ শুনেছে।পার্সোনাল ফোনালাপ শুনতেও এক ধরনের মজা আছে।একটু আগে জুই আর জবা এই মজাই উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছে।নিহিলা ফোন রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করলো।
.
.
সকাল সাতটার দিকে জুইয়ের ঘুম ভাঙলো।স্কুল ব্যাগ গোছানো না।টেবিলে জবার বইগুলোর সাথে তার বইগুলোও ছড়িয়ে আছে।টেবিল থেকে একে একে করে এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে থাকা বইগুলো গুছিয়ে নিতেই জবার বই থেকে একটি কাগজ নিচে গড়িয়ে পরলো।জুই তা খেয়াল করতেই কাগজটি হাতে নিলো।জবার বই থেকে কাগজটি পরেছে।জুই কাগজটির চার ভাজ খুলে দেখলো রুমন স্যারের জন্য লেখা জবার চিঠি।জুই চিঠিটা নিজের কাছে নিয়ে লুকিয়ে রাখলো।
.
রোকসানা নিহিলার জন্য চা নিয়ে আসলেন।নিহিলা রোকসানাকে দেখে বললো-
-সাবেরাকে দিয়ে চা পাঠিয়ে দিলেই হতো।তুমি কষ্ট করে আনলে কেন?
রোকসানা নিহিলাকে চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে নিহিলার পাশে বসে বললেন-
-আমি ইচ্ছে করেই নিয়ে আসলাম।
-কিছু বলবে?
রোকসানার আসার কারনটা নিহিলা আন্দাজ করতে পারছে।চা নিয়ে আসার ওজুহাতে নিহিলাকে কিছু বলার উদ্দেশ্যেই তিনি এসেছেন।রোকসানা বললেন-
-কেন মনে হলো আমি তোকে কিছু বলার জন্যই এসেছি!
-আমি বুঝতে পারি মা।টুকটাক বিষয়গুলো বোঝার ক্ষমতা আমার আছে।
-বুঝতে পেরেছি,খুব বেশী বড় হয়ে গিয়েছিস তুই।
-বড় হয়ে গিয়েছি বলেই তো তোমরা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছ।মেয়ে হয়ে তোমার কোলে এসেছিলাম,বউ হয়ে আরেকজনের ঘরে যাবো।অদ্ভুত একটা ব্যাপার।তাই না মা?
-কারো কারো জীবনে এই অদ্ভুত ব্যাপারটা ঘটতে পারে না।যেমন আমাকেই ধর,স্বামী হারা নারী তার দুই সন্তান নিয়ে ভাইয়ের বাড়িতে উঠেছে।ছেলে থাকে বিদেশ আর মেয়েকে বিয়ে দিচ্ছে তার মামা।
-ভালো কথা মনে করেছো,প্রান্ত ভাইয়ার কি খবর?সে আর কতোদিন বিদেশ পরে থাকবে?বিয়েতে কি আমাকে বিদায় দিতেও আসবে না সে?
-আসবে বলেছে।
-অনেক বছর আগের থেকে এই একটা কথাই শুনে আসছি।এখন পর্যন্ত আসলো না।
-বিয়ের জন্য তোর মামার কাছে টাকা পাঠিয়েছে।নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে তোর বিয়েটা দিতে পারলেই আমি ওর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।প্রান্ত দেশে আসুক আর না আসুক তাতে কিছু আসবে যাবে না।
-এমনভাবে কেন বলছো মা?
রোকসানা উঠে পরলেন।তার চোখে বিন্দু বিন্দু পানি জমে গেছে।কিছু একটা বলতে চাইছেন না।নাকি বলতে গিয়েও বলতে পারছেন না তা স্পষ্ট বোঝা গেলো না।নিহিলা বললো-
-তুমি যা বলতে এসেছিলে সেইটাই বলো।উঠে পরলে কেন?
রোকসানা কোনো কথা না বলেই চলে গেলেন।
.
.
অরনিতা এইমাত্রই ঘুম থেকে উঠেছে।হঠাৎ হালিমা এসে বললো-
-ছোট ভাবী,পরী আপুরে বড় ভাবী খুঁজতাছে।
অরনিতা বললো-
-বড় ভাবীকে গিয়ে বলো পরী কাল রাতে আমাদের সাথে ঘুমিয়েছিল।পরী এখনো ঘুমাচ্ছে।পরী জেগে গেলে আমি নিজেই ওকে বড় ভাবীর কাছে দিয়ে আসবো।
-বড় ভাবীরে বলসি যে পরী আপু আপনের কাছে।আপনের সাথে ঘুমাইসে।কিন্তু বড় ভাবী অনেক রাইগা আছেন।
-কেন রেগে আছে?
-জানি না।বড় ভাবী এখন কাজে যাইবো।আমারে বললো পরী আপুরে আপনের ঘর থেইকা নিয়া আসতে।
হালিমা আরও কিছু বলার আগেই বড় ভাবী নিজেই রুমে চলে আসলেন পরীকে নিতে।অরনিতা বললো-
-ভাবী,পরী ঘুমুচ্ছে।মেয়েটা ঘুমাচ্ছে ঘুমাক না..
বড় ভাবী অরনিতার দিকে তাকালেন না।এমনকি অরনিতার কথা শোনারও প্রয়োজন মনে করলেন না।তিনি পরীকে টেনে ঘুম থেকে জাগালেন।পরীর দুই চোখে ভয় জমে গেছে।বড় ভাবী কঠিন চোখে পরীর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন-
-আর যদি কখনো দেখি,নিজের রুম রেখে আরেকজনের রুমে ঘুমাতে চলে এসেছো তাহলে খুব খারাপ হবে।
পরী অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলো।অরনিতা বললো-
-পরীকে আমিই আমার রুমে ঘুমাতে বলেছি।আসলে ভাবী..
অরনিতার কোনো কথা তিনি শুনেছেন কিনা বোঝা গেল না।বড় ভাবী পরীকে বলে গেলেন-
-যদি আমার কথা আবারও না শুনেছো তাহলে শাস্তি হবে তোমার।আর কখনো যেন অন্য রুমে কারো সাথে তোমাকে ঘুমাতে না দেখি।নাস্তা খেয়ে চুপচাপ রুমে গিয়ে বসো।রুম থেকে বাহিরে বের হবে না।
অরনিতার পক্ষে বড় ভাবীর কথাগুলো শুনে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় রইলো না।চোখের সামনে ছোট মেয়েটাকে এইভাবে বকতে দেখে খুব খারাপ লাগছে অরনিতার।না জানি ছোট মেয়েটির কাছে কতোটা ভয় লাগছে।পরীর মা সে।হয়তো পরীর ভালোর জন্যই বকছে।বড় ভাবী পরীকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে পরলেন।অরনিতা শুধুই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে গেলো আর কিছুই করতে পারলো না।
উদয় এতোক্ষণ ওয়াশরুমে ছিল।উদয় ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে দেখলো অরনিতা চুপচাপ বসে আছে।অরনিতাকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো একটা গভীর চিন্তা করছে সে।উদয় বললো-
-পরী ঘুম থেকে উঠে গেছে?
অরনিতা অন্যদিকে তাকিয়ে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো।উদয় বললো-
-তোমার কি শরীর খারাপ?
-না..
-হঠাৎ গম্ভীর লাগছে যে!
-আচ্ছা,আপনার কি মনে হচ্ছে না যে পরীর সাথে কিছু একটা খুব খারাপ হচ্ছে!
-আমি জানি তুমি কি বলতে চাইছো!আমি ওয়াশরুম থেকে সবই শুনেছি।বড় ভাবী পরীর মা।পরীর ভালোটাই তিনি চাইবেন।একজন মা তার চাইল্ডের বেস্ট টিচার।
-আমি আরেকটা কথাও শুনেছি।বড় ভাইয়ার সাথে বড় ভাবীর সম্পর্ক ভালো নেই।তারা যে এই ছোট মেয়েটির সামনে ঝগড়া করে এটাও তো উচিত না।আপনার কি মনে হয়?
-মনমালিন্যতা,ঝগড়া,ভালোব-মনমালি
ন্যতা,ঝগড়া,ভালোবাসা এসব নিয়েই তো সংসার।
অরনিতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো-
-আই নো বাট..
-তুমি ওতো ভেবো অরু।সবাইকে সবার মতো করে ছেড়ে দেওয়া উচিত।
অরনিতা চুপচাপ বসে রইলো।
.
.
নিহিলা রোকসানার কাছে গেলো।রোকসানা কাঁদছেন।মেয়ে আসায় তিনি শান্ত হয়ে বসলেন।নিহিলা বসে বললো-
-মা,আমি জানি তুমি কিছু একটা লুকাচ্ছ।বলতে চাচ্ছ কিন্তু বলতে পারছো না..
-এইরকম কিছু না।
-তুমি অভিনয়ে কাচা।একদম-ই অভিনয় করতে পারো না।এইবারও তুমি অভিনয় করতে পারছো না।
-আমি কোনো অভিনয় করছি না।
-আমার দিকে তাকাও।আর বলো কি হয়েছে?কি লুকাচ্ছো?
রোকসানা এইবার মেয়ের দিকে তাকালেন।তার চোখে পানি জমে চোখ ঘোলাটে হয়ে আসছে।তিনি কেঁদে ফেললেন।আর বললেন-
-প্রান্ত ওইদেশে বিয়ে করে ফেলেছে।তোর বিয়ের জন্য তোর মামার কাছে কিছু টাকা পাঠিয়েছে।সে আর দেশে আসবে না।কারো সাথেই আর কোনো যোগাযোগ রাখবে না।এখন আমরা ওর কাছে পর হয়ে গেছি।
-মা,তুমি কাঁদবে না তো।
রোকসানা আরও বললেন-
-ভেবেছিলাম ছেলেটা বাড়ি আসলে ওকে বিয়ে দিয়ে বাকি জীবনটা নাতি-নাতনির মুখ দেখে কাটাবো।
-থামো এখন।আর কাঁদবে না তুমি।
হঠাৎ চেঁচামেচির আওয়াজ শোনা গেলো।জবা আর জুই কি নিয়ে যেন ঝগড়া করছে।
জবা বললো-
-জুই,মিথ্যাে বলবি না।কাগজটা আমি তোর হাতেই দেখেছিলাম।তখন কিছুই বুঝতে পারি নি।এখন খুঁজতে গিয়ে সব বুঝতে পারছি।
-আমি কোনো কাগজ নেই নি।কোন কাগজের কথা বলছিস তুই আপু!সেইটাই তো বুঝছি না।
-ঢং করবি না।আমি জানি কাগজটা তুই লুকিয়েছিস।দিয়ে দে বলছি।
-আমি কোনো কাগজ লুকাই নি।
নিহিলা এসে বললো-
-হঠাৎ কি হলো তোদের?স্কুল যেতে লেট হয়ে যাবে।ঝগড়া বন্ধ কর।স্কুলে যা।বাড়ি এসে আবার ঝগড়া করিস।
জুই আর জবা ঝগড়া বন্ধ করলো।তবে আজ দুইজনের একসাথে স্কুল যাওয়া হলো না।জবা জানে জুই চিঠিটা ইচ্ছে করে লুকিয়ে রেখেছে।চিঠি লুকানোর কারন একটাই রুমন স্যারের সাথে জবার কোনো সম্পর্ক হোক তা জুই চায় না।
To Be Continued...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now