বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিযোগিতা শব্দটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। মডার্ন যুগের প্রতিটা মুহূর্তে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা লড়াই করে চলেছি উত্তম জিনিসটা পাবার আশায়। বর্তমানে আমাদের জীবনটাই হয়ে উঠেছে একটা প্রতিযোগিতার ময়দান। যেখানে আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিযোগিতা করছি। কখনও অন্যের সাথে তো কখনও বা নিজের সাথে। একটা শিশু জন্মাবার পর থেকে তার মা বাবা তাকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দেয়। "দেখ বাবু ওই বাবুটা অ থেকে ঔ পর্যন্ত পরতে পারে। তোমাকে ওর থেকে বেশি পারতে হবে।" জোর করে খাবার গলাধকরনের মত তাদেরকে এই জিনিসটা গলাধকরন করানো হচ্ছে।যার জন্য ছেলেবেলা থেকেই তার খেলা বন্ধ আর পড়া শুরু প্রক্রিয়া চলছে।এতে যে তার ক্ষতি হচ্ছেনা লাভ হচ্ছে সেটা বড় বিষয় নয়।
আজকাল স্কুলে এটা দেখা হয়না সন্তানরা প্রকৃত শিক্ষা পেল কিনা। বরং এটা দেখা হয় শিক্ষা গ্রহনের প্রতিযোগিতায় সে প্রথম হল কিনা।যার কারনে চলে মুখস্ত করার প্রক্রিয়া। তুমি বোঝ আর না বোঝ।সেটা বড় ব্যাপারনা। চলছে শিক্ষা নিয়ে খেলা।যার জন্যে প্রয়োজনে স্কুলের শিক্ষকের কাছে টিউশনি দেওয়া হয়।যাতে এই প্রতিযোগিতায় জেতা যায়।
আজকাল শিক্ষকেরাও প্রতিযোগিতায় নেমেছে।শিক্ষা দানের নয় অর্থ উপার্জন আর নিজেকে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমান করায়। তাই স্কুলে আজকাল যে যে বিষয়ের শিক্ষকের কাছে পরবে সে সেই বিষয়ে তত বেশি নম্বর পাবে।তাই এখন আর শিক্ষাদানকে নয় নিজের শিক্ষকে বিক্রি করার প্রতিযোগিতাটাই বড়।
এখন চাকরি করতে গেলে আর অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়না। যে যত টাকা দিতে পারবে সে তত ভালো চাকরি পাবে। একদিকে চলছে অর্থ দানের দ্বারা নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিযোগিতা আর অন্যদিকে সেই অর্থ নিয়ে নিজেকে আরোও আরোও ধনী করার প্রতিযোগিতা।যার জন্য মানুষ তার মনুষ্যত্বকে বিসজর্ন দিচ্ছে।
বাঙালি এখন নিজ পোশাক ছেড়ে নিজেদেরকে উন্নত করছে। ওয়েষ্টার্নরা অনেক উন্নত।ওরা নিজেদেরকে যেভাবে পরিচালনা করছে নিজেদেরকে সেখানে নিয়ে যেতে মেয়েরা শাড়ি ছেড়ে সর্ট ড্রেস আর ছেলেরা লুঙ্গি ছেড়ে প্যান্ট ধরেছে।আর ভাষার কথা নাইবা বললাম। হায়রে বাঙালি জাতি যে সংস্কৃতি,ভাষা,আর সভ্যতার জন্য শহিদরা তাদের জীবন দিয়ে গেল সেই ত্যাগকে তুচ্ছ করে তোমরা মেতে উঠেছ নিজেদেরকে মডার্ন করার প্রতিযোগিতায়। আর জলাঞ্জলি দিচ্ছ লক্ষ শহিদের ত্যাগকে।
এসবকিছু করতে গিয়ে মানুষ হারিয়ে ফেলছে নিজেদের সত্ত্বাকে........ভুলে যাচ্ছে মনুষ্যত্বকে.......প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নিজেদেরকে প্রতিনিয়ত যুক্ত করছে নানারকম অপকর্মে........এভাবে যুদ্ধ করতে করতে একসময় সে হারিয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর কাহিনী থেকে।তখন তার সঙ্গে না যাচ্ছে তার ক্যারিয়ার আর না যাচ্ছে তার প্রতিযোগিতা।জীবনের শেষ সেকেন্ডে হয়ত সে ভাবছে যে অনন্তর এই প্রতিযোগিতা সত্যিই কি কোন কাজের?????
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now