বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কবিতা বিড়ম্বনা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X দুপুর বারটা বাজে। বসে আছি ডিসি হিল মাঠে। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি। আজ সিউর গতকালকে ছাড়িয়ে যাবে। আমার পাশেই চুপ করে বসে আছে নাদিফ সাহেবের মেয়ে। একটু আগেই ফোন দিলো সে। ফোন দিয়ে হ্যালো না বলেই বলা শুরু করলো - " ডিসি হিল চলে আসো ১৯ মিনিটের মাঝে " বলেই লাইন কেটে দিলো। আগের ল্যান্ডলাইন হলে নিশ্চই খটাস শব্দ হতো। ফোন থাকাতে হয়নি। আমি আসার পরেই দেখছি একদম রোদের মাঝে বসে আছে। বললাম "আসো গাছের ছায়ায় যাই। " সে কোন রিপ্লাই না দিয়েই অগ্নি চোখে তাকালো। তারপর আর নিজ থেকে কিছু বলার সাহস হয়নি আমার। এরপর থেকে বসে আছি ১৫ মিনিট। আমিও ঘামছি সেও ঘামছে। সে সামনের দিকে তাকিয়ে।আমি একবার তার দিকে তাকিয়ে রইলাম তাতেই ধমক দিয়া কইলো "হ্যাংলার মত তাকিয়ে আছো ক্যান? এরপর এখন আড়চোখে তাকে আর সরল চোখে সামনে তাকাই। আর ভাবতাছি সামনের দিকে তাকিয়ে ক্যামনে বুঝলো আমি তাকিয়ে যে রইছি। আর সহ্য হচ্ছেনা এভাবে। আস্তে আস্তে বললাম -মন খারাপ?? ভালো করে দিবো মন? সে তাকিয়ে এবার বললো, -তুমি মন ভালো করতে পারো বুঝি? কিভাবে করবা শুনি, -এই যে জোকস শুনিয়ে। -আমি বাচ্চা!! -আচ্ছা, কবিতা শুনাই?? -তোমার এই গলায়!! কার কবিতা আবৃত্তি করবা?? ইগোতে লাগলেও কিছু বলিনি। উলটো বললাম -আরেহ, তোমার মত মেয়ে পাশে থাকলে আমি নিজেই কবি।হাজার কবিতা অবলীলায় আসে। এমনিতেও তোমার জন্য কত কবিতা লিখছি। আমার সব কবিতাতো তোমার জন্যই। কিছুক্ষণ ভ্রুব কুঁচকে তাকিয়ে থেকে বলল -সত্যি লিখেছো? কখনোতো বলোনি। -এমনিই বলিনি।সারপ্রাইজড দিবো বলে। শুনবা এখন?? কিছুক্ষণ চুপ করে বলল, -আচ্ছা শুনাও। -তাইলে এই রোদে না, আসো ছায়ায় যাই। আমাকে আশ্চর্য করে সে উঠে ব্যাগ ঝাড়তে ঝাড়তে বললো, চলো। ছায়ায় গিয়া আমি মোবাইলে পুরাতন কবিতা খুঁজতে শুরু করলাম। সে বললো -কি খুঁজো? -কেন? কবিতা আর কি। -তুমি না নিজে লিখো,তাইলে আমার সামনে বসে বানাও। -ধুরর,এরকম আর্জেন্ট বানানো যায় নাকি? -তাইলে হবেনা। আমার জন্য কবিতা আমার সামনে বসেই বলবা। আর একটু আগে বললানা তাইলে তা মিথ্যে। -না না তা হবে কেন? (মনে মনে ভাবতাছি ভালোই মাইনকার চিপায় পড়লাম) তার কাছে সময় চেয়ে অন্তমিল খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু এই টাইমে মাথায় কিছুই আসতেছেনা। অনেক কষ্টে পুরানো একটা খুঁজে পেলাম, তার সাথে নতুন জুড়িয়ে বললাম। চল তারা গুনি,চাঁদ দেখি বসে পাশাপাশি, চল চল ফিসফিসিয়ে বলে উঠি অনেক ভালোবাসি। চল চাঁদের সাথে তোর তুলনায় কাটাই অনেক বেলা, চল বাঁধন খোলা চুল নিয়ে তোর করি একটু খেলা। চল তোর সাথে এক জ্যোৎস্না কাটাই কোন ছাদে চল তোর মাথাটা যতন করে রাখি এই কাঁধে। কবিতা শুনে সে চোখ বড় করে তাকালো। সাথে এক ঝাঁক প্রশ্ন। -তুমি বানাইছো? এখন বানাইছো? মনে তো হয়না এখন বসে বানাইছো? - ক্যান? এমন মনে হয় ক্যান তোমার? -নাহ,এই যে এত গরমেও রাত,চাঁদ, তাঁরার কথা ক্যামনে আসে মনে। মনে মনে ভাবি এত ট্যালেন্ট হইলে ক্যামনে, কিন্তু মুখে বলি -আরেহ এটাতো তোমারে নিয়া কল্পনা। -শুধুই কল্পনা? বাস্তব চাওনা? -আরেহ সুযোগ পেলেতো করবোই। সে হেসে বললো -এত্ত শখ? আমি তার কথার উত্তর না দিয়ে বললাম -যাক,চেষ্টা সফল। হাসি ফুটছে। তোমার মুখে হাসি না দেখলে মনে হয় পৃথিবী কাঁদে -হইছে হইছে,বললাম আমার লগে আর ডায়লগবাজি করবিনা। -আবার তুই? -হ, আমার তুই,আমার তুমি, আমার আপনি। যা ইচ্ছে ডাকমু,কিছু কইবি নাকের ডাক্তার এর কাছে নিয়া যাইমু। আমি আর কিছু বললাম না। ♦রাত ৯ টা নাদিফ সাহেবের মেয়ের ফোন। ধরতেই -হ্যালো, মুরাদপুর থেকে তোমার মেসে যাইতে রিকশাওয়ালাকে কি বলবো? অবাক হয়ে বললাম -মানে?? কেন?? -আজ জ্যোৎস্না না? -তো? -তো মানে কি,, আজ তোমার কবিতা পূর্ণতা পাবে। -আরেহ রাতে ছাদের গেট বন্ধ করে দেয়,তারপরে ব্যাচেলর বাসা ঢুকানো যাবেনা। -আরে সে চিন্তা কইরোনা। আমি জানি সারারাত ছাদেই থাকবো দুজন আমি সব ব্যবস্থা করেই আনছি। -কি ব্যবস্থা? -আগে আসি তারপর দেইখো।এখন মামাকে ঠিকানা বলো এই বলেই সে রিকশাচালককে ফোন ধরাই দিলো। আমাকে বাধ্য হয়ে ঠিকানা বলতে হলো। ♦রাত ৯.১১ (আচ্ছা ও নিচে এসে গেছে এখনি নামতে হবে। জানিনা কি হবে আজ, পরে বলবো। দোয়া কইরেন যেন বাড়িওয়ালা না জানে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now