বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নরম শরীর

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X স্বনামধন্য ব্যাক্তিবর্গের ব্যাক্তিত্তবান ও কোটিপতি আক্কাস সাহেবের একমাত্র মেয়ে প্রিয়া,তার কখনো বিলাসবহুল হোটেল রেডিসনে একরাত ঘুমানোর সৌভাগ্য হয়নি কিন্ত কমলাপুর রেলওয়ের পাশের বস্তির ছকিনা প্রায় ই হোটেল রেডিসনে রাত কাটায় কোটিপতি আর বড় বড় বাবুদের সাথে। ভাবতেই আমার মাথা গুলিয়ে যায়। ' ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাই বারংবার। যে মেয়ের একবেলা খাবার জোটার কথা না আর সে কিনা ডিনার করে হোটেল রেডিসনে! যার ভাত খাওয়ার কথা হাত দিয়ে আর সে কিনা ভাত খায় মেক্সিকান চামচ দিয়ে ! ভাবতেই গা কাঁটা দিয়ে ওঠে। ' এই ব্যাপারটি নিয়ে আমি একাত্তরটি রাত জাগার পরে একদিন বুঝতে পারলাম এসব সম্ভব হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে ঐ 'নরম শরীর টা', যার বিনিময়ে কমলাপুরের ছকিনা আজ হোটেল রেডিসনে। ' এই সস্তা পৃথিবীতে আজ সবকিছু বড়ই সস্তা হয়ে গেছে। যার জন্ম হয়েছিলো রেললাইনের পাশে একটা ছোট্ট ঝুপড়িতে, সে মেয়েটি আজ প্যারিসের রাজপথে হাটে,আর রাত হলে কোন এক মদ/ডাইলের বারে ডুকে পড়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয় কিছু টাকা/ডলারের বিনিময়ে। ' বলি কি, এসবের জন্য আবার সুন্দর ও কিন্তু হওয়া লাগবেই,অসুন্দর হলে সেই পড়ে থাকতে হবে ঐ একই যায়গায়, মানে সেই রেললাইনের পাশে,যেখানে একপ্লেট ভাত চারজন মিলে ভোজ করে। ' জেনে এসেছি একটা পুরুষের জন্য নাকি একটা নারী নির্দিষ্ট করাই আছে, আচ্ছা তাহলে এসব মেয়েদের সাথে কেন এত এত পুরুষ রোজ রাতে মিলিত থাকে? কেন? ' কেন জানি এদেরকে দেখলে খুব সহজেই চেনা যায়, ঐ যে ঠোটে কড়া লাল লিপিস্টিক দেওয়া এ কারনে। ' একটা পতিতা যখন রিকশা চেপে খুব সাজুগুজু করে রাজপথ দিয়ে যায় তখন কিছু পুরুষ আছে যারা আড়চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে, এরপর পুরো শরীরে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলে ঐ দ্যাখ একটা মাগি যাচ্ছে! তাদের কে বলছি সাজুগুজু করার অপরাধে মেয়েটি যদি মাগি হয় তাহলে তুমি একটা মাগিখোর কারন তুমি আড়চোখে কিন্ত মেয়েটির শরীরে নজর বুলিয়েছিলে। ' তুমি মেয়ে, তুমি একবার ভেবে দেখো তোমার মা একদিন বাড়িতে না থাকলে তোমাকে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়, বাড়ির সবকিছু সামলে রাখতে হয়, তুমি তখন ক্লান্ত হয়ে যাও সামান্য এক দুই দিনে ; কিন্ত ওরা দেখো কত দুঃখী, ওরা সারামাস জেগে থাকে, জেগে জেগে থেকে এত এত পুরুষ কে খুশি রেখে কিছু টাকা উপার্জন হবে তা দিয়ে একটু খাবার খাওয়া যাবে এই ভেবে। হয়তো পছন্দের কিছু শপিং ও করা যাবে আর বস্তিতে পড়ে থাকা অর্ধমৃত বাবা মায়ের ওষুধ কেনা হবে। ' তুমি মেয়ে সে ও মেয়ে, তোমাদের একজনই সৃস্টিকর্তা, তবে কেন তুমি হাসো আর সে কাঁদে! ' সৃস্টিকর্তার সাথে আমার অল্প কিছু কথা বাকি আছে। কেন আমরা ওদের কে ঘৃনা করি ? ঘৃণা ব্যাপারটা এতোটা সস্তা কিভাবে হয়? ঘৃনা যদি করতেই হয় তবে করবো ওদের পেশাকে, ওদেরকে নয় ; জি হ্যাঁ ওদেরকে নয়, কোনো ভাবেই নয়। . .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now