বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছোটবেলার আর্তনাদ

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ইমতিয়াজ আহমাদ (০ পয়েন্ট)

X আমরা যারা ১৯৮০-১৯৯৫ সালে জন্মেছি তারা বিশেষ ভাগ্যবান আজকের পৃথিবীতে। কেন?? আমরা সমস্ত প্রযুক্তির ব্যবহার জানি এবং উপভোগ করি। কিন্তু আমরা কখনো গাধার মত মস্তবড় বোঝার বইয়ের পাহাড় মাথায় করে বিদ্যালয় যাইনি। আমাদের মা বাবাকে কখনো আমাদের পড়াশোনার চিন্তায় নিজেদের জীবন ব্যতিব্যস্ত করতে হয়নি। স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে খেলতাম প্রাণ খুলে। আমরা প্রাকৃতিক বন্ধুদের সাথে জীবন কাটাতাম, Net friends দের সাথে নয়। যখনই তৃষ্ণার্ত থাকতাম মন খুলে কল থেকে জল খেতাম, জীবানুর ভয়ে Pure it থেকে নয়। তাও অসুস্থ হয়ে পড়িনি। আমরা ১ টাকার আইসক্রিম ৪ জন ভাগ করে খেয়েও কখনো পেট খারাপ করে বসিনি। আমরা প্রতিদিন পেট ভরে ভাত আর প্রাণ খুলে মিষ্টি খেয়েও মোটা হয়ে পড়িনি। খালি পায়ে মাঠে ফুটবল খেলা সত্বেও পা ভেঙে ফেলিনি। সে সময় সুস্থ থাকার জন্য কখনো Revital দরকার হয়নি আমাদের খেলনা আমরা নিজেরাই বানিয়ে খেলতাম। মা বাবার কাছে থেকেই মানুষ হয়েছি, Mentor দরকার হয়নি। আমরা সব ভাই-বোনেরা একরকম জামা-কাপড় পরে মজা পেতাম Common বলে নয়, একরকম হওয়ার আনন্দে। শরীর খারাপ হলে ডাক্তার আমাদের কাছে আসতো, আমরা ওই অবস্থায় যেতাম না। আমাদের কাছে মোবাইল, DVD's, Play station, Xboxes, PC, Internet, chatting ছিল না কারণ আমাদের কাছে সত্যিকারের বন্ধু ছিলো। বন্ধুকে না জানিয়ে তার ঘরে গিয়ে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে মজা পেতাম । কখনো ফোন করে Appointment নিতে হয়নি। We are not special, but we are fortunate and enjoying generation. যখন আমরা ছোট ছিলাম হাত গুলো জামার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে বলতাম, আমার হাত নেই। একটা পেন ছিল, যার চার রকম কালি, আর আমরা তার চারটে বোতাম একসাথে টেপার চেষ্টা করতাম। দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম কেউ এলে চমকে দেবো বলে, সে আসতে দেরি করছে বলে অধৈর্য হয়ে বেরিয়ে আসতাম। যখন চাঁদের দিকে তাকিয়ে হাঁটতাম ভাবতাম আমি যেখানে যাচ্ছি, চাঁদটাও আমার সঙ্গে সঙ্গে যাচ্ছে। সুইচের দুদিকে আঙুল চেপে অন্-অফ এর মাঝামাঝি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করতাম। দু' -ফোটা জল ফেলে রেস করাতাম, কোনটা গড়িয়ে আগে নীচে পড়ে। বৃষ্টি হলে ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বলতাম, দ্যাখ জল গায়ে লাগছে না।ক্লাসে বসে কলম-কলম খেলা, খাতায় ক্রিকেট, চোর-ডাকাত-বাবু- পুলিশ, ইক্স-ওক্স খেলতাম। স্কুল ছুটির পর কটকটি, বস্তা আইসক্রিম, লটারি আইসক্রিম, হাওয়াই মিঠা না খেতে পারলে মনটাই খারাপ হয়ে যেত। স্কুলে দোলনায় না চড়ে নারিকেল গাছের পাতা টেনে ঝুলে থাকতাম। স্কুল ছুটি হলে দৌড়ে বাসায় আসতাম মিনা কার্টুন, শক্তিমান, গডজিলা, সামুরাই এক্স দেখতে। শুক্রবারে দুপুর ৩টা থেকে অপেক্ষা করতাম কখন বিটিভিতে বাংলা সিনেমা শুরু হবে এবং সন্ধার পরে আলিফ লায়লা, সিন্দাবাদ, রবিনহুড, টিম নাইট রাইডার, হারকিউলিক্স, মিস্টিরিয়াস আইল্যন্ড, এক্স-ফাইলস দেখার জন্য পুরো সপ্তাহ অপেক্ষা করতাম। ফলের দানা খেয়ে ফেললে দুশ্চিন্তা করতাম পেটের মধ্যে এবার গাছ হবে। ঘরের মধ্যে ছুটে যেতাম, তারপর কি দরকার ভুলে যেতাম,ঘর থেকে বেরিয়ে আসার পর মনে পড়ত। দুপুরের রোদে সুতা মান্জা দিয়া বিকালে ঘুড়ি দিয়া কাটাকাটি খেলা, বিকেলে ওপেনটি বায়োস্কোপ, পাতা-পাতা,বরফপানি, কুতকুত না খেললে বিকালটাই মাটি হয়ে যেত। এ বাড়ী ও বাড়ীর সবাই মিলে বাড়ীর উঠানে চোর পুলিশ খেলা, সাত চারা, টেনিস বলে কস্টটেপ পেচাইয়া পিঠ ফুডান্তি (বোম্বাসটিং) খেলা। রাতে কারেন্ট চলে যাবার পর সবাই পাটি বিছিয়ে বসে ভূতের গল্প করা, নয়তো বাশঁবাগান থেকে জোনাক পোকা ধরা। ফাইনাল পরীক্ষা যেহেতু শেষ সেহেতু সকালে পড়া নাই। এত মজা কই রাখি? নানু বাড়ি, দাদু বাড়ি যাওয়ার এই তো সময়। ব্যাডমিন্টন, ক্যারাম, সাপ-লুডু না খেললে কি হয়! টিনটিন, চাচা-চৌধুরী, বিল্লু, পিংকি, তিন গোয়েন্দা পড়তাম। ডিসেম্বর মাস আর শীতকালটা আমাদের ছেলেবেলায় এমনি কালারফুল ছিল। তবে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ যত আগাইয়া আসত মনের মধ্যে ভয় তত বাড়ত। ওইদিন যে ফাইনালের রেজাল্ট দিবে আজকাল ছেলে মেয়েদের শীতকাল ,গরমকাল নাই। রুটিন সেই একটাই। বাসা, স্কুল, কলেজ, কোচিং, ফেসবুক, চ্যাট। আর আমরা কলেজে উঠার আগ পর্যন্ত মন খারাপ, ফ্রাসটেশন কি জিনিস বুঝতামি না। মন খারাপ মানে হইল ম্যাচের সময় প্রাইভেট থাকা। নব্বইতে ছেলেবেলার সে দিনগুলোতে আমরা হয়ত ক্ষেত ছিলাম, আমাদের এত এত উচ্চমাত্রায় জ্ঞ্যান ছিলনা হয়ত লেমও ছিলাম কিন্তু আমাদের সারাজীবন মনে রাখার মত একটা ছেলেবেলা ছিল। যখন আমরা ছোট ছিলাম তখন ধৈর্য্য সহ্য হতো না যে কবে বড় হবো আর এখন মনে করি, কেন যে বড় হলাম ! Childhood was the best part of our life. আমি জানি আমাদের জেনারেশনের যারা এগুলো পড়ছো, তোমাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে, আবার হয়তো কারো চোখের কোণে বৃষ্টির ফোঁটা জল জল করছে। ছোটবেলায় সবথেকে বেশিবার জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটার উত্তর আমি পেয়েছি অবশেষে... -তুমি বড়ো হয়ে কি হতে চাও? উত্তর- আবার ছোট হতে চাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now