বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

পালিয়ে বিয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X পালিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছাটা আমার ছোট বেলা থেকেই। আসলে আমার কাছে পালিয়ে বিয়ে করার ব্যপারটাই অন্যরকম লাগে। অনেকটা অ্যাডভেঞ্চারের মতোই। তাই কৌতুহল একটু বেশিই ছিল। . ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে অনেক গুলো প্রপোজ ই পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার এমন অদ্ভুত ইচ্ছার কথা জেনে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। আসলে পালিয়ে বিয়ে করাটা সমাজের চোখে অনেকটাই অপরাধ আর সন্মানহানীর।তার উপর একটা মেয়ে মানুষ হয়েও এমন ইচ্ছা। তাই হয়তো কেউ খুব একটা সাড়া দিতে চাইতো না। . কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা! বিয়ে যদি করতেই হয় তবে তা অবশ্যই পালিয়ে করবো। . আমার পাগলামীটা আরও বেড়ে গেলো যখন বাসা থেকে পাত্র দেখা শুরু করলো। যেই ছেলে আমাকে দেখতে আসে আড়ালে কথা বলে তাকেই এই ইচ্ছার কথা জানিয়ে দেই। কিন্তু কেউ রাজি হয়না। আর রাজি না হওয়াটাও অস্বাভাবিক না। পাত্র পক্ষ থেকে যখন একের পর এক না বলা শুরু হলো তখন আমার বড় আপু একদিন আমাকে ডেকে বললেন," এই তুই পাত্রকে কি এমন বলিস বলতো যে পাত্র পক্ষ থেকে একের পর এক না বলা শুরু হইছে?" আমি শুধু মুচকি একটা হাসি দিয়ে রুম থেকে চলে আসলাম। বিয়ের জন্য আমার মতো মেয়েকে না বলার কোন কারণ ছিল না। ওই যে বললাম আমার ইচ্ছার কথা ওই ইচ্ছার জন্যই কোন বর পাওয়া মুসকিল হয়ে গেলো। . শেষমেষ একজন বর পাওয়া গেলো। সে এভাবে বিয়ে করতে রাজি। যখন তাকে এই ইচ্ছার কথা বলছিলাম তখন তার মাঝেই আগ্রহটা বেশি। তিনি আমার চেয়ে বেশি কৌতুহলী। . যাই হোক আমাদের বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেলো। আমার মনে তো ততক্ষনে লাড্ডু ফাটার ধুম। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! আমরা অনেক প্ল্যান করলাম। কিভাবে কখন পালাবো! এদিকে বাসায় আমাদের বিয়ে নিয়ে কত্ত আয়োজন। আমি শুধু মনে মনে হাসছি আর ভাবছি,"যত্ত পারো আয়োজন করো বিয়ে কিন্তু আমি পালিয়েই করছি।" . প্ল্যান মতো আমাদের কথা ছিল বিয়ের আগের দিন রাতে পালাবো। আমি সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিলাম। কিন্তু হঠাৎ ই বাবা এসে বললেন বর নাকি এ বিয়ে করতে পারবে না। আমি প্রথমে বিশ্বাস করিনি কিন্তু সত্যিটা জানতে পারলাম সন্ধ্যার পরপরেই। . বার বার ফোন দিচ্ছি কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। একটু পর ফোনটা অফ। আমার তো এদিকে অবস্হা শেষ! এখন কি হবে! একদিনে এভাবে নিজের ইচ্ছার জলান্জলি হলো অন্যদিকে পরিবারের সন্মান নষ্ট। এত্তো মানুষকে দাওয়াত করা হইছে এত্ত আয়োজন করা হইছে এখন কি হবে? আমি সারা রাত কেঁদে আর ফোন দিয়ে পার করলাম। . বাড়ীতে কেমন নিস্তব্ধতা। বাবা বারান্দার চেয়ার টাতে চুপ করে বসে আছেন। তার চোখে মুখে অসংখ্য চিন্তার ছাপ। মা মন খারাপ করে আছেন। কত কথা বললাম কিন্তু একটা কথারও জবাব পেলাম না। আপুকে কোথাও দেখতে পেলাম না। কিন্তু সবার এমন মানসিক অবস্হা দেখে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হলো। সত্যিই তো আমি অপরাধী। বাবা মার কথা একবারও চিন্তা না করে এমন অদ্ভুত ইচ্ছা নিয়ে খামখেয়ালী করলাম। . বাবার হাতটা ধরে বাবাকে সরি বললাম আর মাকেও। তখন এতো বেশি খারাপ লাগছিল যে কেঁদেই দিলাম। মা বললেন, "কাঁদিস না ও বিয়ে করবে না তো কি হইছে ওর চেয়ে ভাল ছেলে দেখে বিয়ে দিবো।" আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না রুমে এসে দরজা বন্ধ কর কাঁদছি। . জানালায় কে যেন শব্দ করছে। জানালাটা খুলতেই আমি পুরোই অবাক! নিলয় যে! -"এই তুমি না বলছো তুমি না আমাকে বিয়ে করবে না?তাহলে এখন এসেছো কেন?!" -"ধ্যাত! এতবেশি কথা বলো কেন? তাড়াতাড়ি চলে এসো। পালাতে হবে তো! তোমার বাবাকে কাল যেভাবে মুখের উপর না করছি। উনি আমাকে দেখলে আমার খবর আছে। তাড়াতাড়ি চলে আসো!" . আমি কি করবো বুঝতেছি না। না এতো ভেবে কাজ নেই। ছোট্ট একটা চিরকুট রেখে নিলয়ের সাথে চলে গেলাম। . জায়গাটা অনেক নিরিবিলি। সন্ধ্যা নেমে আসছে প্রায়। গোধুলী বেলায় চারপাশটা বেশ চমৎকার দেখাচ্ছে। নিলয় আগে থেকেই বাড়ীটা সাজিয়ে রেখেছে। দেখেই মনে হচ্ছে বিয়ে বাড়ী। যাক্। মন্দ না। . বাহির থেকে দরজাটা লক করা ছিল। নিলয় চাবিটা আমার হাতে দিয়ে একটু পর আসছি বলে কোথায় যেন চলে গেলো। . দরজাটা খুলতেই আমি অবাক! সে কি! এখানে যে আপু,ভাইয়া,মা বাবা সবাই! কিছু বুঝে ওঠার আগেই আপু চিরকুট টা সামনে এগিয়ে দিয়ে বললেন এটা কি? আমি ভয়ে ভয়ে বললাম,"চিঠি"। "কী লেখা এতে?" আমি কাঁদছি আর চিঠি পড়ছি," বাবা আমি তো তোমাদের আগেই সরি বলছি!" . সবাই হো হো করে হেসে উঠলো। . শেষমেষ পালিয়ে বিয়েটা আমার হলো ঠিক ই কিন্তু সেটা বাবা মার উপস্হিতিতেই।।।।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ পালিয়ে বিয়ে ০১
→ " ভুল মেসেজে পালিয়ে বিয়ে"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now