বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বাবা মেয়ের গল্পকথা

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ARAB AHMED(guest) (০ পয়েন্ট)

X সকাল ১০ টা........।সারারাত অফিসের কাজ করার পর একটু ঘুম পাচ্ছিল.......।এমন সময়ই কেউ একজন দরজায় কড়া নাড়ল।ঘুম ঘুম চোখে একটু বিরক্ত হয়ে গেলাম দরজা খুলতে।দরজা খুলতেই দেখি নীরা এসেছে........আমায় দেখেই খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলো।আমিও মহাখুশি......।।কিন্তু প্রথমে একটু রাগই করলাম কেননা অনেকদিন পর বাড়ি আসল.......।।।কতবার বলেছি তাড়াতাড়ি আয়...।একা একা ভালো লাগে না.....।কিন্তু যত রাগই করি না কেন নীরার ওই স্নেহমাখা মুখটার দিকে তাকালে সব রাগ পানি হয়ে যায়....।ছোটোবেলা থেকেই মিষ্টিস্বভাবের ছিল আমার মেয়েটা......।।। এইভাবেই শনিবার দিনটা শুরু হল নীরার বাবা আকাশ আহমেদের..।।।নীরা তার একমাত্র মেয়ে।নীরা এখন কলেজে পড়ে।ছোটোবেলা থেকেই প্রচন্ড লাজুক আর কম কথা মেয়েটা দেখতে দেখতে কত বড় হয়ে গেলো....এসব ভাবনা আকাশের সবসময়কার।নীরাকে খুবই আদরে মানুষ করেছেন....।কখনও কোনো অভাব রাখেননি....।।বাবা মেয়ে একে অপরের সবথেকে প্রিয়।মেয়েও জানে বাবা কতটা কষ্ট করেছেন ওর জন্য।তাই কখনও বাবার অবাধ্য হয়নি সে।জীবনের প্রতিটা কাজে বাবাই তার প্রধান সহায়।আকাশ আহমেদ নীরার পৃথিবীর সুশীতল ছায়া কেননা নীরার মা অবনী আহমেদ নীরাকে রেখে গিয়েছিলেন আকাশ মানে নীরার বাবার কাছে..........।।।।।।।।অবনী চলে গেছে পরপারে নীরার যখন ২ বছর বয়স।অবনীর মৃত্যুতে আকাশ নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছিল।কিন্তু নীরার দিকে তাকিয়ে আজও বেঁচে আছে।অবনীর চলে যাওয়া সাধারণ ঘটনা নয়।।।।কিন্তু নীরা জানে না তার মা অবনী কিভাবে আর নেই।সে জানতে চায়।কিন্তু কোনোদিনসে বাবার কাছে জিজ্ঞাসা করেনি বাবা যদি কষ্ট পায় এই ভেবে।কিন্তু এবার ও জানতে চায় অতীতের ব্যাপারে।তাই সোমবার সন্ধ্যাবেলা বাবার সাথে ছাদে গিয়ে বসল।ও আজ জানতে চায় সব।শুরু হলো কথা......... আকাশ::কেমন চলছে সব???কলেজে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো??? নীরা::না বাবাআব্বু.......।তুমি এখানে কেমন আছো?? আকাশ::আছি কোনো রকম।তোকে ছাড়া ভালো থাকা যায় মা..??? নীরা::বাবাআব্বু একটা কথা জিজ্ঞাসা করব তোমায়.......করব..??? আকাশ::কি কথা????বল। নীরা::বাবাআব্বু জানো গত মাদার্স ডে তে সবাই মাকে নিয়ে এসেছিল।আমার খারাপ লাগেনি কারণ তুমি ছিলে যে।।কিন্তু বাবাআব্বু মামণির কি হয়েছিল!?????আর আমার দাদুবাড়ি নানুবাড়ি কোথায়???এই শহরে তো আমাদের কোনো আত্নীয় নেই।আমরা তাহলে এখানে কেন???বল না বাবাআব্বু মামণি কিভাবে আমাদের কাছে থেকে চলে গেলো..!! (এই কথা শোনার পর আকাশ স্তব্ধ হয়ে গেলো.....যে সত্যি সারাজীবন ধরে নীরার কাছ থেকে আড়াল করল তাই আজ নীরা জানতে চাইছে.......)) নীরা::কি হলো বাবাআব্বু?????বল........ আকাশ::মা এখন আমাকে একটু অফিসে যেতে হবে।।আমি যাই...... +((((আকাশ উঠে যাচ্ছিল।।এমন সময় আকাশের হাত ধরল নীরা.........))))) নীরা::আমি জানি বাবাআব্বু তুমি অফিস যাবে না।।প্লিজ বলো কি এতদিন আমি জানিনি.....আমি জানতে চাই....... আকাশ::সব শুনে সহ্য করতে পারবি কো মা??????? নীরা::পারব বাবাআব্বু..........বলো........ আকাশ::শোন তাহলে............................................ আমি আর অবনী একই কলেজে পড়তাম।আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম.....।।পড়া লেখা শেষ করে আমরা দুজনেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদে চাকরি পেলাম.....।। নীরা::মানে তুমি পুলিশ অফিসার ছিলে???????? আকাশ::হ্যাঁ.......এরপর তোর মামণি অার আমি দুজনই পরিবারের কাছে আমাদের মত জানালাম।তোর দাদু অবনীকে দেখে খুব পছন্দ করল।।কিন্তু তোর দাদিমা মেনে নিল না..........।।এদিকে তোর নানুরাও অবনীর বিয়ে ঠিক করল।।অবনী আর আমি দুজনেই চাইতাম একসাথে জীবন কাটাইতে......।।তোর দাদু আর তোর নানু দুজনেই রাজি ছিল।।।।তারা বললেন তোমরা তোমাদের জীবন গিছয়ে নাও.।কেউ বাধা দেবে না।।তাই তাদের দোয়া নিয়ে চললাম নতুন জীবনের সূচনা করতে।এদিকে তোর দাদি অার তোর নানুভাই প্রচন্ড রেগে গেলেন।আমাদেরকে আর কোনোদিন দেখবেন না বলে চলে গেলেন।আমরা নতুন জীবন শুরু করলাম।একসাথে সবসময়।।ডিউটিতে গেলে আমি অবনীর স্যার।।কিন্তু কখনও ও আমায় স্যার বলেনি।।অনেক হাসি আনন্দের ভিতর দিয়ে চলতে লাগলাম.....কিন্তু এই আনন্দএ বাধা দিল আমাদের পেশা।।পুলিশ হওয়ায় অনেক শত্রু ছিল।।অনেক ভাবে ক্ষতি করতে চাইল নেতারা।কিন্তু পারল না।।।বছর দুয়েক পরে তুই এলি আমাদের মাঝে।সোনার সংসার হয়ে উঠল।তোকে দেখে তোর নানুভাই আর দাদি সব দুঃখ রাগ ভুলে আমাদের কাছে টেনে নিল।।নতুন ভাবে জীবন গুছিয়ে উঠতে লাগত!!!কিন্তু সুখ বেশিদিন থেকে না।।।একবার একটা কেস এলো থানায়।।তদন্ত করার দায়িত্ব পেলাম আমি অার অবনী।তদন্ত শেষে জানা গেল যে খুনের অভিযোগ তা সত্য।।আর খুনটা করছে তখনকার শক্তিশালী এক নেতা.............।।।নেতাটি আমাদের অনেক লোভ দেখাল সত্য প্রকাশ না করার জন্য।।কিন্তু আমরা ওর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে ওকে যাবতজীবন এর রায় শুনিয়ে দেওয়া হলো।।আমরা ভাবলাম আমরা সফল।।।কিন্তু ডিপার্টমেন্ট থেকে অনেক কথা শোনানো হলো ওনার মতো নেতাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য।।আমরা ভাবলাম ও এখন কারাগারে.......আর বেরুতে পারবে না।কিন্তু বিধি বাম।।একমাস পরেই ও বেরিয়ে এল।আর খুবই রাগান্বিত হলো আমাদের ওপর।।।জেল থেকে বেরিয়ো হিংস্র পশুর মতো আসতে লাগত আমাদের শেষ করতে।।।আমি অবনী সেদিন তোকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলাম।।ঘোরোফেরা শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিলাম।।ফেরার পথে রাস্তায় ফুসকার দোকান দেখে অবনী গাড়ি থেকে নামল।।আমি গাড়িতেই ছিলাম তোকে নিয়ে।।অবনী ফুসকা কিনে রাস্তা পার হচ্ছিল।।এমন সময় সেই রাক্ষসরুপী নেতারা অবনীর ওপর দিয়ে চালিয়ে দিল গাড়ি।।।তারপর গুলি ছুড়ল অবনীর ওপর...............।।।।। তারপর সব শেষ।।।।আমাকেও অ্যাটাক করেছিল।।।কিভাবে যেনো বেঁচে গেছি।।।।এরপর সহাই বলল চলে যা এখান থেকে যদি নীরা আর তোকে কিছু করে.......।।।।।।সবাই বলল চলে যা.............।।।।।।কিন্তু আমি কিভাবে চলে আসি অবনীর স্মৃতিময় জায়গাটা ছেড়ে.............।।চেয়েছিলাম আমিও মরে যাই।।।।ওই জায়গায় যেখানে অবনী শেষ হয়ে গিয়েছিল।।অনেক চেষ্টা করেছি নিজেকে শেষ করে দিতে পারিনি........।।।শুধু তোর কথা ভেবে নীরা মা।অবনী নেই.......আমিও না থাকলে তোর কি হবে এই ভেবে।।।এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে তোকে নতুন জীবন দিতে।।এভাবেই তোর মামণি চলে গেছে নীরা.....।। নীরা::এত কষ্ট তুমি নিজের ভেতর চেপে রেখেছিলো বাবাআব্বু..!!!!আমার জন্য তুমি নিজের জীবনটা আর নতুন করে সাজাওনি..!!!!!!!!!বাবাআব্বু আমি কখনও তোমায় ছেড়ে যাবো না....... নীরার চোখ দিয়ে ঝরছে জলধারা.......... আকাশের বুকটা ফেটে যাচ্ছে অবনীর জন্য।।।। কিন্তু নীরার কথা ভেবে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায় আকাশ........।।। অনেকক্ষণ পরে বলল.......চল মা ঘরে যাই...... চলো বাবাআব্বু...... বাবাআব্বু......আমি তোমার নীরামণি হয়েই থাকব!!! LOVE YOUR PARENTS......


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৪৫৭৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now