বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সারপ্রাইজ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X # ক্লাস শেষে বাড়ি যাবো ঠিক এই সময়টায় হটাৎ মুষলধারে বৃষ্টি।হাতে ছাতা তবুও বের হতে পারছি না বৃষ্টির ঝাপটায়।বারান্দার এক কোনে দাড়িয়ে আছি। হটাৎ - -অভি ছাতাটা একটু দিবে?কাল আবার নিয়ে আসবো। (অনু) -ইয়ে মানেএএ নাও। ছাতা নিয়ে বালিকা তার মনের আনন্দে চলে গেল। আমার হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। আমি অভি।সহসা কোনো মেয়ের ধার ধারিনা যদিনা কোনো প্রয়োজনে পরি। কিন্তু নিজের অজান্তেই ক্লাসের একটা মেয়েকে খুব ভালো লেগে যায়।।আর আমি এমনি এক বালক যে কিনা তার মনের কথা নিজেকে ছাড়া কাউকে বলতে পারেনা।ইদানিং আমার আশেপাশে মেয়েটির উপস্থিতি লক্ষ্য করলাম।নাম অনু।দেখতে মোটামুটি ভালোই।ঐ একটু ভালোলাগার কারনেই নিজের বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া লাগবে ভেবেও ছাতাটা দিয়ে দিলাম। আর না করতে পারলাম না।তাছাড়াও এটাই ওর সাথে আমার প্রথম কথা।যখন আমাকে কথাটা বললো আমার বুকটায় DJ গানের মতো বিট মারছিল। যাহোক, বালিকা আমাকে রেখে কিন্তু আমার ছাতা নিয়ে মনের আনন্দে চলে গেল।আমাকে সাথে নিয়ে গেলেও তো পারতো।এটাও একবার ভাবলো না যে আমি কিভাবে যাবো। * কি আর করার কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও যখন বৃষ্টি থামছিল না তখন নিরুপায় হয়ে ভিজতে ভিজতে বাড়ি গেলাম।অবশ্য বৃষ্টিতে ভিজতে ভালই লাগছিল। কিন্তু বাসায় গিয়ে সবকিছু গোলমাল হয়ে গেল। যেহেতু আমি বৃষ্টিতে সচরাচর ভিজি না তাই ঠান্ডা লেগে গেছে। পরদিন হালকা জ্বর জ্বর অনুভব করছিলাম।তাই পুরোপুরি সুস্থ্য না হওয়া পর্যন্ত কলেজে গেলাম না। এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ পর কলেজে গিয়ে শুনি অনু নাকি আমাকে অনেক খুজেছে কিন্তু কোথাও পায়নি। -এই যে মিষ্টার এতোদিন কোথায় ছিলা?(অনু) -বাসায় ছিলাম।(আমি) -কেন? কলেজটাকে কি ভুলে গেছ?কি হয়েছিল? (অনু) -কিছু না এই একটু ঠান্ডা লেগেছিল আরকি।এখন ঠিক আছি।(আমি) -আমাকে ছাতা দিয়ে নিজে ভিজে গেছ।এতো সহজেই সবাইকে নিজেরটা দিয়ে দিওনা।আর এই নাও তোমার ছাতা।(অনু) -ধন্যবাদ।[আমাকে সাথে নিয়ে গেলেই তো পারতে](আমি) বালিকা কি জানতো যে ওকে ভালোলাগে বলেই ছাতাটা দিয়েছি না হলে দিতাম না। হয়তো জানে হয়তো না।কিন্তু এটা ভালো করেই ওর কথায় বোঝা গেছে ও আমাকে একটু হলেও চোখে হারিয়েছে। * আস্তে আস্তে আমাদের মধ্যে খুব ভাল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়।আমার সব কথা ওকে শেয়ার করতাম ও আমাকে ওর সব কথা বলতো। এতসব কথার মধ্যেও আমি একটি কথা ওকে কখনও সাহস করে বলতে পারিনি যে আমি ওকে অনেক অনেক ভালোবাসি।আমি আগেই বলেছি আমি এরকমই। মনের কথা সাহস করে বলতে পারিনা। রোজ কলেজে ক্লাসে বসে চোখে চোখে কথা আবার ক্লাস শেষে ঘুড়তে গিয়ে অনেক মজা করতাম।সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিল আমাদের দিনগুলো।তবুও আমার মনের মধ্যে কেমন যেন করছিল।ওকে যতদিন না বলতে পারবো ততোদিন মনে শান্তি আসবে না।অনুও আমার দিকে হটাৎ হটাৎ কেমন যেন একটা ভাব করে তাকাতো যেন কিছু একটা বলতে চায় ও।কিন্তু পারছে না।তাই ঠিক করলাম আমিই ওকে ব্যাপারটা জানিয়ে দেই।বলা তো যায়না আজকালকার মেয়ে কখন আবার কাকে মনটা দিয়ে দেয়। * পরেরদিন,,,,, ক্লাস শেষে রিতিমত ঘুরতে বের হলাম,মনে মনে বলছি আজই বলবো।কিন্তু আবার একটা ভয়ও হয়। আমাকে আবার ও ভুল না বোঝে। হারিয়ে না ফেলি ওকে।এই কথা ভেবে একটু দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। -অনু তোমাকে একটা কথা বলবো? -হুম্।বলো--- -আমাকে কখনো ভুলে যাবে নাতো? -না।কারন তুমি আমার প্রথম কোন ছেলে বন্ধু।তাই তোমাকে আমার চিরদিন মনে থাকবে। -আচ্ছা আমি দেখতে কেমন? -কিউটের ডিব্বা।হিহিহি। -সত্তি? -একশবার সত্তি। -আমি যদি আমার পছন্দের কোনো মেয়েকে বলি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাহলে সে কি আমাকে ফিরিয়ে দেবে? -না।তুমি তো সব দিক থেকেই পারফেক্ট। তাই ফিরিয়ে দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। বালিকার এই কথা শুনে মনে একটু জোর পেলাম। তাই একটু সাহস সঞ্চয় করে বললাম,,,, "অনু আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি"। অনু হটাৎ থেমে গেল।তারপর হেসে বললো - -তাই! -হুম্। -আমি তো তোমাকে বন্ধু হিসেবে ভালবেসেছি তাই প্রেমিকা হিসেবে ভালবাসতে পারবো না। -অনু আমি সত্তিই তোমাকে ভালবাসি।তোমাকে অনেক সুখে রাখবো কথা দিলাম। -শোনো অভি আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে তাই এটা আর সম্ভব নয়। -তুমি যদি আমাকে বন্ধুই ভাবতে তাহলে আগে কেনো বলোনি যে তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে? -কিছুদিন আগে বরপক্ষ এসে দিন ঠিক করে গেছে তাই ভেবেছি বিয়েতে তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো।সেজন্য তোমাকে বলিনি। -ওহ্। -হুম্। -ঠিক আছে।তোমাকে না হয় পেলাম না কিন্তু ভালবেসে যাবো অাজীবন শুধু তোমায়। -অভি দাড়াও। কথাটা শেষ করতে দাও।অভিইইই পেছনে ফিরে তাকালাম না। অনুর মুখে এই কথাটা শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরলো।কিন্তু কি আর করার জোর করে তো আর ভালোবাসা পাওয়া যায়না। তাছাড়াও ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে তাই আমি আর ওর জীবনে ঝামেলি বাড়াতে চাইনি। সবসময় মনমরা হয়ে পরে থাকতাম। মা প্রায় জিজ্ঞাস করতো কি হয়েছে তোর? কিন্তু উত্তরটা "কই কছু নাতো!" ছাড়া কিছুই আসতো না।কিন্তু মায়ের কাছে সন্তানের মনের কথা লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাই মা ঠিকই বুঝলো কিছু একটা হয়েছে। -আগের মতো হাসিখুশি নেই।মনমরা হয়ে পরে থাকিস কি হয়েছে তোর?(মা) -না মা।কিছু না।(আমি) -ক্লাসে স্যার কিছু বলেছে? -নাতো! -তাহলে?মাকে বলবি না? -আসলে শরীরটা ভালো লাগছিল না তাই। -ও আচ্ছা। বিকেলে তোর বাবাকে সাথে নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আসিস। -আচ্ছা ঠিক আছে। অনেক কষ্টে মাকে ম্যানেজ করলাম কিন্তু নিজেকেই তো নিজে ম্যানেজ করতে পারছিনা। এভাবেই প্রায় দশদিনের মতো পেরিয়ে গেল। ইতিমধ্যে অনরু নাম্বার হতে অনেকবার ফোন এসেছে কিন্তু ওর সাথে কথা বললে খারাপ লাগবে তাই ফোন রিসিভ করিনি।হটাৎ ফোনে একটা মেসেজ আসলো, "অভি তুমি না আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড। আগামি পরশু আমার বিয়ে।তাই আগামিকাল কলজের সবার সাথে কাটাতে চাই।যদি না আসো তাহলে বুঝবো তুমি আসলে আমাকে বন্ধু হিসেবেই মেনে নিতে পারোনি।তোমার আশায় থাকবো" যতই কষ্ট হোক বিয়ের আগে ওর শেষ কথাটা রাখতেই হচ্ছে।তাই ঠিক করলাম যাই, অনুকে বিয়ের অভিনন্দন জানিয়ে আসি। কিন্তু তখন কি আর জানতাম যে আমার জন্য আরো বড় কোন সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে! সকালে ফ্রেস হয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।ক্যাম্পাসে গিয়ে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না।অবাক করার মতো কিছু জিনিস লক্ষ্য করলাম। প্রতিটি দেয়ালে পোষ্টার টানানো।আর তাতে লেখা "SORRY OVI" * আমি তো অবাক।ব্যাপারটা কি কিছুই তো বুঝতে পারছি না।আমিতো পুরাই ফ্যামাস হয়ে গেছি। একটু এগিয়ে দেখি ডানে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো।ডানে গিয়ে দেখি পোষ্টারে লেখা উপরে মানে দ্বিতীয় তলায় যেতে বলছে।আমি আস্তে আস্তে উপরে গেলাম। কোনো শব্দ নেই, খুবই শুনশান কলেজ।কোনো ছাত্রছাত্রীও দেখছি না।আজ কি শুক্রবার নাকি? না মনে পরলো আজ বুধবার। কিন্তু উপরে ওঠে আমি জীবনের সবচেয়ে বড় সারপ্রাইজটা পেলাম।অনুর হাতে আমি একটা স্যাড ইমোজি দেখলাম আর তাতে লেখা ছিল।"SORRY OVI" অবশেষে রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হলাম। আর এটা বুঝতেও কোনো সমস্যা হলো না যে কাজটা অনুর। -অভিনন্দন।আশা করি তুমি বিবাহিত জীবনে অনেক সুখি হবে। -কি? -বললাম তুমি বিবাহিত জীবনে সুখি হবে। কিন্তু, সরি অভি এর মানে কি?আমি কি তোমাকে কোনোভাবে দুঃখ দিয়ে ফেললাম? -না। বুদ্ধু একটা। বলেই আমাকে জরিয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।কিন্তু আমি এর কোনো মানে খুজে পাচ্ছিলাম না। -কি হলো।ছাড়ো সবাই দেখবে তো। -না ছাড়বো না।দেখুক সবাই।তাতে আমার কি? -মানে কি? কাল তোমার বিয়ে আর আজ তুমি আমাকে জরিয়ে ধরেছ সবাই কি বলবে? -মজাও বোঝোনা? -কিসের মজা? -সেদিন আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম।আমার কোনো বিয়ে ঠিক হয়নি। -আমাকে মিথ্যা বলার কারন কি?কাল তোমার বিয়ে তা সবাই জানে।আর আমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ। ছেড়ে দিয়ে---- -আরেহ্ আমি সেদিন দেখছিলাম যে তুমি আমার বিয়ের কথা শুনে কেমন রিঅ্যাক্ট করো।আর তুমি আমার সম্পূর্ন কথা না শুনেই চলে গেলে। -সেদিন কথাটা শোনার পর আমার মাথা ঠিক ছিল না। -এখন ঠিক আছে? -হুম্। -তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি। -সত্তি? -হুম্। -তাহলে কখনো ছেড়ে যাবে নাতো? -নাহ্। -শুধু এই কথাতেই হবে না। -তাহলে কি করতে হবে স্যার? -একশবার I LOVE YOU বলতে হবে আর আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরতে হবে এটাই তোমার শাস্তি। -আচ্ছা ঠিক আছে। I LOVE YOU, I LOVE YOU, I LOVE YOU, I LOVE YOU,I LOVE YOU. * -ওকে। আর বলতে হবে না।কোনদিন ছেড়ে যাবে না তো? -বললাম তো, না।প্রমিস্ -তাহলে শক্ত করে জরিয়ে ধরো আমরন পর্যন্ত। -হুম্। -হয়েছে। এবার ছাড়ো।সবাই দেখছে তো। -দেখুক।সিনেমায় তো সবাই দেখে এখন একটু রিয়েল লাইফেও দেখুক। আজিবন ভালোবেসে যাবো। -হুম্ পাগলি। (নোট):-ও যে আমাকে ভালোবাসতো সেটা কেন বুঝতে পারিনি আর কেনই বা বুঝতে পারিনি যে ও আমাকে মিথ্যে বলেছে? হয়তোবা অনেক ভালোবাসতাম পাগলিটাকে তাই। তা আর যাই হোক # সারপ্রাইজ_টা কিন্তু দারুন পেলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সারপ্রাইজ
→ সারপ্রাইজ
→ বার্থ ডে সারপ্রাইজ
→ রাক্ষুসী বউ (৯ম পর্ব) [সারপ্রাইজ]
→ সারপ্রাইজ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now