বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আবার যখন হলো দেখা!-3

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X স্থানঃ স্টারবাক্স কফিহাউস। ক্যা পাচ্চিনো কফি নিয়ে ডিফ-ই-কাল্ট একটা কোণে বসে সেই নাম না জানা মেয়েটিকে খেয়াল করছে এরন। মনে গেঁথে আছে একটু আগে দেখা সেই অন্তরঙ্গ দৃশ্যটা। সুবেশী দীর্ঘদেহী এক যুবক আর মেয়েটা এখন কী একটা কথায় হেসে কুটিপাটি হয়ে যাচ্ছে। চমৎকার দৃশ্য – কিন্তু এরনের কোথায় যেনো ঈর্ষায় জ্বলে যাচ্ছে। যুক্তিহীণ ঈর্ষা। অমন সুন্দর একটা মেয়ের যোগ্য তেমন কেউ থাকতেই পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন যে মানে না। মেয়েটা হয়তো ওর ভালোবাসার মানুষের সাথে দেখা করবার জন্যই এতদূর এসেছে। নিজেকে বড় বেকুব মনে হতে থাকে। এতটা নিঃস্ব আর ক’বে মনে হয়েছিলো ঠাহর করতে পারছে না। ওর উচিত এখুনি চলে যাওয়া, কিন্তু এই ছুটির দিনে আর যাবেইবা কোথায়? তারচে’ বসে বসে এই বঞ্চনাই দেখা যাক ঠিক করলো। আশ্চর্য, ভালবাসায় প্রাপ্তির মত অপ্রাপ্তিও কি আকর্ষন করে? ঘটমানতার বোধহয় নিজস্ব একটা চরিত্র আছে যেটা আপনগতিতে বিকশিত হয়। তা না হলে যত দুরূহ কোণেই থাকুক না কেন লিভিয়া –এর চোখ কেন সেই অন্যমনস্ক এইসিয়ান যুবকের দিকে চলে যাবে? ঝট করে সেই রাতের কথা মনে পড়ে যায় – জুরিখের ট্রেন, নিঃসঙ্গ কামরা, এইসিয়ান সেই যুবক, উষ্ণতার বিনিময় এবং হঠাত বিদায় – সব হুড়মুড় করে স্মৃতির আঙ্গিনায় জড়ো হতে থাকে। সেইদিন ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলো লিভিয়া। ক্রনিক এলকোহলিক মা আর তার আধা-পাঙ্ক বয়ফ্রেণ্ডের নিত্যদিনের সার্কাস দেখতে দেখতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলে পালিয়ে যাওয়াটা একদিন জরুরী হয়ে পড়ে। তাই সেদিন পালিয়েছিলো সদ্য উনিশে পা দেয়া লিভিয়া। সে বড় সরল, সাদাসিধে ছিলো। জুরিখে পালিয়ে যাওয়ার মত সাহস তার ছিল না বৈকি। কিন্তু অবস্থা মানুষকে দিয়ে অনেক কিছু করিয়ে নেয়। সামান্য ক’টা সুইস ফ্রাঙ্ক সম্বল করে কী ভীষন অনিশ্চয়তায় পা দিয়েছিলো এটা ভেবেই আকুল হয়ে কেঁদে চলেছিলো দোতলা ট্রেনটির সেই কামরায় যেখানে একটা ট্যুরিস্টও (এরন) এসে ওঠে। একমাথা রেবেলিয়েস কোঁকড়া চুল, ভীষণ ফর্সা আর খাড়া নাক – কিন্তু সে ককেশিয়ান নয়, সম্ভবত এইসিয়ান –ই হবে। মুখে একটা দুষ্টু দুষ্টু সরল হাসি। ভালো লেগে যায় লিভিয়া –এর। কামরায় উঠে কাউকে না দেখতে পেয়ে সে যেন একটু হতাশই হয়; লিভিয়া কে সে যে দেখতেই পায় নি। তারপর একসময় বোধহয় বোর হয়েই ঘুমিয়ে পড়ে। রাত বাড়তে থাকলে হতাশা, দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা সব প্রবলভাবে বাঁধতে থাকে লিভিয়া কে। সে যেন ভেঙ্গে পড়তে থাকে। তখন মনে হতে থাকে তার একটা অবলম্বন দরকার – একটা উষ্ণ বুক এবং কোনো এক অব্যখ্যেয় শক্তিতে সেই অপরিচিত যুবক তাকে প্রবল আকর্ষনে টানতে থাকে। ন্যায়-অন্যায়, অনধিকার চর্চা সেখানে গৌণ হয়ে যায় এবং বাকীটুকু যৌবনের অপ্রতিরোধ্য পিচ্ছিল পথে গড়িয়ে যায়। হঠাত ডাকে সম্বিৎ ফিরে পায় লিভিয়া। স্টুয়ার্ট ডাকছে কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ওর চোখ কেবল সেই যুবকটিকে খুঁজছে – অনেক ঋণ যে সেই মানুষটির কাছে যে উটকো একটা মেয়েকে সত্যি বলতে গেলে পতনের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল! চোখে চোখ পড়ে যায় দু’জনার। এরন হঠাত বুঝতে পারে মেয়েটা কেন জানি সঙ্গের যুবকটির কোনো কথাই শুনছে না। সম্ভবত এদিকেই কোথাও তাকিয়ে আছে। না, ভুল - সে এরনের দিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এরনের কী হয় কে জানে? সে তড়াক করে লাফিয়ে উঠে বড় বড় পা ফেলে হাঁটতে থাকে। নাহ, সে কিছুতেই অদ্ভুত কোমল তিলতিল জমস আকাঙ্ক্ষার ইতি চায় না। থাকুক, এমনি মধুর রহস্যে ডুবে থাকুক তার অপ্রাপ্তি। তাকে নিদারুণ বাস্তবতা দিয়ে জব্দ করার কোনো মানে খুঁজে পাচ্ছে না। সে যে সবসময় জিতেই এসেছে, হারে সে মোটেই অভ্যস্ত নয়! লিভিয়া ছুটে বেরিয়ে যায় এইসিয়ান যুবকটির পিছুপিছু। মনে অনেক প্রশ্ন। সেগুলোর উত্তর যে চাই! কিন্তু সে পালিয়ে যাচ্ছে কেন? সে কি ওকে চিনতে পারে নি? সেকেণ্ডের ভগ্নাংশের জন্য লিভিয়া দেখতে পেলো সেই যুবকটি অদূরে ‘জন লুইস’ –এ টুপ করে সেঁধিয়ে গেলো। ‘টিপিক্যাল ম্যান...মেয়েদের ইন্টুইশ্যন সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই’ মনে মনে হাসতে থাকে লিভিয়া। পালিয়ে যাবে কোথায়? জন লুইসে ঢুকে এরনের মনে হলো মেয়েটাকে সে বোধহয় ফাঁকি দিতে পেরেছে। হাসি পেয়ে গেলো কেন জানি! এরন ইরেশ একটা মেয়ের থেকে এইমাত্র পালালো – একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু আজ বোধহয় সব বিশ্বাসেরা অভূতপূর্ব বিশ্বাসঘাতকতায় নেমেছে! উপায় নেই। এরন কে কিছুটা সময় কাটাতেই হবে এখানে। বাধ্য ছেলের মত উদ্দেশ্যবিহীন ঘুরে বেড়াতে লাগলো। বিশাল ফ্লোর স্টোরটার – এমাথা ওমাথা দেখা যাচ্ছে না। এখানে কাউকে খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা নয়! মনে একটা তৃপ্তি তৃপ্তি ভাব এলেও কোথায় যেন বেদনার একটা কাঁটাও ফুটছে! খেলারাম এরন এতদিন হয়তো মিছে খেলাই খেলে এসেছে...আজ যখন সত্যিকারের কেউ এলো, তখন এরনের সব কৌশল ফুরিয়ে গেলো। এই নিঃস্বতার নাম কী, কে জানে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আবার যখন হলো দেখা!-3

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now