বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
> নিলু , মেয়েটা অকারণ অভিমান করে!
যেন ইচ্ছে করে 'ই' অভিমান করে! তার মান ভাঙাতে 'ই' আমার বেশি ভাল লাগে! এট্টু বেশি 'ই' যে ভালবাসি!
.
> আজকে বাইরে মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে! ঘড়িতে নেহাত রাত ২:২২ বাজে! এই মূহুর্তে এক কাপ লবন চা খেতে ইচ্ছে করছে! লেখকের একটা গল্প পড়ার পর থেকে লবন চা 'র' প্রতি আলাদা ভালবাসা জন্মে গেছে! নিলু টা নিশ্চিন্তে, পরম শান্তিতে ঘুমোচ্ছে - এখন ওর ঘুম ভেঙে চা করে দেওয়ার কথা বলা ঠিক হবে না! হয়তো একটু অভিমান করবে! কিন্তু না করবে না! না ঘুমোক ও ..
.
> নিলু কে বিছানায় রেখে বারান্দায় এলাম! চাঁদ টাকে সত্যি আজ বড্ড ভাল লাগছে! আজ কি জোৎস্না রাত? হয়তো?
এখন যদি এক কাপ লবন চা খেতে না পারি ঘুম আসবে না চোখে! কি এক বাজে অভ্যাস করে ফেলেছি! যাই দেখি নিজে নিজে চা বানাতে পারি কি না? নিলু বলেছিল একদম সোজা -
চা বানানোর পাত্রে পরিমাণ মত পানি, আর চা-পাতা দিয়ে চুলোয় বসিয়ে দিতে হবে! ব্যাস এরপর চায়ের কালার চলে আসলে, ১ চামচ লবন দিয়ে মিলিয়ে নিলে হবে? চেষ্টা করে দেখব না কি?
.
> রান্নাঘরে এসে চুলো জ্বালালাম! নিলু 'র' কথা মত সবকিছু দিয়ে চা বসিয়ে দিলাম চুলোয়! চা হউক .. আমি বারান্দায় যাই একটু -
চাঁদেরহাট বসেছে যেন আজ, তার মায়াবী আলো ধীরে ধীরে আরো উজ্জ্বল হচ্ছে!
.
এই চাঁদের মায়াময় আলো দেখে, নিলু আর আমার এক হওয়ার - সময়টা অনেক বেশি মনে পরছে! এই তো কয়টা দিন আগের কথা ... মেয়েটা আমার মতই চন্দ্রবিলাশী!
.
নিলু আর আমাদের বাসা ছিল পাশাপাশি!
আমাদের বলতে আসলে কিছু নেই - আমার বলা যায়, আমি একা থাকতাম পাশের ফ্লাটে ! মা -বাবা সেই কবে ছেড়ে চলে গেছেন !একটা এক্সিডেন্টে উনারা মারা যান! মা -বাবা 'র' একমাত্র সন্তান আমি তাই আর কোনো ভাই কিংবা বোন ছিল না!তাই আমার বলাটা দোষের না!
.
যখনি আকাশে চাঁদ উঠে আমি হয়ে বারান্দায় কিংবা ছাদে চলে যেতাম! প্রথম খেয়াল না করলে ও পরে খেয়াল করে দেখি চাঁদ শুধু আমি একাই দেখি না! আমার মত আরো একজন ও চন্দ্রবিলাশী আছে! সে ও যখন আকাশে চাঁদ উঠে আমার মত হয় বারান্দায় না হয় ছাদে চলে আসে! এই একটা ব্যাপার আমার ভীষন ভাল লাগতো!মেয়েটা 'র' সাথে কোনোদিন কথা হয়নি! শুধু রাস্তায় কখনো দেখা হলে চোখাচোখি হত! একদিন রাতে মস্ত বড় চাঁদ আকাশে উঠলো - আমি যে কি খুশি হলাম চাঁদ টাকে দেখে! মনে মনে ভাবলাম আমার মত হয়তো ঐ মেয়েটা ও ভীষন খুশি হবে আজ ! তখন তার নাম জানতাম না! বরাবরের মত ছাদে গেলাম! মেয়েটা আজকে আসে নি? মনটা খারাপ হয়ে গেল! চাঁদ টা কে ও এখন আর ভাল লাগছে না! মন খারাপ চলে আসতে যাব তখনি পিছন থেকে কেউ ডাক দিল :
> চলে যাচ্ছেন?
মনটা আমার এখন এক নিমিষে 'ই' ভাল হয়ে গেল! বুক ধরফর করতে লাগলো! কোনো মতে বললাম -
> না তো?
> আপনি কি প্রতিদিন ছাদে আসেন?
> জ্বী না, যখনি আকাশে চাঁদ উঠে তখন! আপনি?
> আমি ও আপনার মত 'ই' ?
> চাঁদের আলো আমার খুব ভাল লাগে! যখন 'ই' চাঁদ উঠে আকাশে আমার মনে অজানা এক ভাল লাগা কাজ করে!
> আমার ও সেইম!
> আরে, তাই নাকি?
> হুম!
> আমি কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছিলাম ব্যাপার টা?
> তাই নাকি?
> জ্বী, আমাদের কত কিছু 'ই' না মিলে যায় তাই না!
> হুম! আচ্ছা আপনি গিটার বাজাতে পারেন?
> না তো?
> আমি পারি?
> তাই নাকি? একটু বাজিয়ে শুনাবেন - এখন শুনলে মন্দ হবে না! কি বলেন ?
> দাঁড়ান আপনি! আমি গিটার নিয়ে আসছি?
> তাড়াতাড়ি আসেন?
> ওকে!
দু - তিন মিনিট পর! মেয়েটা গিটার নিয়ে হাজির! আমি এবার বললাম -
> আরে, একটা জিনিশ খেয়াল করেছেন?
> কি?
> আমরা কিন্তু এখনো পরিচিত হই নি?
> আরে, তাই তো?
> আমি রুদ্র রেহমান! আপনি ?
> নিলু রহমান!
> ঠিক আছে, এখন বাজানো শুরু করুন প্লিজ?
> বাজাচ্ছি!
মেয়েটা অনেক সুন্দর করে গিটার বাজায়! সত্যি জবাব নেই! আমি যেন মুগ্ধ হয়ে আছি তার সুরের মোহনায়! গিটার বাজানো 'র' শেষে -
> কেমন লাগলো আপনার?
> জবাব,নেই?
> এতটা ভাল কিন্তু হয়নি?
> আরে, কি বলেন ভাল হয় নি?
আমি তো ভাবছি আপনার কাছ থেকে গিটার বাজানো শিখব?
> শিখাতে পারি? তবে একটা শর্তে ?
> কি শর্ত ?
> আপনি থেকে তুমি তে, আসতে হবে?
> রাজী !
.
এরপর দুজনেই এতপরিমান ঘুরাঘুরি, আড্ডা,কথা বলে সময় কাটাতে লাগলাম - কখন যে তাকে আমি আর আমাকে ও ভালবেসে ফেলেছি বলতে পারিনা! তার জীবনে 'র' সাথে নিজেকে জরিয়ে নিজেকে বড় ভাগ্যধর লাগছিলো!
তারপর - আমাদের বিয়ে ... সংসার জীবন! চলছে 'ই' যেন ....
.
> আরে আমার চায়ের কি হচ্ছে?
দেখে আসি -
একি নিলু কই? রান্নাঘরের দিকে গেলাম - হুম , নিলু চা বানাচ্ছে? মেয়েটা কি করে টের পেল? হয়তো যখন বিছানায় দেখেনি একটু অবাক হয়েছে - তারপর উঠে যখন দেখলো রান্নাঘরে আলো জ্বলছে তখন সেখানে গিয়ে হয়তো দেখেছে, আমি চা বানানোর চেষ্টা করেছি! হয়তো একটু অবাক হতো আমি একা একা চা খাওয়ার চেষ্টা করছি দেখে? কিন্তু মেয়েটা যখন দেখবে চায়ের পাত্রে দু কাপ পরিমাণ পানি দেয়া আছে তখনি সব বুঝে নিবে!
.
না এ যে একেবারে উল্টো টা হলো নিলু দেখি গাল ফুলিয়ে বসে আছে?
> কি ব্যাপার? একা একা চা খাওয়ার চেষ্টা করছিলে কেন?
> কি আমি চা খাচ্ছি?
> রান্নাঘরে তুমি আছো? চা তো তুমি 'ই' খাচ্ছো?
> তুমি কথা বলবা না একদম?
> কথা না বললে যে শান্তি পাব না?
> আমি এত কিছু বুজি না!
> আমি কি করলাম?
> কিছু করো নি?
> না!
> একা একা চা কে খাচ্ছিলো?
> একা কোথায়?
> কি? এত বড় মিথ্যা কথা?
> সত্যি! তুমি ঘুমোচ্ছিলে তাই.......
> তুমি একা চা খেতে চলে এসেছো?
> তুমি ঘুমে ছিলে তাই আর ডাকিনি?
ভাবলাম চা টা বানিয়ে ডেকে তুলব!
> কিন্তু চায়ের পাত্রে দুকাপ পানি কেন?
> তুমি খাবে না?
> আমি তো তোমার কাপে খাব!
> ঠিক আছে, আমরা এক কাপে 'ই' খাব! খুশি?
> না?
> কেন?
> গান ও শুনাতে হবে?
> রাজী!
.
> তাহলে এইবার অভিমান ভাঙাতে পারলাম মহারাণী 'র'!
> মনে হয়!
.
>বাইরের এত সুন্দর চাঁদের আলো 'র' নিচে আমার চন্দ্র বিলাশী বউ কে নিয়ে লবন চা খাচ্ছি আর তার পছন্দের গানটা গাইছি - বউ আমার গিটারে সুর তোলেছে! অদ্ভুত মায়াময় একটা রাত কাটাতে চলেছি আজ .....
নিজেকে অনেক ... ভাগ্যধর মনে হচ্ছে ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now