বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সুন্দর প্রতিশোধ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X "শোনো, আমি তোমার সাথে সম্পর্কটা রাখতে পারবোনা। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আমার মা বাবাকে কষ্ট দিয়ে তোমাকে বিয়ে করতে পারবোনা। তাদের পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করা ছাড়া আমার উপায় নাই। আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। আশাকরি তুমি কোনো ঝামেলা করবেনা।" . সৈকত কতটা সহজে কথাগুলো বলে চলে গেলো। আমি নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে তাকিয়ে দেখলাম ওর চলে যাওয়া। কেন যেন কোনো কথাই বের হলোনা আমার কন্ঠ দিয়ে..! শুধু দুচোখ বেয়ে অঝর ধারায় অশ্রু গড়িয়ে পড়লো আমার। . আসলে সৈকত আমাকে বুঝতেই পারলোনা..! ও কি করে ভাবলো আমি ওর বিয়েতে ঝামেলা করবো...!? যাকে ভালোবেসেছি তার ক্ষতি করবো কি করে আমি..!? তাহলে কেমন ভালোবাসলাম..!? . তবে আজ ভীষণভাবে মনে পড়ছে আমাকে দেওয়া ওর কথাগুলো... "জানো রিপা, আমার শুধু মনে হয় তোমাকে ছাড়া আমার জীবন চলার পথ থমকে যাবে। নিভে যাবে আমার সকল আশার প্রদ্বীপ। আমার নীল আকাশটা ডেকে যাবে কালো মেঘে। সত্যিই তোমাকে না পেলে আমার বেচেঁ থাকাটা অসম্ভব হয়ে যাবে! আমাকে কোনোদিন ছেড়ে চলে যেওনা। যত বাধাই আসুক আমার হাত ছেড়োনা কখনও। শত বাধা দুজনে একসঙ্গে পাড়ি দিবো..!" . এখন বুঝতে পারছি আবেগে মানুষ অনেক কথাই বলে ফেলে। যখন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় তখন আর সে কথাগুলোর কোনো মূল্য থাকেনা। সত্যিই বাস্তবতার কাছে আবেগ বড় অসহায়! . কিন্তু আমারও তো একটা মন আছে। তাকে কি করে বুঝাই যে, সৈকত তোর কপালে নেই। মনটাকে নিজেই বুঝাই... মন, তুই ভুলে যা সৈকতকে। সৈকত এখন অন্য কারো হবু স্বামী। সৈকতের মনের আঙিনায় প্রবেশের কোনো অধিকার নেই তোর এখন। সেখানে হয়তো অন্য কেউ প্রবেশ করে পুরো জায়গাটা দখল করে ফেলেছে। . মনটা যেন মানতেই চায়না। বুঝিতো..! মনটা যে আমারই..! জানি সৈকতকে আমার ভুলে যেতে হবে। মেনে নিতে হবে উপরওয়ালা সৈকতের নামের পাশে আমার নামটি লিখেননি। লিখেছেন অন্য কোনো মেয়ের নাম। হাজার কষ্ট হলেও এটা মেনে নিতে হবে। . আমি সৈকতকে ভুলে যাওয়ার এক কঠিন যুদ্ধে নেমেছি। সৈকতকে ভুলে যাবো আমি। কিন্তু যত ভুলে যেতে চাই, সৈকত নামটি যেন ততই আমার বেশি মনে পড়ে! এ যেন কঠিন এক যুদ্ধ..! এই যুদ্ধে যারা নেমেছে, কেবল তারাই অনুভব করতে পারে, কি ভয়ংকর যুদ্ধ এটা..! . অনেকদিন পর ফেসবুকে ঢুকলাম। ফেসবুকে ঢুকে সৈকতের প্রোফাইলে গেলাম। একটু অবাক হলাম..! সৈকত আমাকে আনফ্রেন্ড করেছে..! যাক ভালোই করেছে...! আমিও চাইনা আমি ওর ফ্রেন্ডলিষ্টে থাকাতে ওর কোনো ঝামেলা হোক। . ওর টাইমলাইনে একটি ছবি দেখে বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে উঠলো আমার। দেখি সৈকত ওর বৌয়ের সাথে ছবি তুলে পোষ্ট করছে! অনেক সুন্দরী ওর বৌ। আমার থেকেও সুন্দর। দোয়া করি সুখে থাকুক ওরা। . সৈকত আমাকে আনফ্রেন্ড করলেও মাঝেমাঝে ওর টাইমলাইনে ঘুরতাম। ওর বৌয়ের টাইমলাইনে ঘুরতাম। জানিনা কেন বারবার এই কাজটি করতাম আমি..! . একদিন অবাক হলাম! আর কষ্টও পেলাম! সৈকত আমাকে ব্লক করেছে..! ওর বৌয়ের আইডিটা খুঁজে পেলেও ওর আইডিটা খুঁজে পেলামনা। . আমি কি এমন ক্ষতি করলাম ওর..!? আমাকে ব্লক করতেই হবে..! বাধ্য হয়ে একটি ফেইক আইডি ওপেন করলাম। শুধু ওর টাইমলাইনটা মাঝেমাঝে দেখবো বলে...! . তারপর দুই বছর কেটে গেলো। একদিন সৈকতের একটি পোষ্ট পড়ে দৌড়ে ছুটে গেলাম হসপিটালে। সৈকত ছেলে সন্তানের বাবা হয়েছে। তবে ওর বৌয়ের অবস্থা খুব খারাপ। বৌকে বাচাঁতে রক্তের প্রয়োজন। মনেমনে খুশি হলাম, ওর বৌয়ের রক্তের গ্রুপ আর আমার রক্তের গ্রুপ এক। . হসপিটালে সৈকতের সাথে দেখা হলো। আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললো... -- তুমি এখানে...!? . আমি বললাম... --- পরে কথা বলবো। আগে রক্ত দিয়ে আসি। . রক্ত দিয়ে সৈকতের সাথে দেখা করলাম। ওর চোখেমুখে একটি অপরাধবোধ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ও কিছু বলার আগেই আমি বললাম... -- তুমি ভাবলে কি করে যে, আমাকে ব্লক করলেই তোমার খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দিবো আমি..!? . ও মাথাটা নিচু করে বললো... -- আসলে আমি সারাটা জীবন শুধু ভুলই করে গেলাম। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। . আমি হেসে দিয়ে বললাম... -- তোমার প্রতি আমার কোনো রাগ, ক্ষোভ নেই। আর থাকলে কি এভাবে ছুটে আসতাম বলো..!? চলো তোমার ছেলেকে দেখে আসি...। . অনেক কিউট হয়েছে ওর ছেলেটা। ছেলেটার গালে একটা আদর না দিয়ে থাকতে পারলামনা। তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। . কিছুক্ষণ সৈকতের সাথে কথা বললাম। হঠাৎ করে ও আমাকে প্রশ্ন করলো... -- বিয়ে করেছো...? . আমি হেসে দিয়ে বললাম... -- নাহ্..! করিনি এখনো। তবে করবো। কথা বার্তা চলছে...! . তারপর বিদায় নিয়ে চলে আসলাম। আসার সময় ওকে বলে এসেছি... যাকে ভালোবেসেছি, তার কোনোদিন খারাপ চাইবোনা। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে স্বরন করো। আমি এভাবেই ছুটে আসবো..। আসার সময় লক্ষ্য করলাম ওর চোখদুটো অশ্রুতে টলমল করছে..! . সত্যি কথা বলতে আমি মানুষটা এমনই। কেউ আঘাত করলেও তার বিনিময়ে তাকে ভালোবাসা দিতে বড্ড ভালোবাসি। প্রতিশোধ আমিও নিতে জানি, তবে সেটা সুন্দরভাবে..! ???? •••


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now