বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাময়িক বিচ্ছেদ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X - জন্মের পর থেকে সম্পর্ক নামক শব্দটা একটা মানুষের সাথে জড়িত।আমরা একেক জনের সাথে একেক একটা সম্পর্কে জড়িত।না চাইলেও কিছু কিছু সম্পর্কে জড়িয়ে যাই।সেই সম্পর্ক আমরা ধরে রাখতে চাই, তবু সেসব সম্পর্ক আমাদের মুঠো গলে বের হয়ে যায়।আবার হুট করেই আমরা অনাকাংখিত ভাবে কিছু সম্পর্কে জড়িয়ে যাই।যেটা আমরা কখনোই আশা করি না।এভাবে সম্পর্ক আসে যায়।সম্পর্ক ভাঙ্গে আর গড়ে।নিজের মন মত সম্পর্ক নাও হতে পারে।তবুও আমরা বছরের পর বছর সেসব সম্পর্ক নিয়ে বেঁচে থাকি।আবার সেসব সম্পর্ক থেকে হয়ে আসতে চাই।একই ছাদের নিচে থেকেও দু'টা মানুষ একদম আলাদা।এটাই হয়ত বাস্তবতা। এটাই হয়ত জীবন। - আমরা এই জীবন কেউ প্রত্যাশা করি না।তবুও অনেক সময় দু'টো মানুষ কে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হয়।সম্পর্কের আসা যাওয়ার নিয়মে আমরা বন্দী থাকি।সম্পর্কের তাগিদে আমরা একটা নিয়মে আবদ্ধ হই।সেই নিয়মটা হলো বিবাহিত জীবন মানে সংসার।সংসার করাটা খুব একটা কঠিনও না আবার সহজ কাজও না।ওর সাথে সাময়িক বিচ্ছেদের কথা টা মনে পড়ছে।কারণ গুলো খুব জরালো ছিলো না তবুও আমরা আলাদা হয়ে যাই কিছু দিনের জন্য।আসিফের শেষ বারের কথা গুলো খুব মনে পড়ছে। - অনেকদিন থেকে ভাবছি একটা কথা বলবো। - এতো ভনিতা না করে বলে ফেলো আসিফ। - আমাদের বিয়েটা প্রায় তিন বছর।আমি এটা বুঝতে পারছি আমাদের রিলেশন টা খুব একটা ভালো না। - সেটা কি আমার কোন দোষ?বিয়ের পর থেকেই আমি অনেক কম্প্রোমাইজ করে আসছি।আর কি করলে আমরা সুখী হবো? - আমরা কি আদৌ সুখী তিথি? - জানি না।আমি তো চেষ্টা করে যাচ্ছি। তোমার মাঝের শূন্যতা গুলো পূরণ হচ্ছে না। - আমি আর এই সম্পর্ক টেনে নিতে পারবো না।আমি খুব বোর হয়ে গেছি।এভাবে সারাজীবন একজনকে নিয়ে সংসার.....আমি পারবো না।মূলত আমি তোমার সাথে একসাথে থাকতে পারবো না। - একটু সময় নাও।এভাবে ছাড়াছাড়ি তে ভালো কিছু আশা করা যায় না।( আসিফের এসব কথা শুনে নিজেকে খুব ঠান্ডা রাখছি।) - বলেছি তো আর সময় নিতে পারবো না।আমি খুব ক্লান্ত এই সম্পর্ক নিয়ে।তোমার কোন দোষ নেই।আমিই পারবো না সংসার করতে।তবে এটা ভেবো না আমি কাউকে ভালোবাসি। - তাহলে? - আমি ঠিক জানি না।এসব সম্পর্ক, দায়িত্ব, নির্ভরতা আমার জন্য না। - আমি জানি তুমি সব পারবে।( আসিফের দুশ্চিন্তা দেখে আমি খুব ভেঙ্গে পড়ি।তবে সাহস হারায়নি।আমি মনে মনে ভাবলাম হয়ত কিছুদিন জন্য আমরা আলাদা থাকি।) - তিথি চুপ কেন? - আচ্ছা ঠিক আছে।আমরা এখনই ডিভোর্সের চিন্তা না করে কিছুদিন আলাদা থাকি।আমরা কেউ কারো সাথে যোগাযোগ করবো না।তুমি তোমার চিন্তা ভাবনা গুলো কাজে লাগাবে।আসলে কি আমাদের সারাজীবন একসাথে থাকা উচিত কিনা?আর কি কারণে উচিত আর কি কারণে উচিত না? এগুলো ক্যালকুলেশন করবে।আমি তোমার অপেক্ষা করবো। - তিথি আমাকে মাফ করো। - আরে ঠিক আছে। - এরপর আমি আর আসিফ আলাদা হয়ে যাই।আমি আমার বাবার বাড়ী চলে আসি।ও তাঁর বাড়ীতেই থাকে।আমরা কোন যোগাযোগ করতাম না।আমি খুব মিস করতাম। মন চাইতো কথা বলি।কিন্তু আমাদের মাঝের শর্ত টা আমি ভাঙ্গতে চাইনি।তবে বিশ্বাস ছিলো আসিফ ফিরে আসবে।আমি সম্পর্কে মজবুত করতে একটু সময় দিলাম।এমন টা হতেই পারে।আসিফের কোন দোষ নেই।হয়ত আমি সম্পর্কের মাঝে কোন বৈচিত্যতা আনতে পারি নি।ওর পছন্দ গুলো বুঝতে পারিনি।তিন বছর একসাথে থেকেই আমরা দু' জন খুব অচেনা ছিলাম।কাউকে চিনতেই পারলাম না। - ঠিক ছয় মাস পর আসিফ আমার কাছে আসলো।ওর মাঝে অনেক পরিবর্তন দেখলাম।আমাকে নিয়ে গেলো।আমরা আবার একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম।আসিফ আগের মত ছিলো না।বেশ গুছালো হয়ে গেছে।বেশ সংসারী হয়েছে।আমি তেমনকিছু জানতে চাইনি।কি করে এমন হলো?তারপর দু' জনের মধ্যে বুঝাপড়া টা একটু বাড়িয়ে দিলাম।দু' জনে আরও কেয়ারিং হলাম।এভাবে আমাদের বিয়ের দশ বছর কেটে গেলো।একটা মেয়ে আছে আমাদের।আসিফ অনেক হেল্পফুল। - হয়ত আমাদের সংসার টা টিকতো না।রাগের মাথায় যদি সিদ্ধান্ত নিতাম।আমি বরাবরই ঠান্ডা মাথায় ছিলাম।নিজেকে সংযত করেছি।আসলে প্রত্যকটা সম্পর্ক কে একটু সময় দেওয়া দরকার।দু' জন দু' জনকে বুঝা উচিত।একটা রিলেশনে বিরক্তি আসতেই পারে।তার মানে দু' জনের সারাজীবনের জন্য বিচ্ছেদ হওয়া না।সাময়িক দূরে গিয়ে সম্পর্কটা ঠিক রাখা যায়।দূরে থাকলে দোষ, গুণ গুলো বিচার করা যায়।নিজেদের মধ্যে গ্যাপ গুলো পূরণ করার তাগিদ বাড়ে।দু'জন দু'জনের প্রতি মায়া বাড়ে।আর এভাবে একটা সংসার হয়।একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর থাকা যায়।যদি ভালোবাসা, বুঝাপড়া আর বিশ্বাস থাকে। - স্বামী-স্ত্রী দুজন যদি একটু সচেতন হন, তবে বিনা কষ্টে দাম্পত্যজীবন হয় মধুময়।একটু মানিয়ে চলা, দুজন দুজনকে বুঝা, এটুকুই দিতে পারে প্রেমময় দাম্পত্যজীবন। দাম্পত্য সম্পর্কের ধরনটাই এমন, কখনও বৃষ্টি, কখনও রোদ। দুজনই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আন্তরিকতা নিয়ে মানিয়ে চললে সম্পর্কটা সহজ হয়।দুজনের একটুখানি মানিয়ে চলাই সম্পর্কটা সুন্দর করে, সুখী করে। মানিয়ে চলা শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, সব সম্পর্কই সহজ সুন্দর করে।মোট কথা এভাবেই দুজনকেই দুজনের ব্যাপারে শ্রদ্ধাশীল হয়ে, দু’জনের প্রচেষ্টাতেই একটা সংসার সুখী করে তোলা সম্ভব।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now