বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আরিশার বিয়ে

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ভোর ৬:৩০। পাখিদের কলরব ধীরে ধীরে বাড়ছে! রুমের পাশের গাছটাতে ওদের কিচিরমিচির শব্দ টা ভোরের আকাশে মন্দ নয়! গা থেকে কাঁথা সরিয়ে বিছানায় শোয়া থেকে উঠে বসে একটু আড়মোড়া দিলাম! স্থির পায়ে হেঁটে বারান্দার দিকে এগোচ্ছি! আকাশ টা হাল্কা মেঘলা! সূর্য উঁকি দিচ্ছে মাত্র! ফ্রেশ হয়ে চুলোয় চায়ের পানি বসিয়ে দিলাম! পানি দিয়ে, বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে পড়লাম প্রকৃতি দেখবো বলে! কিছুক্ষন পাখিদের দেখে চা পাতা দেওয়ার জন্য উঠলাম! ১০ মিনিটে রঙ হওয়ার কথা! সকালের মেঘলা আকাশে চাঁয়ের লাল রঙ টা কাপে দারূন মানিয়েছে! দুধ,চিনি মিশিয়ে চায়ের কাপ হাতে সেই চেয়ারটায় বসলাম! কড়া চা য়ে এক চুমুক দিতেই মনে হলো, আজ তো আরিশার বিয়ে! ও হ্যা আরিশা!!!!! পাঠকদের তো বলাই হয়নি,আরিশা আমার ফেইসবুক ফ্রেন্ড! গত চার বছর আমরা নিয়মিত ফেইসবুকে যোগাযোগ করে আসছি! আমি নির্ঝর! অনার্স ফাইনাল দিয়ে, মাস্টার্স পড়ছি একাউন্টিং এ! কাল আরিশা অনলাইনে তার বিয়ের দাওয়াত দিয়েছিল! গত চার বছরের চ্যাটিং এ আমাদের সরাসরি দেখা হয়েছিল একবার! তা ও দূর থেকে! এক কথায় অস্পষ্ট! ওর চেহারা শুধু এতটুকুই মনে আছে,একটা বেগুনী রঙ এর জামা সাথে একটা ক্রিম কালারের ওড়না! কিছু চুল গালের একপাশে করে,ঠোঁটে মনে হয় হাল্কা গোলাপী লিপষ্টিক ছিল! নাকি তার ঠোঁটটাই গোলাপী ছিল! ঠিক জানা নেই! যথেষ্ট ফরসা ছিল! আর মুখটা একটু লম্বাটে,কিছুটা প্রশস্থ! তখন আমি আর ও দুজনই অনার্স পড়ছি প্রথম বর্ষে! কিন্তু ভিন্ন ভার্সিটি তে! কথা বলার ফাঁকেই চা অর্ধেক শেষ হয়ে গেল! ইতিমধ্যে বাকি চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে! আবার গরম করে খাব! চা টা গরম দিই,তারপর বাকিটুকু বলছি! ওকে সেদিন রাস্তা থেকে দেখেছিলাম,তখন ও বারান্দায় ছিল! আমি স্বভাবতই লাজুক প্রকৃতির! এরপর আর কোনোদিন ওকে দেখার বা দেখা করার সাহস হয়নি! ফেইসবুকেই কথা হতো! ও আমাকে গরু ডাকতো! আমি ও ওকে গাভী ডাকতাম! আর এতে ও প্রচন্ড রেগে যেত! মাঝে মধ্যে তো ব্লক ও করে দিত! ও আমাকে ডাকতো,আমি পারতাম না ওকে ওই নামটা ধরে ডাকতে! অনেক কথাই শেয়ার করতাম ওর সাথে! ও নিজে ও করতো! অনলাইনে আসলে মোটামুটি ওর সাথেই চ্যাটিং হতো! চা টা গরম হয়ে গিয়েছে! এক চুমুক দিয়ে নিই! মাস্টার্স এর শুরুতেই চাকুরী হহয়ে গেল! ওকে চাকুরী পাওয়ার কথাটা বলাতে ও খুব খুশি হয়েছিল! হয়তো,আমার পরিস্থিতির অবস্থা দেখেই ওর মুড এতটা ভালো হয়েছে! মা-বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকে! আমি চিটাগাং এ একটা সাবলেট বাসায় একাই থাকি! হোটেলে খাওয়া দাওয়া করি! মাঝে মধ্যে বাসায় ও রান্না করে খাই! আরিশা কে কোনো একদিন বলেছিলাম,আমায় একটা টি শার্ট গিফট করার জন্য! ও অবশ্য কিনেছিলো! আমি ওর কাছ থেকে শার্ট নেওয়ার বিন্দুমাত্র সাহস দেখাইনি! তাই শার্ট টা ওর কাছেই এতদিন ছিল! কাল কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিল! অনেক সুন্দর টি শার্ট টা! আকাশী কালারের উপর হাল্কা আর্ট করা! গায়ে দিয়ে আয়নায় নিজেকে দেখলাম! অনেকদিন পর নতুন জামা পড়ে ভালোই দেখাচ্ছে! ভাবলাম,এটা পড়েই ওর বিয়েতে যাব! শার্ট টা দিত না! ওর বিয়ের পর শার্ট টা আমায় দিলে,,কেউ হয়তো কিছু মনে করতো,তাই বিয়ের আগেই দিয়ে দিল! আমি ও না করলাম না! কারন,অনেকদিন যাবৎ নতুন জামা পড়া হয়না! চাকুরী থেকে যা সেলারী পাই,তার প্রায় ৮০ ভাগ মা বাবার জন্যই পাঠিয়ে দিই! বাসা ভাড়া দিয়ে বাকি যা থাকে,তা হাত খরচ চালিয়ে দিই কোনোভাবে! আরিশার বিয়ের কথা ভাবতেই,, শূন্যতা আমায় ঘিরে ধরছে! বুঝতে পারছি, কিছু একটা সত্যিই আমার কাছ থেকে দূরে,খুব দূরে কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে! যা চাইলেই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়! এত দীর্ঘ সময় কথা বলার পর দুজন দুজনকে খুব ভালোভাবে বুঝেছি! কত কিছু শেয়ার করেছিলাম! কিন্তু এখন!!!!!! আমি কি সত্যিই কোনো বড় ভূল করে ফেলেছি! চায়ের শেষ চুমুক টা দিয়ে বারান্দার গ্রিল ধরে দাঁড়ালাম! গত চারবছরের স্মৃতিগুলো মস্তিষ্কে ফ্ল্যাশব্যাক হওয়ার চেষ্টায় মগ্ন! আর আমি কৃত্রিমতায় সেই ফ্ল্যাশব্যাক কে তার জায়গায় রাখার চেষ্টা করছি! কাজ হচ্ছেনা! আমার কৃত্রিম উপায় কাজে দিচ্ছেনা! বারবার স্মৃতিগুলো স্নায়ু কে নাড়া দিচ্ছে! কিছু স্নায়ু অবশ হয়ে আসছে! একটু ঘুমানো দরকার! ঘুমানোর চেষ্টা করে ও লাভ হলোনা! সারাটা দুপুর আর বিকেল ফেইসবুকেই কাটিয়ে দিলাম! অস্থির সময় কাটছে! ফেইসবুকে আরিশা কে প্রচন্ড মিস করছি। জ্বর আসতে শুরু করেছে! একটা প্যারাসিটামল খেয়ে ছোট্ট একটা ঘুম দিলাম! সন্ধ্যা ৭:৩০! ডাটা কানেকশন অন করতেই মেসেঞ্জারে টুং শব্দ হলো! আরিশা দিয়েছে! --আমার বিয়েতে আসবে কিন্তু। কিছুক্ষন পরই ক্লাবে নিয়ে যাবে আমায়! কে বি কনভেনশন হল! (আরিশা) -- আচ্ছা,চেষ্টা করবো(আমি) --চেষ্টা নয়! তোমাকে আসতেই হবে --আচ্ছা,দেখা যাক। (আমি) ও জানতো আমি ওর রিকোয়েস্ট না রেখে পারবোনা। বাহিরে টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে! সেই বিকেল থেকেই মুষল ধারে বৃষ্টি! এখন টিপ টিপ! টি শার্ট টা বারবার নেড়ে চেড়ে দেখছি! এই টি শার্ট টা তে ওর হাতের ছোঁয়া আছে! তাই বার বার ওকে অনুভব করার চেষ্টা করছি! কিন্তু কেন করছি,জানিনা! একটু শীত শীত করছে! সমস্যা না! এক কাপ চা খেলে ঠিক হয়ে যাবে! চা চুলোয় বসিয়ে রেডি হচ্ছি,বিয়েতে যাওয়ার জন্য! জীবনে শেষবার এবং প্রথমবার ওকে ভালোকরে দেখার চেষ্টা করবো! চা টা শেষ করে তৈরি হলাম! বৃষ্টি এখনো কমেনি! ভাবলাম, ভিজে ভিজেই যাই! অন্যরকম অনুভূতি হবে! কারো বিয়েতে ভিজে ভিজে যাওয়ার অনুভূতি! বিয়ের ক্লাব টা রাহাত্তারপুল! হেঁটে যেতে আধা ঘন্টার মতো লাগবে! মানিব্যাগে ১০০ টাকার দুটো পুরোনো নোট! আর ৫ টাকার ১ টি নোট! হাঁটা শুরু করছি,আর ভাবছি সেই সময়গুলোর কথা! আরিশার সাথে ফেইসবুকে কাটানো সময়গুলো! হঠাৎই গালে গরম কিছু তরল অনুভব করলাম! বৃষ্টির পানি তো ঠান্ডা! তাহলে গরম পানি আসবে কিভাবে??? একটু নোনতা! বুঝতে পেরেছি! ওকে ভাবতে ভাবতেই চোখের কোন থেকে অতীতের কিছু স্মৃতির জমানো সাক্ষী,আমার কাছ থেকে নিস্তার পেয়েছে! বৃষ্টির জল চোখের জল যে আলাদা করে দিল! চোখ টা টি শার্ট এ মুছেই আবার স্বাভাবিক হাঁটা শুরু করলাম! আধা ঘন্টা খানিক পর পৌঁছালাম! কত্ত বড় ক্লাব! বাহির থেকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে ভি আই পি ক্লাব! কেমন অস্বস্তি লাগছে! চারিপাশে একটু চোখ বুলিয়ে নিলাম! ক্লাবের গেইট দিয়ে ঢুকতেই ইতস্তত লাগছে! কত হাই লেভেলের মানুষ! আর আমি সাধারন একটা ছেলে! খুবই সিম্পল পোশাক! পড়নে ব্লু জিন্স,টি শার্ট, চুলগুলো আঁচড়াতে ভুলেই গিয়েছিলাম! কোনোভাবে বামপাশে সরিয়ে রেখেছি। এপাশ ওপাশ তাকাতে তাকাতে ঢুকে পড়লাম! কত বড় প্রাঙ্গণ! দেখেই বুঝা যাচ্ছে,অনেক বড় আয়োজন করা হয়েছে! আরিশা ওর বাবার বড় মেয়ে,তাই হয়তো এতটা আয়োজন! কাউকে চিনিনা! সবাই যার যার সাথে কথা বলাতে ব্যাস্ত! কেউ হাসাহাসি করছে,ছোট বাচ্ছারা খেলছে! শুধু আমিই একা! ক্লাবের নন্দন কানন এ চলে গেলাম! অনেকটা নিরব এলাকা! তেমন কেউ নেই! একটা চেয়ার টেনে শিমুল গাছটার তলায় বসলাম! ছোট ছোট বাচ্ছা দুটো খেলা করছে! অন্যদিকে তাদের মন নেই! বৃষ্টিটা এখনো থামেনি! প্যান্টে হাত দিয়েই মনে হলো কালকে কেনা ১১ টাকায় ভ্যানসন সুইচ টা এখনো রয়ে গেছে! দ্রুত ম্যাচিস দিয়ে ধরালাম! বৃষ্টি আর মন খারাপে সিগারেট টা অন্যরকম একটা ফ্লেবার দিচ্ছে! বারবার স্টেজে চোখ চলে যাচ্ছে! আরিশা কে হয়তো সাজাচ্ছে! স্টেজ খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে! বেলী ফুল দিয়ে দুটো চেয়ার আবৃত! একটি ওর! অন্যটা ওর হবু স্বামীর! কিছুক্ষন পর চেয়ার দুটো পূরন হয়ে যাবে!!! পাশাপাশি বসবে আরিশা আর ওর স্বামী! ক্যামেরাম্যান এর ক্যামেরা তে ক্লিক করার শব্দে স্টেজের অংশটা মুখরিত হবে! আত্নীয় স্বজন রা তাদের স্মার্ট ফোনে সবচেয়ে ক্লোজ,ভালো ছবিটা পাওয়ার আশায় বারম্বার মোবাইল স্ক্রিনে ক্লিক করবে! ভাবতেই বাম পাশের শূন্যতা বেড়ে যাচ্ছে! কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সিগারেট এর শেষ প্রান্তে চলে এলাম! একটা সুখটান দিয়ে পায়ের নিচে সিগারেটের বাকিটুকু নিঃশেষ করে ফেললাম! হঠাৎই হৈ হুল্লোড় পড়ে গেল! একটা গ্রে কালার এর রজনীগন্ধা ফুলে সাজানো প্রিমিও গাড়ি স্টেজ এর প্রায় কাছাকাছি থামলো! কালো পাড়ের সবুজ শাড়ি পরিহিত ধবধবে ফর্সা একটি যুবতী স্টেজের দিকে এগোচ্ছে! চেহারাটা একপাশ থেকে দেখা যাচ্ছে! রানীর মতো চেয়ারটায় গিয়ে বসলো! বুঝেছি! আরিশা! দারূন মানিয়েছে শাড়ীটা! চুল বড় করে খোঁপা করা! কিন্তু মুখে বিষন্নতা! এদিক ওদিক কিছু একটা খুঁজছে! স্টেজের সামনের চেয়ারগুলোতে বার বার চোখ বুলিয়ে আবার অন্যদিকে চোখ সরিয়ে! ক্যামেরাম্যানের রিকোয়েস্টে জোর পূর্বক স্মাইল এর বৃথা চেষ্টা করছে! ছবি তোলা পর্ব শেষ করে পাশের ওয়েটিং রুমটাতে ওকে নিয়ে যাওয়া হলো! হয়তো ঠান্ডায় বসে বিশ্রাম নিবে! রুমটার জানালা নন্দনকানন এর ঠিক পাশেই! আমি কেন জানি ঠিক জানালাটার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম! ভালো লাগছিলোনা! ওকে বিদায় দেওয়ার অপেক্ষা আছি! পূর্ব দিকটাতে ওয়েটার রা অতিথিদের খাওয়াতে ব্যস্ত! ক্ষিদে পেয়েছিল খুব! সাড়ে দশটা বাজে! তাই আর চিন্তা না করে একটা চেয়ারে বসে পড়লাম! অনেকদিন পর এত্ত ভালো খাবার খেলাম! কারো কাছ থেকে এখন আর বিয়ের দাওয়াত পাইনা! পেলে ও গিফট দেওয়ার ভয়ে যাওয়া হয়না! এইখানে গিফট ছাড়াই আসলাম! মুরগির মাংস রোস্ট করা! গরুর মাংস লাল করে বুনো করা! প্রচন্ড লোভ পেয়েছিলো! খাওয়ায় মন দিলাম! খাওয়া শেষ করে, আবার গরম পানি দিয়ে স্পেশালি হাত ধোয়ার কারনে ওয়েটারকে আবার বখশিশ দিতে হলো ২০ টাকা! না দিলে পেছন থেকে ঠিকই দু একটা নেগেটিভ ওয়ার্ড কানে আসতো! আবার সেই নন্দনকানন এ গিয়ে বসলাম! ক্লাবের কেউ কেউ খেয়ে চলে যাচ্ছে! কেউ বা আবার আরিশা কে বিদায় দেওয়ার অপেক্ষায় আছে! তারা খুব কাছ থেকে বিদায় দিবে! আর আমি সবার পেছন থেকে! রুমের জানালাটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। বহু প্রত্যাশায়! যদি ভুলে ও আমায় আরিশা চিনে ফেলে! আমাকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিন পাশের জানালা টা আরিশাই খুলে দিল! জানালা থেকে আমার চেয়ারটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে! আরিশার চোখ আবারো এদিক ওদিক কাউকে খুঁজছে! আর আমি অবাক হয়ে তাকে দেখেছি! চুলগুলো খোলা,চোখের নিচে কাজল লেপ্টে আছে! হয়তো কিছুক্ষন পর আবার সাজাবে! হঠাৎই দুজনের চোখ আটকে ঠিক একই জায়গায়য়,একই অবস্থায়! আমি ওর চোখে,আর ও আমার চোখে! দূরত্ব বেশি নয়! আমি অবাক!!!!!! ওর মুখটা আগের চেয়ে উজ্জ্বল হয়ে গেল! আমায় ডাকছে,হাতের ইশারায়! ধবধবে ফরসা হাতে মেহেদীর আলপনা দারূন মানিয়েছে! আমি নিজ দিকে আংগুল রেখে বুঝাতে চাইলাম,আমায় ডাকছে কিনা! ওর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া আসলো! ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্চি জানালা টাকে লক্ষ্য করে! চোখ আরিশার দিকে! ভয় ভয় করছে! চারিপাশে শুনশান নিরবতা! বাগানের ঝিঁঝিঁ রা ডাকছে! আমার পায়ে মৃদু শব্দ হচ্ছে! অদ্ভুত অনুভূতি! জানালা থেকে ১ হাত দূরে দাড়ালাম! এই প্রথম খুব কাছ থেকে দেখছি! অসম্ভব মায়া ছড়ানো ওর মধ্যে! --কিছু বলবেন?(আমি) --আপনি করে বলছো কেন? কি হয়েছে তোমার? আমায় চিনতে পারছোনা?? কাঁপছো কেন?(আরিশা) --না মানে,এমনি! (আমি) --কথা বলতে ইচ্ছে করছেনা??? -- জ্বি! হ্যা! করছে! (আমি) --তুমি আমার বিয়েতে আসবে,ভাবিনি(আরিশা) --চলে এলাম! আর দেখা হবে কিনা,তাই --ক্লাবে তোমায় অনেক খুঁজেছি --আমি জানি! --কিভাবে? --আমি দেখেছি তোমায়,কাউকে খুঁজতে! --ও আচ্ছা --আমায় কিভাবে চিনেছো? --তোমার চেহারা অস্পষ্ট মনে আছে আমার! আর টি শার্ট টা দেখে! টি শার্ট টা কেমন হলো?? --অনেক সুন্দর! --কি করো এখন?(আরিশা) --সেই জব টা! আর পড়ালেখা(আমি) --ও আচ্ছা! আমার তো বিয়ে হয়ে যাচ্ছে! খারাপ লাগবে আমার জন্য???(আরিশা) --মিস করবো! তুমিতো আর ফেইসবুকে আসবেনা, তাইনা??? --হুম! মাঝে মধ্যে আসবো --ওহ আচ্ছা! কিছুক্ষন নিরবতা! কেউ কোন কথা বলছে না! ও আমার দিকে চেয়ে আছে অপলকে! আমি অন্যদিকে! --আমি তোমার বউ হতে পারিনা???(আরিশা) -- মানে?????(অবাক হয়ে) --শুনতে পাওনি???? আবার বলছি,,,আমি কি আপনার বউ হতে পারি?? --কিভাবে সম্ভব?? (আমি) --তুমি চাইলেই সম্ভব! --ওহ আচ্ছা! --ভালোবাসো আমায়??? (আরিশা) --জানিনা(মাথা নিচু করে) --আমায় ভালোবেসে জীবন টা কাটাতে পারবে???(আরিশা) --জানিনা(আমি) -এখন কেন এইসব বলছো??? আগে বলতে পারতেনা??? (আমি) --তুমি ও তো বলতে পারতে! (আরিশা) --আমি বলিনি! তাই বলে তুমি ও পারলেনা বলতে???(আমি) --নাহ! পারিনি(রাগ করে) --কিছুক্ষন পর তোমার বর আসবে,এখন এইসব কেন বলছো???(আমি) --বর আসবেনা!(আরিশা) --মানে???!!!!!!(আশ্চর্য হয়ে) --মানে হলো,,বর আসবেনা!(চিৎকার করে,আরিশা) --কিন্তু কেন??(আমি) --বর তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে! (মুচকি হেঁসে) --দেখো আরিশা,ফাইযলামি করোনা! এখন ফাযলামো করার সময় না! (আমি কিছুটা রেগে) --পিছনে ফিরে দেখো!(আরিশা) আমি স্বাভাবিক ভাবেই পিছনে ফিরলাম! যা দেখলাম,তার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না,মোটে ও না! ওর বাবা,মা,ভাই,ছোট বোন পরিবারের সবাই আমার আর আরিশার দিকে তাকিয়ে আছে! সবার মুখে হাসি! আমি একবার আরিশার দিকে তাকাচ্ছি,আরেকবার ওর পরিবারের দিকে! ক্লাব মোটামুটি নিস্তব্ধ! আর এইখানে এইসব কি হচ্ছে??? --কি হচ্ছে আরিশা???(ঘুরে দাঁড়িয়ে আরিশাকে বললাম) --যা হচ্ছে,তা তো দেখতেই পাচ্ছো! তুমিই আজ আমার বর হতে যাচ্ছো! (আরিশা) --এতসব আয়োজন কেন হলো?(আমি) --তোমার আর আমার বিয়ের জন্য! এখন স্টেজে কাজী অপেক্ষা করছে! চলো! (আরিশা) রুম থেকে বের হয়ে সবার সামনে আমার হাত ধরে স্টেজে চলে গেল! আমি হতবাক! বিয়ে পড়ানো শেষ! এর মধ্যে একটা শব্দ ও উচ্চারণ করতে পারলাম না! সাহস হলোনা! সবাই আমাকে আর আরিশাকে বিদায় দিলো! এখন আর কার নয়! ও নিজেই রিকশা ঠিক করেছে! রাহাত্তারপুল থেকে নতুন ব্রীজ(কর্ণফুলী ব্রীজ)! আমি ওর দিকে চেয়ে আছি! দুজন যুবক যুবতী রিকশায় চড়ে কোথাও যাচ্ছে,রাত দেড়টায়! ওর পড়নে বিয়ের শাড়ী! ওর কোমল হাত আমার হাতের কব্জি শক্ত করে ধরে রেখেছে! আবারো বৃষ্টি শুরু হলো! এতক্ষন হয়তো আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলো বৃষ্টি! ও ভিজছে! রিকশার হুড তোলা! কোনো কথা বলছেনা! রিকশা আমার বাসার সামনে এসে দাঁড়ালো! আমি মানিব্যাগ থেকে ১০০ টাকার একটা নোট মামার হাতে ধরিয়ে দিলাম! টাকা ফেরৎ চাইতে লজ্জা করছে! রুমে এসে ডিমলাইট জ্বালিয়ে দিলাম! আমার হাতে ১০০০ টাকার একটা নোট দিয়ে আরিশা বল্লো, --যাও,বিরিয়ানি নিয়ে আসো! (আরিশা) --এত রাতে বিরিয়ানি পাবো কোথায়???(আমি) --জানিনা! নিয়ে আসো বহু কষ্টে একটা হোটেল থেকে বিরিয়ানি আনলাম! ও নিজের হাতে আমাকে খাওয়ালো! নিজে ও খেলো এক প্যাকেট থেকেই! অনেক কথা হলো! আমার কিছুটা নিশ্চিন্ত লাগছে! আমার অস্থিরতা ও বিদায় নিয়েছে! বুঝতেই পারছেন পাঠক! ওকে খুব কাছের করে পেয়েছি! এটাই আমার কাছে বড় ব্যাপার! যদি ও অদ্ভূত ভাবে! --আচ্ছা,,,তুমি তাহলে ঘুমাও! আমি পাশের রুমে ঘুমাচ্ছি! --ওই!!!! কোথায় যাবা??? আজ আমাদের বাসর রাত! (আরিশা) --তো,,,এখন আমায় কি করতে হবে???(আমি) দাঁড়াও! দেখাচ্ছি কি করতে হবে! দরজা বন্ধ করে আমার কলার চেপে. . . . . . . ::gjকিছুটা কাল্পনিক আর বাস্তবতার মিশ্রন):::


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now