বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সম্পর্কের_শুরু_থেকে_শেষ

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মোঃ ছহিনুর রহমান বিন মনির (০ পয়েন্ট)

X - "সম্পর্ক" তৈরি হয় কিভাবে? একটা অধিকারের মাধ্যমে। সম্পর্কটা কি? একটা বন্ধন। বন্ধনটা বন্ধুত্ব বা ভালবাসার হতে পারে। ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ সম্পর্কটা অন্যসকল সম্পর্ক থেকে ভিন্ন। ভালবাসা একটা অনুভূতি যা মানব হৃদয় দিয়ে স্পর্শ করলেই মায়া তৈরি হতে থাকে। কারো প্রতি প্রবল মায়া তৈরি হলে তাকে নিশ্চই নিজের অংশ মনে হবে। এই নিজের অংশ কেউ নিজের করে রাখার জন্য ভালবাসা প্রকাশ করে প্রেমের বন্ধনে পৌছায়। . তার আগে জেনে নিই ভালবাসা আর প্রেম দুইটার আলাদা সংজ্ঞা। ভালবাসা--- ভালবাসা এক অনুভূতি যে অনুভূতি নির্লোভ অর্থ্যাৎ আকাঙক্ষাহীন। ভালবাসায় প্রত্যাশা নেই; চাওয়া-পাওয়া নেই। ভালবাসা এক নিঃস্বার্থ। প্রেম--- দুই পক্ষের ভালবাসা প্রকাশের পরই সেটা প্রেমের বৃত্তে চলে আসে। প্রেম আকাঙক্ষা আছে। চাওয়া-পাওয়ার অন্ত নেই। প্রেম স্বার্থপর। একটার পর একটা প্রত্যাশা করেই যায়। . যখন কেউ কাউকে ভালবাসে তখন তার ভালবাসার মানুষটাকে সে নিঃস্বার্থ ভালবাসে। তার কাছে কিছু পাওয়ার থাকে না। বরং দেয়ার থাকে আর সেটা হলো তার সুখ। ভালবাসায় কোন অধিকার স্থাপনের সুযোগ নেই। অধিকার তখনই স্থাপন সম্ভব যখন ভালবাসাটা প্রেমে রুপান্তর হবে। প্রেমে রুপান্তর হলেই একটার পর একটা চাওয়া তৈরি হতে থাকে। অর্থ্যাৎ স্বার্থসাধন চলতে থাকে। একটা ভালবাসাই পরিপূর্ণ বিশুদ্ধতায়; কোন চাওয়া পাওয়া নেই। আর প্রেম? সে-তো স্বার্থপর। . যেমন--- রিয়াকে রাহাত প্রপোজ করলো। রিয়া তাকে একসেপ্ট করলো কারণ রিয়াও তাকে ভালবাসা। যতদিন তাদের সম্পর্কটা তৈরি হয়নি ততদিন শুধু তারা দুজন দুজনকে ভালবাসতো তখন কোন অধিকার ছিলো না। রাহাত চাইলেই তখন তাকে বলতে পারতো না--- রিয়া তোমার হাতটা দিবে। কেনো বলতে পারতো না? কারণ উত্তরে রিয়া বলতে পারতো--- আমার হাত তোমার হাতে দিবো কেনো? তুমি আমার কি হও? বুঝতেই পারছেন, সম্পর্ক তৈরির আগে কারো প্রতি কারো অধিকার স্থাপনের সুযোগ ছিলো না। আর যখন তাদের দুজনের সাথে দুজনের একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। তখন রাহাত চাইলেই বলতে পারে--- রিয়া তোমার হাতটা দিবে। রিয়াও তাকে নিঃসংকোচে দিতে পারতো। কারণ রিয়া জানে সে তাকে ভালবাসে। এভাবে করে রাহাত প্রিতিদিন তার কাছ থেকে নতুন নতুন প্রত্যাশা করতে থাকে। যেমন-- আজ হাত ধরেছি, কাল তোমার কোলে শোব, পরশু তোমাকে কোলে নিবো, তরশু আমাকে জরিয়ে ধরবে। এবার বুঝলেন কিভাবে প্রেমে একটার পর একটা প্রত্যাশা তৈরি হতে থাকে। আর এই তৈরি হওয়া প্রত্যশা, অধিকার না থাকলে কি তৈরি হতো? নিশ্চই না। সেহেতু ভালবাসাই শ্রেয় প্রেম নয়। . অধিকাংশ জনই আজ তাদের রিলেশন বেধে রাখতে পারছে না; বৃত্ত ছেড়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে তাদের মানুষটি। দেখা যায় রিলেশন যখন তারা প্রবেশ করে তাদের প্রথম থেকে সব ঠিক থাকে কিন্তু ধীরে ধীরে শুরু হয় একটার পর একটা সমস্যা। যেমন--- সন্দেহ, ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, সময় কম দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। . আপনাদের কিছু ভুলের আপনার জীবন্ত একটা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। দুইজনের ব্রেকআআপ হয়ে যায়। তারপর দুইজন অনেকদিন ধরে তার এক্স-কে ভোগে। ভোগারই কারণ, মায়া কাটানো এতোটা সহজ নয়। কিন্তু তবুও তারা একসময় ভুলে যায় তার এক্স-কে। কাউকে ভুলে যাওয়া সম্ভব না অর্থ্যাৎ মনে পরে কষ্ট পাওয়া থেকে ভুলে যায়। কিন্তু আমরা-তো আমাদের প্রিয় মানুষটাকে ভুলে থাকতে চাই না। অবশ্যই চাইনা। . রিলেশন হওয়ার পর পরই আপনার চাহিদার শুরু হবে আপনার প্রিয় মানুষটার কাছে। আপনাকে অবশ্যই আপনার আকাঙ্ক্ষা সিমাবদ্ধ রাখতে হবে। প্রথমে মাসে একবার ডেট, তারপর সপ্তাহে একবার, তারপর সপ্তাহে দুইবার, তারপরে রুম ডেট। না এগুলো অবশ্যই করবেন না। সবমসময় একটু দূরত্বে থাকবেন। মনে রাখবেন, আপনি তাকে ভালবাসেন তার কাছে আপনার চাওয়ার কিছু নেই। প্রথমে হাত ধরা, তারপর কোলে শোয়া, তারপর কিস, তারপরে আর তারপরে কিছু বলার নেই। না চাইতেই প্রেমে আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে একসময় কামুকতা চলে আসবে। সবসময় মাথায় রাখবেন আপনার প্রত্যাশা সিমাবদ্ধ। হয়তো শুধু তার হাত ধরাতেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন। মাসে না হলে সপ্তাহে একবার দেখা করুন। দুজনের মনের কথাগুলো শেয়ার করুন। কোনকিছু গোপন রাখবেন না। এটা বোকামি কারণ সে যখন জানতে পারবে তখনই আপনাকে ভাববে হয়তো তাকে আপনি আপনার মনে বসাতে পারেননি। সারাদিন ফোনে লুতুপুতু প্যাঁচাল না করে দিনে ১০ টা গুরুত্বপূর্ণ কথাই আপনার ভালবাসার মানুষটিকে মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে। তার খাওয়া দাওয়া বা স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। তার ভাল মন্দের সাজেশন দিন। আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার ভালবাসার মানুষটি শুধুই আপনার ভালবাসা নয় আপনার বেষ্ট ফ্রেন্ড। সারাদিনে কিছু সময় তার জন্য ভাগ করে নিন। কারণ আপনার অনুপস্থিতিতে সে হয়তো করুণ শূণ্যতা অনুভব করছে। . কেউ এসে বললো-- তোমার বয়ফ্রেন্ডকে দেখেছি ওই মেয়ের সাথে হাত ধরাধরি। কেউ এসে বললো, ওঁ তোমার সাথে খেলছে ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কারণেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়। আপনি তাকে ভুল বা অপরাধী প্রমাণ না করতে পেরে কারো শোনা কথায় বা আন্দাজ বা ধারণায় তাকে অপনি দোষারোপ করতে পারবেন না। ভালবাসার সবচেয়ে বড় ভিত্তি বিশ্বাস। মনে রাখবেন, আপনি বিশ্বাস রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছেন আপনার ভালবাসার মানুষটিকে। সে যদি বিশ্বাস রক্ষা করতে না পারে সেটার জন্য সে অপরাধী কিন্তু আপনার বিশ্বাসে স্থাপনের জন্য আপনি অপরাধী হবেন না। সন্দেহ যদি একবার প্রবেশ করে তাহলে সেটা মনের ভিতর ঘুরপাক খেতেই থাকে। তাই বিনা প্রমাণে তাকে সন্দেহ করবেন না। বিশ্বাস রাখুন। বিশ্বাস স্থাপনের দায়িত্ব আপনার আর রক্ষার দায়িত্ব তার। . উপরের বিষয়গুলো মানতে পারলে ঝগড়া কম হবে। আর অধিকাংশে রিলেশনে অর্থ্যাৎ সম্পর্কে দূরত্ব না থাকার ফলে ঝগড়াটা বেশি হয়। আরেকটা বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার ভালবাসার মানুষটির সামনে আপনার ব্যক্তিত্ব সবসময় বজায় রাখবেন ঠিকই তাই বলে তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিলো করবেন না। নিজের ইগো বজায় রাখতে গিয়ে হয়তো তাকে আগে নক করতে পারেন না, তাকে আগে ভালবাসার কথা বলতে পারেন না, তাকে আগে রাগ ভাঙাতে পারেন না, তার সাথে ইগো বজায় রাখার জন্য অনেক কথা বলতে দ্বিধা করেন, লজ্জাবোধ করেন। এগুলো চরম বোকামি। এই ভাব নেওয়া, সেটা আপনার প্রিয় মানুষটির অপ্রিয়, চরম অপ্রিয়। হয়তো আপনি জানেন না তবে এই কারণেও অনেক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। ঝগড়া, মনমালিন্য হবেই। একসাথে বাবা-মার কাছে ছোট থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত অনেক ঝগড়া হয় আবার ঠিকও হয়ে যায়। আর তার সাথে হবে না, এমনটাও অসম্ভব না। ঝগড়া করে যোগাযোগ বন্ধ করে দিবেন আর "ও" দিকে সে আপনার শূণ্যতায় কষ্ট পেতে পেতে শক্ত হয়ে উঠবে। হয়তো এতোটাই শক্ত হবে যে আপনাকে ছাড়াও সে বেশ ভাল থাকতে পারে; এভাবে সম্পর্কের ইতি। আপনাকে অবশ্যই উল্টো রাগ না করে তার রাগ ভাঙানোর আয়োজন করতে হবে। কারণ সে সেই আয়োজনের অপেক্ষায়-ই বসে আছে। . আমরা যখন একটা সম্পর্ক বিচ্ছেদ করি তখন সেটা অধিকাংশ সময় রাগের কারণেই করে থাকি। ভাবি হয়তো, সে আমার কাছে এসে সব ঠিক করার জন্য অনুরোধ করবে। আমরা ব্রেকআপের পরও অপেক্ষা করি তার জন্য কিন্তু সে আর এলো না। সে-ও বসে থাকে আমাদের অপেক্ষায়। আর অপেক্ষায় অপেক্ষায় সব শেষ, প্রত্যাশা পূরণও শেষ। একজনকে না একজনকে এগিয়ে যেতেই হবে। . আমাদের প্রত্যেককে উচিৎ একটা সম্পর্কে জরানের আগে অবশ্যই সেই মানুষটা সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানা। সে মানুষটা বাহ্যিকভাবে যেমনই হোক না কেনো মনের দিক দিয়ে তাকে এগিয়ে থাকতে হবে। শরীরে বর্ণ দিয়ে কাউকে বিবেচনা নয়, মনের বর্ণ দিয়ে বিবেচনা করবেন। শরীরে সাদাটে রং, আর তার অন্তরে কি সেই সাদা আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করবেন। কালো বর্ণের মানুষ দেখে আমরা তার সম্পর্কেও কালো ধারনা নিই। আমরা সম্পর্কে জরিয়ে যাই তার বাহ্যিক রুপকে ভালবাসে তার ভিতরের রুপকে না। তাইতো "ব্রেকআপ" আমাদের কাছে এতো সুপরিচিত একটা সমাধান।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now