বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
---------
গল্প টা যদিও আজকের নয়,তবুও এটাকে পুরাতন বললে নতুনত্বের চরম অবমাননা হবে।
---
তখনকার সময়ে প্রায় ই আমাকে বার এ যেতে হতো।কেনো যেতাম,এ প্রশ্ন অনেকবার মনের ভিতরে উদগিরন হলেও, উত্তর পাই নি কখনো।মদ তখন খায় না বললেই চলে,বাদাম বুট চিপস এর প্যাকেট খালি করে ঘরে ফিরতাম।এ নিয়ে যদিও ম্যানেজার আর অল্পদামের ওয়েটারগুলো নানান প্রকারের আঁকাবাঁকা কথা শুনতাম।গায়ে লাগত না,মদ আমার নাড়িতে সয় না।
নেশা টা মদের নয়,নেশা ছিলো একটা বিদেশীনির প্রতি।পেশায় একজন বার ডান্সার হলেও সাদা চামড়ার মেয়েটির ভিতরে বঙ্গ ললনার ছাপ সবসময় লেগেই থাকতো।
ছোট্ট ছোট্ট করে মিনমিনে কথা বলতো।বাংলা টা যে নেহাত সে কম জানত, এমনটা কিন্তু নয়।পেশার প্রয়োজনে নিজেকে সবার থেকে বিচিত্র মাপে ফুটিয়ে তুলতে হতো তাকে।
একবার সাহস করে বলেছিলাম,
এক্সকিউজ মি,আপনার নাম টা জানতে পারি?
--প্রশ্নাত্তরে শুধু "কসমি"নামটাই বলেছিলো।
--
তার প্রতি যে আলাদা প্রকারের এক ভালো লাগা আমার মনে কাজ করে,কসমি সেটা আগেই বুঝেছিলো।
সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মেয়েকেই ছেলেদের মন পড়ার এই অদ্ভুত ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীতে পাঠায়।যদিও ছেলেদের এ ক্ষমতা নিতান্তই দূর্বল।
--
কসমির স্কুটি ছিলো বলে তার সাথে এক গাড়িতে যাবার সৌভাগ্য আমার হয় নি।দিনভর অপেক্ষা করতাম রাতের জন্য,রাতেই বার জমজমাট হয়।এবং কেবলমাত্র জমজমাট বারেই কসমির নৃত্য প্রদর্শন করানো হত।
লাউড স্পিকারের কড়া ভলিউমের সাথে রঙ বাহারি আলোকসজ্জায় কসমি নৃত্য করত।মনে হত সমস্ত আলো কসমির দেহ থেকে অপসৃত হচ্ছে।
কত্তবার বিভ্রম হয়েছি কসমির টানা চোখের মায়ায়,সে আর বলতে।
সোনালি রঙের চুলগুলো কৃত্তীম বাতাসে ছড়িয়ে পড়ত।সাদা ঘাড়ের উপর একদানা কালো তিল কে বিশাল আকাশের চাঁদের ন্যায় দেখাতো।
--
সুন্দরী রা আসলে সুন্দরীই।তাদের শাড়ি পরলে যেমন সুন্দর লাগে, তেমনি সুন্দর লাগবে জিন্স টপ কিংবা গ্রাউনেও।
কসমির সাথে কথা বলতে গিয়েও পারতাম না,মনে হত সুন্দর যখন।তখন তাকে দূর থেকেই দেখা উচিত।কাছে গেলে সস্তা হয়ে যেতে পারে।
এভাবেই নগর জীবন বেশ কাটছিলো।তখনও কসমি ছিলো ভাবনার জগতে বিস্তৃত একটা অংশের নাম।
------
তারপর জীবনের প্রয়োজনে ট্রান্সফার হয়ে গেলাম ঢাকা থেকে রাজশাহী।ব্যস্ত জীবনে সেই বিদেশীনির কথা প্রায় ভুলে গেলেও, সম্পূর্নভাবে তখনও ভুলতে পারি।সবকিছু তো আর চাইলেও ভোলা যায় না, না চাইলেও জীবনের কিছু ইতিকথা গুরুমস্তিষ্কে খুব করে লেপ্টে থাকে।
নতুন কোম্পানির সাথে ডিল ফাইনাল করতে আমায় ঢাকায় যেতে হলো।
প্রায় পাঁচ বছর পর সেই বারে আবার ছুটে গেলাম।ম্যানেজার সেই একজন থাকলেও আগের ওয়েটারগুলো আর নেই।
আমাকে দেখতে পেয়েই ম্যানেজার হন্তদন্ত হয়ে কাছে আসলেন।
---আপনি!!সেই মিস্টার মাছুদ।তাই না?
-জ্বী, কেনো?
আপনার একটা চিঠি আজ প্রায় তিন বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি।
একটু দাঁড়ান নিয়ে আসি
--
হন্তদন্ত হয়ে ম্যানেজার চিঠি টা এনে দিলেন।
নীল রঙের একটা খামের ভিতর থেকে চিঠি টা বের করলাম
***
সুপ্রিয় মাছুদ
যদিও প্রিয় বলা আমার জন্য বেমানান। তবুও বলছি,হোক না অনধিকার চর্চা।তোমার অপলক তাকিয়ে থাকা,বারে এসে রাতের পর রাত শুধু আমাকেই দেখা।এর একটা কারন ছিলো,যেটা তুমি বলতে পারো নি।কেনো পারো নি,সেটা আমার অজানা।লোকলজ্জায়,না সংশয়ে?
সত্যি বলতে কি!আমিও দেখতাম তোমায়।তবে খুব আড়ালে।আমায় দেখতে দেখতে তুমি যখন বারের চেয়ার টেবিলে ঘুমিয়ে পড়তে,তখন সবার অন্তরালে তোমার কাছে যেতাম।
গোসল না করার কারনে তোমার শরীর থেকে মিষ্টি একটা সুবাস আসত।
তোমায় না দেখে থাকতে পারতাম না বলে, অন্য সকল বার ছেড়ে আমি এখানেই ডান্স করতাম।
---
তুমি যখন বারে আসা ছেড়ে দিলে,তখন পাগলির মত খুজেছি তোমায়।
কিন্তু,পেলাম আর কই
কিছু মানুষকে খুঁজে না পাওয়াই বোধহয় সেই মানুষের জন্য ভালো।
-
তোমাদের এত্তো সুন্দর দেশ টা ছেড়ে আমাকে চলে যেতে হচ্ছে।যে বাবা মা কে ছেড়ে চলে এসেছি,তারা আজ মৃত্যু পথ যাত্রী।তাই আর রাগ করে থাকতে পারলাম না।
আমি চলে যাচ্ছি মাছুদ,
আবার যদি জন্ম নেওয়ার সুযোগ হয়,তবে বাংলার মাটিতেই তোমার ললনা হয়ে জন্মাবো।
---
ভালো থেকো
ইতি,
তোমার অপ্রাপ্তিতে
কসমি
*******************************
চিঠি টা এখনো ড্রয়ারে রাখা আছে।নীলা ওটা দেখে খুব ঠাট্টা মশকরা করলেও রাগে পুড়ে যায়।
হা হা হা হা
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now