বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রচন্ড রোদ!সাধারণত এই সময়ে প্রচন্ড রোদই থাকার
কথা।তবে সেটাতে এত গরম অনুভূত হওয়ার কথা নয়।এখন
বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তনের কারণে এই সময়েও এসে অসহ্য
গরম পড়েছে।
.
আবির ছাতা হাতে কলেজের দিকে যাচ্ছে।মিতুর কড়া
আদেশ প্রচন্ড রোদে ছাতা ছাড়া বের হওয়া চলবেনা।
রোদে আবিরের চোখ লাল হয়,সেটা মিতু জানে।চোখের
সমস্যা নিয়ে মিতু অনেক চিন্তিত।বরাবরই এ ব্যাপারে
উদাস আবির।আবির জানতো জন্মগত সমস্যার সমাধান
নেই।বরং একদিন তাকে অন্ধকারের রাজ্যে বাস করতে
হবে।মিতু কে তা বলা হয়নি,এটাকে একধরণের প্রতারণা
বলা চলে।চোখের সাথে আবিরের মাথা ধরার সমস্যা টা
আছে।স্বভাবিক মনে হয় আবিরের কাছে এসব।আবির
সবসময়ই হাঁটার সময় বেখায়ালে থাকে।আসলে অন্য
চিন্তা করে।মনযোগটা যে রাস্তা ধরে হাঁটে সেখানকার
আশেপাশে থাকে না।কি হচ্ছে তাও তার চোখে পড়ে না।
মাথায় সবসময় অন্য চিন্তা।অনেক সময় কল্পনার রাজ্যে
ডুবে বিশাল বাংল বাড়ির বেলকুনিতে সাহিত্য রচনা
করে,তাও আবার তার আশেপাশের ঘটনা গুলো মনে করে।
এটা অবশ্য ভালো দিক,সে ভাবে!
.
আজ সে মিতুর কথা ভেবে হাঁটছে।মিতুর সাথে ঝগড়া হলে
ব্যস্ত থাকার জন্যই কলেজে যাওয়া হয়।গতকালই ঝগড়া
হয়েছে তাদের।মিতু ব্রেকাপ করেছে।আবিরকে এখন
মিতুর অসহ্য লাগে,খুব অসহ্য।আবিরের ভালোবাসা
গুলোও এখন স্রেফ পাগলামো।আর হারানোর ভয়গুলো
অবিশ্বাস আর সন্দেহ মনে হয়।অবশ্য মিতু আবির কে
অনেক ভালোবাসে।হয়ত আবিরের ভালোবাসার
পদ্ধতিতে ভুল ছিল।
.
আবির ভাবছে,এবার মিতুকে ফেরাতে পারলে পাগলামো
গুলো কমিয়ে দিবে।যত পারে চুপ থাকবে।সে জানে মিতুর
সাথে কথা বলাতেই তার শান্তি।কিন্তু কেন যেন মনে
হচ্ছে এবার মিতু আর ফিরবে না।মিতুর চোখে ভালোবাসা
খুঁজে পেলেও।পুরো মুখ ভর্তি বিরক্তের ছাপ দেখেছে
সে।পিছন থেকে কেউ একজন আবিরের পিঠে হাত
রাখতেই তার ভাবনায় ছেদ পড়ল।আবিরের বন্ধু রতন বলে
উঠল..
-কি রে,এতক্ষণ ধরে ডাকতেছে শোনতেছিস না কেন?
সমস্যা কি তোর?তুই এমন কেন?চেহারার এ কি অবস্থা?
চোখ লাল কেন রে?রাতে ঘুমাস নাই নাকি?আরে কথা
বলতেছিস না কেন!!
-কিছু না (ফর্মালিটির হাঁসি)
.
রতন বকবক করেই যাচ্ছে আবিরের কোন সাড়া শব্দ নেই।
কলেজের ভিতরে ঢুকতেই ধ্রুব,তুষার এগিয়ে এল। রতন
ওদের সাথে গল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।সবার মুখে গতকালকে
বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়ের কথা।আলোচনার মাঝে
রতন রা হাই ফাইভ দিচ্ছে আর জোরে হাঁসতেছে
যেন পারলে গড়াগড়ি খায়।অথচ আবির একপাশে চুপ করে
দাঁড়িয়ে আছে।একসময় এই ক্রিকেট নিয়ে এই আবিরই সব
চেয়ে বেশি কথা বলত।আজ তাতে ওর কোন খেয়ালই নেই।
হঠাৎ সবাই আবিরকে নিয়ে মজা করা শুরু করে দিল।রতন
বলছিল সে আবির কে দেখেছে ছাতা হাতে কলেজ
আসতে।আবিরকে মেয়ে বলে সে কি হাঁসি রতনের।কিন্তু
আবির তো মিতুর কথা রেখেছে,সেটা ওরা কি বুঝবে!
আবির তখনও চুপ করে ছিল।
.
অনেক্ষণ এভাবে সবাই একজন আরেকজন কে নিয়ে মজা
নিতে ব্যস্ত,আবির সেই অন্য মনষ্কই আছে।তুষার আবিরকে
ভালো বুঝে।আবিরের অবস্থা দেখেই বুঝেছে কিছু একটা
হয়েছে।পাশে নিয়ে জিজ্ঞেস করল..
-কি হয়েছে তোর?
-কই কিছু না।
-মিতুর সাথে কিছু হয়েছে?(শুধু তুষারই জানতো মিতু আর
আবিরের রিলেশনের কথা)
.
আবির কিছু বলে না।তুষারের জেরা থেকে বাঁচতে উলটো
দিকে ঘুরে দাঁড়ায়।মাথায় প্রচণ্ড যন্ত্রনা অনুভব করে।
চোখে অন্ধকার দেখতেছে।হঠাৎ আবির জ্ঞান
হারায়,তুষারের উপর ঢলে পড়ে।তুষার ধ্রুব আর রতন কে
ডাক দেয়।দৌড়ে আসে ওরা।আশেপাশে থেকে আরও
কয়েকজন ছুটে আসে।কেউ কিছু বুঝতেছেনা কি করবে।
পানি ছিটা দিলেও জ্ঞান ফিরছে না।তুষার ধ্রুব কে
সিএঞ্জি ডাকতে বলে।রতন আবিরের আব্বুর কাছে ফোন
দিয়ে বলে ওসমানী মেডিকেলে আসতে।রতন আর তুষার
আবিরের সাথে যায়।
.
হাসপাতাল নেওয়ার কিছুক্ষণ পর আবিরের জ্ঞান ফিরে।
ডাক্তার MRI করাতে বলে।সেদিন টেস্ট করে রাতেই
আবিরকে রিলিজ করে দেওয়া হয়।ডাক্তার টেস্টের
রিপোর্ট হাতে নিয়ে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
আবিরের আব্বু কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবেন তখন
ডাক্তার সাহেব বলতে লাগলেন...
-দেখেন কলিম সাহেব, আপনাকে যা বলব আশা করি
আপনি ভেঙ্গে পড়বেননা তবে আমরা তো আছিই।
-কি হয়েছে আমার ছেলের (অনেক ব্যস্ত হয়ে বললেন
আবিরের আব্বু)
-ওর ব্রেইন টিউমার ধরা পড়েছে,টিউমারের কন্ডিশন
ভালো নেই।অনেক বড় হয়ে গেছে।অনেক দিন থেকে
ছেলেটা মাথা ব্যাথা সহ্য করে আসছে।এই টিউমার
এভাবে থাকলে আবির বেশি দিন বাঁচবেনা,আর ঔষধেও
কাজ হবে না।এখন আমাদেরকে একটা রিস্ক নিতেই হবে।
যদি অপারেশন করি তাহলে বাঁচানো যেতে পারে।তবে
চান্স খুব কম।তবুও আমরা চেষ্টা করব।
.
কলিম সাহেবের ইনকামে সংসার একরকম চলে।তবে
ব্যাংক ব্যালেন্স নেই।আবির কে যে করেই হোক
বাঁচাতে হবে।ধার করে অপারেশনের টাকা জোগাড়
করলেন।আবিরের যেন কোন আফসোস নেই।স্তব্ধ তা তার
মধ্যে ছেয়ে গেছে।একদম একা থাকে।বন্ধুদের কাউকেই
জানানো হয়নি ব্রেইন টিউমারের কথা।এক সপ্তাহ পরই
অপারেশন।আবিরের আব্বু আম্মুর কথা ভেবে খারাপ
লাগছে।আবার মিতুর কথা ভেবে মুচকি হাঁসে সে।ভাবে
ভালোই হলো,মেয়েটা এবার শান্তি পাবে।কাউকে আর
সহ্য করতে হবে না তার।মিতু কে স্বাধীন করে দিল
আবির।আকাশ পানে তাকিয়ে পাখি কে দেখে ভাবে
মিতু তুমিও এখন উড়তে পারো এখন।চরম আধিকার নিয়ে
আর কেউ তোমাকে বকা দিবে না।আবির হাঁসতে হাঁসতে
জ্ঞান হারায়....
.
চার পাঁচদিন হলো আবির মিতুকে ফোন বা মেসেজ দেয়
নি।ব্রেকাপ হলে পরের দিনই আবির ফোন করে মিতুকে
ফিরানোর চেষ্টা করত।প্রতিবার ফিরাতেও পারত।এবার
আর সে যোগাযোগ করে নি।তবে নীরবে সে মিতুর
ফেসবুক ঠিকই ফলো করত।মিতা গতকাল স্ট্যাটাস
দিয়েছে "নিজেকে মুক্ত পাখির মত মনে হচ্ছে,খুব উড়তে
ইচ্ছে করছে"।আবির খুব হেঁসেছিল।কয়েকদিন আগেও মিতু
বলেছিল "তোমাকে নিয়ে উড়তে চাই আবির,তোমার মত
যে কারও সাথে অনায়েশেই সারা জীবন কোন শর্ত ছাড়া
কাঁটিয়ে দেওয়া যায়।"
.
তবে আবির বরাবরই ব্রেকাপের কারণে নিজেকেই দোষে
ভাবে।এইবারও তাই ভাবছে।মিতু ভালোই করেছে।
আবিরের কেমন যেন শান্তি লাগছে।
.
আগামীকাল রাতে আবিরের অপারেশন।মিতুকে খুব
দেখতে ইচ্ছে করছে।শেষ বারের মত।কেন যেন সব কিছুর
জন্য ক্ষমা চেয়ে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে।কাঁপা কাঁপা হাতে
ফোন নেয় আবির।হয়ত মিতু রিসিভ করবে না।কিন্তু
না,মিতু ফোন রিসিভ করেই বলতে লাগলো...
-আবার কি চাও?আমাকে মুক্তি দেওয়া যায় না আবির?
কেন এত জ্বালাও?তুমি তো আমাকে ডেজার্ভ করো না!
ঘৃণা করি আমি তোমাকে।
আবির কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।এই চুপ করে থাকার মানে
মিতু জানে।আবির চুপ করে থেকে এভাবে নিঃশব্দে
চোখের পানি ফেলে।মিতু একটু নরম হয়ে বলে
-কিছু বলাবা?
-আমি আর কোন দিন তোমাকে বিরক্ত করব না।কোন দিন
মেসেজ বা ফোন দিব না।আজই শেষ বারের মত ফোন
দিলাম,আর শেষ বারের মত আজ একবার দেখা করতে চাই।
-(কিছুক্ষণ চুপ থেকে) ঠিকাছে বলো কোথায় আসতে হবে?
-আজ বিকেল চারটায় সেই জায়গায় যেদিন তোমার
সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল,সুরমা নদীর উপরের ঐ ব্রীজ
টায়।
-আচ্ছা।
-আর শোন প্রথম দিন যেই নীল ড্রেসে তোমাকে
দেখেছিলাম সেই ড্রেস পড়ে এসো প্লিজ।
-আচ্ছা দেখি।
-বায়।
.
আবিরের একা বের হওয়া নিষেধ। কখন কি হয় বলা
যায়না।তুষার যেহেতু মিতুর ব্যাপারটা জানতো
তাই,তুষারকে ফোন করে বাসায় আনে।আব্বু আম্মুকে
রিকুয়েস্ট তুষারের সাথে বের হয়ে যায় আবির।অনেক
কথা বুকে চাপা পড়ে আছে।মিতু কে বলা হয়নি।কতটা
ভালোবাসে তাও বার বার বুঝাতে গিয়ে শব্দের অভাব
অনুভব করেছে।আজও হয়ত বলা হবে না।একটু দেখেই হয়ত
মৃদু হাঁসবে।মিতু আবিরের কাছে গাঢ় নীল রেশমি চুরি
চেয়েছিল।দেওয়ার জন্য হয়ত আর উপলক্ষ আসবেনা
আবিরের জীবনে।তাই দুই ডজন গাঢ় নীল রেশমি চুরি
সাদা কাগজে মুড়িয়ে নিয়ে যায়।
.
মিতুকে দূর থেকে রিক্সা থেকে নামতে দেখছে আবির।
ঠিক এক বছর আগে যেমন প্রথম দিন দেখেছেল।মুগ্ধ হয়ে
চেয়েছিল।প্রেমটা ফেসবুকেই শুরু।সেদিনের ড্রেসটাই
পড়েছে মিতু।তবে সেদিনের সেই মুখ ভর্তি হাঁসি আজ সে
খুঁজে পায়নি।তুষারকে একটু দূরে সরে দাঁড়াতে বললো
আবির।মিতু কাছে চলে এসেছে।দুজন নদীর দিকে চেয়ে
আছে।কেউ কোন কথা বলছেনা।আবিরের খুব কাঁন্না
পাচ্ছে।কিন্তু কাঁদতে পারতেছেনা।মিতু আজও চুল ছেড়ে
এসেছে।বাতাসে চুল গুলো ওর মুখে আছড়ে পড়ছে।অসম্ভব
সুন্দর লাগতেছে মিতুকে।হালকা সাজে সবসময়ই মিতু কে
মানায়।সে এভাবেই সেজে থাকে সব সময়।আবির আড়
চোখে দেখছে।বলা চলে লুকিয়ে দেখা।মিতুর মুখে
বিরক্তের ছাপ স্পষ্ট।নীরবতা ভেঙ্গে মিতুই বললো
-কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো,আমার যেতে হবে।
আবির নীরব থাকলো।কিছু বলতে গিয়ে পারতেছেনা।মিতু
আবার বললো
-বলবা না চলে যাব?
আবিরের ব্রেইন টিউমারের কথা কোন ফ্রেন্ডই জানে
না।আর মিতুকেও জানানো যাবেনা।আবির ভাবে কারও
সিম্পেথির কোন প্রয়োজন নেই তার।সে জানে এটা
শোনলে মিতুও ভেঙ্গে পড়বে।আবির সাহস করে শক্ত হয়ে
বলে উঠল...
-তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে,ঠিক প্রথম দিনের মত।মনে
তোমার প্রথম দিনের কথা?
-(বিরক্ত হয়ে) শোন আবির আমি তোমার প্রথম দিনের
কথা শোনতে আসিনি।বলেছিলে আর বিরক্ত করবে
না,শেষ দেখা করতে চাও বলে এসেছি।
-(আবির মুচকি হেঁসে নিচে তাকিয়ে) হ্যাঁ,ঠিক তো।আমার
কথা কেনই বা শোনবে।আমি তো তোমার কেউ না।কিছু
কথা বলার ছিল,আমি তোমাকে ঠকিয়েছি।তবে
জিজ্ঞেস করো না কেন বা কিভাবে।কারণ টা আমি
বলতে পারব না।তোমার সাথে সম্পর্কের প্রথম দিন থেকে
আজ পর্যন্ত তুমি আমাকে অনেক দিয়েছো,সে তুলনায়
তোমাকে আমি কিছুই দিতে পারিনি।হয়ত পারিনি
ভালো কোন মুহূর্ত উপহার দিতে।আমার মত একটা ছেলের
সাথে এত দিন ছিলে এটাই তো আমার সৌভাগ্য।তুমি সত্য
বলেছিলে আমি তোমাকে ডেজার্ভ করিনা।তবে একটা
কথা বলি আজ "আমার মত স্বাধীনতা তোমাকে আর কোন
দিন কেউ দিতে পারবে না"।
মিতু কিছুই বললো না।আবির মিতুর দিকে ফিরে দাঁড়ায়।
মিতুও আবিরের দিকে।আবির মিতুর চোখের দিকে
তাকাতে পারে না।কারণ জানে সে চোখের জল
আটকাতে পারবে না।আচমকা মিতুর হাত টেনে ধরে বলে
-আমাকে ক্ষমা করে দিও মিতু।
মিতু জোরে টান দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয়।আর বলে
-আর কিছু বলবে?
আবির তার প্যান্টের উভয় পাশের পকেট থেকে দুই ডজন
চুরি বের করে বলে
-তুমি চেয়েছিলে গাঢ় নীল চুরি।এগুলো তোমার জন্য।
-আমার চুরি লাগবে না।(বিরক্ত হয়ে)
জোর করে আবির চুরি গুলো দিতে যায়,মিতু রেগে গিয়ে
নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয়।আবির শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
মিতু বলে
-আর কিছু?
আবির এত অপমানের পরও বলে উঠে -একটু জড়িয়ে ধরি?
-ঢং কত,নাটক। (মিতু চলে যাচ্ছে)
আবির মিতুর চলে যাওয়া দেখে।নির্বাক দৃষ্টিতে মিতুর
চলে যাওয়া দেখে,শেষ দেখা।তুষার পিছন থেকে কাঁধে
হাত রাখে।হাউমাউ করে কেঁদে উঠে আবির।তুষার
আবিরকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করে।আবিরের কান্না
যেন বেড়েই চলে.....
.
অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আবির।বাবা মা
ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মিথ্যে শান্তনা দিচ্ছে হয়ত।
আবির একদম কাঁদছে না।একদম না...হেঁসে বলতেছে দূর
কিচ্ছু হবে না।ওটির দরজার সামনে যেতেই আবার দৌড়ে
এসে আম্মুকে জড়িয়ে ধরে।আম্মুকে বড় হওয়ার পর এভাবে
জড়িয়ে ধরা হয়নি।আজ সে পেরেছে।এটাই বা কম কি?
শেষ পাওয়া গুলো দারুণ মনে হয় আবিরের।মিতুর মুক্তি
চাওয়া ও মুক্তি দেওয়া আবিরকে এখন তৃপ্তি দিচ্ছে।
অপারেশন হয়েছিল ঠিকই।কিন্তু আবিরের আর ফিরা
হয়নি।
.
মিতু খবর শোনার পর কাঁদবে এ কথা লেখক না বললেও
সবাই জানে।মিতুরা এভাবে কাঁদে।আফসোস করে।মিতুরা
মুক্তি চায়,মুক্তি পায়।তারপরও কাঁদে........এ বুঝি মুক্তির
কান্না?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now