বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
= স্লামালাইকুম স্যার, ডেকেছিলেন?
= ওয়াইলাইকুম, ওয়াইলাইকুম আবির সাহেব, বসুন, বসুন।
= জ্বি স্যার।
= এই যে এইটা আপনার।
= কি স্যার?
= কি মানে? আপনার পথের দিশা, উন্নতির সোপান! I mean, আপনার এ্যানুয়াল টার্গেট! হেঃ হেঃ। মেইলে soft copy পাঠিয়ে দেয়েছি। গতবারের মত এবারো আপনার কাছে 100% এর বেশী achievement চাই। বুঝতে পেরেছেন?
= বুচ্ছি স্যার।
= শুধু বুচ্ছি বললেই হবে না, ডিটেইলে বুঝতে হবে।
= কেমন স্যার?
= এইটাতো হচ্ছে গ্রস সেলস টার্গেট। এবার থেকে কিন্তু শুধু সাত-আটটা চালু আইটেম সেল করে টার্গেট এ্যাচিভ করলে হবে না, ১২টা আইটেমের প্রত্যেকটার আলাদা সাব-টার্গেট দেয়া আছে। সেগুলিও ইন্ডিভিজুয়ালি এ্যাচিভ করতে হবে এবার থেকে। বুঝলেন? আপনিতো ফাইটার, পারবেন না?
= পারবো স্যার।
= আহারে, আজকালকার মানুষজনের ঈমান বড়ই দূর্বল। ভাই, ইনশা আল্লাহ্ বলেন, ইনশা আল্লাহ্ বলেন।
= ইনশা আল্লাহ্ স্যার।
= Good, বছর শেষে ইনসেন্টিভ বোনাস, ইনক্রিমেন্ট, প্রোমোশন সবই কিন্তু এই টার্গেট এ্যাচিভমেন্টের উপর নির্ভর করছে,এই বিষয়টা আপনার টিমকে আবার ভালোভাবে মনে করিয়ে দেবেন। OK?
= OK স্যার।
= আচ্ছা, প্ল্যানিং শুরু করে দিন তাহলে। Wishing you and your team all the success.
= Thank you স্যার।
আগামী এক বছরের প্রতিটা দিন, সপ্তাহ, মাসকে সাদাকালোয় সংখ্যার হিসাবে ভেঙ্গে দেয়া কাগজটা নিয়ে স্যারের চেম্বার থেকে যখন সে বের হচ্ছে ঠিক তক্ষুনি গোঁগোঁ শব্দে বিল্ডিং এর উপর দিয়ে একটা প্লেন উড়ে যাওয়ার শব্দ কানে আসলো তার। শুধু শব্দটাই পাওয়া যায়, কংক্রিটের ছাদ ভেদ করে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দূর, বহু দূর দেশে উড়ে যাওয়া বিমানের দেখা পায় না দু'চোখ। তার মত এয়ারপোর্টের কাছে যাদের অফিস, তাদের কাছে এটা খুব পরিচিত একটা শব্দ। কিন্তু এই শব্দে আজ কেন যেন অকারনেই স্কুলের নেয়ামত স্যারের কথা মনে পড়ে গেল। বাংলা পড়াতেন। একদিন ক্লাসে উনি রচনা লিখতে দিয়েছিলেন "তোমার জীবনের লক্ষ্য"। কেউ লিখেছিল ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউবা উকিল। কিন্তু সেই বয়সে অলস দুপুরগুলোতে বইয়ের পাতায় ভর করে মার্কো পোলো, ইবনে বতুতা কিংবা হিউ এন সাং এর সাথে বিশ্বচরাচর ঘুরে বেড়ানো আবির লিখেছিল সে পরিব্রাজক হতে চায়। কল্পনার চোখে দেখা তুষার চুড়ো আল্পস, আমাজনের জঙ্গল চিড়ে বয়ে যাওয়া নদী আর ধূধূ নির্মম, নির্জলা সাহারা ঘুরে বেড়ানোর বর্ননা দিয়েছিল রচনায়। সেই রচনা পড়ে পরদিন ক্লাসে স্যার কাছে ডেকে নিয়ে আচমকা ঠাস করে গালে একটা চড় মেরে মুখের উপর খাতাটা ছুঁড়ে মেরে হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, "হারামজাদা, পড়াশোনার চিন্তাতো মাথায় নাই। ফ্যা ফ্যা কইরা ঘুরে বেড়ানিডা এক্কেবারে মাথায় ঢুইকা গেসে। বাপ-মায় ইস্কুলে পড়তে পাডাইসে বড় হইয়া বাদাইম্মার মত বনবাদারে ঘুইরা বেড়ানির জইন্যে, নাকি? যা, ইস্কুল ছুটির আগে জীবনের লক্ষ্য ইঞ্জিনিয়ার, নাতো ডাক্তার সুন্দর কইরা লিইখ্যা আমার কাছে জমা দিয়া যাবি। নাতো আজকে তোর ছুটি নাই।"
কি লিখে জমা দিয়েছিলো আজ আর মনে নেই, কিন্তু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার, কিছুই সে হতে পারে নি। এখন সে বড়জোর একজন কর্পোরেট ফেরিওয়ালা। টার্গেটের পেছনে ছুটতে ছুটতে স্ত্রী-সন্তানকেই সময় দেয়া হয় না। বহুদিন ধরে ওরা বলছে ক'দিনের জন্য কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি কিংবা শ্রীমঙ্গল বেড়াতে নিয়ে যেতে। যাচ্ছি, যাবো, নিচ্ছি-নিব করে করে আর সময় করে উঠতে পারে নি এ পর্যন্ত। পরিব্রাজক হয়ে পৃথিবী চষে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখা আবিরের আর এ শহর ছেড়ে বেরুনোর ফুরসতটাও হয়ে ওঠে না।
বহুদিনের পুরোন ছোট্ট স্মৃতিটা ঠোঁটের কোনায় এক টুকরো বিষন্ন হাসি ছুঁইয়ে দেয় কেবল। সে আবার তার ডেস্কের দিকে হাঁটতে শুরু করে। প্লেনের শব্দটাও ক্রমে দূর আকাশে মিলিয়ে যায় বরাবরের মত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now