বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিতলী আর মিনি-02

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X কলিংবেলের আওয়াজ । বাবা এলো বোধহয় । বাবা এলেই হৈহৈ,বাবার জন্যে অপেক্ষা করে থাকে তিতলি রোজ। আজ ঘরে ঢুকেই জোরে জোরে ডাকছে বাবা,‘ও তিতলি, শিগ্গির আয়। এখুনি কি দেখে এলাম বলি। আয় আয়,দেখবি তো এক্ষুনি বাইরে চল।‘ মাম একটু একটু বারণ করছিল, ‘কাল পরীক্ষা, ওকে ডিস্টার্ব করছ কেন’ বলে। কিন্তু বাবার মুখ দেখেই তিতলি লাফ দিয়ে বাইরে এসেছে । নিশ্চয় মিনির খবর এনেছে বাবা । ঠিক তাই । সামনের ব্লকের পেছন দিয়ে গিয়ে .. সিনহা আন্টিদের ব্যালকনির পাশে যে একটা লাল মোসান্ডা গাছটা আছে .. তার নিচেই মিনি । সঙ্গে একটা অন্য বেড়াল । বাদামী-কালো ছোপ ছোপ, চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে, ইয়া মোটা, ল্যাজটাও ইয়া মোটা । তিতলিদের দেখেই ঘাড়ের লোম ফুলিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে বেড়ালটা । বাপরে ! দেখেই ভয় লাগছে তিতলির । মিনির কিন্তু একটুও ভয় নেই । ওর পাশে শান্ত নরম সরম মিনি চুপটি করে বসে আছে কেমন দ্যাখো ! বাবা বলল,‘দা পার্টনার ইন ক্রাইম । ওই দ্যাখ তিতলি, ওটা একটা হুলো । হুলোবেড়াল । এবার বুঝলাম কে চুরি করে করে খাচ্ছে।‘ তিতলিকে দেখে আস্তে আস্তে উঠে এলো মিনি । হুলো ঘাড়ের লোম আরও ফুলিয়ে দাঁত খিঁচিয়ে ফ্যাঁশ করে উঠে এক লাফে সিনহা-আন্টিদের কার্নিশে উঠে পড়ল। ‘মিনিকে বাড়ি নিয়ে যাই,বাবা ?’ আস্তে মিনিকে কোলে তুলে নিল তিতলি। ‘না তিতলি,ও হুলোর কাছে থাক।‘ ‘কিন্তু ওটা তো রাগী বেড়াল। মিনিকে যদি আঁচড়ে কামড়ে দেয়!’ ‘না রে। কিছু হবে না । মিনি হুলোকে খুঁজে এখানে এনেছে, নাকি হুলো মিনির জন্যে এখানে এসেছে, কে বলবে বল্? ওদেরও তো নিজের সঙ্গী চাই, না? মানুষের সঙ্গে থাকতে কি সবসময় ভালো লাগে ?’ ভালো লাগে না ? মানুষের সঙ্গে থাকতে ভালো লাগে না মিনির ? মিনি তো নিজে নিজেই এসেছিলো মানুষের কাছে । বাবা যে কি সব বলে ! ‘কি করবে বল্ ? মিনিদের যে আর থাকার জায়গাই নেই । মানুষ মিনিদের সব জায়গা নিয়ে নিয়েছে । বনজঙ্গল কেটে ফেলেছে, মাটির ওপর পিচ ঢেলে রাস্তা বানিয়ে ফেলেছে, পাহাড়ের পাথর ভেঙে শহর বানিয়ে নিয়েছে । একটা গাছ নেই, একটা বুনোঝোপের জঙ্গল নেই .. মিনিরা যাবে কোথায় ? বাবার কাছে আশ্চর্য পৃথিবীর গল্প শুনে তিতলি তো অবাক । জল, মাটি আর আকাশের গল্প । মানুষের পৃথিবী ছাড়াও আর একটা মজার পৃথিবী । সেখানে ঘাসে ঘাসে সবুজ মিষ্টি হাওয়া বয় .. গাছের পাতার দোলায় বাঁশির সুর শোনা যায় .. যখন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে, নীল পেখম তুলে নাচে ময়ূর । শীতকালে লম্বা ঘুম দেয় সাপেরা, সে ঘুম আর ভাঙতেই চায় না । আরশোলা পিঁপড়েও দেখা যায় না তখন । কাঠবেড়ালিরা খাবার গুছিয়ে লুকিয়ে পড়ে গাছের কোটরে । মিনিরা সকালের সোনা রোদ্দুরে আড়মোড়া ভেঙে খাবার খুঁজতে যায় । একটু আওয়াজ হলেই এক লাফে উঠে পড়ে গাছের ডালে । আর সেখানে দোল খেতে খেতে মিনিরা খাবার খোঁজার কথা ভুলে আরামে ঘুমিয়ে পড়ে । আবার শীত শেষ হয়ে বসন্তে যেই মিষ্টি মিষ্টি হাওয়া বইবে, অমনি ন্যাড়া গাছের পাতার কুঁড়ি খুলে যাবে । কোনোটা কচি সবুজ, কোনোটা লালচে, কোনোটা বাদামী ।জারুলগাছের পাতাগুলো আবার গোলাপী গোলাপী । পাখি কত । দোয়েল, ফিঙে, বেনেবৌ, কোকিল, বৌ-কথা-কও, ঘুঘু, পায়রা । জলাভুমি জুড়ে বুনোহাঁস । একটু গরম পড়তেই কাঠবেড়ালিরা বেরিয়ে পড়বে । গাঁদাফুলের পাকা ফল, ঘাসের বিচি জমা করবে । তবে মিনিরা বড্ড নরম সরম, ওদের অত খাটুনি পোষায় না । ওরা মানুষের কাছাকাছি থাকতে বেশি ভালোবাসে । ‘জানিস তিতলি, আমার ঠাকুমার একটা বেড়াল ছিল। রান্নাঘরের সামনে তাকে মাছ পাহারা দিতে বসিয়ে ঠাকুমা চান করতে যেতেন । কি লক্ষ্মী বেড়াল, চুপ করে বসে থাকত । আর ঠাকুমা যখন মারা গেলেন, চারদিন একফোঁটা দুধ খায় নি, খাবার খায় নি, টসটস করে জল পড়ত চোখ দিয়ে। এক্কেবারে মানুষের মতো। সবাই অবাক। ওরা খুব ভালোবাসা চেনে রে তিতলি,‘ বাবা বলল । মিনিও যে এক্কেবারে মানুষের মতো, তা তো তিতলিও জানে। মিনি তিতলির সব কথা বোঝে। সব শোনে। সেই যে একবার স্কুলে টিফিন নিয়ে সুমেধার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল আর সুপ্রিয়াম্যাম তিতলিকেই শাস্তি দিয়েছিলেন, সেই কথাটা তো তিতলি মামকেও বলে নি । শুধু মিনি জানে । আর সেই যে একবার মোহর–কিঙ্কিরা তিতলিকে কিছুতেই ব্যাডমিন্টন খেলায় নেয় নি, কত কষ্ট হয়েছিল তিতলির, সে কথাটাও তো শুধু মিনি জানে। মন দিয়ে তিতলির সব কথা শুনত মিনি। স-অ-ব । সেইজন্যেই তো মিনি হুলোর কাছে চলে গেল বলে এত কষ্ট হচ্ছে তিতলির । তবে বাবার কথা শুনে তিতলির এখন মনে হচ্ছে, মিনি যেমন ওর সব কথা বোঝে .. তিতলি কিন্তু মিনির কষ্টটা তেমন করে বোঝেই নি । আহা রে ! মা নেই, বাবা নেই .. মিনির আশ্চর্য সুন্দর সবুজ পৃথিবীটাও নেই .. মিনির তো খুব কষ্ট । মিনিই বা একা থাকে কি করে ! ভাগ্যিস হুলো এসেছে ! থাক মিনি, তুই হুলোর কাছেই থাক । হুলো রে, তুই মিনিকে কোনো কষ্ট দিস না, রেগে গিয়ে আঁচড়ে কামড়ে দিস না । বাবা বলেছিল,‘দেখিস তিতলি, মিনি রোজ তোর সঙ্গে দেখা করতে আসবে । ওরা খুব ভালোবাসা চেনে।‘ তাই হোক । মিনি, তুই হুলোর কাছেই থাক .. শুধু রোজ একবার এসে আমার সঙ্গে দেখা করে যাস । মনে মনে মিনির সঙ্গে কথা বলতে বলতে ব্যালকনিতে এসেছে তিতলি । আর .. ওমা ! মিনি গুটিসুটি করে বারান্দায় রাখা চেয়ারটার ওপর বসে আছে যে ! হুলোও ছিল, তিতলিকে দেখে এক লাফে নেমে কার্নিশে দাঁড়ালো । মিনি মুখ তুলে দেখলো, তারপর আস্তে উঠে উঠে আড়মোড়া ভেঙে লাফিয়ে নামল হুলোর পাশে। কার্নিশে দাঁড়িয়ে হুলো-মিনি তিতলির দিকে তাকিয়ে মিষ্টি মিষ্টি হাসতে লাগল তারপর ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now