বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাদা সাড়ি পরিহিতা বৃদ্ধ মহিলাটি বাঁশের তৈরী ছোট্ট টুলটিতে বসে আছে... ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই , চোখে থাকা চশমাটি চোখে কম দেখার নির্দেশ দেয়....
হাতের লাঠিটি নিজেকে টানতে না পারার লক্ষণ বহন করে...
.
খসখসে চামড়া বলে দিচ্ছে,"হ্যা,তা
র বয়স হয়েছে..."
তার রুমে, টেবিলের উপর রাখা কিছু কাচের বোতল আর ট্যাবলেট এর বক্স দেখে বোঝা যাচ্ছে, "সত্যিই তিনি বৃদ্ধ..."
.
প্রতিদিন বৃদ্ধ মহিলাটিকে আসা-যাওয়ার সময় পথের ধারে বসে থাকতে দেখি, হাতের লাঠিটি দিয়ে বাচ্চাদের অনেক সময় তারাতে দেখি, তার করা নির্দেশ, "শব্দ করা যাবে না..."
.
তার বাগানের আম গাছ গুলোয় আম ধরলে... মাঝে মাঝে চুরি করে খেয়েছি,ডাব গাছের ডাব খেয়েছি...আবার অনেক লাঠির ধাওয়াও খেয়েছি... কিজানি লাঠিটারও হয়তো অনেক বয়স হয়েছে... লাঠিটায়ও পুরোনের ছাপ দেখা যায়...
.
অথচ মাত্র ৬৫বছর আগে হয়তো এই মহিলাটি'ই অন্য কোন এক বৃদ্ধ মহিলার কাছে লাঠির ধাওয়া খেয়েছিলো, তেতুল চুরি করার জন্য,হয়তো বা পেয়ারা চুরি করার অপরাধে...
.
মেয়েটির বাবা যখন কাজ শেষে বাড়িতে ফিরতো, মেয়েটি তার বাবাকে এক গ্লাস জল দিয়ে হয়তো বলতো,"বাবা, আমাকে কাচের চুড়ি কিনে দিবা না...!"
আর বাবাও মুচকি হেসে বলতো,"দেবো রে মা, দেবো..."
মেয়েটির যখন বিয়ে হয়ে গেলো, তার প্রিয় মানুষটির সাথে যাওয়ার আগে পিছন থেকে মায়ের আচলে দুমুঠো চাল ফেলে দিয়ে কেঁদে কেঁদে বলেছিলো,"মা,আমি তোমার সব ঋণ শোধ করে গেলাম..."
যখন অন্যের বাড়িতে চলে গেলো, তখন চোখ থেকে দুফোটা জল ঝরিয়ে বলতো,"আচ্ছা,মা-বাবার ঋণ কি কোনদিনও শোধ করা যায়...! "
শুরু হলো মেয়েটার দ্বিতীয় পৃথিবীতে বসবাস...
.
এই বৃদ্ধ বঁধুটি হয়তো কোন এক সময় স্নান সেরে লাল টুকটুকে সাড়ি পরিধান করে,মাথার সিথিতে সিঁদুর দিয়ে,কপালে একটা লাল টুকটুকে টিপ দিয়ে, চুল গুলো ছেড়ে তার কর্তার জন্য চুলায় ভাত রান্না করে বসে থাকতো একসাথে খাবে বলে...
.
কর্তা যখন শহরে যেত, যাওয়ার আগে হয়তো বঁধুটি আবদার করতো,"আমার জন্য কিন্তু কাচের চুরি আর টিপের পাতা আনতে ভুলবে না...!"
তার কর্তাও একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলতো, "হ্যা,আনবো..."
.
কর্তার অপেক্ষায় বারান্দায় মিটিমিটি হারিকেন এর আলোয় বসে থাকতো হয়তো...
তারপর যখন কর্তা আসতো, এক দৌড়ে হাপাতে হাপাতে এসে দরজাটা খুলে দিয়ে অভিমানের কণ্ঠে হয়তো বলতো,"এতোদিন লাগলো কেন...!"
.
মাঝে মাঝে হয়তো বঁধুটি তার কর্তার কাছে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরতো,ঠিক বাচ্চাদের মতো...কি আর করবে, পাগলি মেয়েটা যে এখন অন্য একটা পৃথিবীতে এসেছে... আগে আবদার করতো বাবার কাছে,কিন্তু এখন যে স্বামী'ই তার সব...
পাগলিটার আবদার না রেখে কর্তা আর পারতো না...
কোন এক গোধূলি সন্ধ্যায় দু'জনে পাশাপাশি হাত ধরে গল্প করতে করতে অনেকটা পথ হেটেছে...
শীতল বাতাসে চুলগুলো উড়ে এসে যখন পাগলিটার মুখটি ঢেকে দিতো, কর্তা বঁধুটির মুখ থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে হয়তো বলতো,"তোমাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে..."
.
এতো সুখের মাঝেও তাদের মধ্যে একটি দুঃখ ছিলো, তারা কোনদিন তাদের সন্তানের মুখ দেখতে পায়নি যার দরুন, বৃদ্ধ মহিলাটি আজ অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছে...
.
কোন এক সন্ধ্যায় হয়তো হাতে থাকা কাচের আয়নাটা পড়ে ভেঙে গিয়ে জানান দিলো, কোন অঘটন ঘটতে চলেছে...হ্যা,প্রিয় হাতটি চলে গেলো...চিরদিন এর জন্য চলে গেলো...
যখন প্রিয় মানুষটি, একমাত্র ভরসার হাতটি চলে গেলো, সত্যিই নিজেকে তার বড্ড অসহায় লাগতো...
আজ সব'ই স্মৃতি...
.
কোন একদিন এই বদ মেজাজি বৃদ্ধ মহিলাটিও হারিয়ে যাবে... চিরতরে হারিয়ে যাবে, তাকে আর পথের ধারে বাঁশের টুল পেতে বসে থাকতে দেখবো না...
আম গাছ,ডাব গাছ থাকবে... চুরি করার অভ্যাসটাও হয়তো থাকবে,কিন্তু লাঠির ধাওয়া সেদিন আর থাকবে না...
তখন হয়তো, তার দেওয়া কিছু স্মৃতি গুলোকে মনে করে আমিও চোখ থেকে দু'ফোটা জল ঝরাবো...
মিস করবো তার লাঠির ধাওয়াকে...
আচ্ছা,সত্যিই কি সেদিন আমার চোখ ঝাপসা হয়ে যাবে...!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now