বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভার্সিটিতে সেকেন্ড টাইম আমি নার্ভাস হয়েছিলাম! নার্ভাস বললে ভুল হবে, রীতিমতো ভয় পেয়েছিলাম; আমার মনে হয় ভূত দেখলেও আমি এতটা ভয় পেতাম না। দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল। শেষ পরীক্ষা বেশ ভালোই লিখছিলাম! এক্সাম শেষ হতে তখনো ১৭ মিনিট বাকি! হঠাৎ হল পরিদর্শক চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন, ‘হেই ইউ।’ পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি আঙুল ঝাঁকিয়ে তিনি বলে চলেছেন, ‘এটা কি তোমার প্রাইমারি এক্সাম হল মনে হচ্ছে? আমাদের কি তোমার পার্কে ঘুরতে আসা রিল্যাক্স ম্যান মনে হচ্ছে? সারা বছর কী করেছ?’ আমি পাথর হয়ে বসে আছি আর ভাবছি কী এমন করলাম, স্যার আমাকে কেন এসব বলছেন? আমি প্রায় কান্না কান্না কণ্ঠে ‘স্যার’ বলব ঠিক সেই সময় দেখি, পেছনের বেঞ্চের ডান কোনা থেকে চাপা হাসির শব্দ আসছে! বুঝতে বাকি রইল না কথাগুলো আমাকে না পেছনের বেঞ্চের কাউকে বলেছেন। স্যারের দিকে তাকিয়ে দেখি রাগে তাঁর চোখ-মুখ লাল হয়ে আছে, অনেক কিছু বলবেন মনে হচ্ছিল, তবুও কিছু না বলে চাপা হাসিওয়ালার খাতাটা কেড়ে নিয়ে তাকে হল থেকে বের করে দিলেন। বের হয়ে যাওয়ার সময় একনজর চেয়ে দেখি, মাহিন বেরিয়ে যাচ্ছে। (মাহিন, যাকে পরীক্ষার সময় ছাড়া ক্যাম্পাসে দেখা যায় না, কথাও হয়নি এই দুই বছরে।) পরীক্ষা শেষে হল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াই। বাস মিস করায় সিএনজি অটোরিকশার অপেক্ষা করছিলাম! খেয়াল করলাম মাহিন এসে দাঁড়াল। ‘এই তুমি এক্সাম হলে হাসছিলে কেন?’ ‘বোরিং হচ্ছিলাম তাই।’ ‘মানে?’ ‘লেখা প্লাস রিভিশন দুইটাই শেষ হয়ে গিয়েছিল! কেউ খাতা জমা দেয়নি দেখে নিজের দিতে দ্বিধা হচ্ছিল, স্যার যেন নিজ থেকে খাতা নিয়ে নেন, তাই নাটক করা!’ ‘যদি খাতায় রেড মার্ক দিয়ে দিতেন?’ ‘নাহ্! দিতেন না, কারণ এঁরা নিজেদের ভার্সিটির নাম ধরে রাখতে এটুকু সহ্য করবেন। চলো, যাওয়া যাক।’ এখন আমি প্রতিদীন বাস মিস করি, আর মাহিন ও প্রতিদিন ভারসিটিতে আসে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now