বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কিছু নীল কষ্ট (লাল পরী)-02

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X আমার মতন একটা চূড়ান্ত মাত্রার বেকুব, গাধা বা ইমম্যাচিউরড ছেলেকে তুই কেন ভালবাসবি? তাও কেন যেন মনে হচ্ছিল তুই হয়ত আমাকে সামনাসামনি ফিরিয়ে দিতে পারবি না। কি ভুল ধারণাটাই না নিয়ে ছিলাম। তোর সাথে সামনাসামনি সব কথা ফাইনাল করার জন্য কতটা দীর্ঘ সময়ই না অপেক্ষা করেছি। চেয়েছিলাম তুই আমাকে ভালবাসিস না একবার আমার সামনে এসে বলিস। ফোনে না, ফেসবুকেও না। জাস্ট একবার ক্লাসের ফাঁকে কিংবা তোর কোন অবসর সময়ে। শুধু সামনে দাঁড়ায়ে একবার বলিস তুই আমাকে ভালবাসিস না। জাস্ট এই কথাটা শোনার জন্য তোর জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়ায়ে ছিলাম। দোস্ত, জীবনে কারও জন্য এতটা অপেক্ষা করি নি। আমি তুচ্ছ আমি জানি। তাই বলে এত তুচ্ছ? যার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করব সে আমাকে এসে জাস্ট সামনাসামনি বলতে পারবে না? এমন তো না যে তোকে আমি হঠাত করে দেখেছি কিংবা ব্লা ব্লা ব্লা! দুই বছর একসাথে পড়ার পরও কি তুই আমাকে একটুও চিনতে পারিস নি?? দোস্ত, দুইটা বছর ধরে মনে মনে আমি এটাই জানতাম আমি পাগল হলেও, বদ্ধ উম্মাদ হলেও, পৃথিবীর সবার কাছে সবেচেয়ে অবহেলার পাত্র হলেও, সবচেয়ে আনস্মার্ট ছেলে হলেও, টাকা-পয়সা না থাকলেও, খুব খারাপ ছাত্র হলেও তুই আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারবি না। কারণ আমি তোকে পৃথিবীর সব কিছুর বিনিময়ে ভালবেসেছিলাম। জানিস, ঠিক ছোটবেলা থেকে দেখতাম আমি অবাঞ্ছিত। খেলতে গেলে কেউ খেলায় নিত না। প্রত্যেক এক্সামে প্রায় ফার্স্ট অথবা সেকেন্ড হওয়া সত্ত্বেও টিচাররা তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তাম না দেখে দেখতে পারত না। সব কিছু মেনে নিতে আমার কোন আপত্তি নাই। বিশ্বাস কর একটুও না। কিন্তু তুই আমাকে ফিরিয়ে দিবি এটা মানতে পারি নি। কিংবা কে জানে এখনও মেনে নিতে পারি নি। আরেকটা ইন্টারেস্টিং জিনিস জানিস? আমি জীবনে তিনটা জিনিসই চেয়েছিলাম। প্রথমটা হল সারাটা জীবন যেন বাবা মার সাথে থাকতে পারি। দ্বিতীয়টা হল বুয়েটে যেন পড়তে পারি। আর সর্বশেষটা হল তুই। মজার ব্যাপার হল এখন না আমি মা-বাবাকে ছাড়া থাকতে শিখে গেছি। কিংবা কে জানে আমার ঈশ্বর আমাকে থাকতে শিখিয়েছে। এখন তো প্রতি এক-দুই মাস পর পর যাওয়া হয়। ক্লাস, পার্ট টাইম অফিস, পড়ালেখা সব শেষ করে বাসায় যাওয়ার মতন সময় বের করাটা একটু কষ্ট বৈ কি। আরেকটা মজার জিনিস জানিস? বুয়েটে ভর্তি এক্সামের মাত্র তিনদিন আগে আসল ভয়ঙ্কর জ্বর। কি জ্বর রে বাপ। মাথা ঘুড়ে যাওয়া দশা। বেঁচে ছিলাম এটাই বড় কথা আর পরীক্ষা তো সেই বহুদূর! আর তুই… তুই তো আমার কেউ না রে। কেউ ছিলি না কেউ হবিও না। দোস্ত, আমি তোর জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতাম। তুই ফিরিয়ে দিলেও তোর থেকে বহু দূরে সড়ে গিয়ে তোর জন্য অপেক্ষা করতাম। কিন্তু তুই আমার সামনে আমাকে উপেক্ষা করে অন্য কোন ছেলের সাথে ঘুড়বি এটা আমার সহ্য হত না। হোক সে তোর ফ্রেন্ড। তুই আমাকে ছোট ভাবতে পারিস এটা শুনে অথবা ভাবতে পারিস আমাকে ভাল না বেসে ভাল করেছিস। যা খুশি ভেবে নিস। আমার কিছু যায় আসে না। ওটা আমার সহ্য হবে না। কোনদিনও না। সরি। তাই আমি তোর থেকে দূরে চলে গেছি। তুই যদি ভাবিস আমি তোকে কোনদিনও ভালবাসি নি তা ভেবে নিস। আমার কিচ্ছু যায় আসে না। জানিস দোস্ত, তুই যেদিন আমার সামনে তোর সবচেয়ে ভাল ছেলেবন্ধুর মোবাইল নিয়ে গেমস খেলতি তখন খুব খারাপ লাগত। তখন ভাবতাম আমার যদি একটা মোবাইল থাকত তুই বুঝি আমার মোবাইল নিয়েই খেলতি! যাই হোক, আমি বেশ কিছু আগে একটা গ্যালাক্সী এন্ড্রোয়েড কিনেছি! টাচ চালানো শিখলামই এই এন্ড্রয়েড কিনে! পুরাই রক্ত বেচা টাকা। রক্ত বেচা বললাম এইজন্য যে সকাল আটটা থেকে দুইটা পর্যন্ত ক্লাস করে বিকাল চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত অফিস! প্রথম চাকরীটা করতে চেয়েছিলাম কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য। তোর ভূত মাথা থেকে নামানোর জন্য। যাই হোক, ইদানিং কখন দিন যায় রাত আসে জানিই না দোস্ত। সময় কোন দিক থেকে কেমনে যায় বলতে পারি না। দোস্ত, কিভাবে যে সময় কাটছে সেটাও জানি না। ও ভাল কথা, এরই মধ্যে একটা মেয়ের সাথে রিলেশন হয়েছে। পরিচয়ের ঘটনা শুনবি? তোকে নিয়ে যে গল্পটা লিখেছি সেটার মাধ্যমে। ভালো তো ভাল না? আমি তো পরিচিত মানুষদের সাথেই কথা কম বলি আর অপরিচিত কারও সাথে কেমনে কথা হল কে জানে! হয়ত তোর মত কাউকেই খুঁজে গেছি মনের অজান্তে! জানিস, মেয়েটা না হুবহু তোর মত। তোর মত রাগী, তোর মত জেদি, তোর মত হাসিখুশী। যেন তোর একটা ডুপ্লিকেট ভার্সন। তোর সাথে ওর একটাই অমিল সেটা হল ও আমাকে পাগলের মতন ভালোবাসে। জানিস রাতে ওকে ফোনে ঘুম না পাড়িয়ে দিলে ওর ঘুম আসে না! একদিন রাতে আমি ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমায়ে গেছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি ষাট-সত্তরটার বেশী মিস কল!! আরেকদিন আমি ওর সাথে কি কারণে যেন একটু খারাপ ব্যবহার করেছিলাম প্রায় আটটার মত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়েছে! এত ভালবাসা মানুষ কেমনে বাসতে পারে রে? শুনলাম বাসা থেকে ওর বিয়ের কথা চলছে। এত আগেই কেন বিয়ে দিবে বুঝতে পারছি না। সমস্যা নেই। ও আমাকে অনেক ভালবাসে। হয়ত বিয়েটা ও দুই এক বছর পেছাতে পারবে। আর সব কিছু ঠিক থাকলে দুই বছর পর আমার পড়ালেখা শেষ হলে দেন আমরা বিয়ে করব। যদি ও রাজী থাকে আর কি। ও চাইলে আমরা এখনি বিয়ে করে সংসার করতে পারি। আব্বু আম্মুর টাকায় না। আমার চাকরীর টাকায়। প্লাস ও যদি টুকটাক কিছু করে মোটামোটি বেশ ভাল চলবে আমাদের। ওর ফ্যামিলি থেকে যেই ছেলে ঠিক করা হয়েছে সে অবশ্য ম্যাজিস্ট্রেট। ভাবসাবই আলাদা। হয়ত ও বিয়ে আটকাতে পারবে। আর না আটকাতে পারলে বুঝে নেব আমার সব কিছুই ভুল ছিল। ভুলের স্রোতে আমি সব কিছু ভুলে যাব, সব কিছু… ভাল কথা, তোর চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য চাকরী বাকরি করছিলাম। এখন টাকা পয়সা কেমন জানি নেশা হয়ে যাচ্ছে। মাসে মাত্র পনেরো বিশ হাজার টাকা পাই। সব টাকা উড়াই। টাকা উড়াতে খারাপ লাগে না। যদি জীবনে অনেক টাকা হয় সেগুলোও উড়াব। টাকা উড়ানোর মজাই আলাদা। ঠিক যেমন গোল্ডলিফের ধোঁয়া উড়ানোর মতই মজার। আগে জ্বর আসলে ঘোরের মধ্যে বিড়বিড় করে রূপা রূপা করতাম। আর এখন জ্বরই আসার সময় নাই!! ঘোর তো অনেক পরের কথা। পাঁচটা লিফ টানলে মাথাটা একটু ঘুড়ে, কিংবা মাঝে মাঝে কেরুর হাফ লিটারের একটা ক্যান খেলে একটু ঝিমানো লাগে। তোর কথা মনে হয় না রূপা। কারণ তুই আমার কেউ না। কেউ না। তোর জন্য টিউশনির টাকা জমিয়ে কেনা বই পুড়ায়ে ফেলেছি। কিচ্ছু নেই, কিচ্ছু নাহ। জানিস রূপা, জীবনে এত্ত অবাক হয়েছি এখন অবাক হওয়ার ক্ষমতা কেন যেন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এত এত অবাককৃত ঘটনা গত বছরের অলমোষ্ট এই সময়ে ঘটেছে আমি পুরাই নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম। চরমভাবে অবাক হওয়ার মত ঘটনা একটা ঘটলে মানা যায়, দুইটা ঘটলেও হয়ত মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যখন সিরিয়ালি ঘটতে থাকে তখন আর মেনে নেওয়ার প্রশ্ন উঠে না। সেমিস্টার ড্রপ, তোর চলে যাওয়া, সাধের একমাত্র ল্যাপটপ নষ্ট হওয়া, একটা মাত্র চাইনীজ মোবাইল ফোন হারায়ে ফেলা… ঘটনা ঘটতে থাকুক। আমি চুপচাপ উপভোগ করি!! এটাই মজা… রূপা তুই ভাল থাক। অনেক ভাল। পৃথিবীর সবচেয়ে ভাল। জানিস আমার যখন একটু মন খারাপ হত আমি আজাইড়া হিজিবিজি লেখালেখি করতাম। ঠিক এক বছর আগে তুই যখন আমাকে ফিরায়ে দিলি তখন থেকে আর লেখতে ভাল লাগে না। আমার প্রচন্ড মন খারাপ গুলো আমার কাছে থাকে। ঠিক এক বছরের পর যখন তোকে নিয়ে কিছু লিখতে ইচ্ছা করল। কিন্তু আমি সত্যিই লেখালেখি ভুলে গেছি রে… শুভ জন্মদিন আমার হারিয়ে যাওয়া লাল পরী! ঈশ্বরের কাছে একটাই চাওয়া, জীবনে কোনদিন একটু দুঃখও যেন তোকে স্পর্শ না করে। এই রকম হাসিখুশি থাকিস সারাটা জীবন.


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now