বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মিসরীয় সভ্যতা ও ইসলাম ধর্ম-শেষ পর্ব

"ভিন্ন খবর" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X এসবই তখন ঘটছিলো মিশর থেকে লোহিত সাগরের ওপারে আরব উপজাতির পবিত্র নগরী মক্কায় সময়টা ছিলো ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। মুহাম্মদ তখন যে ধর্ম প্রচার করা শুরু করেছিলেন তার আরেক নাম ছিলো আল্লাহর প্রতি সমর্পন। যারা তার কথা মতো তাদেরকে সমর্পন করেছিলো তাদের বলা হত মুসলমান। এই মুসলমানদের নিয়ে মুহাম্মদ একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে সমর্থ হয়েছিলো। কিন্তু প্রথম দিকে তার এই বানী বা ইসলামিক সাংস্কৃতি কেউ মানতে চাইছিলো না। একটা সময় ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ (সাঃ) তার কিছু অনুগত সমর্থক সহ মক্কা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। মক্কা থেকে ৩৫০ মাইল উত্তরে মদিনা নামক একটি নগরীতে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে থেকে মুহাম্মদ (সাঃ) ধীরে ধীরে আরো কিছু অনুসারী তৈরি করেন। তাদের তিনি বলতে থাকেন এমন অদৃশ্য সৃষ্টিকর্তার কথা যিনি সাথে থাকলে তাদের যুদ্ধে হারাবার কেই নেই আর যদি যুদ্ধে গিয়ে মৃত্যুও হয় তাতেও কোন সমস্যা নেই। এতে আছে নিশ্চিত জান্নাত বা বেহেশত নামক এক অন্য পৃথিবীর বাসস্থান। এই কথা শুনে শুনে পুর্বের ধর্ম পরিবর্তন করে অনেকেই মুহাম্মদ এর অনুসারী হন। ফাইনালি ৮ বছর পর তার সেই দলবল নিয়ে আবার মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। মুহাম্মদ (সাঃ)এবং সেই বছরে ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা দখল করে নেন। তখন বাইরের বিশ্বের খুব কম মানুষই জেনেছিলো মুহাম্মদ এর মক্কা বিজয়ের কথা। তাই প্রথমদিকে মিশরের রাজা হেরাক্লিয়াস এর পক্ষেও তা জানা সম্ভব হয়নি। আর তার পরপরই মুহাম্মদ (সাঃ) এই মুসলিম নামের যোদ্ধা দলটি আশেপাশে বেশ কিছু রাজ্য দখল করে নিতে সক্ষম হয়। মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর সময় ৬৩২ খৃস্টাব্দে আরবের প্রায় সমগ্র জাতি এই ইসলাম নামক মুসলিম দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়। মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পর তার সঙ্গী হযরত আবু বকর তার উত্তরাধিকারী পান এবং পরবর্তিতে তার মৃত্যুর পরে আরেকজন সঙ্গী হযরত ওমর (রাঃ) তার উত্তরাধিকারী পান। ততদিনে মিশরের রাজা হেরাক্লিয়াস সিরিয়া সহ আর বেশ কিছু পারশ্য রাজ্য এমনকি মেসোপটেমীয়ার কিছু রাজ্য দখল করে ক্লান্ত হয়ে সীদ্ধান্ত নেন সে আর কোন যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। তার সাথে সিরিয়ার মনোফাইসাইট জনগন যুদ্ধের ব্যাপারে বিতৃষ্ণ ছিলো। আর তারা নতুন এই আরব্য শক্তি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতো না তবে তারা নিশ্চিত ছিলো এই আরব্য বর্বর শক্তিটি কনস্টান্টিনোপলের ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ পছন্দ করতো না কারন তারা এই ইসলামকেই ধর্ম বলে মানতো। এসবের মধ্যেই ৬৩৬ খ্রিস্টাব্দের ২০ আগষ্ট বর্তমান জর্ডানের যে নদীটি লোহিত সাগরে গিয়ে মিশেছে সেই ইয়ারমুক নদীর পাড়ে একটি যুদ্ধ হয়। এখানেও এই জাত জিহাদি মুসলিমরা যুদ্ধে জয়ী হয়েছিলো কারন তাদের কোন মৃত্যু ভয় ছিলোনা। সর্গে বা বেহেশতে যাবার আশায় তারা প্রানপন যুদ্ধ করে। পরবর্তিতে মিসরের রাজা হেরাক্লিয়াস এর মৃত্যুর পর বিনা যুদ্ধে এই মুসলিম জাতি মিশর দখল করে নেয়। যেমনটি একবার হয়েছিলো সেই সময় থেকে ৩০০০ বছর আগে ১২তম ফারাও ফারাও মামোস এর সময়ে চাইনীজ হিকক্স জাতীর দ্বারা। এর পরেই মিশরীয় সভ্যতার অনেক আচার, রীতিনীতি, মুল্যবান সম্পদ আস্তে আস্তে আরবের দখলে চলে আসে। এমনকি ধারনা করা হয় মুহাম্মদ (সাঃ) যে মেরাজের গল্প বলে মুসলমানদের নামজ আর রোজার নিয়ম শিখিয়েছেন সেটাও কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই মিশরীয় সভ্যতাতে পালিত হয়ে আসছিলো। সে মিশরীয় প্রার্থনার সাথে এই মুসলিমদের নামাজের ৮০% মিল পাওয়া যায়। জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা বা শান্তির ও সুশৃঙ্খলার কথা ইসলামের ইতিহাস বা প্রাচীন মিশরের ইতিহাসে কোথাও পাওয়া যায় না। ইসলামের ইতিহাস অটোমান সাম্রাজ্য, মিশরীয় সাম্রাজ্য দখল, মক্কা দখল এসবের কথা জানতে গেলে শুধুই দেখা যায় মুসলমানেরা ইসলাম ধর্মের নামে রক্তের হলিখেলায় মেতেছিলো সেসময়ে। সেখানে জ্ঞান বিজ্ঞান বা শিক্ষার কোন চিহ্ন ছিলো না। বরং শোনা যায় জ্ঞান ধ্বংশ করার কথা যেটা দিয়ে শেষ করবো লেখাটি। একটি ইতিহাস আছে যেখানে গ্রীক ও রোমান গৌরবের আলেক্সান্দ্রিয়া লাইব্রেরির কথা উল্লেখ পাওয়া যায় যা এই মুসলমান জাতির দ্বারা ধ্বংশ প্রাপ্ত হয়। দখলের পরে সেই লাইব্রেরির সমস্ত গ্রন্থসমূহ ওমর (রাঃ) এর সামনে নিয়ে আশা হয়। বিভিন্ন হাদিসে বলা আছে তিনি বলেছিলেন “এই কিতাবগুলি যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হয় তাহলে এগুলি অপ্রয়জনীয়, আর যদি পবিত্র কোরানের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ন না হয় তাহলে এগুলি ক্ষতিকর। আর তাই উভয় ক্ষেত্রেই এগুলি ধ্বংশ করা একান্ত প্রয়োজন”। তার পরে কয়েক শতাব্দী ধরে মিশরের খ্রিস্টান শাসকদের পৌত্তলিক বিরোধী শক্ত অবস্থানের ফলে ধ্বংশ করার মতো খুব কম গ্রন্থই টিকে ছিলো যা থেকে পুর্বের ইতিহাস জানা যায়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now