বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
'' তাকে মনের কথা বলে দাও।হয়তো সেও তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।এত ভয় পেলে কি চলে''
এতটুকোই লেখা।কিন্তু এই ৩তলায় এই চিঠি কোথা থেকে অাসল তা কল্পনায়ও অাসছেনা
অামি ছাড়া এখানে অার কেউ থাকেও না। দিনে 3বার শুধু অান্টি এসে খাবার দিয়ে যায়।অার তো কেউ অাসেনা।তাহলে এরকম অামার মনের মত চিঠি অাসার কারণ কি?
তাহলে চিঠি অাসল কিভাবে।যাইহোক,ক
োন না কোনভাবে তো অাসছে।
.
.
01 ডিসেম্বর,খুব শীত এখন । চারদিকটা কুয়াশায় খুব সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি করে রাখে।
কলেজ বন্ধ হবে অার 15 দিন পরে।তাই এখন অার কলেজ মিস দেইনা।
প্রতিদিন যেহেতু সাইকেল দিয়ে কলেজে যাই তাই খুব ভাল লাগে।কারণ কুয়াশার মাঝখান দিয়ে সাইকেল চালাইলে অন্যরকম একটা ফিল তৈরী হয় মনে।প্রতিদিনের মত অাজকেও কলেজে যাচ্ছিলাম।খানিকটা পথ যাওয়ার পর দেখি একটা মেয়ে লাল ড্রেস পড়ে দাড়িয়ে অাছে।এই কুয়াশার মাঝে লাল ড্রেস পড়া মেয়েটাকে কত্ত সুন্দর যে লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।
মুভিতে যেরকম হাত দিয়ে ইশারা করে লিফট চায়। তেমন করে মেয়েটাও অামার কাছে লিফট চাচ্ছিল
অামি সাইকেলের ব্রেক ধরে সাইকেলকে দাড়া করাইলাম।
- জ্বী বলুন
- এখানে এতিমখানা টা কোথায় বলতে পারেন?
- জ্বী সামনে গিয়ে ডানে।
- ধন্যবাদ।
মেয়েটা হাটতে হাটতে চলে যাচ্ছিল।অামি শুধুই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। এত সুন্দর ও মেয়ে হয়..!!
যাইহোক,অামি অামার মত করে কলেজ চলে গেলাম।
কিন্তু মেয়েটার মুখটা বারবার চোখের সামনে ভাসছিল। তারপর থেকেই অামি যেন সবসময় কেমন একটা কল্পনার জগতে থাকি।অার কল্পনার রাজ্যের রানি হল সেই ভোরের লাল ড্রেস পড়া মেয়েটা।
পরপর অারো দুই দিন কলেজ গেলাম।সেই জায়গায় যাওয়ার পর মনের অজান্তেই সাইকেল ব্রেক করে দাড়িয়ে থাকি। যদি অাবার ওর দেখা পাই।কিন্তু অামার মন খারাপ করে দিয়ে মেয়েটা লুকিয়ে থাকে।অার দেখা দেয়না..!! কি অদ্ভুত এত ফিলিংস তৈরী হয়েছে মনে। যা অাগে কোন মেয়েকে দেখে তৈরী হয়নি।ভালবাসার শুরুটা হয়তো এভাবেই হয়।
তৃতীয় দিন অাবার মেয়েটাকে দেখতে পেলাম।
অাজ নীল ড্রেস পড়ে দাড়িয়ে অাছে।
এই প্রচন্ড শীতেও শীতের কাপড় না পড়ে মেয়েটা থাকে কিভাবে!! শীত করেনা নাকি। অাবার শীতের কাপড় পড়ে দাড়িয়ে না থাকলে হয়তো মেয়েটাকে লাল অপ্সরী বা নীল অপ্সরীর মত লাগত না।অাজ দেখা মাত্রই বলা শুরু করলাম।
- কেমন অাছেন?
- ভাল অাছি...অাপনি?
- অামিও ভাল
- কলেজ যায়া চুপচাপ বসে থাকবেন কেমন? সবার সাথে এত বেশি কথা বলেন কেন?
- অাপনি কিভাবে জানলেন..সবার সাথে অামি বেশি কথা বলি।
- বলা যাবেনা।
- অাপনি কি অামায় চিনেন?
- না..!! অাবার হ্যাঁ...!! অাপনার নীল শার্ট অাছে একটা।কাল ওইটা পড়ে অাসবেন
- অাপনি নীল শার্টের কথা কিভাবে জানেন?
- এত বেশি প্রশ্ন করেন কেন।যান অাপনার দেরী হয়ে যাচ্ছে।
- অারেকটু থাকিনা।
- না গেলে অার কথা বলবনা।
- কালকে অাসলে কথা বলবেন তো?
- হ্যাঁ
- অাচ্ছা তাহলে যাই।
মেয়েটার সাথে কথা বলার পর থেকেই মনটা খুব ভাল হয়ে গেল।যেন মুহুর্তেই কলেজে পৌছে গেলাম।
পরদিন নীল শার্ট টা পড়ে গেলাম।কিন্তু যাওয়ার পর দেখি ও নেই।মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকলাম।একটু পর একটা গাছের ওইপাশ থেকে হাসতে হাসতে নীল পরীটা অামার সামনে অাসল। একটা মেয়ের হাসি এত্ত সুন্দর হতে পারে..!! ওকে না দেখলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না। যেন মুহুর্তেই ওর প্রেমে পড়ে গেলাম।
ওর এরকম হাসি দেখে অামি একটা কথাও বলতে পারছিলাম না।অনেক কষ্টে বললাম।
- এত হাসছেন কেন?
মূহুর্তেই ওর মুখটায় যেন কালো মেঘের মত হয়ে গেল।
- অারে অারে অামি মজা করছিলাম।প্লিজ হাসেন।
- না অার হাসবনা।
- অাচ্ছা কেমন অাছেন..?
- ভাল অাছি অাপনি ..?
- অামিও ভাল।
- নীল শার্টে কিন্তু অাপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।
- অাপনি তাহলে অাজ সাদা ড্রেস পড়ে অাছেন কেন? নীল ড্রেস পড়তে পারলেন না?
- অামার কথা ছাড়ুন।শুনুন এত সাজগোছ করে কলেজ যাচ্ছেন। মিথী'র সাথে কিন্তু কতা বলবেন না।
- (.........)
- অারে অাপনি এমন চিন্তিত হয়ে যাচ্ছেন কেন।
- অাপনি অামার সম্পর্কে এত কিছু জানেন কিভাবে? কাউন্ডলি বলবেন কি অাপনি কে? অার মিথী অামার জাস্ট ফ্রেন্ড।
- অামার পরিচয় জেনে অাপনার কি লাভ?
- কেন পরিচয় জানতে পারিনা?
- অাচ্ছা পরী নামটা অাপনার খুব পছন্দ তাইনা? অাচ্ছা পরী ডাকতে হবেনা অামাকে অারোহী বলে ডাকবেন।
- অাজব..!! অাপনি কিভাবে জানলেন পরী নামটা অামার খুব পছন্দ! অার অারোহী বলে ডাকব মানে! অাপনার নাম কি? সত্যি করে বলেন।
- বললাম না অারোহী বলে ডাকতে।অাচ্ছা অাপনার দেরী হয়ে যাচ্ছে।কলেজ যান।
- ভাবছি অাপনার সাথে গল্প করব । অাজ কলেজ যাবনা।
- না গেলে কিন্তু অার কথাই বলবনা।
- অাচ্ছা অাচ্ছা যাচ্ছি।
- টাটা কাল দেখা হবে।
.
.
এই মেয়েটা কে? অামার সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে।হয়তো অামার পরিচিত কেউ কিন্তু অামি চিনিনা।নিজেকে অামার কাছে রহসম্যয়ী করে রাখছে।
পরদিনও যখন গেলাম।ও অামাকে অবাক করে দিয়ে অারো অনেক কিছুই বলল।যতই ওর সাথে কথা বলি ততই চমকে যাই।কিন্তু ওর পরিচয় দেয়না।পরিচয় দিলে ধরা পড়ে যাবে।হয়তো এই ভয়েই পরিচয় দেয়না।বলে একদিন নাকি চমকে দিয়ে ওর পরিচয় দিবে।
এভাবেই অারো কয়েকদিন চলে গেল।
অামি এই কয়েকদিনে মেয়েটার প্রতি খুব দূর্বল হয়ে পড়েছি।কিন্তু কিছু বলতে পারছিনা।
সাহস হয়না।
অাজ ভাবছিলাম বলব কিন্তু বলা অার হলনা।
রাত্রে যখন পড়া শেষ করে ঘুমাতে যাব।তখনই দেখি বালিশের নিচে একটা সাদা কাগজ।হালকা বের হয়ে অাছে।যখন কাগজটা বের করলাম।
দেখি সেখানে লেখা তাকে মনের কথা বলে দাও।হয়তো সেও তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।এত ভয় পেলে কি চলে''কিন্তু এই ৩তলায় এই চিঠি কোথা থেকে অাসল তা কল্পনায়ও অাসছেনা । (অামি অান্টিদের বাসায় থেকে পড়াশোনা করি।তৃতীয় তলায় কাজ চলছে।নিচের তলা ভাড়া দেওয়া দুইতলা'য় অান্টিরা থাকেন।তৃতীয় তলার একপাশ কমপ্লিট যদিও পুরোপুরি কমপ্লিট হয়নি। এখানেই অামি থাকি।প্রতিদিন সাইকেলে করে এখান থেকেই কলেজ যাই)
অামি ছাড়া এখানে অার কেউ থাকেও না। দিনে 3বার শুধু অান্টি এসে খাবার দিয়ে যায়।অার তো কেউ অাসেনা।তাহলে এরকম অামার মনের মত চিঠি অাসার কারণ কি?
চিঠি অাসল কিভাবে।যাইহোক,কোন না কোনভাবে তো অাসছে।
কিন্তু কিভাবে অাসছে সেটাই বের করতে হবে।
কেমন জানি অদ্ভুত লাগছিল সব।
.
.
অার মাত্র দুইদিন পর কলেজ ছুটি হয়ে যাবে।
যা করার এই দুই দিনেই করতে হবে।
পরদিন যখন কলেজ যাব।পথে অারোহীর জন্য দাড়াইলাম।
- কি ব্যাপার? অাজ তোমায় এমন লাগছে কেন?
- কেমন লাগছে?
- চিন্তিত।
- অারে না।
- কিছু বলতে চাও কি অামায়?
- হ্যাঁ
- বল তাহলে
- ইয়ে মানে...কেমন অাছো তুমি?
- ভাল অাছি তুমি কেমন অাছো?
- ভাল ..
- অার কিছু বলবেনা?
- হুমম..অাচ্ছা কাল বলব।অাজ কলেজ যাই দেরী হয়ে যাচ্ছে।
- অাচ্ছা যাও।
অনেক সাহস বুকে নিয়েও কিছু বলতে পারলাম না।
সারাটাদিন কোনভাবে মনমরা হয়েই চলে গেল।
রাত্রে যখন ঘুমাতে যাব।ঠিক তখনই কালকের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।দেখি একটা চিঠি।
সেখানে লেখা '' কি ? বলে দিলে না কেন? কালকে না বললে পরে কিন্তু খুব অাফসোস করবা''
এই রহসম্যয় চিঠিটা কিভাবে অাজও অাসল!
দৌড়ে নিচে চলে গেলাম।
- অান্টি অাজ সারাদিনে অামার রুমে কেউ গেছিল?
- না তো..কে যাবে? কিছু হয়েছে কি?
- না ঠিক অাছে।
এটা বলে অাবার দৌড়ে উপরে চলে অাসলাম।
দুই টেনশনে এক হয়ে মাথাটা হ্যাং করে দিচ্ছিল।কালকে ওকে বলতেই হবে।অাবার এই চিঠি'র রহস্য বের করতে হবে।
এরকম ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর।তারাতারি রেডি হয়ে সাইকেল নিয়ে চলে গেলাম।
অাজ দেখি ও অাগে থেকেই অামার জন্য অপেক্ষা করছে।কিন্তু ওকে কেমন জানি চিন্তিত দেখাচ্ছিল।
- অারোহী কেমন অাছ?
- ভাল..তুমি?
- অামিও ভাল।
- অাজ তো তোমার কলেজ ছুটি হয়ে যাবে।
- হ্যাঁ
- পরে বাড়িতে চলে যাবা তাইনা?
- হুমম
- কেন যাবা?
- অাজব ! অামার মা-বাবা থাকে ওখানে।ওদের দেখতে যাব।
- অাচ্ছা ভাল থেকো।নিজের খেয়াল রেখো।
- অাচ্ছা যাই তাহলে।
- কিছু বলবেনা অামায়?
- ভাল থেকো।
এই বলেই চলে যাচ্ছিলাম কেন জানি সাহস হচ্ছিল না অার কিছু বলার।
অনেক সাহস নিয়ে অাবার পিছু ফিরলাম।
দেখি মেয়েটা কাদছে। কাদলেও যে একটা মেয়েকে এত সুন্দর লাগতে পারে..!! জানা ছিলনা । অাসলে অামরা যেই মানুষটাকে ভালবাসি। সে যেমনই হোক। তাকেই সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগবে।তার সব কিছুই ভাল লাগবে।কারণ যাকে ভাল লাগে তার সব কিছুই ভাল লাগে।
- এই কাদছো কেন?
- চোখে কি জানি পড়ছে।
- অারোহী
- বল? কিছু বলবে কি?
- অাসলে অামি একটা ভীতুর ডিম।
- ভয় পেয়োনা বল কি বলবে?
- অামি তোমাকে ভালবাসি।
- তুমি অামায় সত্যিই ভালবাস কিনা এসব জানার কোন প্রয়োজন অামার নেই।মুখ দিয়ে বলছ এতটুকোই যথেষ্ট।অামিও তোমাকে খুব ভালবাসি।
একটা রিকোয়েস্ট রাখবে অামার?
- অবশ্যই রাখব বল?
- অাজ কলেজে না গিয়ে অামায় সাইকেল দিয়ে ঘুরাবে।
- হ্যাঁ চল।বাম পাশের পিচডালা রাস্তা দিয়ে যাই।এই রাস্তার দুইপাশে গাছ।অাবার সামনে গেলেই বিল পড়বে।এখান দিয়ে যেতে খুব ভাল লাগবে।
- হুম চল।
লাইফে প্রথম একটা মেয়েকে নিয়ে সাইকেল দিয়ে যাচ্ছি।অাবার যে পিছনে বসে অাছে।সে অামার ভালবাসার মানুষ।অাজকের মত শীতের সকাল অারো কয়েকটা পাইলে অামি সব কিছু করতে রাজি।
- অাচ্ছা শোন।
- বল...
- কল্পনা কর।
- কি কল্পনা করব?
- ধর কথার কথা তোমার সাথে অামার অাজকের পর অার দেখা হইলনা।
- প্লিজ এরকম কিছু বলিওনা।অামি শুধু জীবনে একজনকেই এমন করে ভালবাসছি।অার তাকে পেয়েও গেছি।অামি তোমাকে কখনো হারাতে চাইনা।
- অারে কল্পনা করতে বলছি।
- অাচ্ছা করলাম।অাজকের পর থেকে তোমার সাথে অার দেখা হবেনা।
- এরকম হলে তুমি প্লিজ ভেঙে পড়না।
- অার বলিওনা প্লিজ।খুব খারাপ লাগছে।
- কল্পনা করতে বলছি।মাঝখানে অারেকটাও যদি কথা বল অামি কিন্তু সাইকেল থেকে নেমে যাব।
- অাচ্ছা বল।
- এরকম কিছু হলে তুমি ভেঙে পইড়না।তুমি সবসময়ই নিজের খুব যত্ন নিবা।তোমার মা-বাবার স্বপ্ন তোমাকে পূরণ করতে হবে।তোমাকে ভাল করে পড়াশোনা করতে হবে।
- হুম বুঝলাম।
- কথা দাও অামায় ..তোমার ভালবাসার কসম দিয়ে।এমন কিছু হলে তুমি ভেঙে পড়বানা।
- ওকে মহারাণী অামার ভালবাসার কসম দিয়ে বলছি।এমন কিছু হলে অামি ভেঙে পড়বনা।ঠিকমত নিজের যত্ন নিব।অার পড়াশোনাও করব।এখন অাপনি খুশি তো?
- হুম খুশি খুব খুশি।চল অাজ সারাদিন অামরা ঘুরব।
.
অামরা সারাদিন খু্ব ঘুরলাম।অনেক কিছু খাইলাম।অারোহী অামার জন্য একটা ফল অানছিল। এত্ত মিষ্টি ফল অামি অাগে কখনোই খাইনি।
সন্ধ্যায় ফেরার পালা...
- এই তুমি দুইটা চিঠি পাইছিলা না? তোমার বালিশের নিচে?
- হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকে জিজ্ঞাস করতে তো ভুলেই গেছি।
- অাজকে রাত্রে অারেকটা পাবা।সেখানেই সব কিছু জানতে পারবা।এখন কিছু প্রশ্ন করিওনা।
- ওকে মহারাণী কাল দেখা হবে। টাটা।
- ভাল থেকো।
.
.
রাত্রে যখন ঘুমাতে যাব।
ঠিক তখনই বালিশের নিচে একটা চিঠি পাইলাম।
চিঠিতে লেখা ছিল...
'' অাজকের এই লেখাটা লিখতে অামার খুব কষ্ট হচ্ছে। জানি পড়তে তোমার অারো বেশি কষ্ট হবে।তুমি জানো অামি কে? অামি পরী।তোমার কল্পনার রাজ্যের পরী না কিন্তু। সত্যিই অামি পরী।অামাদের জন্য অালাদা থাকার জায়গা অাছে যেটা পৃথিবী থেকে অনেক দূরে।অার অামি অামাদের রাজ্যের বাদশার একমাত্র মেয়ে।তাই তো অামি পৃথবীতে অাসতে পারছি।জানো তোমাকে অনেকদিন ধরেই অামি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। পরে সেদিন সামনে গেলাম।একদিন মনে হল ভালবেসে ফেলেছি তোমায়। তাইতো তোমার কাছে অাজ পৃথিবীতে অামার শেষ দিনে, ভালবাসার কথাটা প্রথমে শুনতে না পেরে কান্না করে দিছিলাম। জানো পরে যখন বললা অামায় তুমি ভালবাস।অামার অনেক খুশি লাগছিল।যা তোমায় বলে বুঝানো সম্ভব নয়।এখন অামি মরে গেলেও অার অাফসোস থাকবেনা। অামার বাবা মানে অামাদের রাজ্যের বাদশাহ ২দিন অাগে সব কিছু জেনে গেছেন। অার অামি যেহেতু অদৃশ্য হতে পারি।তাই তোমাকে চিঠিটা রাত্রে দিয়ে অাসছিলাম। অাজকে রাত্রের মাঝেই অামাকে চলে যেতে হবে। তুমি প্লিজ ভাল থেকো। অামায় কিন্তু কসম দিছিলা।খুব ভালবাসি তোমায় খুব মিস করব তোমায়। তোমার জন্য একটা গিফট অাছে
কাল সকালে সেই জায়গায় যাবা যেখানে অামাদের দেখা হত।পাশের বটগাছে দেখবা একটা নীল গোলাপ রাখা অাছে। গোলাপটা সবসময়ই এমনই থাকবে। তোমার লাইফে ভাল একটা মেয়ে অাসবে। যে অাসবে তাকে এই গোলাপটা দিয়ে দিও। অার অামার কথাও বলবা কিন্তু। মেয়েটা ওর ভালবাসায় তোমাকে অামার কথা ভুলিয়ে দিবে। ভাল থেকো''
.
হঠাৎ মনে হল কাগজটা ভিজে গেছে। পরে দেখি চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
যখন কাউকে সত্যিই ভালবাসলাম অার তখনি হারিয়ে ফেললাম।
এত পরিমাণ কাদলাম।লাইফে অাগে কখনো এমন করে কাদিনাই। কেন জানি সবকিছু মেনে নিতে পারছিলাম না।
সারারাত একটুও ঘুম হয়নি।
পরদিন সকালে খালি পায়ে হেটে হেটেই সেই বটগাছ পর্যন্ত চলে গেলাম।দেখি একটা নীল গোলাপ সেখানে।একটা গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ কতটা মিষ্টি।হতে পারে এই নীল গোলাপটা দেখেই বুঝলাম।
হাতে নীল গোলাপটা নিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলাম।
অার একটা মুভির একটা কথা মনে হচ্ছিল বারবার।
'' জীবনের রাস্তায় কারো হাত ধরে অনেকটা পথ চল পর,সেখান থেকে এক একা ফিরে অাসা খুব কঠিন কাজ।তবুও চলতে হয়।কাছে অাসার জন্য কখনো কখনো দূরে যেতে হয়''
অামাদের পথ চলাটা বেশি দিনের নয়।কিন্তু এর মাঝেই হয়তো অনেকটা পথ চলে গেছিলাম। কিন্তু অামরা এখন অনেক দূরে চলে গেছি অামাদের অার কাছে অাসা হবেনা। ( সমাপ্ত )
গল্পটা কাল্পনিক। তাই বাস্তব ভেবে ভুল করবেন না।কিছু গল্প কল্পনাতেই সুন্দর ^_^
.
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now