বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ শেষ যাত্রা
লেখাঃ মুহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম
.
.
রংপুর থেকে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি যাচ্ছি।ডাক্তার অনুমতি দিয়েছে।অর্থাৎযাওয়ার জন্য আমি উপযুক্ত।
দেশের বাইরে গেলে মেডিকেল টেস্ট করতে হয়।শারীরিক ভাবে ফিট না আনফিট জানার জন্য।অনেক বছর আগে,সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগেও আমাকে এরকম টেস্ট করতে হয়ছিল।তবে এবারেরটা একটু আলাদা,রেজাল্ট ও আলাদা !
আমি জুবাই।আজ বিকেলে,আছর নামাযের পর,নতুন এক জায়গায় যাচ্ছি।জায়গাটা আসলে . . . আমার একজন আপনজন,যাকে আমি খুব ভালোবাসি বিশ্বাস করি,তার কাছে যাচ্ছি।দেখা করতে।আমার কাছ থেকে তিনি অনেক দূরে থাকলেও আমার খবরা-খবর নিয়মিত রাখেন।হঠাৎ করেই তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।তাই তো সব কাজ-কর্ম,ব্যস্ততা ফেলে,তার ডাকে সাড়া দিতে হচ্ছে . . . ।
খ্যাঁচ করে গাড়িটা ব্রেক করল।সাথে সাথেই বন্ধ হলো গাড়ির ইঞ্জিন।বাইরে না তাকিয়েই বুঝতে পারলাম বাড়ি এসে গেছি।সবাই নামল।আমিও নামতে চাচ্ছি।কিন্তু . . . কেউ আমাকে নামতেই দিচ্ছি না !
আমি নামতে পাব না ?আরে বলে কি ! একটু আগেই আমি কত কাজ করলাম,বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি আসলাম।তাও আবার ১০ কেজি ওজনের বাজার ব্যাগ নিয়ে।এখন বলে কিনা আমি একা একা গাড়ি থেকে নামতে পাব না ! অনেক মানা করা সত্ত্বেও কয়েকজন আমাকে সাবধানে গাড়ি থেকে নামাল ।
আমার খুব খারাপ লাগল ,যখন শুনলাম,আমার পরিচিত কেউ একজন বলল যে,"বাড়ির ভিতরে যাওয়ার দরকার নাই।বারান্দাতেই থাকুক।"অনেক লোকের কোলাহলে ঠিক ঠাহর হলো না কে বলল এ কথা ।
সারাজীবন কত কষ্ট করে বাড়ি,গাড়ি,আসবাবপত্র বানিয়েছি।অথচ এখন আমাকেই এগুলো ব্যবহার করতে দিচ্ছে না ? ঠিক আছে ।
আজকে যে আমাকে সবাই কেনো এতো সম্মান করছে,আদর করছে,কিছুই বুঝতে পারছি না।আমি যে কাজই করতে চাচ্ছি,অন্য কেউ এসে করে দিচ্ছে।ছেলে মেয়েরা পড়াশুন , অফিস আর কাজকর্মে এতোই ব্যস্ত থাকতো যে আমাকে সময়ই দিত না।আজকে তারা কেন যেন আমাকে ছাড়তেই চাচ্ছে না !
আগে আমাকে অনেক কাজ করতে হতো,আজ তারা কোনো কিছুই করতে দিচ্ছে না ।প্রথম প্রথম অবশ্য বলতে চেয়েছিলাম, আমি নিজেই এসব করতে পাব।আমার সাহায্যের দরকার নাই। কিন্তু বলা হয়ে উঠেনি।আর এখন বলেও মনে হয় লাভ নেই।আমাকে করতে দেবে না।আমি নাকি . . . .
গোসলটা করা দরকার।কিন্তু কি ব্যপার ?তোমরা ক্যান ?
গোসলটাতো অন্তত নিজে করতে দাও।
ওহহহো !
আচ্ছা,ঠিকাছে।থাক।
আমার খুব কাছের বন্ধু মাহফুজ আর বড় ছেলের বন্ধু রায়হান ।আমার গোসল করার সময় নাকি ওরা থাকবে ।আজকে কিছুই বলব না।থাকুক।
টিওবয়েল,পুকুর,শাওয়ারে গোসল করেছি।এভাবে তো কোনোদিন গোসল করি নি ! গোসলের পদ্ধতি যেমন আলাদা,তেমনি পানির সাথে আরো নানা রকম উপাদান।
.
সাদা রং আমার সবচেয়ে প্রিয়।সব জায়গায় তাই আমি সাদা রং ব্যবহার করি। জামা,কাপড়,গাড়ি এমনকি বাড়ির দরজা জানালার পর্দাও সাদা রং !
তাইতো নতুন পোশাক হিসেবে,আমার জন্য সাদা রংয়ের জামা কাপড় কেনা হয়েছে।আমাকে নাকি খুব সুন্দর দেখাচ্ছে ? আরে আমি না,অন্যরা বলাবলি করছে তো !
.
সব কাজ প্রায় শেষ।আর কয়েকজনের সাথে দেখা করা দরকার ।তাছাড়া সময় হলে তবেই তো গাড়ি ছাড়বে,নাকি ?
এই ফাঁকে আমার প্রিয় বইয়ের গল্প শোনাচ্ছে খোকাখুকু ও অন্যরা !আমি আগে প্রতিদিন সকালে এটা পড়তাম,অন্যদের শোনাতাম,আজ ওদের কাছ থেকে শুনছি ।
এ সময়,দুই একজনের সাথে হচ্ছে।তবে কথা বলতে নিষধ থাকায়,শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কথা বলা সম্ভব হচ্ছে না।সে যাক . . .
আমাদের বাড়িতে আজ এতো মানুষ ক্যান ? বিয়ে বাড়ির মতো লাগছে।সবাই আমার জন্য এসেছে ।ঠিক যেন আমার বিয়ের দিনের মতো।
এদের মধ্যে কতক আমার যাওয়ার ব্যবস্থা করছে , কতক আমার বিভিন্ন দোষ গুণ নিয়ে কথা বলছে,কেউবা আবার আমি পরবর্তি অন্যদের অবস্থা নিয়ে ভাবছে।অনেকেই আমাকে দেখে কেঁদে ফেলছে।সবাই বলাবলি করছে,এবারের যাত্রায় আমি নাকি আর ফিরব না।আসলে কি তাই ?
খুব ভালো লাগল,হাচান সাহেবকে দেখে।আমার বন্ধু ছিল।অনেক দিন থেকে দেখা হয় না।আজ আমার যাওয়ার খবর শুনে সব ব্যস্ততা ফেলে ছুটে এসেছেন . . .
সোহেব মিয়াকে আমার বাড়ির আঙ্গিনায় দেখে আমি তো আমার নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছি না ! লোকটা আমার উন্নতি দেখতেই পেত না।সব সময় আমার হিংসা করত।কত দিন কথা বলে না,সালামের জবাব দেয় না।সব কিছু ভূলে আজ আমার বাড়িতে এসেছেন,আমাকে বিদায় জানাতে ।
চেনা অচেনা হাজারো মানুষকে দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে।এতো মানুষ আমাকে চেনে ? আচ্ছা,আমি কি এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে,আমার মতো সামান্য একজনের বিদায়ে এতো লোকের আগমন ঘটেছে ?বাহহ!
যাওয়ার আগে অনেক কিছু সাথে নেওয়ার ইচ্ছা ছিল।বিশেষ করে চশমা,প্রিয় হাত ঘড়ি,আর কিছু টাকা?
কিন্তু নেওয়া হলো না,কেউ নিতে দিল না।ওগুলার নাকি প্রয়োজন হবে না!
নতুন এক রকমের গাড়িতে করে স্টেশনে গেলাম।এরকম গাড়িতেতো কখনও চড়ি নি!
স্টেশনে,চূড়ান্ত যাত্রার পূর্বে,সবাই আমার শুভকামনা করল,আমার জন্য দোয়া করল।
এবার গাড়িতে (নাকি বাড়িতে) উঠার পালা।মুস্তাফা ভাই ও আজাদ ভাই আমাকে আমার আসনে রেখে বিদায় জানালেন।তার আগে উপহার হিসেবে আমার পোশাকে সুগন্ধী আতর লাগিয়ে দিলেন।যাওয়ার আগে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে গেলেন।
.
একি!এতো অন্ধকার কেন?আরে আমি তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।কে আছো দরজাটা খোলো।আমি যেতে চাই না,চাই না যেতে , তোমাদের ছেড়ে কোথাও.......
.
অন্ধকার ছোট্ট এ ঘরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে,আমি আর কিছু লিখতে পারছি না .....
.
গল্পঃ শেষ যাত্রা
লেখাঃ মুহাম্মদ জোবায়ের ইসলাম
(এপ্রিল,2017 এ লেখা)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now