বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভয়ংকর ভুতুড়ে বাড়ি ২য় ও শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X গা ছমছমে বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে চারজনেই। বিস্ফোরিত চোখে সকলে তাকিয়ে থাকে সামনের দিকে!! কিছু কঙ্কাল তাদের চোখে উজ্জ্বল মোমবাতির আলোতে ধরা পড়ে । পিছিয়ে যায় চারজনেই। আমাদের ভয় পেলে চলবে না, নিশান ফিসফিস করে বলে উঠে। শোন, ভেতরে জুয়ারু ছেলেপেলেদের থাকার সম্ভাবনা 90%। তারা হঠাৎ করে আমাদের দেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। মোমবাতিগুলো নিভিয়ে ফেলতে হবে বাড়ির ভেতরে ঢোকার আগেই। বুঝলি সবাই? নিমতি বলে উঠে, হ্যাঁ বুঝছি! কিন্তু এত অন্ধকার? যাবো কেমনে রে? আরে ওটা নিয়ে ভাবতে হবে না। একটু পর অন্ধকারে চোখ সয়ে যাবে। সব স্পষ্ট দেখতে পারবি। নিমতি আবারো বলে উঠে, শোন এই মরা খুলি গুলো দেখে যতদূর মনে হচ্ছে ভেতরকার লোকজন কংকালগুলো ফেলে রেখে ভয় দেখিয়ে আসছে বহুকাল যাবত । হতে পারে, যারাই এখানে এর আগে তদন্ত করতে এসেছিলো ঐই লোকগুলো ওদের কে নৃশংস ভাবে খুন করেছে। Exactly! বলে উঠে নীহারিকা । তারপর শিয়াল বা নেকড়ে এরকম কোন প্রাণির মাধ্যমে তাদের দেহটা বিকৃত হয় এবং এদের প্রচার এর মাধ্যমেই এই বাড়িটা ভয়ংকর হয়ে গেছে। আর প্রতিবার একটা ব্যাপার খেয়াল করেছিস? যতগুলো লাশ এ বাড়ির আশেপাশে পাওয়া গিয়েছে সবার ই বুক উন্মুক্ত ছিলো এবং হ্দপিন্ড আর যকৃত পাওয়া যায় নি। নিশান বলে উঠে, হুম! এরা এসব করেই প্রমাণ করতে চাইতো যে , বাড়িটাতে আসলেই ভয়ংকর কিছু আছে। রিম্পি এদের সাহস দেখে নিজেও কিছুটা ভরসা পেয়ে বলে উঠে, আমার মনে হয় ভেতরের লোকগুলো কোন একটা বিশেষ জিনিস পাহারা দিচ্ছে ? মনে হয় গুপ্তধন! এজন্য বাড়ির আশেপাশে কাউকে ঘেষতে দেয় না। নিমতি তাড়া দিয়ে উঠে, ওসব কথা বাদ দে। এখন এগিয়ে চল! চারজন ভাগ হয়ে যাই। আমি আর নিশান, নীহারিকা আর রিম্পি। আমরা ডানদিকে যাবো, তোরা বামদিকে। নে চল! আমাদের প্লান গুলো মনে আছে তো সবার? উত্তরের অপেক্ষা না করে এগিয়ে যায় চার জন ই। মোমবাতি ছাড়াই অন্ধকারে হাঁটা এত কষ্ট কে জানতো , মনে মনে বলে উঠে নিমতি! নিমতি আর নিশান সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বিশাল বড় রুমটাতে ঢোকার আগে জানালা দিয়ে দেখে নেয় ভেতরে কেউ আছে নাকি? না ভেতরে কেউ নেই। এখানে সেখানে মানুষের খুলি আর গুমোট গন্ধে বমি আসতে চায় নিমতির। কিরে তুই আসতেছিস না কেন? আয়! কিন্তু নিশান ভেতরে ঢুকে না। আজব! আয়। বলেই ওর হাতটা টেনে ধরে নিমতি। কিন্তু পরক্ষনেই হাতটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। তোর হাত এতো ঠান্ডা কেন রে? বরফের মত ঠান্ডা হাতের ছোঁয়া পেতেই উৎসুক চোখে তাকিয়ে বলে উঠে নিমতি। কোন উত্তর না পাওয়াতে একটু ভয় পেয়ে যায় নিমতি। " আ..মা..র সাথে মজা করবি না প্লিজ! আমি নিতে পারি না কিন্তু। কথা তো বল। " তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস? আমার গায়ে?" ভারী গলায় বলে উঠে নিশান। " তো.. তো.. র গলা এ..রকম শোনাচ্ছে কে..ন?" কাঁপা কাঁপা গলায় প্রশ্ন করে নিমতি। তোরা আমার এই বাড়িতে পা দিয়েছিস? বলতো বলতে নিশান হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে বিকৃত এক রুপ নেয়। তোরা আমাকে নিশান ভাবতেছিস? হা হা! আমি নিশানের রুপ নিয়ে এখানে এসেছি। তোর বাকি বন্ধুদের দেহটা বাইরে পড়ে আছে। দেখে আয় যা !! কতদিন মানুষের কলিজা খাই না। মুখটা তেতো হয়ে গেছিলো। সব কটার কলিজা খেয়ে সেরকম তৃপ্তি পাই নি। এবার তোর কলিজাটা খেয়ে রুচিটা আবার ফেরত পাবো মনে হয়। হা হা হা। হাসিটা যেন নিমতির দু'কানে বিষ ঢেলে দিচ্ছে! এখনো তার বিশ্বাস হচ্ছে না এসব ঘটনা এত দ্রুত ঘটে যাবে! বিকট চেহারার অবয়বটা তার দিকেই আসছে। নিমতি কী করবে বোঝার আগেই বিকৃতরুপটা ঠান্ডা হাত দুটো দিয়ে তার গলাটা টেনে নিলো । ধারালো দাঁত দুটো গলার কাছটাতে চেপে ধরলো। নিমতির দেহটা ধীরে ধীরে নিথর হয়ে মেঝেতে গড়িয়ে পড়লো। . স্বপ্নটা দেখেই নিমতি ধরফড় করে বিছানায় উঠে বসে। স্বপ্নটা মনে করার চেষ্টা করে হাজার বার । মনে করতে পারে না। নিমতি ঘড়ির দিকে তাকালো । 1:20 বাজে । আজ রাতে "ভয়ংকর ভুতরে বাড়ির ' রহস্য সমাধানে যাওয়ার কথা তার। গল্পের বই পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে টের পায় নি সে। নিচে তার বন্ধুরা অপেক্ষা করছে। এখনি যেতে হবে তাকে। দ্রুত বিছানা থেকে নামার সময় হঠাৎ ঘাড় বাঁকা করতে গিয়ে কিসের ব্যাথায় যেন কুকিয়ে উঠে সে । ঘাড়ের দিকটায় হাত বোলায় সে। জায়গাটা ফুলে আছে। অায়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পায়, জায়গাটাতে দু'টো গর্ত। মনে হচ্ছে কিছু সময় আগে কেউ ধারালো দাঁত বসিয়ে দিয়েছে ! কীভাবে এরকম হয়েছে নিমতি ধরতে পারছে না । দাগ দু'টো নিয়ে ওতো না ভেবে মিশনে বেড়িয়ে পড়াটা শ্রেয় মনে মনে ভাবে সে। ভারী ব্যাগটা বের করে সবকিছু চেক করে নিলো সে আরেকবার। বারান্দায় এসে ভারী ব্যাগটা মোটা দড়ির সাহায্যে দু'তলা থেকে নামিয়ে ফেললো আস্তে আস্তে করে। তারপর চিঠিটা তার পড়ার টেবিলে রেখে উপরে একটা পেপারওয়েট দিয়ে ঢেকে দেয়। নিজের বিছানায় ছোট্ট বোনটার মুখের দিকে চোখ পড়তেই কপালে চুমু একে বেড়িয়ে পড়ে ঘর থেকে। বারান্দা থেকে নিচের দিকে ঝুলানো দড়িটা শেষবারের মত আরেকবার চেক করে নেয় সে এবং দ্রুত তরতর করে নেমে পড়ে সে । ব্যাথাটা বেড়ে টনটন করছে তার। তবুও মিশনটা নিয়ে উত্তেজনা তার ই বেশি! সে তো আর জানে না একটু পর তার স্বপ্নের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে!! ...................সমাপ্ত..................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now